jugantor
নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া সুস্বাস্থ্যের সহায়ক

  ড. লিসা একারলি  

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

প্রফেসরিয়াল ফেলো, আরএসপিএইচ, ভিজিটিং প্রফেসর, ইউনিভার্সিটি অব সালফোর্ড, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হাইজিন অডিট সিস্টেমস লি.

আরএসপিএইচ এবং বিশ্বব্যাপী এর কাজ সম্পর্কে বলুন?

রয়্যাল সোসাইটি ফর পাবলিক হেলথ একটি স্বাধীন, মাল্টি ডিসিপ্লিনারি চ্যারিটি সংস্থা যা সম্মিলিতভাবে জনকল্যাণ ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সুরক্ষার জন্য উৎসর্গীকৃত। স্বাস্থ্যকর্মী, চ্যারিটিস, কমিউনিটি গ্রুপ, সরকারি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সরকারি সংস্থা এসব স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আমাদের ব্যাপৃতি বিশ্বব্যাপী এবং আমাদের অনেক আন্তর্জাতিক সদস্যও রয়েছে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত WONCA কনফারেন্সে RSPH কী নিয়ে এসেছে?

লাইফবয়ের ‘হেল্প এ চাইল্ড রিচ ফাইভ’ হচ্ছে প্রথম ক্যাম্পেইন যা আরএসপিএইচের মাধ্যমে প্রচলন করা হয়েছে এবং যেহেতু বাংলাদেশে লাইফবয়ের অনেকগুলো সফল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে সেহেতু এ ক্যাম্পেইনের মান এবং অবশ্যই হাত ধোয়ার মান সম্পর্কে কথা বলার জন্য এ কনফারেন্স ভালো একটি ক্ষেত্র।

জীবাণু প্রতিরোধ এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সম্পর্কে বিস্তারিত বলবেন কি?

বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৪ শতাংশ মৃত্যুর কারণ হচ্ছে ডায়রিয়া এবং পৃথিবীব্যাপী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৪ বিলিয়ন। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে ৩ থেকে ৫ মিলিয়ন ব্যক্তি শ্বাসনালিতে জীবাণুর সংক্রমণে আক্রান্ত, যা কিনা ২,৫০,০০০-৫,০০,০০০ ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ। আমরা এও জানি পৃথিবীজুড়ে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে ১.৭ মিলিয়ন শিশু ৫ বছরে পৌঁছার আগেই মৃত্যুবরণ করে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ‘নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া অস্বাস্থ্য প্রতিরোধে এবং জীবন বাঁচানোর একটি অন্যতম সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকরী উপায় (২০১৩)’।

আমি খুবই আশাবাদী, প্রত্যেকেই তাদের হাত নিয়মিত এবং অবশ্যই সঠিক সময়ে ধৌত করবে- ইউনিলিভার স্কুল অব ৫ যেখানে বাচ্চাদের সকালের খাবারের আগে, দুপুরের খাবারের আগে, রাতের খাবারের আগে, টয়লেটের পরে এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে হাত ধোয়ার ব্যাপারে শেখানো হয়। এ প্রকল্পটি শিশুদের তাদের বাবা-মা এবং পরিবারের সব সদস্যেরও শিখানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করে তদুপুরি এভাবে পুরো কমিউনিটিতে বিষয়টি ছড়িয়ে যায়।

আমাদের সবারই ভালো সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মাধ্যমে নিজেদের এবং অপরের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসা উচিত। আমাদের চিন্তা করতে হবে খাবার আগে, খাবার তৈরির আগে, কন্টাক্ট লেন্স পরার আগে, মেক-আপ নেয়ার আগে, চোখ ধরার আগে, বাচ্চাদের ছিঁড়ে যাওয়া হাঁটুর ড্রেসিংয়ের আগে অথবা আমাদের নখ মুখে দেয়ার আগে ‘আমাদের হাত কোথায় ছিল’?

হাত তো কখনোই অকার্যকর অবস্থায় থাকবে না, কিন্তু হাত কিসের মাধ্যমে কতটুকু নোংরা হতে পারে এ ব্যাপারে একটু সচেতন হলে আমরা আরও বেশি হাত ধোয়ার ব্যাপারে চিন্তাশীল হতে পারি।

আরএসপিএইচ লাইফবয়ের হেল্প এ চাইল্ড রিচ ৫ ক্যাম্পেইনকে সমর্থন জানিয়েছে। আপনি কি আমাদের এ সমর্থনের ব্যাপারে সংক্ষেপে বলবেন?

