jugantor
ম্যানইউর বিদায়

   

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

আগের কয়েক ম্যাচের তুলনায় পরশু ঢের ভালো খেলেছে ম্যানইউ। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হল না। উলফসবার্গের কাছে ৩-২ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে রেডডেভিলরা। আগের ম্যাচে নিজেদের ডেরায় পিএসভি আইন্ডহোভেনের সঙ্গে ড্র না করলে মঙ্গলবার গ্রুপপর্বের শেষ রাউন্ডে এমন অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হতো না ইংলিশ জায়ান্টদের। তারপরও জিতলে সব সমীকরণ মিলে যেত। কিন্তু উলফসবার্গের মাঠে পাঁচ গোলের পাগুলে ম্যাচে হেরে সীমাহীন হতাশা আর আক্ষেপ নিয়েই শেষ হল ম্যানইউর চ্যাম্পিয়ন্স লীগ যাত্রা। রেডডেভিলদের হাতে ইউরোপা লীগের টিকিট ধরিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লীগের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল উলফসবার্গ। তা-ও আবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। বি-গ্রুপ থেকে শেষ ষোলোতে জার্মান ক্লাবটির সঙ্গী হয়েছে ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্ডহোভেন। পরশু শেষ ম্যাচে সিএসকেএ মস্কোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা।

ঘরের মাঠে আইন্ডহোভেন হোঁচট খেলে হেরেও নকআউট পর্বে চলে যেত ম্যানইউ। একই সময়ে শুরু হওয়া দুটি ম্যাচই শেষ ১৫ মিনিটে দারুণ রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। আইন্ডহোভেনের মাঠে ৭৬ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল সিএসকেএ মস্কো। উলফসবার্গের মাঠে ম্যানইউ তখন ২-১ গোলে পিছিয়ে। এই স্কোরলাইনে ম্যাচ দুটি শেষ হলে কপাল পুড়ত আইন্ডহোভেনের। কিন্তু হল উল্টোটা। শেষ ১২ মিনিটে দু’গোল করে হারা ম্যাচ জিতে গেল আইন্ডহোভেন। আর ৮২ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফিরিয়েও শেষমেশ হেরেই গল ম্যানইউ। প্রতিপক্ষের মাঠে ১০ মিনিটে ম্যানইউকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অ্যান্থনি মার্শাল। তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি লুই ভ্যান গলের দল। নালদো ও ভেইরিনহার গোলে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় উলফসবার্গ। এ সময় ম্যানইউ উইঙ্গার লিনগার্ডের একটি গোল অফসাইডে কাটা পড়ে। তবে ৮২ মিনিটে গুইলাভোগির আত্মঘাতী গোল দারুণভাবে ম্যাচে ফিরিয়েছিল ম্যানইউকে। শেষ ষোলোতে যেতে দরকার আরেকটি গোল। সেই গোলের খোঁজে মরিয়া হয়েই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনে ম্যানইউ। ৮৪ মিনিটে হেডে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে উলফসবার্গকে নকআউট পর্বে নিয়ে যান নালদো। স্বপ্নভঙ্গের পর কোনো অজুহাত না খুঁজে যেন আত্মসমর্পণই করলেন ম্যানইউ কোচ লুই ভ্যান গল, ‘নিজেকে রক্ষা করার জন্য আমি কোনো অজুহাত খুঁজব না। কারণ আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ থেকে বাদ পড়ে গেছি। এখন আমি যাই বলি না কেন সবই ভুল হবে।’ ম্যানইউ বিদায় নিলেও পরশু ম্যানচেস্টারের এক অংশে উড়েছে উৎসবের রেণু। আগেই নকআউট পর্বে চলে যাওয়া ম্যানসিটি শেষ ম্যাচে গ্লাডবাখকে ৪-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ঘরের মাঠে ডেভিড সিলভার গোলে শুরুটা দারুণ হলেও একপর্যায়ে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল সিটি। কিন্তু শেষ ১০ মিনিটের ঝড়ে গ্লাডবাখকে উড়িয়ে দিয়েছে ম্যানুয়েল পেল্লেগ্রিনির দল। পরশু ছিল রাহিম স্টার্লিংয়ের ২১তম জন্মদিন। দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে জন্মদিনটা নিজেই রাঙিয়ে নিলেন সিটির ইংলিশ ইউঙ্গার। ৮৫ মিনিটে গ্লাডবাখের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন উইলফ্রেড বনি। সিটির গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে সেভিয়ারও অবদান আছে। ফার্নান্ডো লরেন্তের দেয়া একমাত্র গোলে জুভেন্টাসকে হারিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। আর আগেই শেষ ষোলোতে চলে যাওয়া জুভেন্টাস গ্র“প রানার্সআপ হয়েছে। সি-গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে গেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও বেনফিকা। শেষ ম্যাচে বেনফিকাকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্র“প চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অ্যাটলেটিকো। এএফপি।


 

