¦
মোনেম মুন্নাকে ভুলে গেছে সবাই

মোজাম্মেল হক চঞ্চল | প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন মোনেম মুন্না। যার হাত ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ পেয়েছিল প্রথম সাফল্য। ফুটবলের স্বর্ণালী যুগের সফল সেনানী কিং ব্যাক মোনেম মুন্নার দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। মুন্নার পরিবারের খবর কেউ রাখেনি। মুন্নার মৃত্যুদিনে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দেয় না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কিংবা আবাহনী। অথচ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এদেশের ফুটবলকে সমৃদ্ধ করার কাজে আÍনিয়োজিত ছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল এই তারকা।
মাত্র দশ বছরেই অনেকটা বিস্মৃত মোনেম মুন্না। প্রত্যেক বছর তার মৃত্যুবার্ষিকী আসে, কেউ খোঁজখবর রাখে না। নারায়ণগঞ্জ বন্দরে মুন্না স্মৃতি সংসদ তাকে স্মরণ করে কিছুটা হলেও দায় এড়াচ্ছে। তার প্রাণের ক্লাব আবাহনী কিংবা বাফুফে খোঁজ রাখে না। মিলাদ মাহফিলের আয়োজন দূরে থাক, মুন্নার মৃত্যুদিনে একটি প্রেস রিলিজও পাঠানোর প্রয়োজন অনুভব করে না। এমনকি ফুটবল ভবনে মুন্নার ছবিও রাখা হয়নি। ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারের সেই টুর্নামেন্টের
বিজয়ী বাংলাদেশ দলের একটি ছবি ছিল, সেটিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ভবনজুড়েই কর্মকর্তা ও তাদের ছেলেমেয়েদের ছবি। শুধু মুন্নার
ছবি নেই।
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক প্রয়াত মোনেম মুন্নার দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ সকালে মুন্নার কবরে ফুল দেয়া হবে। বাদ জোহর নারায়ণগঞ্জ সোনালী অতীত ক্লাবে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা মুন্না স্মৃতি সংসদ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন সংসদের সভাপতি ও সাবেক তারকা ফুটবলার আজমল হোসেন বিদ্যুৎ। মোনেম মুন্নার সহধর্মিনী সুরভী বুধবার এই প্রতিবেদকের কাছে মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে কষ্টে। মনের মধ্যে কষ্ট পুষে রাখতে হচ্ছে। আমি প্রকাশ করতে পারি না। পাছে ছেলেমেয়ে হতাশায় ভেঙ্গে পড়বে, এই ভয়ে।’ মুন্নার মেয়ে ডানিয়া মালয়েশিয়ার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। মালয়েশিয়া থেকে ভাইবারে মুন্নার মেয়ে বলেন, ‘বাবার কথা খুব মনে পড়ে। বাবাই ছিলেন আমার সব। তখন ছোট ছিলাম। অনেক কিছুই বুঝতাম না। কিন্তু বাবার স্মৃতি আজও জ্বলজ্বল করছে।’ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ২০০৮ সালে মোনেম মুন্নার নামে ধানমণ্ডি লেকের ওপর নির্মিত সেতুর নামকরণ করেন। মুন্নার পরিবারকে সহায়তা করে যাচ্ছেন আবাহনীর পরিচালক ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি ও হারুনুর রশিদরা।
২০০৫ সালে কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চলে গেছেন বাংলাদেশের ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলে মুন্নার উত্থান। সালটা ১৯৮৪। প্রথম দুই মৌসুম মুক্তিযোদ্ধায়। এরপর এক মৌসুম ব্রাদার্স ইউনিয়নে। ১৯৮৭ সালে তিনি যোগ দেন আবাহনী শিবিরে। সেখানেই পার করে দেন নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার। তিনি ছিলেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয় এক ফুটবলার। ১৯৯১ মৌসুমের দলবদলে মুন্না আবাহনীতে খেলেছিলেন ২০ লাখ টাকা পারিশ্রমিকে, যা অনেক দিন পর্যন্ত বাংলাদেশেই শুধু নয়, গোটা উপমহাদেশে এক অনন্য রেকর্ড হয়েছিল। জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন একাধিকবার। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে প্রথম গায়ে জড়িয়েছিলেন জাতীয় দলের জার্সি। এরপর দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে জাতীয় দলে খেলেছেন টানা ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। ১৯৯০ সালে বেইজিং এশিয়ান গেমসে তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছিলেন। তার নেতৃত্বেই ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারে চার জাতি প্রতিযোগিতার শিরোপা জয় করেছিল। ওটাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রথম কোনো শিরোপা।
 

খেলা পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close