জনস্বাস্থ্য এবং জনকল্যাণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরএসপিএইচ সে সব ধরনের ক্যাম্পেইন সমর্থন করে যেগুলো যথাযথ অভ্যাস পরিবর্তনের ওপর প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্যে হাইজিনবিষয়ক শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিধির উন্নতিতে কঠোর প্রচারণা চালায়।

আরএসপিএইচ লাইফবয়ের বিভিন্ন ধরনের সাবান, বডি ওয়াশ ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ফর্মুলা পর্যালোচনা করছিল, তারা বিজ্ঞাপনে যেসব জিনিস দাবি করে এবং এডুকেশনাল হ্যান্ড হাইজিন ক্যাম্পেইনের সফলতার মাপকাঠির যথার্থতা পরীক্ষা করে দেখেছিল।

লাইফবয়কে এ ধরনের স্বীকৃতির অনুমোদন শুধু একটি পণ্য হিসেবে দেয়া হয়নি, এটা লাইফবয়ের হাইজিনবিষয়ক শিক্ষা প্রদানের চেষ্টা এবং রোগ-জীবাণু প্রতিরোধের মাধ্যম হিসেবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসের প্রচেষ্টারও স্বীকৃতি।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বাচ্চাদের সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস সৃষ্টির ব্যাপারে আপনার অভিজ্ঞতা কী?

বাচ্চারা ‘স্কুল অফ ৫’ এ ধারণাটি খুবই পছন্দ করেছিল এবং হাত ধোয়ার ৫টি মুখ্য সময়ের সম্পর্কে তারা খুব দ্রুত শিখে গিয়েছিল। উপকরণ এবং ধারণার ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটা আমার জন্য এক চরম পাওয়া। আর একটি বিষয়, এক ধরনের স্পেশাল পাউডার এবং আল্ট্রা ভায়োলেট টর্চ ব্যবহার করে আমি প্রদর্শন করে দেখিয়েছি কীভাবে অদৃশ্য জীবাণুরা একজনের থেকে আরেকজনের মধ্যে এবং ক্ষেত্রে স্থানান্তর হতে পারে।

যেহেতু আপনি এখানে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান কনফারেন্সের জন্য এসেছেন, তো বাংলাদেশে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবার-সমাজ গড়ে তোলার ব্যাপারে আপনার কোনো পরামর্শ?

যেহেতু মানুষ খালি চোখে মাইক্রো অর্গানিজমস অথবা জীবাণুদের দেখতে পায় না, সেহেতু এ ব্যাপারে আলোচনা করা মাঝে মাঝে খুব কঠিন যে কীভাবে জীবাণুরা ইনফেকশনের কারণ হতে পারে এবং আমাদের হাত থেকে জীবাণুদের মুছে ফেলা কীভাবে গুরুত্ব বহন করে, সুতরাং মিডিয়া ক্যাম্পেইনে গ্লো ইন দ্য ডার্ক পাউডার ব্যবহার করে ‘জীবাণুদের জীবনযাত্রা’ চাক্ষুস প্রদর্শনের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী হতে পারে। আমি বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে দেখেছি, একটি সুন্দর পরিষ্কার হাতে কি পরিমাণ জীবাণু থাকতে পারে তা আল্ট্রা-ভায়োলটে-রশ্মি ব্যবহার করার মাধ্যমে তুলে ধরে। এ ধরনের অনুষ্ঠান মানুষকে আকৃষ্ট করে এবং মনোযোগী হতে সাহায্য করে।

সুস্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতন সাধারণ মানুষরা মনে করে যে সাবান দিয়ে হাত ধোয়াটা খুবই খরচের ব্যাপার। কিন্তু আসলে তা নয়, আপনি যদি অসুস্থ থাকেন তাহলে কাজ করতে পারবেন না এবং এতে আপনার অনেক টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে। সাবান দিয়ে হাত ধুতে গেলে আপনার খুবই কম খরচ হয়, কিন্তু এর ফলাফল খুবই শক্তিশালী।

উদাহরণ দ্বারা বুঝানো যেতে পারে- রোগীদের দেখিয়ে দিন কীভাবে হাত ধুতে হয়। আমিই তো রাগান্বিত হয়ে যাই যখন আমার ডাক্তার এরকমটি করেন না।

স্কুলগুলো কি করতে পারে?

