¦
সংখ্যালঘুদের স্বার্থ দেখবে কে?

মেজর (অব.) সুধীর সাহা | প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

গ্রামের নাম মনিকান্দা। ঢাকার নবাবগঞ্জের একটি অখ্যাত গ্রাম। কিন্তু সেই গ্রামের সাহা বাড়ির নামটি আগে অখ্যাত ছিল না। দুটি প্রধান ফটক সংবলিত বিশাল বাড়ির ভেতরে মোট ১৭টি সাহা পরিবারের বসবাস। ফটক ছাড়া ওই বাড়িতে প্রবেশের আর কোনো উপায় ছিল না। বাড়ির মাঝখানে বিশাল আকারের নাটমন্দির ছিল, যেখানে দুর্গা পূজায় যাত্রাপালা দেখতে অঞ্চলের শত শত মানুষ ঠাঁই পেত। একদিন সকালে ওই বাড়ির কোনো কোনো পরিবারে কাজ করা দিনমজুর নজুকে সপরিবারে দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিল। তারা আরও অবাক হয়েছিল, নজু যখন কয়েকটা মুরগি নিয়ে এসে তালাবদ্ধ একটি ঘরে বসবাস শুরু করেছিল। শত্র“-সম্পত্তি লিজ নেয়ার নাম করে নজু ওই যে সাহা বাড়িতে একদিন ঢুকেছিল, আর তাকে সেই বাড়ি থেকে কেউ বের করতে পারেনি। তারপর নজুর ভাই ফজু এসেছে, এসেছে ওই গ্রামের মাতুব্বররাও। রাতের অন্ধকারে বাড়ির ভেতরে ইট পড়ার আওয়াজ, গ্রামের মাতুব্বরদের কাছ থেকে বিচার না পাওয়ার গ্লানি এবং ক্রমশ ভয়ের মাঝে বসবাস করে ওই সাহা বাড়ি থেকে একসময় ১৭টি সাহা পরিবারই ঘর-ভিটা ছেড়ে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছিল। অর্ধেকের বেশিই চলে গিয়েছিল ভারতে, অন্য অর্ধেক চট্টগ্রাম, সাভার ও ঢাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেছিল।
বাংলাদেশের হিন্দুদের বাড়ি ছাড়ার কিংবা দেশ ত্যাগের এমন ঘটনা কিছুটা ব্যতিক্রমী হলেও একেবারেই অবাস্তব নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুরা দলে দলে দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। ১৯৭১ সালে যারা বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল, তাদের হিসাব না-ই বা করলাম। মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়া এক কোটি বাঙালির মধ্যে ৭০ ভাগই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। সেই সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই আশ্রয় নিয়েছিল ভারতে। তাদের মধ্যে একটি অংশ আর ফিরে আসেনি বাংলাদেশে। ১৯৭২ সালে দুর্গাপূজার সময় একসঙ্গে সারা দেশে মন্দির এবং পূজামণ্ডপে হামলা হয়েছিল, মন্দির ভাঙা হয়েছিল। স্বাধীন দেশে সেই বুঝি হিন্দু নির্যাতনের শুরু। ১৯৮১ এবং ১৯৯০-এ আবার দাঙ্গা হয়, মন্দির ধ্বংস করা হয়, হিন্দু বাড়িঘরের ক্ষতি করা হয়। ২০০১-এর নির্বাচনের পর ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় হিন্দুদের ওপর। হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ২০১২ সালে, ঘটেছে ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ধারা চলছে তো চলছেই। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানেও এ ধারা বহাল ছিল। ১৯৪৮, ১৯৫০, ১৯৫২, ১৯৬৪ সালেও আমরা সংখ্যালঘু নিধনের একই ধরনের চিত্র দেখেছি। তারও আগে ব্রিটিশ-ভারতের শেষদিকে উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় বর্তমান বাংলাদেশের নোয়াখালীতে দাঙ্গা হয়েছিল। তখন মহাত্মা গান্ধী ছুটে এসেছিলেন নোয়াখালীতে। তারপর দাঙ্গার অবসান হয়। ১৯৬৪-এর দাঙ্গার সময়ে বঙ্গবন্ধু রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও বলে তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার ডাক দিয়েছিলেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, দিনাজপুর, যশোর, ঠাকুরগাঁও, বাগেরহাট, বরগুনা, উখিয়া, টেকনাফ সব এলাকাই সংখ্যালঘুর নির্যাতনের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। ১৯০১ সালে এ দেশের জনসংখ্যার ৪০-৪৫ ভাগ ছিল হিন্দু জনগোষ্ঠী। ১৯৪৭-এ তা নেমে আসে ৩১ ভাগে। ১৯৭০-এ পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ১৪ ভাগে। ১৯৮১-তে শতকরা ১৩, ১৯৯১-তে ১২ এবং ২০০১-এ শতকরা ১০-এ নেমে আসে। ২০১৪-তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা শতকরা মাত্র ৮ ভাগে নেমে এসেছে। হিন্দু জনগোষ্ঠীর দেশ ত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ফেলে যাওয়া ঘর-বাড়ি, সম্পত্তি দখল হয়েছে কিছু সংখ্যাগুরু মুসলমানের দ্বারা। কোথাও কোথাও অতি অল্প মূল্যে হাতবদল হয়েছে। সব হারিয়ে এ দেশের নিরীহ হিন্দু জনগোষ্ঠী ভারতের কঠিন বাস্তবতায় মানবেতর জীবনযাপন করেছে এবং করছে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণে, লুটেরা দস্যুদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের পাশবিক ইচ্ছার বলি হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছে হিন্দু জনগোষ্ঠী।
