jugantor
বন্যার্তদের জন্য আনন্দের বাড়ির দরজা খোলা

   

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

বন্যা-বিধ্বস্ত ব্রিটেনে দোতলার জানালায় দিন কাটালেন মার্ক গিলেস্পি। পরে উদ্ধারকারী দল তাকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যায়। এফএ কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে দলের সঙ্গে ওয়েলিংয়ে না গিয়েই এই বিপদে পড়েন গিলেস্পি। নিজের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কার্লিসেল ইউনাইটেডের এই গোলকিপার বলেন, ‘শনিবার সকালে শরীর ঠিক না থাকায় দলের সঙ্গে যাইনি। বাইরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় সারা দিন শুয়েই কাটাই। যখন দেখি বাইরের পানি দরজার সামনে চলে এসেছে, তখন বুঝতে পারি বাইরে মারাত্মক সমস্যা হয়েছে। রোববার সকালে অর্ধেক সিঁড়ি পানির তলায় চলে গিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে দোতলার জানলায় উঠে পড়ি। পুলিশকে ফোন করি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত সেখানেই বসে থাকি। পরে উদ্ধারকারী দল আমাকে বের করে নিয়ে যায়।’ এরপরই বন্যা-বিধ্বস্ত দুর্গতদের সাহায্যে নেমে পড়েন ২৩ বছর বয়সী এই গোলকিপার।

এদিকে দাবার বোর্ডে যিনি অসংখ্যজনকে চেকমেট করেছেন সেই ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার বিশ্বনাথান আনন্দ নেমে এলেন মাটির কাছাকাছি। চেন্নাইয়ে বৃষ্টি থেমেছে। পানি নামছে একটু একটু করে কিন্তু এখনও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি শহর। কঠিন লড়াই যখন লড়ছে চেন্নাই, তখন শহরবাসীর পাশে দাঁড়ালেন আনন্দ। না আর্থিক সাহায্য দিয়ে দায় সারলেন না। বন্যাদুর্গতদের জন্য খুলে দিলেন নিজের বড়ির দরজা। আনন্দ এ মুহূর্তে শহরে নেই। লন্ডন চেস ক্লাসিকে লড়ছেন কার্লসেনের বিরুদ্ধে। কিন্তু নিজের শহরের অসহায় মানুষগুলোকে ভুলে থাকতে পারেননি। তাই তো বন্যায় যারা মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছিলেন, এমন বেশ কিছু মানুষকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন তিনি। আনন্দের স্ত্রী অরুণা জানিয়েছেন, ‘আমার সন্তান আর বৃদ্ধ শ্বশুরকে রেখে অন্য কোথাও গিয়ে থাকা এই মুহূর্তে অসম্ভব ছিল। অন্য কোথায় গিয়ে ত্রাণের কাজে হাত লাগানো সম্ভব ছিল না। তাই আমরা ঠিক করি, বন্যাদুর্গতদের নিজেদের বাড়িতেই আশ্রয় দেব। প্রথমবার যখন বন্যা হল চেন্নাইয়ে, ২০ জন আমাদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তার মধ্যে দু’জন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাও ছিলেন। আমাদের বাড়ির কাছাকাছিতে যে বস্তি রয়েছে, সেখান থেকেই এসেছিলেন তারা। আমাদের বাড়িতে যিনি কাজ করেন, বন্যায় তারও বাড়ি ভেসে গেছে। সহায়-সম্বলটুকুও আর নেই। এ কারণেই তাকে ও তার পরিবার এবং বস্তির বেশ কয়েকজনকে নিয়ে আমাদের এখানে চলে আসার জন্য বলেছিলাম। ওরা আমাদের সঙ্গেই এখন থাকছেন। বাড়িতে এখন বড় চুলায় রান্না হচ্ছে। সবার জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তারা সবাইকে খাবার দিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জোগান দিচ্ছেন।’ এখানেই শেষ নয়। আনন্দ আর্থিক সাহায্যেরও বন্দোবস্ত করেছেন। ওয়েবসাইট।



