¦
প্রচার শেষে ফেরার পথে মাটিরাঙ্গায় কুপিয়ে হত্যা

যুগান্তর ডেস্ক | প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

নির্বাচনী প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পথে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় দুবর্ৃৃত্তদের হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে আর্দশগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তার নাম নজরুল ইসলাম (৪৫)। তিনি আদর্শগ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’দলই নজরুল ইসলামকে তাদের কর্মী বলে দাবি করছে।
এদিকে দিনাজপুরের বিরামপুরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আজাদুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। প্রচার শেষে বাসায় ফেরার পথে মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে আনসার মাঠের দক্ষিণ পাশে তার ওপর হামলা চালানো হয়। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, পুলিশ জানায়, নির্বাচনী প্রচারণা শেষে রাত ৮টার দিকে মাটিরাঙ্গা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন নজরুল ইসলাম। পথে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে মুহূর্তেই সটকে পড়ে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে নজরুলকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাটিরাঙ্গা বিএনপি বলছে, নজরুল ইসলাম উপজেলা কৃষক দলের সহসভাপতি। আওয়ামী লীগের মতে, উপজেলা যুবলীগের সদস্য তিনি। তবে নজরুলের স্ত্রী শরীফা বেগম ও ছেলে মো. রাসেল জানিয়েছেন, তার স্বামী/বাবা বিএনপির রাজনীতি করতেন।
নজরুল ইসলামকে হত্যার প্রতিবাদে মাটিরাঙ্গায় আজ বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ এবং দুপুর ২টায় বিএনপি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। জেলা বিএনপি জানিয়েছে, বেলা ১১টায় খাগড়াছড়িতে এ নিয়ে ব্রিফিং করবে তারা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, মেয়র পদগুলো ছিনিয়ে নিতেই ক্ষমতাসীনরা হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরী অভিযোগ করেন, নিহত নজরুল ইসলাম উপজেলা কৃষক দলের সহসভাপতি। ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা শেষে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তাকে খুন করেছে।
বিপরীতে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চাকমা যুগান্তরকে জানান, নজরুল ইসলাম উপজেলা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। মঙ্গলবার নৌকা প্রতীকের পক্ষে উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি রবিউল ইসলামসহ ইসলাম পুর ও কেরানি পাড়া এলাকায় প্রচারণা চালান। বাড়ি ফেরার পথে হামলায় নিহত হন। সুভাষ চাকমা এ ঘটনার জন্য বিএনপির সন্ত্রাসীদের দায়ী করে বলেন, নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করা হয়েছে। এ হত্যার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন আজ বেলা ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করবে।
বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুভাষ চাকমা বলেন, গত বছরের ১১ নভেম্বর মাটিরাঙ্গায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির হাতে ফুল দিয়ে নজরুল ইসলাম যুবলীগে যোগ দেন।
তবে এ দাবি সত্য নয় বলে জানান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত। তিনি নজরুলকে তাদের কর্মী দাবি করে যুগান্তরকে বলেন, নজরুল ইসলাম ধানের শীষের প্রচারণা শেষে মাটিরাঙ্গা আর্দশগ্রামের এক দোকানে বসেছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা মাথায় কুপিয়ে তাকে খুন করে। এর প্রতিবাদে জেলা বিএনপি কাল (আজ) বেলা ১১টায় ‘খাগড়াছড়ি ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নির্বাচনী পরিবেশ’ নিয়ে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে প্রেস ব্রিফিং করবে।
মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহাদাৎ হোসেন টিটু বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির মাথায় এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ রাত ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার লাশ খাগড়াছড়ি হাসপাতালেই ছিল।
বিরামপুরে মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলা : দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপির মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আজাদুল ইসলাম প্রচার শেষে বাসায় ফিরছিলেন। রাত ১১টা ১০ মিনিটে আনসার মাঠের দক্ষিণ পাশে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে রংপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মশিউর রহমান বলেন, আজাদুল ইসলামের হাত, মাথা এবং ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর জখম রয়েছে।
আজাদুলের ওপর হামলার খবর পেয়ে তার সমর্থক ও বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় ভিড় করেন। রাতে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরামপুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান বলেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মেয়র পদগুলো ছিনিয়ে নিতেই হত্যা -ফখরুল : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাটিরাঙ্গার হত্যাকে বর্বরোচিত ও পৈশাচিক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টায় দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘মাটিরাঙ্গা উপজেলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় প্রমাণিত হয়, বর্তমান সরকার দেশব্যাপী সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদগুলো ছিনিয়ে নিতে চায়। বর্তমান শাসক গোষ্ঠী পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিভীষিকাময় অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এ সরকারের আমলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। এরা সন্ত্রাসের অবাধ বিস্তারের মাধ্যমে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে।’
ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা আইনের শাসন, সুবিচার, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারসহ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা ছাড়াও মানুষের জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দিতেও কুণ্ঠিত হচ্ছে না। এরা দেশের মানুষের নিরাপত্তায় বিশ্বাস করে না বলেই শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের স্বাধীনতা হরণ করেছে। নজরুল ইসলামকে নির্মম কায়দায় হত্যা করে অমানবিকতা ও নিষ্ঠুরতার যে কুনজির স্থাপন করা হল তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই।’
মির্জা ফখরুল নজরুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি অবিলম্বে নজরুলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
দ্বিতীয় সংস্করণ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close