¦
এখন সবার আগে সন্তান তারপর অন্য সব কিছু

| প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

বদলে গেছেন মেসি। এখন কোনো ম্যাচ হেরে বাড়িতে ফিরে ছেলেকে দেখলে সব রাগ গলে যায়। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের মনে ভেতরে ঢোকার এই তো সুযোগ-
প্রশ্ন : আপনাকে দেখে তো মনে হচ্ছে বেশ খোশমেজাজে আছেন। সেটা মাঠেই হোক বা মাঠের বাইরে। খেলায় কি তারই প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি?
মেসি : হ্যাঁ দিব্যি আছি। আসলে এবার মৌসুমটা শুরুই করেছি দারুণভাবে। গত বছরের মতো নয়। সেবার চোট, খারাপ ফর্ম, সব মিলিয়ে বছরটা খুব খারাপ গিয়েছিল। কিন্তু এবার তা হয়নি। ভালো লাগছে।
প্রশ্ন : এবার ৩৮ ম্যাচে এখন পর্যন্ত ৪১ গোল। আগেরবার সারা মৌসুম মিলিয়ে ৩৮টা গোল করেছিলেন। আপনি কি সেরা ফর্মে ফিরে এসেছেন?
মেসি : আগেরবার ধারাবাহিক ছিলাম না। প্রথমত, চোটের জন্য দীর্ঘদিন খেলতে পারিনি। যখন আবার মাঠে ফিরলাম, নিজেকে পুরো ফিট মনে হয়নি। বছরটা খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যেতে চেয়েছি। তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এখন খুব খুশি আমি।
প্রশ্ন : কিন্তু গত বছরের থেকে ইতিবাচক কি কিছুই পাননি?
মেসি : অবশ্যই। আসলে ভালো-খারাপ সবকিছু থেকেই শেখা যায়। প্রত্যেক বছরই এটা করি, সেটা যত খারাপই যাক না কেন। এটা না করলে উন্নতি করব কী করে?
প্রশ্ন : এবার আপনার পাশে নেইমার আর সুয়ারেজের মতো দু’জন স্ট্রাইকার। তারাও গোল করছেন। দায়িত্ব নিচ্ছেন। এতে কি আপনার ওপর চাপটা কমছে? আগে তো ব্যাপারটা এরকম ছিল, মেসি গোল না করলে বার্সা জেতে না।
মেসি : আমি তো কখনও এভাবে ভাবিনি। কখনও মনে হয়নি আমি গোল করে দলকে ধন্য করে দিচ্ছি, কারণ আমি গোল না করলে নাকি দল জেতে না। বার্সায় বরাবর অসাধারণ সব স্ট্রাইকার খেলেছে। নেইমার, সুয়ারেজই প্রথম নয়। ওরা বিশ্বমানের স্ট্রাইকার। শুধু গোলই করছে তা নয়, আরও অনেকভাবে দলকে সাহায্য করছে।
প্রশ্ন : কোন ধরনের গোল করতে আপনার বেশি ভালো লাগে? মাঝমাঠ থেকে অনেককে কাটিয়ে? বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ শটে? ফ্রিকিকে?
মেসি : আমার কোনো বাছবিচার নেই। যেভাবে হোক, গোল করলেই হল। গোল গোলই। তার আবার রকম কী?
প্রশ্ন : আপনি হ্যাটট্রিক করলেই বলে দলের সবাইকে দিয়ে সই করিয়ে বাড়ি নিয়ে যান।
মেসি : হ্যাঁ কারণ আমার সব সময় মনে হয়, গোল, হ্যাটট্রিক এগুলো গোটা দলের অবদান ছাড়া সম্ভব নয়। এমন টিমমেটদের না পেলে ব্যক্তিগতভাবে যা যা করেছি, সেগুলো করতে পারতাম? গোল করার জন্য তো পুরোটাই ওদের ওপর নির্ভর করি। তাই হ্যাটট্রিক করলে বলে ওদের সই করিয়ে রেখে দেই নিজের কাছে। এর থেকে ভালো স্যুভেনির আর কী হতে পারে?
প্রশ্ন : কোথায় রাখেন বলগুলো?
মেসি : বাড়িতে যে ঘরে ট্রফিগুলো আছে, সেখানেই রাখি। আপাতত কাচের বাক্সে রাখা আছে। কিন্তু ভবিষ্যতে বলগুলো নিয়ে স্পেশাল কিছু করার পরিকল্পনা আছে।
