¦
বিপদ ডেকে আনতে পারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ

সুভাষ সিংহ রায় | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে গেলেই কি ওষুধ খারাপ হয়ে যায়? এটা একটা বড় প্রশ্ন। এক্সপায়ার্ড কথাটা থেকে বুঝে নেয়া যায় যে, এক্সপায়ার্ড ওষুধ মানে নষ্ট হয়ে যাওয়া ওষুধ। যে কোনো ওষুধেই তার লেবেলের ওপর ওষুধটির ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট ও এক্সপায়ারি ডেট উল্লেখ করা থাকে। এক্সপায়ারি ডেট হল ওষুধটির কার্যকারিতার অন্তিম সময়সীমা। যে সময়সীমার মধ্যে ওষুধটি ব্যবহার্য অবস্থায় থাকে সেই সময়সীমার মধ্যে ওষুধটি ব্যবহার করলে সেটি তার সর্বোচ্চ থেরাপিউটিক এফেক্ট দিতে সক্ষম। এক্সপায়ারি ডেট হল ওষুধটির সেলফ লাইফের অন্তিম লগ্ন। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে তাহলে এই সেলফ লাইফ কী? প্রতিটি ওষুধের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে তার কার্যক্ষমতা স্থির হয়, যার একটি সময়সীমা থাকে। যে সময়সীমার মধ্যে ওষুধটি সব থেকে ভালো কাজ করে। এই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ওষুধটি তার কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে। ওষুধের এই সেলফ লাইফ অবশ্য ওষুধের স্টোরেজ কন্ডিশনের ওপরও অনেকটা নির্ভর করে। সব ওষুধই শুকনো বা ড্রাই পরিবেশে রাখতে বলা হয় বা বলা হয় আলো থেকে দূরে রাখতে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রুম টেম্পারেচারের কথা উল্লেখ থাকে। যদি এসব নিয়ম না মেনে চলা হয় সেক্ষেত্রেও ওষুধের কার্যক্ষমতার ওপর একটা প্রভাব পড়ে। অনেক ওষুধ আছে যেগুলো ২ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় অর্থাৎ রেফ্রিজারেটরে রাখতে হয়। যদি তা না রাখা হয়, তাহলে ওষুধটির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। অর্থাৎ ওষুধের কাজ সঠিক মাত্রায় পেতে গেলে শুধু এক্সপায়ারি ডেট দেখলেই হবে না সবকিছুর ওপরই লক্ষ রাখতে হবে।
এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে গেলেই যে সেই ওষুধটি সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাবে ব্যাপারটা কিন্তু সে রকম নয়। নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা করার পরই কোনো ওষুধের এক্সপায়ারি ডেট ঠিক করা হয়, যাতে একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করা যেতে পারে ওষুধটি ব্যবহার করার জন্য। তবে এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই যে, একবার এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে গেলে সে ওষুধ আর ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু প্রশ্ন হল কেন ব্যবহার করা যাবে না? এ প্রশ্নের
জবাব হল-
এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে গেলে ওষুধটিতে রাসায়নিক পরিবর্তন হতে পারে, যা রোগীর বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ওষুধের কার্যক্ষমতা হারিয়ে যায়।
ওষুধটির রাসায়নিক বস্তু স্থায়ী অবস্থায় থাকে না।
একবার এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে গেলে সেই ওষুধ বিপদমুক্ত ও কার্যকরী অবস্থায় থাকে না এবং যদি কিছু হয় তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না- এই সতর্কবার্তা আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টঝ-ঋউঅ) থেকে স্পষ্টভাবে বলা আছে। আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স থেকে ১৯৮০-র মাঝামাঝি সময়ে একবার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল কীভাবে ওষুধের ব্যবহার্য সময়সীমাকে আরও দীর্ঘায়িত করা যায়। কিন্তু তারা যেসব গাইডলাইন পেশ করেছিলেন, তা আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বাতিল করে দেয়। সুতরাং এ ব্যাপারে কোনো রকম তর্কে না গিয়ে নিজের সুরক্ষার জন্য কখনোই এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে যাওয়া ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।
