jugantor
শ্রীপুরে ছাত্রলীগ নেতাদের কাণ্ড দিনদুপুরে দোকান লুট, হুমকি

  শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বাজারের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৩টি দোকানে দিনদুপুরে লুটপাট চালিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বাধা দিলে তারা নিরীহ দোকান মালিকদের চোখ তুলে ফেলারও হুমকি দেয়। বুধবার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী বাজারের চিনাশুখানিয়া রোডে দুটি তৈরি কাপড়ের দোকানসহ একটি কনফেকশনারি দোকানে লুটপাট করে তারা। সনাতন ধর্মাবলম্বী দোকান মালিকদের অভিযোগ, রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ্ আলমের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন নেতাকর্মী তাদের দোকানে লুটপাট চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জড়িত একজনকেও গ্রেফতার করেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ্ আলমের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী মোটরসাইকেলযোগে বাজারের চিনাশুখানিয়া রোডের মোড়ে যায়। পরে তারা সড়কের দু’পাশের রবীন্দ্র চন্দ্র ঘোষ ও তার ছোট ভাই দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র ঘোষের তৈরি কাপড়ের দোকানসহ সঞ্জিত চন্দ্র ঘোষের কনফেকশনারি দোকান থেকে শীতবস্ত্র, দামি শাড়িসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে।

রবীন্দ্র চন্দ্র ঘোষ জানান, দুপুরে পুরোদমে দোকানে বেচাকেনা চলছিল। হঠাৎ ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী হুড়মুড় করে প্রথমেই তাদের দোকানে ঢোকে পড়ে। তারা কিছু না বলেই যার যার পছন্দসই ২০টি জ্যাকেট, ৩টি চাদর ও ২০টি টি-শার্টসহ ৩০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়। ওই সময় বাধা দেয়ায় তার চোখ তুলে নেয়ার হুমকি দেয় নেতাকর্মীরা। এরপর তারা সড়কের পশ্চিম পাশে তার ছোট ভাই দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র ঘোষের দোকানে ঢোকে।

দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ জানান, নেতাকর্মীরা দোকানে ঢুকেই তাকে ‘একদম চুপ থাকবি’ বলেই দামি ৫টি শাড়ি বেছে নিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বেরিয়ে যায়। লুণ্ঠিত ৫টি শাড়ির মূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা বলে দাবি করেন তিনি। পরে পাশেই সঞ্জিত চন্দ্র ঘোষের দোকানে গিয়ে একই কায়দায় লুটপাট চালায় তারা। সঞ্জিত চন্দ্র ঘোষ জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার দোকান থেকে কোমল পানীয়, হরলিকস, বিস্কুটসহ ৩০ হাজার টাকার মালামাল লুটে নিয়ে গেছে। তিন দোকানে অনেক ক্রেতার সামনেই নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে নেতাকর্মীরা কোনো দোকান থেকেই নগদ টাকা নেয়নি বলেও জানিয়েছেন ওই দোকান মালিকরা।

রবীন্দ্র চন্দ্র ঘোষ আরও জানান, রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ্ আলমের নেতৃত্বে কাজল, বাবু, শামীম, নাজমুল, শহিদুল ও মাসুমসহ ১৫-২০ জন নেতাকর্মী লুটপাটে অংশ নিয়েছে। হিন্দুকল্যাণ পরিষদসহ বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান বাজার পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শাহজাহান সরকার। সন্ধ্যায় রাজাবাড়ী বাজারে চিনাশুখানিয়া সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক। ঘটনা জানতে চাইলে একজন অন্যজনকে দেখিয়ে বলছেন, ঘটনা সবাই দেখেছেন। কিন্তু আমার নাম প্রকাশ হলে বিপদে পড়ে যাব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বছর খানেক আগে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েই বেপরোয়া হয়ে ওঠে শাহ্ আলম (২১)। তার বাড়ি পাশের চিনাশুখানিয়া গ্রামে। বাবার নাম ইউসুফ আলী।

ফারইস্ট ইসলামী জীবন বীমার রাজাবাড়ী শাখার এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গত ঈদুল আজহার কয়েকদিন আগে শাহ্ আলম তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেয়ায় নিজেদের কার্যালয়ে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে তাদের। পরে নগদ পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে শাহ্ আলমের সঙ্গে আপসরফা করেছিলেন।

তিন দোকানে লুটপাটসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ্ আলম বলেন, লুটপাটের অভিযোগ সত্য নয়। রবীন্দ্র চন্দ্র, দ্বিজেন্দ্র ও সঞ্জিত চন্দ্র ঘোষের দোকান থেকে কিছু কাপড়সহ মালামালের টাকা পরে পরিশোধ করব বলে নিয়ে এসেছি। এটাকে যদি তারা লুটপাট হিসেবে দেখে তাহলে ঠিক হচ্ছে না। অভিযোগ অস্বীকার করে শাহ্ আলম বলেন, আমি সদলবলে দোকানগুলোতে গিয়েছি, এ কথা সত্য নয়। আমার সঙ্গে শুধু ধলাদিয়া ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের চার নেতা গিয়েছিলেন। বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজির অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল ফকির বলেন, ঘটনা সত্য হলে ছাত্রলীগের নেতা হলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেবে পুলিশ। পাশাপাশি আমি সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্রমাফিক ব্যবস্থা নেব।

শ্রীপুর মডেল থানার এসআই এম হাসান বলেন, দোকান মালিকরা থানায় ফোন দেয়ার পর তাৎক্ষণিক আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানে কাউকে পাইনি। শ্রীপুর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, এখনও অভিযোগ পাইনি।