স্কুলের বাচ্চাদের হাত ধোয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা উচিত যখনই তারা স্কুলে যাওয়া শুরু করবে তখন থেকেই।


 

সাবমিট

নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া সুস্বাস্থ্যের সহায়ক

 ড. লিসা একারলি 
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

প্রফেসরিয়াল ফেলো, আরএসপিএইচ, ভিজিটিং প্রফেসর, ইউনিভার্সিটি অব সালফোর্ড, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হাইজিন অডিট সিস্টেমস লি.

আরএসপিএইচ এবং বিশ্বব্যাপী এর কাজ সম্পর্কে বলুন?

রয়্যাল সোসাইটি ফর পাবলিক হেলথ একটি স্বাধীন, মাল্টি ডিসিপ্লিনারি চ্যারিটি সংস্থা যা সম্মিলিতভাবে জনকল্যাণ ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সুরক্ষার জন্য উৎসর্গীকৃত। স্বাস্থ্যকর্মী, চ্যারিটিস, কমিউনিটি গ্রুপ, সরকারি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সরকারি সংস্থা এসব স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আমাদের ব্যাপৃতি বিশ্বব্যাপী এবং আমাদের অনেক আন্তর্জাতিক সদস্যও রয়েছে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত WONCA কনফারেন্সে RSPH কী নিয়ে এসেছে?

লাইফবয়ের ‘হেল্প এ চাইল্ড রিচ ফাইভ’ হচ্ছে প্রথম ক্যাম্পেইন যা আরএসপিএইচের মাধ্যমে প্রচলন করা হয়েছে এবং যেহেতু বাংলাদেশে লাইফবয়ের অনেকগুলো সফল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে সেহেতু এ ক্যাম্পেইনের মান এবং অবশ্যই হাত ধোয়ার মান সম্পর্কে কথা বলার জন্য এ কনফারেন্স ভালো একটি ক্ষেত্র।

জীবাণু প্রতিরোধ এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সম্পর্কে বিস্তারিত বলবেন কি?

বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৪ শতাংশ মৃত্যুর কারণ হচ্ছে ডায়রিয়া এবং পৃথিবীব্যাপী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৪ বিলিয়ন। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে ৩ থেকে ৫ মিলিয়ন ব্যক্তি শ্বাসনালিতে জীবাণুর সংক্রমণে আক্রান্ত, যা কিনা ২,৫০,০০০-৫,০০,০০০ ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ। আমরা এও জানি পৃথিবীজুড়ে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে ১.৭ মিলিয়ন শিশু ৫ বছরে পৌঁছার আগেই মৃত্যুবরণ করে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ‘নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া অস্বাস্থ্য প্রতিরোধে এবং জীবন বাঁচানোর একটি অন্যতম সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকরী উপায় (২০১৩)’।

আমি খুবই আশাবাদী, প্রত্যেকেই তাদের হাত নিয়মিত এবং অবশ্যই সঠিক সময়ে ধৌত করবে- ইউনিলিভার স্কুল অব ৫ যেখানে বাচ্চাদের সকালের খাবারের আগে, দুপুরের খাবারের আগে, রাতের খাবারের আগে, টয়লেটের পরে এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে হাত ধোয়ার ব্যাপারে শেখানো হয়। এ প্রকল্পটি শিশুদের তাদের বাবা-মা এবং পরিবারের সব সদস্যেরও শিখানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করে তদুপুরি এভাবে পুরো কমিউনিটিতে বিষয়টি ছড়িয়ে যায়।

আমাদের সবারই ভালো সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মাধ্যমে নিজেদের এবং অপরের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসা উচিত। আমাদের চিন্তা করতে হবে খাবার আগে, খাবার তৈরির আগে, কন্টাক্ট লেন্স পরার আগে, মেক-আপ নেয়ার আগে, চোখ ধরার আগে, বাচ্চাদের ছিঁড়ে যাওয়া হাঁটুর ড্রেসিংয়ের আগে অথবা আমাদের নখ মুখে দেয়ার আগে ‘আমাদের হাত কোথায় ছিল’?

হাত তো কখনোই অকার্যকর অবস্থায় থাকবে না, কিন্তু হাত কিসের মাধ্যমে কতটুকু নোংরা হতে পারে এ ব্যাপারে একটু সচেতন হলে আমরা আরও বেশি হাত ধোয়ার ব্যাপারে চিন্তাশীল হতে পারি।

আরএসপিএইচ লাইফবয়ের হেল্প এ চাইল্ড রিচ ৫ ক্যাম্পেইনকে সমর্থন জানিয়েছে। আপনি কি আমাদের এ সমর্থনের ব্যাপারে সংক্ষেপে বলবেন?