সাবমিট

ম্যানইউর বিদায়

  
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

আগের কয়েক ম্যাচের তুলনায় পরশু ঢের ভালো খেলেছে ম্যানইউ। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হল না। উলফসবার্গের কাছে ৩-২ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে রেডডেভিলরা। আগের ম্যাচে নিজেদের ডেরায় পিএসভি আইন্ডহোভেনের সঙ্গে ড্র না করলে মঙ্গলবার গ্রুপপর্বের শেষ রাউন্ডে এমন অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হতো না ইংলিশ জায়ান্টদের। তারপরও জিতলে সব সমীকরণ মিলে যেত। কিন্তু উলফসবার্গের মাঠে পাঁচ গোলের পাগুলে ম্যাচে হেরে সীমাহীন হতাশা আর আক্ষেপ নিয়েই শেষ হল ম্যানইউর চ্যাম্পিয়ন্স লীগ যাত্রা। রেডডেভিলদের হাতে ইউরোপা লীগের টিকিট ধরিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লীগের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল উলফসবার্গ। তা-ও আবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। বি-গ্রুপ থেকে শেষ ষোলোতে জার্মান ক্লাবটির সঙ্গী হয়েছে ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্ডহোভেন। পরশু শেষ ম্যাচে সিএসকেএ মস্কোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা।

ঘরের মাঠে আইন্ডহোভেন হোঁচট খেলে হেরেও নকআউট পর্বে চলে যেত ম্যানইউ। একই সময়ে শুরু হওয়া দুটি ম্যাচই শেষ ১৫ মিনিটে দারুণ রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। আইন্ডহোভেনের মাঠে ৭৬ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল সিএসকেএ মস্কো। উলফসবার্গের মাঠে ম্যানইউ তখন ২-১ গোলে পিছিয়ে। এই স্কোরলাইনে ম্যাচ দুটি শেষ হলে কপাল পুড়ত আইন্ডহোভেনের। কিন্তু হল উল্টোটা। শেষ ১২ মিনিটে দু’গোল করে হারা ম্যাচ জিতে গেল আইন্ডহোভেন। আর ৮২ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফিরিয়েও শেষমেশ হেরেই গল ম্যানইউ। প্রতিপক্ষের মাঠে ১০ মিনিটে ম্যানইউকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অ্যান্থনি মার্শাল। তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি লুই ভ্যান গলের দল। নালদো ও ভেইরিনহার গোলে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় উলফসবার্গ। এ সময় ম্যানইউ উইঙ্গার লিনগার্ডের একটি গোল অফসাইডে কাটা পড়ে। তবে ৮২ মিনিটে গুইলাভোগির আত্মঘাতী গোল দারুণভাবে ম্যাচে ফিরিয়েছিল ম্যানইউকে। শেষ ষোলোতে যেতে দরকার আরেকটি গোল। সেই গোলের খোঁজে মরিয়া হয়েই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনে ম্যানইউ। ৮৪ মিনিটে হেডে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে উলফসবার্গকে নকআউট পর্বে নিয়ে যান নালদো। স্বপ্নভঙ্গের পর কোনো অজুহাত না খুঁজে যেন আত্মসমর্পণই করলেন ম্যানইউ কোচ লুই ভ্যান গল, ‘নিজেকে রক্ষা করার জন্য আমি কোনো অজুহাত খুঁজব না। কারণ আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ থেকে বাদ পড়ে গেছি। এখন আমি যাই বলি না কেন সবই ভুল হবে।’ ম্যানইউ বিদায় নিলেও পরশু ম্যানচেস্টারের এক অংশে উড়েছে উৎসবের রেণু। আগেই নকআউট পর্বে চলে যাওয়া ম্যানসিটি শেষ ম্যাচে গ্লাডবাখকে ৪-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ঘরের মাঠে ডেভিড সিলভার গোলে শুরুটা দারুণ হলেও একপর্যায়ে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল সিটি। কিন্তু শেষ ১০ মিনিটের ঝড়ে গ্লাডবাখকে উড়িয়ে দিয়েছে ম্যানুয়েল পেল্লেগ্রিনির দল। পরশু ছিল রাহিম স্টার্লিংয়ের ২১তম জন্মদিন। দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে জন্মদিনটা নিজেই রাঙিয়ে নিলেন সিটির ইংলিশ ইউঙ্গার। ৮৫ মিনিটে গ্লাডবাখের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন উইলফ্রেড বনি। সিটির গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে সেভিয়ারও অবদান আছে। ফার্নান্ডো লরেন্তের দেয়া একমাত্র গোলে জুভেন্টাসকে হারিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। আর আগেই শেষ ষোলোতে চলে যাওয়া জুভেন্টাস গ্র“প রানার্সআপ হয়েছে। সি-গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে গেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও বেনফিকা। শেষ ম্যাচে বেনফিকাকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্র“প চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অ্যাটলেটিকো। এএফপি।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র