সাবমিট

শ্রীপুরে ছাত্রলীগ নেতাদের কাণ্ড দিনদুপুরে দোকান লুট, হুমকি

 শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বাজারের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৩টি দোকানে দিনদুপুরে লুটপাট চালিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বাধা দিলে তারা নিরীহ দোকান মালিকদের চোখ তুলে ফেলারও হুমকি দেয়। বুধবার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী বাজারের চিনাশুখানিয়া রোডে দুটি তৈরি কাপড়ের দোকানসহ একটি কনফেকশনারি দোকানে লুটপাট করে তারা। সনাতন ধর্মাবলম্বী দোকান মালিকদের অভিযোগ, রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ্ আলমের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন নেতাকর্মী তাদের দোকানে লুটপাট চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জড়িত একজনকেও গ্রেফতার করেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ্ আলমের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী মোটরসাইকেলযোগে বাজারের চিনাশুখানিয়া রোডের মোড়ে যায়। পরে তারা সড়কের দু’পাশের রবীন্দ্র চন্দ্র ঘোষ ও তার ছোট ভাই দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র ঘোষের তৈরি কাপড়ের দোকানসহ সঞ্জিত চন্দ্র ঘোষের কনফেকশনারি দোকান থেকে শীতবস্ত্র, দামি শাড়িসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে।

রবীন্দ্র চন্দ্র ঘোষ জানান, দুপুরে পুরোদমে দোকানে বেচাকেনা চলছিল। হঠাৎ ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী হুড়মুড় করে প্রথমেই তাদের দোকানে ঢোকে পড়ে। তারা কিছু না বলেই যার যার পছন্দসই ২০টি জ্যাকেট, ৩টি চাদর ও ২০টি টি-শার্টসহ ৩০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়। ওই সময় বাধা দেয়ায় তার চোখ তুলে নেয়ার হুমকি দেয় নেতাকর্মীরা। এরপর তারা সড়কের পশ্চিম পাশে তার ছোট ভাই দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র ঘোষের দোকানে ঢোকে।

দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ জানান, নেতাকর্মীরা দোকানে ঢুকেই তাকে ‘একদম চুপ থাকবি’ বলেই দামি ৫টি শাড়ি বেছে নিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বেরিয়ে যায়। লুণ্ঠিত ৫টি শাড়ির মূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা বলে দাবি করেন তিনি। পরে পাশেই সঞ্জিত চন্দ্র ঘোষের দোকানে গিয়ে একই কায়দায় লুটপাট চালায় তারা। সঞ্জিত চন্দ্র ঘোষ জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার দোকান থেকে কোমল পানীয়, হরলিকস, বিস্কুটসহ ৩০ হাজার টাকার মালামাল লুটে নিয়ে গেছে। তিন দোকানে অনেক ক্রেতার সামনেই নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে নেতাকর্মীরা কোনো দোকান থেকেই নগদ টাকা নেয়নি বলেও জানিয়েছেন ওই দোকান মালিকরা।

রবীন্দ্র চন্দ্র ঘোষ আরও জানান, রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ্ আলমের নেতৃত্বে কাজল, বাবু, শামীম, নাজমুল, শহিদুল ও মাসুমসহ ১৫-২০ জন নেতাকর্মী লুটপাটে অংশ নিয়েছে। হিন্দুকল্যাণ পরিষদসহ বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান বাজার পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শাহজাহান সরকার। সন্ধ্যায় রাজাবাড়ী বাজারে চিনাশুখানিয়া সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক। ঘটনা জানতে চাইলে একজন অন্যজনকে দেখিয়ে বলছেন, ঘটনা সবাই দেখেছেন। কিন্তু আমার নাম প্রকাশ হলে বিপদে পড়ে যাব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বছর খানেক আগে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েই বেপরোয়া হয়ে ওঠে শাহ্ আলম (২১)। তার বাড়ি পাশের চিনাশুখানিয়া গ্রামে। বাবার নাম ইউসুফ আলী।

ফারইস্ট ইসলামী জীবন বীমার রাজাবাড়ী শাখার এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গত ঈদুল আজহার কয়েকদিন আগে শাহ্ আলম তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেয়ায় নিজেদের কার্যালয়ে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে তাদের। পরে নগদ পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে শাহ্ আলমের সঙ্গে আপসরফা করেছিলেন।

তিন দোকানে লুটপাটসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ্ আলম বলেন, লুটপাটের অভিযোগ সত্য নয়। রবীন্দ্র চন্দ্র, দ্বিজেন্দ্র ও সঞ্জিত চন্দ্র ঘোষের দোকান থেকে কিছু কাপড়সহ মালামালের টাকা পরে পরিশোধ করব বলে নিয়ে এসেছি। এটাকে যদি তারা লুটপাট হিসেবে দেখে তাহলে ঠিক হচ্ছে না। অভিযোগ অস্বীকার করে শাহ্ আলম বলেন, আমি সদলবলে দোকানগুলোতে গিয়েছি, এ কথা সত্য নয়। আমার সঙ্গে শুধু ধলাদিয়া ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের চার নেতা গিয়েছিলেন। বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজির অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল ফকির বলেন, ঘটনা সত্য হলে ছাত্রলীগের নেতা হলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেবে পুলিশ। পাশাপাশি আমি সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্রমাফিক ব্যবস্থা নেব।

শ্রীপুর মডেল থানার এসআই এম হাসান বলেন, দোকান মালিকরা থানায় ফোন দেয়ার পর তাৎক্ষণিক আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানে কাউকে পাইনি। শ্রীপুর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, এখনও অভিযোগ পাইনি।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র