এমনটা ছিল না এ দেশের ইতিহাস। হাজার বছর ধরে এ অঞ্চলের হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ অসাম্প্রদায়িক পরিবেশের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে। আট শতক থেকে শুরু করে প্রায় চারশ বছর বৌদ্ধ পাল রাজাদের শাসনামলে, মধ্যযুগে বিদেশী মুসলমান সুলতান ও মোগল সুবেদারদের শাসনামলের প্রায় ছয়শ বছরের রাজক্ষমতার সময়ে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ বজায় ছিল। এ অঞ্চলে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক ক্ষত তৈরি হয় ইংরেজ শাসকদের শেষ বেলায়। ঐক্যবদ্ধ হিন্দু-মুসলমানের শক্তি যেন ব্রিটিশ তাড়ানোর কাজে জোটবদ্ধ না হতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ শাসক এদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি সৃষ্টির পক্ষে কাজ করে। পরবর্তীকালে নষ্ট রাজনীতির ধারকরা সাম্প্রদায়িকতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। যে বাংলাদেশে ঈদ, পূজা, মহররম পালিত হতো হাতে হাত মিলিয়ে, যে বাংলাদেশে এক ধর্মের অনুষ্ঠানে অন্য ধর্মের লোক সমানভাবে অংশগ্রহণে অভ্যস্ত ছিল, সেই বাংলাদেশেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষক্রিয়ায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেল সামাজিক শান্তি ও প্রেমবন্ধন। জামায়াতের মতো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলো গ্রামে-গঞ্জে সরল মুসলমানদের প্রতিনিয়ত ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। সেই সব সরল মানুষকে তারা সাঈদীর ছবি চাঁদে দেখা যাওয়ার কথা বিশ্বাস করাতে পেরেছিল। অন্ধকারের জীব, যারা ধর্মকে আধ্যাত্মিকতার গাম্ভীর্য আর সৌন্দর্যের মধ্যে না দেখে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের হাতিয়ার হিসেবে দেখতে চায়, তারা সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানোর চেষ্টা করে। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অনগ্রসরতা আর কূপমণ্ডূকতার কারণে ধার্মিক না হয়ে ওই সব দুষ্ট চক্রের অনুসারীরা ধর্মান্ধ হয়ে পড়ে। এসব নরপিশাচ এখন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান মারছে; এদের মারা শেষ হলে এবং এ দেশ থেকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান চলে গেলে তারপর এরা শুরু করবে নাস্তিক মারা। নাস্তিক মারা শেষ হলে হয়তো তারা শিয়া, কাদিয়ানি মারা শুরু করবে। একদিন তাও শেষ হলে তারপর শুরু হবে কে কত খাঁটি মুসলমান তা নিয়ে মারামারি।
১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে সামরিক আইন বলে সপ্তম সংশোধনী এনে বাতিল করেন ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। সংযোজিত করেন বিসমিল্লাহ। বাতিল করেন জামায়াতে ইসলামী ও ধর্মাশ্রয়ী দলগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা। সাম্প্রদায়িক বিভেদের যাত্রা হল শুরু। পরবর্তী শাসক প্রেসিডেন্ট এরশাদ সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানে সন্নিবেশিত করলেন। স্থায়ী রূপ পেল সাম্প্রদায়িক বিভেদ। ২০১১ সালে বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্ট জিয়া-এরশাদের ক্ষমতা দখল ও তাদের আনা পঞ্চম ও অষ্টম সংশোধনী বাতিল করলে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ পঞ্চদশ সংশোধনী আনয়ন করে। ১৯৭২-এর সংবিধানে ফিরে না গিয়ে সংবিধানে আগের বহালকৃত রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং বিসমিল্লাহ এবং জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে সংবিধানে পুনরায় বৈধতা দেয় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের পর মিছিল-মিটিং, মানববন্ধন, পত্রিকায় লেখালেখি সবই করা হয়। তবে ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভবপর হয় না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাকারী দুষ্কৃতকারীদের দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় এ অন্যায় বারবার ঘটতে থাকে। