jugantor
ফতুল্লায় খাল ভরাট করায় দুই মাস ধরে পানিবন্দি ৫০০ পরিবার

  আলামিন প্রধান, ফতুল্লা থেকে  

৩০ এপ্রিল ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

ফতুল্লার দক্ষিণ সস্তাপুর ও ইসদাইর এলাকার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাটি দিয়ে কয়েকটি স্থানে খাল ভরাট করায় দুই মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে ৫০০ পরিবার। বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়িতে হাঁটু পানি বা তার কিছু কম। সড়কে একই রকম। পয়ঃনিষ্কাশনের ও খালের রং কেমিক্যালে মিশ্রিত পচা দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানিতে ওই এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। ফলে নারী-পুরুষ কারও পিছু ছাড়ছে না রোগ-বালাই। ওই এলাকায় দুটি মসজিদ রয়েছে। পচা দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি দিয়ে চলাচলের কারণে পায়ে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় অনেকেই জামায়াতের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে মসজিদে যেতে পারছে না। এ ব্যাপারে ফরিদা আক্তার নামে এক গৃহিণী জানান, মেঘ-বৃষ্টি কিছুই নেই- তারপরও আমাদের পানিবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে। দুই মাস আগে ইট দিয়ে ৫ ফুট উঁচু করে একটি টেবিলের মতো তৈরি করে তার ওপর গ্যাসের চুলা রেখেছি।

বিভিন্ন স্থানে গ্যাস লিকেজ থাকায় গ্যাসের বদলে অনেক সময় পানি আসে। পচা দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানির ওপর দাঁড়িয়ে রান্না করতে হয়। আমার এক ছেলে এক মেয়ে। তাদের স্কুলে নিয়ে যেতে হয় কোলে করে। এরমধ্যে কয়েকবার ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সবার ডায়রিয়া হয়েছে। আর পায়ের আঙুলের ফাঁকে ঘা লেগেই আছে। ওই এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী ভ্রামন জানান, আমাদের এলাকার পশ্চিম দিকে রেললাইন। তার পরের এলাকা লালপুর। ওই এলাকার পানি আমাদের সস্তাপুর-ইসদাইর এলাকা হয়ে লিংক রোডের নিচ দিয়ে নলখালি খালে নিষ্কাশন হয়। কিন্তু দুই মাস আগে প্রভাবশালীরা খালের বিভিন্ন স্থান মাটি দিয়ে ভরাট করে ভবন নির্মাণ করেছে। এখন পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। লালপুরের পানি আমাদের নিচু এলাকায় এসে ৫ শতাধিক পরিবারকে বন্দি করে রেখেছে। এ ব্যাপারে ফতুল্লা ইউপি চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

ফতুল্লা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন এলাকাবাসীর অভিযোগের কথা স্বীকার করে যুগান্তরকে জানান, আমি ওই এলাকা পরিদর্শন করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। পরে তিনি নিজেও ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এরপর এর সমাধানের জন্য এমপিকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও গাউছুল আজম যুগান্তরকে জানান, সদরে ১৮টি খাল রয়েছে। এরমধ্যে ১০টি খালে রয়েছে একাধিক অবৈধ স্থাপনা। সম্প্রতি ১০টি খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক নির্দেশ দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দিলেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর পানি নিষ্কাশনে স্রোত আসবে। এতে সস্তাপুর ও ইসদাইর সীমান্তবর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকবে না।



সাবমিট

ফতুল্লায় খাল ভরাট করায় দুই মাস ধরে পানিবন্দি ৫০০ পরিবার

 আলামিন প্রধান, ফতুল্লা থেকে 
৩০ এপ্রিল ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
ফতুল্লার দক্ষিণ সস্তাপুর ও ইসদাইর এলাকার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাটি দিয়ে কয়েকটি স্থানে খাল ভরাট করায় দুই মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে ৫০০ পরিবার। বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়িতে হাঁটু পানি বা তার কিছু কম। সড়কে একই রকম। পয়ঃনিষ্কাশনের ও খালের রং কেমিক্যালে মিশ্রিত পচা দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানিতে ওই এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। ফলে নারী-পুরুষ কারও পিছু ছাড়ছে না রোগ-বালাই। ওই এলাকায় দুটি মসজিদ রয়েছে। পচা দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি দিয়ে চলাচলের কারণে পায়ে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় অনেকেই জামায়াতের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে মসজিদে যেতে পারছে না। এ ব্যাপারে ফরিদা আক্তার নামে এক গৃহিণী জানান, মেঘ-বৃষ্টি কিছুই নেই- তারপরও আমাদের পানিবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে। দুই মাস আগে ইট দিয়ে ৫ ফুট উঁচু করে একটি টেবিলের মতো তৈরি করে তার ওপর গ্যাসের চুলা রেখেছি।

বিভিন্ন স্থানে গ্যাস লিকেজ থাকায় গ্যাসের বদলে অনেক সময় পানি আসে। পচা দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানির ওপর দাঁড়িয়ে রান্না করতে হয়। আমার এক ছেলে এক মেয়ে। তাদের স্কুলে নিয়ে যেতে হয় কোলে করে। এরমধ্যে কয়েকবার ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সবার ডায়রিয়া হয়েছে। আর পায়ের আঙুলের ফাঁকে ঘা লেগেই আছে। ওই এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী ভ্রামন জানান, আমাদের এলাকার পশ্চিম দিকে রেললাইন। তার পরের এলাকা লালপুর। ওই এলাকার পানি আমাদের সস্তাপুর-ইসদাইর এলাকা হয়ে লিংক রোডের নিচ দিয়ে নলখালি খালে নিষ্কাশন হয়। কিন্তু দুই মাস আগে প্রভাবশালীরা খালের বিভিন্ন স্থান মাটি দিয়ে ভরাট করে ভবন নির্মাণ করেছে। এখন পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। লালপুরের পানি আমাদের নিচু এলাকায় এসে ৫ শতাধিক পরিবারকে বন্দি করে রেখেছে। এ ব্যাপারে ফতুল্লা ইউপি চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

ফতুল্লা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন এলাকাবাসীর অভিযোগের কথা স্বীকার করে যুগান্তরকে জানান, আমি ওই এলাকা পরিদর্শন করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। পরে তিনি নিজেও ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এরপর এর সমাধানের জন্য এমপিকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও গাউছুল আজম যুগান্তরকে জানান, সদরে ১৮টি খাল রয়েছে। এরমধ্যে ১০টি খালে রয়েছে একাধিক অবৈধ স্থাপনা। সম্প্রতি ১০টি খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক নির্দেশ দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দিলেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর পানি নিষ্কাশনে স্রোত আসবে। এতে সস্তাপুর ও ইসদাইর সীমান্তবর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকবে না।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র