প্রশ্ন : সব হ্যাটট্রিক মনে আছে?
মেসি : না, মনে নেই। এভাবে মনে করা যায় না। তবে যদি ভিডিও ক্লিপিংস দেখি বা কেউ যদি একটু ধরিয়ে দেয়, মনে পড়ে যাবে।
প্রশ্ন : বিশেষ কোনো হ্যাটট্রিকও মনে নেই? স্পেশাল? যেটা সবথেকে বেশি উপভোগ করেছেন?
মেসি : ন্যুক্যাম্পে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে যে ম্যাচটা আমরা ৩-৩ করেছিলাম, সেই হ্যাটট্রিকটা আমার কাছে সত্যিই স্পেশাল। একে তো রিয়ালের বিরুদ্ধে, তার ওপর আমরা প্রথম হ্যাটট্রিক ছিল সেটা। আর ম্যাচটা ড্র করায় আমরা লীগে রিয়ালের চেয়ে এগিয়ে ছিলাম। যদিও শেষ পর্যন্ত আমরা লীগ জিততে পারিনি, কিন্তু তখনকার পরিস্থিতির বিচারে হ্যাটট্রিকটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রশ্ন : যখন গোলে শট মারেন, তাৎক্ষণিক একটা ব্যাপার কাজ করে?
মেসি : হ্যাঁ। ম্যাচে সব কিছুই চকিতে হয়। বাঁদিকে দিয়ে মারব, না ডান দিকে, বাঁ পায়ে মারব, না ডান পায়ে, এসব ভাবার সময় থাকে না। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নিমেষের মধ্যে।
প্রশ্ন : কোনো গোল বা হ্যাটট্রিকের পর বিপক্ষও তো আপনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। কোনটা এখনও মনে গেঁথে আছে।
মেসি : ২০০৭ সালে রিয়ালের বিরুদ্ধে ম্যাচ। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রাউল এসে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। রাউলের মতো একজন যখন প্রশংসা করছে, সেটা তো স্পেশাল হবেই।
প্রশ্ন : আপনার বয়স এখন ২৭। পরিণত। প্লেয়ার হিসেবে সেরা জায়গায়। ১৩ বছরের যে ছেলেটা লা মাসিয়ায় এসেছিল, সে আজ বিশ্বের সেরা ফুটবলার। পেছন ফিরে তাকালে কী দেখেন?
মেসি : খেলার নিরিখে আমরা পেছন ফিরে তাকাই না। তাকাতে নেই। সবসময় নতুন লক্ষ্য। আমিও পেছনে তাকাই না। বরং বাড়িতে স্ত্রী, ছেলের সঙ্গে থাকলে আগের কথা মনে পড়ে। আমি আর আন্তোনেলা (স্ত্রী) ছোটবেলা থেকে পরস্পরকে চিনি। আজ আমরা কোথায় পৌঁছেছি, সেগুলো নিয়ে প্রচুর কথা হয়। আমাদের বেড়ে ওঠা, ছোটবেলায় সময় কাটানো এখনও এসব নিয়ে গল্প হয়। কিন্তু মাঠে নামলে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবা যায় না। খেলা ছাড়ার পর ওগুলো নিয়ে ভাবব।
প্রশ্ন : আপনার ছেলে থিয়াগোর এখন দু’বছর বয়স। বাবা হিসেবেও আপনি এখন অভিজ্ঞ। সেটা আপনাকে কতটা বদলেছে? এরফলে কি আপনি আরও বেশি পরিণত হয়েছেন?
মেসি : পরিবর্তন? সবকিছু বদলে গেছে। এখন সবার আগে আমার সন্তান থিয়াগো, তারপর অন্য সবকিছু। মাঠেও এর বদল হয়েছে। আগে হেরে গেলে বা ভুল করলে তিন-চার দিন ধরে কারও সঙ্গে কথা বলতাম না। এখন কোনো ম্যাচে হেরে গেলে বাড়ি ফিরে ছেলেকে দেখি। ওকে দেখলেই সব রাগ গলে যায়। ওর মুখ সামনে এলেই সব কীরকম বদলে যায়। বাবা হওয়ার পর আমি অনেক পরিণত হয়েছি। বদলে গেছি। ফুটবল ছাড়াও যে অন্য একটা জগৎ আছে, সেটা এখন বুঝতে পারছি। ওয়েবসাইট।
 

খেলা পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close