নির্দিষ্ট কিছু শব্দ যা ব্যবহার করা হয়ে থাকে এক্সপায়ারি ডেট বোঝানোর জন্য। এর কয়েকটি নমুনা হল-
বেস্ট বিফোর জানু-২০১৬- অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।
ইউজড বাই জানু-২০১৬- অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।
এক্সপায়ারি ডেট জানু-২০১৬- অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।
দ্য ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিক অ্যাক্ট, ১৯৪৫-এর সেকশন ৯৬-তে পরিষ্কারভাবে নির্দেশ দেয়া আছে যে, ওষুধের মোড়কের ওপর বা লেবেলের ওপর স্পষ্টভাবে ওষুধটির ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট, এক্সপায়ারি ডেট উল্লেখ থাকতে হবে। সঙ্গে ওষুধটির ব্যাচ নম্বরের উল্লেখ থাকতে হবে।
মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে কী পরিবর্তন হয়
ওষুধ এক্সপায়ারি ডেট অতিক্রম করলে তার সেলফ লাইফের অন্তিম পর্যায়ে চলে যায়। ইন্ডিয়ান ফার্মাকোলজিক্যাল কমিউনিকেশন, দ্য সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ডস কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, সেলফ লাইফ হল ওষুধটির সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতার সময়কাল। যে সময়ের মধ্যে ওষুধটি ফিজিক্যালি ও কেমিক্যালি স্টেবল অবস্থায় থাকবে। যদি ওষুধটিকে নির্দিষ্ট অবস্থায়, সঠিক তাপমাত্রায় স্টোর করা হয়। যেমনটা নির্দেশ দেয়া আছে ফার্মাকোপেডিয়াতে। সুতরাং মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে ওষুধটি আর ফিজিক্যালি ও কেমিক্যালিই স্থায়ী অবস্থায় থাকে না, তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। এই পরিবর্তন তখনও হতে পারে যদি ওষুধটি সঠিক তাপমাত্রায় স্টোর করা না হয়। যেমন, ধরা যাক কোনো ওষুধকে হয়তো ডিপ ফ্রিজে রাখার কথা, কিন্তু তা রাখা হয়নি। তাহলেও তার কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে। প্রতিটি ওষুধের লেবেলেই নির্দেশ দেয়া থাকে তা কোন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আবার যদি ওষুধ সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হয় তাহলেও তার কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় বিভিন্নভাবে। যেমন- হাইড্রোলাইসিস, অক্সিডেশন, অতিরিক্ত আলোর প্রভাবে ফোটোলাইসিসের কারণেও ওষুধ নষ্ট হয়ে যায়।
কী সাবধানতা নেবেন
ওষুধ কেনার সময় অবশ্যই এক্সপায়ারি ডেট দেখে নেবেন।
ওষুধের লেবেলের ওপর বড় হরফে এক্সপায়ারি ডেট লিখে রাখুন যাতে ভুল না হয়ে যায়।
বাড়িতে ওষুধ সব সময় শুকনো জায়গায় রাখবেন। মাথায় রাখবেন, রোদের আলো যেন না পায়।
বিভিন্ন স্টেরাইল ড্রপ আছে, যা একবার সিল খুললে আর বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। কতদিন ব্যবহার করা যাবে তা লেবেলের ওপর লেখা থাকে। নির্দেশমতো ব্যবহার করুন।
ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে তা নষ্ট করে ফেলুন।
এমন কিছু ওষুধ আছে যা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও যদি খাওয়া হয়, তাহলে তা ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সুতরাং কোনো রকম বিতর্কে না গিয়ে কখনও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের ঝুঁকি নেবেন না।
সুভাষ সিংহ রায় : কলাম লেখক
উপসম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close