¦
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধারণ করা বইগুলো আমাদের যুগ-যুগান্তরের সম্পদ

প্রণবকান্তি দেব | প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৫

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানা প্রতিকূলতার পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে সিলেটে স্বজন সমাবেশের আয়োজনে উদ্বোধন হল সপ্তম বইপড়া উৎসব। শিক্ষার্থীদের প্রাণোচ্ছ্বাস আর স্বজনদের দীর্ঘ শ্রমের বাস্তবায়ন হল ২৬ এপ্রিল। বৈশাখের পড়ন্ত বিকালে সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারের নজরুল একাডেমি মিলনায়তনে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা বসে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার এক দুুুর্বার অভিপ্রায়ে তারা মিলিত হয় নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। শুরুতেই স্বজন মবরুর আহমদ সাজু, সুমন রায়, শাহ আলম, শাওন আহমদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা সম্পন্ন করে রিপোর্টিং প্রক্রিয়া। শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয় গর্বের জাতীয় পতাকা। স্বেচ্ছাসেবক স্বজনদের আন্তরিকতায় দূরদূরান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীরা আসন গ্রহণ করে মিলনায়তনজুড়ে। সময় বাড়তে থাকলে কানায় কানায় পরিপূর্ণ মিলনায়তন ছেড়ে শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে বারান্দায়, সড়কে। নির্ধারিত সময়েই একে একে আসতে থাকেন অতিথিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক এমপি সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, শাবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. হিমাদ্রী শেখর রায়, যুগান্তর সিলেট ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান আহমদ ও আকিকুর রহমান চৌধুরী শিপু।
উপস্থাপক সাজুর আহ্বানে স্বজন সমাবেশের বিভাগীয় সমন্বয়কারী প্রভাষক প্রণবকান্তি দেবের সভাপতিত্বে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন অতিথিরা। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বজন সুবিনয় আচার্য ও বন্যা রায়ের নেতৃত্বে মহান জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় বর্ণাঢ্য এ আয়োজন। জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে সঙ্গে হলজুড়ে উড়তে থাকে লাল-সবুজ পতাকা। উড়তে থাকে তারুণ্যের নানা রঙে বোনা স্বপ্নগুলোও। মিলনায়তন যেন ফিরে যায় একাত্তরের কোনো সময়ে। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন স্বজন সুমন রায়। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্বজন সমাবেশের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী কাবুল। শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের পালা শেষে মঞ্চের অতিথিরা নিয়ে আসেন তাদের স্বপ্ন আর আশা জাগানিয়া কথাগুলো। কথায় কথায় বাংলার আগামী দিনের দায়িত্ব তুলে দেন আজকের সূর্য সন্তানদের হাতে। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার আলো হয়ে পথ দেখাবে আগামী দিনগুলোতে। বাঙালির দ্রোহ আর সংগ্রামের এ আখ্যানকে বিকৃতির তমসা থেকে আবিষ্কারের দায়িত্ব আজকের তরুণ প্রজন্মেরই। বক্তারা বলেন, বই কখনও প্রতারণা করে না। আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধারণ করা বইগুলো আমাদের যুগ-যুগান্তরের সম্পদ।
সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, এদেশ কারও দান কিংবা করুণায় পাওয়া নয়। বাঙালির তাজা রক্তে পাওয়া। নতুন প্রজন্ম হচ্ছে সেই সংগ্রামী জাতির উত্তরসূরি। তাদেরও জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। সাবেক এমপি জেবুন্নেছা হক বলেন, উৎসব করে বইপড়ার এ আয়োজন এক দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধারর জন্য এ এক মহতী উদ্যোগ। অধ্যাপক ড. হিমাদ্রি শেখর রায় বলেন, ইতিহাস সত্য-মিথ্যা হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচারীরা দেশের শত্র“। আজ সময় এসেছে তরুণদের সেই অপশক্তি আর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। যুগান্তর সিলেট ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান আহমদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারেনি, তাদের কাজ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের অপশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। তাদের কাজ হচ্ছে সব মিথ্যাচার আর কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে নিজেদের জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে রাখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রভাষক প্রণবকান্তি দেব বলেন, স্বজন সমাবেশ হচ্ছে সব ভালো কাজের সূতিকাগার। এ বইপড়া উৎসব সিলেটের স্বজনদের প্রাণের উৎসব। তিনি স্বজনদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেদের শানিত করে সমাজকল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষ হয়ে এলে শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়ায় কাক্সিক্ষত বইটি গ্রহণের জন্য। অতিথিরা একে একে সবার হাতে তুলে দেন এ বছরের নির্বাচিত গ্রন্থ ‘মাহমুদুল হকের লেখা ‘খেলাঘর’। সবার মুখে ছড়িয়ে যায় শেষ বিকালের সোনালি আলো। ইতিহাসকে জানার এ আনন্দে তাদের হৃদয় মনে লাগে নতুন করে দোলা।
 

স্বজন সমাবেশ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close