¦
কার্টলি অ্যামব্রোসের সেরা ১৩

| প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

যাদের খেলা দেখেছি বা যাদের বিরুদ্ধে খেলেছি, তাদের নিয়েই আমার এই সেরা ১৩। তাই এই দলে স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্সরা নেই। আরেকটা ব্যাপার, এই দলে কোনো ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটারকে রাখিনি। রাখলে আমার সময়ের অনেক গ্রেটকে এই দল থেকে বাদ দেয়া মুশকিল হতো। তা সত্ত্বেও দলটা গড়া অত সোজা হয়নি। এই দলের কোনো অধিনায়কও খুঁজে বের করতে পারিনি আমি-
সুনীল গাভাস্কার : সম্ভবত সর্বকালের সেরা ওপেনার। মার্শাল, রবার্টস, হোল্ডিং, গার্নারদের বিরুদ্ধে ১৪টা টেস্ট সেঞ্চুরি রয়েছে যার, সে তো একজন উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের স্বর্ণযুগে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের জন্যই আমার দলে থাকবে সানি। আমি ওর বিরুদ্ধে কখনও খেলিনি। কিন্তু খেলার খুব ইচ্ছা ছিল।
গ্রাহাম গুচ : কাউন্টি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায়ই আমাদের যুদ্ধ হতো। নাছোড়বান্দা ও কঠিন প্রতিপক্ষ। গাভাস্কারের যোগ্যতম সঙ্গী। টপ অর্ডারে এর চেয়ে ভালো কম্বিনেশন আর কী হতে পারে। সবসময়ই চেষ্টা করতাম ওকে ঝটপট আউট করতে।
জ্যাক ক্যালিস : আমার দেখা সেরা অলরাউন্ডার। এই জায়গাটাতে স্যার গ্যারি সোবার্সকে হয়তো রাখা যেত। কিন্তু তাকে তো কখনও খেলতে দেখিনি। আর তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান। ক্যালিসকে বরং বহুবার দেখেছি এবং আমার সময়ে ওর চেয়ে ভালো অলরাউন্ডার কেউ ছিল না। স্যার ইয়ান বোথামের চেয়েও এগিয়ে রাখব ওকে।
শচীন টেন্ডুলকার : টেন্ডুলকার সম্পর্কে কোনো বর্ণনাই যথেষ্ট নয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৬ বছরের শচীনের সেঞ্চুরি দেখেই বুঝেছিলাম একজন গ্রেটকে পেতে চলেছি। আমি তখন ওখানে কাউন্টি ক্রিকেট খেলছি। এত রেকর্ডের মালিক হওয়া সত্ত্বেও কী নম্র ছেলেটা! দেশের মাঠে ১৯৯৭-এ ওর বিরুদ্ধে একটাই সিরিজ খেলার সৌভাগ্য হয়েছিল।
রিকি পন্টিং : সবসময় বেশ ‘টাফ’। কখনও ফাস্ট বোলারদের ভয় পেত না। বরং তাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করত। সাফল্যও পেত। এই ধরনের ক্রিকেটাররা আমার কাছে বরাবরই শ্রদ্ধেয়। পন্টিং শুরু থেকেই বোলারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার মনোভাব নিয়ে ক্রিজে আসত।
স্টিভ ওয়াহ : স্টিভের সঙ্গে প্রচুর যুদ্ধ করেছি। সে যুদ্ধের কাহিনী আমার বইয়ের অন্য অধ্যায়ে লিখেছিও। আমার বিরুদ্ধে ও প্রচুর রান করেছে। আমার অন্যতম প্রিয় ক্রিকেটার। তাই এই দলে ও অবশ্যই থাকবে।
অ্যাডাম গিলক্রিস্ট : আমি ওর বিরুদ্ধে খেলিনি কখনও। কিন্তু গিলক্রিস্ট যেমন অসাধারণ উইকেটকিপার, তেমনি ধ্বংসাত্মক ব্যাটসম্যান। আমার দেখা সেরা উইকেটকিপারদের তালিকায় ও-ই এক নম্বরে থাকবে।
রিচার্ড হ্যাডলি : হ্যাডলির বিরুদ্ধে না খেললেও ওকে বহুবার খেলতে দেখেছি। আর তাতেই ওর ভক্ত হয়ে গিয়েছি। অসাধারণ অলরাউন্ডার। তবে বোলিংয়ের জন্যই বেশি বিখ্যাত। এ জন্যই আমার দলে থাকবে ও।
ওয়াসিম আকরাম : সম্ভবত গ্রেটেস্ট। একেবারে অন্য ধরনের। সুইং ও সিম দুটোই সমানভাবে করাতে পারত। চাইলেই তীব্র গতিতে বল করতে পারত। কমপ্লিট প্যাকেজ ছিল ওয়াসিম। ব্যাট হাতেও কিন্তু খরগোশ নয়। স্যার ভিভ, গ্রিনিজ, হেইন্সদের দলে যখন খেলতাম, তখন ওকে নিয়ে কম আলোচনা হতো না। বল নিয়ে ওকে যা করতে দেখেছি, তা আমিও করতে পারতাম না।
শেন ওয়ার্ন : এই জায়গাটায় ওয়ার্নকে রাখা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমার দেখা সেরা লেগ-স্পিনার। একা ম্যাচ জেতাতে পারত। ব্যাটিংটাও কমজোরি নয়। অসাধারণ স্লিপ ফিল্ডার। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত এক অলরাউন্ড ক্রিকেটার। আমি মুরালিধরন ও আবদুল কাদিরের কথাও ভেবেছিলাম। কিন্তু শেন ওয়ার্ন থাকতে আর কেউ এই জায়গায় কেন? ওর মতো আক্রমণাত্মক স্পিন বোলারকে সামলানো মোটেই সোজা ব্যাপার নয়।
গ্লেন ম্যাকগ্রা : এমন এক ম্যাচ জেতানো বোলার, যাকে আমি চিরকাল পছন্দ করে এসেছি। আমরা দু’জন প্রায় একই ধরনের বল করতাম। সবসময় নিয়ন্ত্রণ ও নিখুঁত বোলিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। ম্যাকগ্রা আমাদের বিরুদ্ধে বরাবর ভালো বল করত।
ইয়ান বোথাম : কাউন্টিতে ওর বিরুদ্ধে খেলেছি। তখন উনি ক্যারিয়ারের শেষ পর্বে। ১৯৯১-এ একটা টেস্টেও খেলেছি অবশ্য। সেবারই তো তার সেই কুখ্যাত হিট উইকেট। ভারসাম্য বজায় রাখতে না পেরে পা দিয়ে বেল ফেলে দিয়েছিল বোথাম। কিন্তু তখন সেই বোথামকে আমরা পাইনি, যে বোথাম সারা ক্রিকেট দুনিয়ায় বিখ্যাত।
ডেভিড গাওয়ার : অনেকে বলেন, ডেভিড নাকি প্রচুর স্ট্রোক খেলত। ও খুবই ঠাণ্ডা, নির্বিকার প্রকৃতির ব্যাটসম্যান। সেঞ্চুরি বা কম রানে আউট হয়েও যার মধ্যে কখনও কোনো হেলদোল দেখা যায়নি। (আনন্দবাজার পত্রিকার সৌজন্যে)
(কার্টলি অ্যামব্রোসের আত্মজীবনী ‘টাইম টু টক’ থেকে নির্বাচিত অংশ। প্রকাশক ম্যাকমিলান)
 

খেলা পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close