¦
ইতিহাসের বিরুদ্ধে লড়াই এবার

জ্যোতির্ময় মণ্ডল | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

লক্ষ্য ৫৫০। তৃতীয় দিন শেষে ঝুলিতে ৬৩ রান। নয় (আসলে আট উইকেটে) দরকার ৪৮৭। ইতিহাস বলছে কোনো দলই এর আগে এত বেশি রান তাড়া করে জিততে পারেনি। বাংলাদেশের অগ্নিপরীক্ষা। দু’দিনে ছয়টি সেশন পার করা অসম্ভব! সাকিব আল হাসান কাল তৃতীয় দিনের খেলা শেষে জানিয়ে গেলেন শংকার কথা। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ তাড়া করে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০৩ সালে। মিরপুর টেস্টে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৫৫৭/৮ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৫/৬-এ ইনিংস ঘোষণা করে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২০৩। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৩/১।
তৃতীয় দিন শেষে তামিম ইকবাল ৩২, মুমিনুল হক ১৫ রানে অপরাজিত। ম্যাচ বাঁচাতে হলে পাহাড় টপকাতে হবে স্বাগতিকদের। রানের চেয়ে বেশি প্রয়োজন উইকেটে টিকে থাকা। স্বাগতিকদের প্রেরণা হতে পারে খুলনা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস। ৫৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে ওই ম্যাচে ৩১২ রানের জুটি গড়েছিলেন তামিম ও ইমরুল। ৫৫০ রানের চ্যালেঞ্জে খেলতে নেমে কাল শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েসকে নিয়ে তামিম ১১ ওভারেই ৪৮ রান তোলেন। ইয়াসির শাহ’র দুর্দান্ত বোলিংয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইমরুল। দিনের খেলা বাকি ছিল তখন দুই ওভার। মুমিনুল হক উইকেটে নেমেই ওয়াহাব রিয়াজের এক ওভারে তিনটি চার মারেন। আজ বাংলাদেশ তামিম ও মুমিনুলের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
দিনের শুরুতে ফলোঅন এড়ানোর জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৫১। বাংলাদেশ মাত্র ৯৬ রান করে। সৌম্য সরকার, শুভাগত হোম কিছুই পারেননি। দিনের প্রথম ওভারে আউট হতে পারতেন সাকিব আল হাসানও। ওয়াহাব রিয়াজের বল ব্যাটের কানায় লেগে ওপরে উঠে গেলেও আসাদ শফিক বলের লাইনে যেতে ব্যর্থ হন। সেই সাকিবের ৮৯* রানের অসাধারণ ইনিংসেই ২০৩ রান করে স্বাগতিকরা।
৩৫৪ রানের লিড পেয়েও চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং এড়ানোর জন্য বাংলাদেশকে ফলোঅন করাননি মিসবাহ। প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ হাফিজকে ফিরিয়ে শুরু করেন মোহাম্মদ শহীদ। তার সপ্তম ওভারে অপর ওপেনার সামি আসলাম আউট হন। পাকিস্তানের স্কোর তখন ২৫/২। আজহার আলী কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তিনি ২৫ রানে আউট হন। ইউনুস খানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে মিসবাহ দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান ইউনুসকে ২৯ রানে ফেরান
তাইজুল। ৫০০ রানের লিড হয়ে যাওয়ার পর তাইজুলের এক ওভারে ২১ রান নেন পাক অধিনায়ক। ৫০০ রান লিড হওয়ার পর মিসবাহ সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ৮২ রানে মিসবাহ মাহমুদউল্লাহর শিকার হলে ১৯৫/৬-এ ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান।
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ৫৫৭/৮ ডিক্লেয়ার (আজহার আলী ২২৬, ইউনুস খান ১৪৮, আসাদ শফিক ১০৭। তাইজুল ৩/১৭৯)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ২০৩ (তামিম ইকবাল ৪, ইমরুল কায়েস ৩২, মুমিনুল ১৩, মাহমুদউল্লাহ ২৮, সাকিব ৮৯*, মুশফিকুর ১২, তাইজুল ১৫। ওয়াহাব রিয়াজ ৩/৭৩, ইয়াসির শাহ ৩/৫৮)।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস ১৯৫/৬ ডিক্লেয়ার (আজহার আলী ২৫, ইউনুস খান ৩৯, মিসবাহ ৮২। মোহাম্মদ শহীদ ২/২৩)।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস
রান বল ৪ ৬
তামিম ইকবাল নটআউট ৩২ ৪২ ৬ ০
ইমরুল কায়েস ব ইয়াসির ১৬ ২৯ ৩ ০
মুমিনুল নটআউট ১৫ ১৩ ৩ ০
অতিরিক্ত ০
মোট (১ উইকেটে, ১৪ ওভারে) ৬৩
উইকেট পতন : ১/৪৮
বোলিং : জুনায়েদ খান ৫-০-১৯-০, ইমরান খান ৪-১-২২-০, ইয়াসির শাহ ৩-০-৭-১, ওয়াহাব রিয়াজ ২-০-১৫-০।
 

খেলা পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close