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে সংঘটিত হিন্দু নির্যাতন, রামুর বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংস, সাম্প্রতিককালের সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ কোনোটারই কোনো বিচার হয়নি এ দেশে। ২০০১ সালে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার তদন্ত করার জন্য গত আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন সাহেবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছিল। কমিটি যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিলেও তা আজও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি এবং ওই প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুসারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিচার না হওয়ায় এবং শাস্তি না পাওয়ায় অপরাধীরা বারবার একই ধরনের অপরাধ করে গেছে। সবকিছু দেখে, সবকিছু বুঝে কবির ভাষায় আজ বলতে ইচ্ছা হয়- অমর কাব্য তোমরা লিখিও বন্ধু যাহারা আছ সুখে, দেখিয়া-শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি যা আসে তাই কই মুখে।
সংবিধানের ৪১ ধারা এখনও বলবৎ আছে। তাই ধর্মীয় স্বাধীনতা এখনও হিন্দুদের আছে। মন্দির ভাঙা, হিন্দুদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করা তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। জাতিসংঘের ১৯৯২ সালের ১৮ ডিসেম্বরের ঘোষণায় সব সদস্য-রাষ্ট্রকে তার ভূখণ্ডে অবস্থিত সব ধরনের সংখ্যালঘুকে সুরক্ষা প্রদানে এবং তাদের অস্তিত্বের অগ্রগতি সাধনে সচেষ্ট থাকার তাগিদ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এই ঘোষণার একটি স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র। ৪২ বছরে শতকরা ১৪ ভাগ থেকে ৮ ভাগে নেমে আসার অংকটি নিঃসন্দেহে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর রাষ্ট্রের যথাযোগ্য দায়িত্ব পালনের প্রমাণ প্রদান করে না। সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই জাগ্রত হোক বাঙালির বিবেক। শাস্তি হোক অন্যায়কারী সাম্প্রদায়িক নরপশুদের। অবশিষ্ট সংখ্যালঘুদের ভিটামাটি, সম্ভ্রম, সম্পদ আর নাগরিক অধিকার রক্ষার কাজে এগিয়ে আসুক রাষ্ট্র। শতকরা ৮ ভাগের হিন্দু শূন্যভাগে যাওয়ার আগেই যেন রাষ্ট্র নড়েচড়ে বসে, এই কামনা। যে সংখ্যাটুকু এখনও টিকে আছে, সংখ্যালঘুদের সম্পদ যেটুকু এখনও টিকে আছে- তাকে সুসংহত করার চিন্তায় মগ্ন হোক রাষ্ট্র। সংখ্যালঘু এবং উপজাতিদের স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্র নতুন একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার চিন্তা করতে পারে। উপজাতিদের জন্য আলাদাভাবে মন্ত্রণালয় না করে বরং পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী একটি সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে উপজাতি, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে রাষ্ট্র। সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়ের অস্তিত্ব পৃথিবীর অনেক দেশেই আছে। কোনো দেশে আছে মাল্টিকালচারের নামে, আবার কোনো দেশে সরাসরি সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নামে। ইসরাইল, পাকিস্তান, ভারতসহ কিছু দেশে সরাসরি সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আছে। ভারতে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার কাজে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন আছে। আমাদের দেশেও একটি শক্তিশালী জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।
মেজর (অব.) সুধীর সাহা : কলামিস্ট
উপসম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close