জনস্বাস্থ্য এবং জনকল্যাণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরএসপিএইচ সে সব ধরনের ক্যাম্পেইন সমর্থন করে যেগুলো যথাযথ অভ্যাস পরিবর্তনের ওপর প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্যে হাইজিনবিষয়ক শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিধির উন্নতিতে কঠোর প্রচারণা চালায়।

আরএসপিএইচ লাইফবয়ের বিভিন্ন ধরনের সাবান, বডি ওয়াশ ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ফর্মুলা পর্যালোচনা করছিল, তারা বিজ্ঞাপনে যেসব জিনিস দাবি করে এবং এডুকেশনাল হ্যান্ড হাইজিন ক্যাম্পেইনের সফলতার মাপকাঠির যথার্থতা পরীক্ষা করে দেখেছিল।

লাইফবয়কে এ ধরনের স্বীকৃতির অনুমোদন শুধু একটি পণ্য হিসেবে দেয়া হয়নি, এটা লাইফবয়ের হাইজিনবিষয়ক শিক্ষা প্রদানের চেষ্টা এবং রোগ-জীবাণু প্রতিরোধের মাধ্যম হিসেবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসের প্রচেষ্টারও স্বীকৃতি।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বাচ্চাদের সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস সৃষ্টির ব্যাপারে আপনার অভিজ্ঞতা কী?

বাচ্চারা ‘স্কুল অফ ৫’ এ ধারণাটি খুবই পছন্দ করেছিল এবং হাত ধোয়ার ৫টি মুখ্য সময়ের সম্পর্কে তারা খুব দ্রুত শিখে গিয়েছিল। উপকরণ এবং ধারণার ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটা আমার জন্য এক চরম পাওয়া। আর একটি বিষয়, এক ধরনের স্পেশাল পাউডার এবং আল্ট্রা ভায়োলেট টর্চ ব্যবহার করে আমি প্রদর্শন করে দেখিয়েছি কীভাবে অদৃশ্য জীবাণুরা একজনের থেকে আরেকজনের মধ্যে এবং ক্ষেত্রে স্থানান্তর হতে পারে।

যেহেতু আপনি এখানে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান কনফারেন্সের জন্য এসেছেন, তো বাংলাদেশে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবার-সমাজ গড়ে তোলার ব্যাপারে আপনার কোনো পরামর্শ?

যেহেতু মানুষ খালি চোখে মাইক্রো অর্গানিজমস অথবা জীবাণুদের দেখতে পায় না, সেহেতু এ ব্যাপারে আলোচনা করা মাঝে মাঝে খুব কঠিন যে কীভাবে জীবাণুরা ইনফেকশনের কারণ হতে পারে এবং আমাদের হাত থেকে জীবাণুদের মুছে ফেলা কীভাবে গুরুত্ব বহন করে, সুতরাং মিডিয়া ক্যাম্পেইনে গ্লো ইন দ্য ডার্ক পাউডার ব্যবহার করে ‘জীবাণুদের জীবনযাত্রা’ চাক্ষুস প্রদর্শনের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী হতে পারে। আমি বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে দেখেছি, একটি সুন্দর পরিষ্কার হাতে কি পরিমাণ জীবাণু থাকতে পারে তা আল্ট্রা-ভায়োলটে-রশ্মি ব্যবহার করার মাধ্যমে তুলে ধরে। এ ধরনের অনুষ্ঠান মানুষকে আকৃষ্ট করে এবং মনোযোগী হতে সাহায্য করে।

সুস্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতন সাধারণ মানুষরা মনে করে যে সাবান দিয়ে হাত ধোয়াটা খুবই খরচের ব্যাপার। কিন্তু আসলে তা নয়, আপনি যদি অসুস্থ থাকেন তাহলে কাজ করতে পারবেন না এবং এতে আপনার অনেক টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে। সাবান দিয়ে হাত ধুতে গেলে আপনার খুবই কম খরচ হয়, কিন্তু এর ফলাফল খুবই শক্তিশালী।

উদাহরণ দ্বারা বুঝানো যেতে পারে- রোগীদের দেখিয়ে দিন কীভাবে হাত ধুতে হয়। আমিই তো রাগান্বিত হয়ে যাই যখন আমার ডাক্তার এরকমটি করেন না।

স্কুলগুলো কি করতে পারে?

স্কুলের বাচ্চাদের হাত ধোয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা উচিত যখনই তারা স্কুলে যাওয়া শুরু করবে তখন থেকেই।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র