jugantor
সভাপতির পক্ষে না থাকায় ৩ জনকে পিটিয়ে জখম
ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রলীগ

  বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রলীগের সভাপতি শরিয়তুল্লাহ রনির সঙ্গে রাজনীতি না করায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ দুই ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে তার অনুসারীরা। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার টেকনোলজি ইন্সটিটিউটে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্টস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আল ইমরান শাহরিয়ার, শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খবির হোসেন সুমন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম আল আমিন। আহতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি আছেন। এই তিনজন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল সরকারের সঙ্গে রাজনীতি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মঙ্গলবার রাতে ইন্সটিটিউটের ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলের ২০৩৪ নম্বর কক্ষে ইমরানকে ডাকতে আসে ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগের আশীর্বাদপুষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন স্লোগান একাত্তরের সভাপতি আল আমিন কবির ও লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী। কক্ষটির বাইরে অবস্থান নেয় সভাপতি গ্রুপের অন্তত ৩০-৪০ জন কর্মী। এ সময় ইমরান রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র শপথ ও লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র রাব্বির নেতৃত্বে ৭-৮ জন এসে ইমরানের ওপর হামলা চালায়। তাকে টেনে নিয়ে যায় হোস্টেলের ডাইনিংয়ে। ৩০-৪০ জনের বেদম প্রহারে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ইমরান। কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়ালে রাসেল নামের ৪র্থ বর্ষের ফুড অ্যান্ড ওয়্যার বিভাগের একজনের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় মারধর শুরু হয়। এতে ইমরানের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মক জখম হয়। পরে তাকে ধানমণ্ডির পপুলার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

ইমরানকে মারধরের পর সাধারণ সম্পাদক বাবুল সরকারের সঙ্গে রাজনীতি করেন এমন আরও কয়েকজনকে মারতে যান সভাপতি গ্র“পের কর্মীরা। এ সময় বাধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হন শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খবির হোসেন সুমন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম আল আমিন। পরে তাদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, ৩১ মে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রলীগের ১২ সদস্যের কমিটি গঠন হয়। এরপর থেকে ঢাবি ছাত্রলীগ থেকে কয়েক দফায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে বলা হলেও তা করেননি সভাপতি রনি। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। মঙ্গলবার ছিল ১০ দিনের শেষ দিন। ফলে যাতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হতে পারে সেজন্য সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে যারা পদপ্রত্যাশী তাদের ওপর হামলা করে রনির সমর্থকরা। জানা যায়, সভাপতি শরিয়তুল্লাহ রনি ২০০৬-০৭ সেশনের ছাত্র ছিলেন। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও তিনি ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি শরিয়তুল্লাহ রনি যুগান্তরকে বলেন, ওই ছাত্র হলে ঝামেলা করতে চেয়েছিল। তাই ৩১তম ব্যাচের সবাই মিলে তাকে থামিয়ে দেয়। এ নিয়ে সামান্য একটু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিকভাবে সামনে আসার জন্য আহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রনির।

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল সরকার যুগান্তরকে বলেন, ইমরান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাকে আমি ছাত্রলীগে পদ দিতে চেয়েছিলাম। সেটা যাতে না হয় সেজন্য ইমরানকে মারধর করা হয়েছে। একক আধিপত্য বিস্তারের জন্য সভাপতি এমন করছেন বলে অভিযোগ তার।



সাবমিট

সভাপতির পক্ষে না থাকায় ৩ জনকে পিটিয়ে জখম

ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রলীগ
 বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রলীগের সভাপতি শরিয়তুল্লাহ রনির সঙ্গে রাজনীতি না করায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ দুই ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে তার অনুসারীরা। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার টেকনোলজি ইন্সটিটিউটে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্টস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আল ইমরান শাহরিয়ার, শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খবির হোসেন সুমন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম আল আমিন। আহতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি আছেন। এই তিনজন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল সরকারের সঙ্গে রাজনীতি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মঙ্গলবার রাতে ইন্সটিটিউটের ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলের ২০৩৪ নম্বর কক্ষে ইমরানকে ডাকতে আসে ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগের আশীর্বাদপুষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন স্লোগান একাত্তরের সভাপতি আল আমিন কবির ও লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী। কক্ষটির বাইরে অবস্থান নেয় সভাপতি গ্রুপের অন্তত ৩০-৪০ জন কর্মী। এ সময় ইমরান রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র শপথ ও লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র রাব্বির নেতৃত্বে ৭-৮ জন এসে ইমরানের ওপর হামলা চালায়। তাকে টেনে নিয়ে যায় হোস্টেলের ডাইনিংয়ে। ৩০-৪০ জনের বেদম প্রহারে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ইমরান। কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়ালে রাসেল নামের ৪র্থ বর্ষের ফুড অ্যান্ড ওয়্যার বিভাগের একজনের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় মারধর শুরু হয়। এতে ইমরানের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মক জখম হয়। পরে তাকে ধানমণ্ডির পপুলার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

ইমরানকে মারধরের পর সাধারণ সম্পাদক বাবুল সরকারের সঙ্গে রাজনীতি করেন এমন আরও কয়েকজনকে মারতে যান সভাপতি গ্র“পের কর্মীরা। এ সময় বাধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হন শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খবির হোসেন সুমন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম আল আমিন। পরে তাদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, ৩১ মে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রলীগের ১২ সদস্যের কমিটি গঠন হয়। এরপর থেকে ঢাবি ছাত্রলীগ থেকে কয়েক দফায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে বলা হলেও তা করেননি সভাপতি রনি। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। মঙ্গলবার ছিল ১০ দিনের শেষ দিন। ফলে যাতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হতে পারে সেজন্য সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে যারা পদপ্রত্যাশী তাদের ওপর হামলা করে রনির সমর্থকরা। জানা যায়, সভাপতি শরিয়তুল্লাহ রনি ২০০৬-০৭ সেশনের ছাত্র ছিলেন। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও তিনি ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি শরিয়তুল্লাহ রনি যুগান্তরকে বলেন, ওই ছাত্র হলে ঝামেলা করতে চেয়েছিল। তাই ৩১তম ব্যাচের সবাই মিলে তাকে থামিয়ে দেয়। এ নিয়ে সামান্য একটু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিকভাবে সামনে আসার জন্য আহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রনির।

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল সরকার যুগান্তরকে বলেন, ইমরান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাকে আমি ছাত্রলীগে পদ দিতে চেয়েছিলাম। সেটা যাতে না হয় সেজন্য ইমরানকে মারধর করা হয়েছে। একক আধিপত্য বিস্তারের জন্য সভাপতি এমন করছেন বলে অভিযোগ তার।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র