¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
ক্রীড়াঙ্গন পায়নি আলোর সন্ধান

মোজাম্মেল হক চঞ্চল | প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্য-ব্যর্থতার চেয়েও গেল বছরটা আলোচিত হয়ে উঠেছিল ক্রীড়া প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ঘটনা। যুগ্ম সচিবের কক্ষ ভাংচুর করে ব্যাপক নিন্দা কুড়ান যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। চার বছর ধরে ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান বন্ধ হয়ে রয়েছে, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পারস্পরিক দ্বন্দ্বে। ফিফা কংগ্রেসে নিয়ে গিয়ে সুইজারল্যান্ডে আদম পাচার করে দিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা (বাফুফে)।
১৭ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি জাতীয় ক্রীড়া নীতি। পাঁচ বছর ধরে লাল ফিতায় বন্দি হয়ে রয়েছে ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা।
বছরজুড়েই ঠাণ্ডা লড়াই ছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর মধ্যে। যার জের ধরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিবের রুম ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা গেছে, রোববার ওসমানী মিলনায়তনে জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার। আর বিশেষ অতিথি ছিলেন উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। ব্যানারে নিজের নাম না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে উপমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান। সেখান থেকে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব মাসুক মিয়ার কক্ষে ঢুকেন জয়। ব্যানারে নাম না থাকার পেছনে মাসুক মিয়া দায়ী বলে মনে করে উপমন্ত্রী উত্তেজিত হয়ে মাসুক মিয়ার টেবিলে থাকা কম্পিউটারসহ ফাইলপত্র ছুড়ে ফেলে দেন। ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে উধাও হয়ে গেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ডেলিগেট সমন্বয়কারী মো. সেলিম উদ্দিন (পাসপোর্ট নং- বিই ০১৮৭০৭)। গত মে মাসে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জুরিখে গিয়ে আর ফিরে আসেননি বাফুফের এ কর্মকর্তা। এ নিয়ে সুইজারল্যান্ড সরকারের .কড়া অবস্থানে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আদম পাচারের জন্য সরাসরি অভিযুক্ত করা হয় যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগকে। ২০১৫ সালে ক্রীড়াবিদ পালানোর ঘটনাও ঘটেছে। যদিও হরহামেশাই ঘটছে ক্রীড়াবিদ পলায়নের ঘটনা। বিভিন্ন গেমসে অংশ নিতে গিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন ক্রীড়াবিদ, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা। অলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমস, ক্রিকেট ট্যুর, বিশ্ব অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপ, সুইমিং চ্যাম্পিয়ন ও ওয়ার্ল্ড হকি চ্যাম্পিয়নশিপে যোগ দিতে গিয়ে পলায়নের ঘটনা ঘটেছে বহুবার। বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও ক্লাবের নাম ভাঙিয়ে আদম পাচারের ঘটনা এখন ওপেন সিক্রেট। সর্বশেষ পালিয়েছেন আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে স্পেশাল অলিম্পিক থেকে বাংলাদেশ দলের সুস্থ ফুটবলার জয়নাল আবেদীন।
নীতি ছাড়াই চলছে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন। ১৭ বছরেও অন্ধকারেই রয়ে গেছে জাতীয় ক্রীড়া নীতি। সরকার যায়, সরকার আসে। কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া নীতি বন্দি লাল ফিতায়। ক্রীড়া প্রশাসন চলছে লক্ষ্যহীনভাবে। দেশে একের পর এক ক্রীড়া স্থাপনা তৈরি হচ্ছে, কিন্তু খেলা নেই। খেলোয়াড়ও নেই। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন শুধুই পেছাচ্ছে। ১৯৮৯ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এইচএম গাফফার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে প্রথম ক্রীড়ানীতি ঘোষণা করেন।
১৯৮৯ সালের ক্রীড়া নীতিকে ভিত্তি করে ১৯৯৬ সালের জাতীয় ক্রীড়া সম্মেলনের সুপারিশের আলোকে ক্রীড়া নীতিতে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজন করা হয়। ১৯৯৮ সালে মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে ২৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তিত ক্রীড়া নীতি অনুমোদন করা হয়। কিন্তু ১৯৯৮ সালের ক্রীড়া নীতির অনুচ্ছেদের কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি।
জাতীয় ক্রীড়া নীতির সর্বশেষ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর পর্যালোচনার মাধ্যমে সময়োপযোগী পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজনের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী ২০০৩ সালে ক্রীড়া নীতির সংযোজন-বিয়োজন হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। পেরিয়ে গেছে ১৭ বছর। পাঁচ বছরেও অগ্রগতি হয়নি বাংলাদেশের ক্রীড়া উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রস্তাব। ২০১১ সালের ১৫ মে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ক্রীড়া উন্নয়নে একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব প্রণয়ন করে। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো ওই প্রস্তাবনায় ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দিক নির্দেশনা ছিল। কিন্তু বিওএ’র পরবর্তী কমিটি ওই পরিকল্পনার বাস্তবায়নের কাজটি এগিয়ে নিতে আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলশ্র“তিতে পাঁচ বছর অন্ধকারেই পড়ে রয়েছে উন্নয়ন পরিকল্পনাটি।
 

খেলা পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close