সাবমিট

বন্যার্তদের জন্য আনন্দের বাড়ির দরজা খোলা

  
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
বন্যা-বিধ্বস্ত ব্রিটেনে দোতলার জানালায় দিন কাটালেন মার্ক গিলেস্পি। পরে উদ্ধারকারী দল তাকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যায়। এফএ কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে দলের সঙ্গে ওয়েলিংয়ে না গিয়েই এই বিপদে পড়েন গিলেস্পি। নিজের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কার্লিসেল ইউনাইটেডের এই গোলকিপার বলেন, ‘শনিবার সকালে শরীর ঠিক না থাকায় দলের সঙ্গে যাইনি। বাইরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় সারা দিন শুয়েই কাটাই। যখন দেখি বাইরের পানি দরজার সামনে চলে এসেছে, তখন বুঝতে পারি বাইরে মারাত্মক সমস্যা হয়েছে। রোববার সকালে অর্ধেক সিঁড়ি পানির তলায় চলে গিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে দোতলার জানলায় উঠে পড়ি। পুলিশকে ফোন করি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত সেখানেই বসে থাকি। পরে উদ্ধারকারী দল আমাকে বের করে নিয়ে যায়।’ এরপরই বন্যা-বিধ্বস্ত দুর্গতদের সাহায্যে নেমে পড়েন ২৩ বছর বয়সী এই গোলকিপার।

এদিকে দাবার বোর্ডে যিনি অসংখ্যজনকে চেকমেট করেছেন সেই ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার বিশ্বনাথান আনন্দ নেমে এলেন মাটির কাছাকাছি। চেন্নাইয়ে বৃষ্টি থেমেছে। পানি নামছে একটু একটু করে কিন্তু এখনও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি শহর। কঠিন লড়াই যখন লড়ছে চেন্নাই, তখন শহরবাসীর পাশে দাঁড়ালেন আনন্দ। না আর্থিক সাহায্য দিয়ে দায় সারলেন না। বন্যাদুর্গতদের জন্য খুলে দিলেন নিজের বড়ির দরজা। আনন্দ এ মুহূর্তে শহরে নেই। লন্ডন চেস ক্লাসিকে লড়ছেন কার্লসেনের বিরুদ্ধে। কিন্তু নিজের শহরের অসহায় মানুষগুলোকে ভুলে থাকতে পারেননি। তাই তো বন্যায় যারা মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছিলেন, এমন বেশ কিছু মানুষকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন তিনি। আনন্দের স্ত্রী অরুণা জানিয়েছেন, ‘আমার সন্তান আর বৃদ্ধ শ্বশুরকে রেখে অন্য কোথাও গিয়ে থাকা এই মুহূর্তে অসম্ভব ছিল। অন্য কোথায় গিয়ে ত্রাণের কাজে হাত লাগানো সম্ভব ছিল না। তাই আমরা ঠিক করি, বন্যাদুর্গতদের নিজেদের বাড়িতেই আশ্রয় দেব। প্রথমবার যখন বন্যা হল চেন্নাইয়ে, ২০ জন আমাদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তার মধ্যে দু’জন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাও ছিলেন। আমাদের বাড়ির কাছাকাছিতে যে বস্তি রয়েছে, সেখান থেকেই এসেছিলেন তারা। আমাদের বাড়িতে যিনি কাজ করেন, বন্যায় তারও বাড়ি ভেসে গেছে। সহায়-সম্বলটুকুও আর নেই। এ কারণেই তাকে ও তার পরিবার এবং বস্তির বেশ কয়েকজনকে নিয়ে আমাদের এখানে চলে আসার জন্য বলেছিলাম। ওরা আমাদের সঙ্গেই এখন থাকছেন। বাড়িতে এখন বড় চুলায় রান্না হচ্ছে। সবার জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তারা সবাইকে খাবার দিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জোগান দিচ্ছেন।’ এখানেই শেষ নয়। আনন্দ আর্থিক সাহায্যেরও বন্দোবস্ত করেছেন। ওয়েবসাইট।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র