¦
পুঁজি পাচারের আবর্তে বাংলাদেশ

ড. মাহবুব উল্লাহ্ | প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫

গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে খুবই উদ্বেগজনক তথ্য জানা গেছে। ২০১৩ সালে ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাচার হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। টাকার অংকে এর পরিমাণ ৭৬ হাজার ৩৬১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পাচার হওয়া এই অর্থ আগের বছরের তুলনায় ৩৩.৭৯ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাব থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালে এ ক’বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পরিমাণ অর্থাৎ ৩৩৪.৭ ডলার পাচার হয়েছিল। পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ ২০১২ সালে ৭২২.৫ কোটি ডলার যা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৩ সালে ৯৬৬.৬ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ২০১২ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৫১তম। ২০১৩ সালে দাঁড়ায় ২৬তম। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত গড়পড়তা পাচার হয়েছে ৫৫৮.৮ কোটি ডলার। একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই পরিমাণ অর্থ কোনোক্রমেই নগণ্য নয়। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দশ বছরে মোট পাচার হয়েছে ৫,৫৮৭.৭ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে সেটি বাংলাদেশকে আয় করতে হয়েছিল প্রধানত রফতানি বাণিজ্যের মাধ্যমে। আমরা জানি বাংলাদেশ যে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে সেটি প্রধানত আসে ২টি খাত থেকে। এই খাত দুটি হল, পোশাক খাত এবং বিদেশে শ্রমশক্তি রফতানি। এই উভয় খাতেই বাংলাদেশের গরিব-মেহনতি মানুষের শ্রম, ঘাম ও রক্ত মিশে আছে। পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের মূল কারণ এর প্রতিযোগিতার শক্তি। এই প্রতিযোগিতার শক্তি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের শ্রমিকদের বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের সস্তা শ্রমে। শ্রমিকরা কারখানায় কম মজুরিতে দীর্ঘ সময় কাজ করে যে সামান্য কটা টাকা পায়, তা দিয়ে তারা না পারে নিজের পুষ্টির সামান্যতম চাহিদা পূরণ করতে, না পারে তারা তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীলদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে। বাংলাদেশের শ্রমিকরা বিদেশে হাড়ভাঙা মেহনত করে যে টাকা রোজগার করে, তার সিংহভাগই তারা তাদের পোষ্যদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য রেমিটেন্স আকারে দেশে পাঠায়। তারা খুবই সীমিত পরিসরে তাদের পরিবার পরিজনদের জীবনযাত্রাকে মসৃণ করতে পারে। বিদেশ-বিভুঁইয়ে অচেনা পরিবেশে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন যে কতটা দুঃখময়, সেটা যারা এ জীবনযাপন করেননি তাদের পক্ষে উপলব্ধি করা কঠিন। প্রবাস জীবনে তাদের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। উৎসবের দিনগুলোতেও তাদের খুবই ম্রিয়মাণ হয়ে থাকতে হয়, কারণ তাদের আপনজনরা রয়েছেন হাজার মাইল দূরে। প্রবাসে আসার জন্য এদের মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এই অর্থ জোগাড় করার জন্য তাদের জমিজমা এবং বিষয়সম্পদও বিক্রয় করতে হয়েছে। অভিবাসনের খরচ তুলে আনতে গিয়ে অনেক সময় দেখা যায় কর্মচুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের আরাম-আয়েশের কথা ভুলে গিয়ে দেশের জন্য তারা টাকা পাঠান। তাদের এই ঘামঝরা মেহনতের প্রতি দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার খুবই অপমানকর চপেটাঘাত ছাড়া আর কিছু নয়। দেশ থেকে অর্থ পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত তারা সমাজের বিত্ত ও প্রভাবশালী মানুষ। দেশে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় তার জন্য এদের মেহনতি মানুষের মতো প্রত্যক্ষভাবে শ্রম দিতে হয় না। এ কারণে এই অর্থ দেশে থাকল না অন্য দেশে গেল তা নিয়ে এদের কোনো মাথাব্যথা নেই। লোভ এদের একমাত্র ধর্ম। অর্থ আÍসাতের কুটিল পন্থায় এরা সিদ্ধহস্ত। এদের কোনো দেশপ্রেম নেই। তারপরও সমাজজীবনে এদের দাম্ভিক বিচরণে কোনো কষ্ট হয় না। আইনের মাধ্যমে এদের স্পর্শ করা কঠিন। এই বিশেষ দিকটি যখন আমরা বিবেচনায় নেই তখন মনে হয়, ‘আইন সবার জন্য সমান’ একটি আপ্তবাক্য ছাড়া আর কিছু নয়। টাকার শক্তি অন্য সব শক্তিকে বশ করে ফেলে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) সাত বছর ধরে উন্নয়নশীল দেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে পাচার হয়, তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এবার ‘উন্নয়নশীল বিশ্ব থেকে অবৈধ অর্থের প্রবাহ ২০০৪-১৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত আমদানি-রফতানির সময় পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার করা হয়েছে। এ বিষয়টি পাঠকের সুবিধার্থে একটু ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। সাধারণভাবে এই কৌশলটি ওভার ইনভয়েসিং-আন্ডার ইনভয়েসিং বলে পরিচিত। যেমন, বিদেশ থেকে যখন পণ্য আমদানি করা হয় তখন আমদানি পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। অনেক সময় দেখা গেছে রফতানি পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হলেও সেই পণ্য আদৌ রফতানি করা হয় না।
এছাড়া রফতানির সময় রফতানির দাম কম দেখিয়ে অলিখিত দামটি বিদেশী ক্রেতার সহায়তায় রফতানিকারকের বিদেশী অ্যাকাউন্টে চলে যায়। এভাবে কৌশল করে দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়। অর্থ পাচারের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি। বাধাগ্রস্ত হয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ টাকার অংকে ৭৬ হাজার ৩৬১ কোটি। এই অর্থ বাংলাদেশের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, পল্লী উন্নয়ন, শিল্প ও ভৌত অবকাঠামো খাতের মোট উন্নয়ন বাজেটের সমান। অর্থাৎ ২০১৩ সালে যে অর্থ পাচার হয়েছে সেই অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের উন্নয়নের জন্য যে ব্যয় ২০১৫-১৬ সালে ধার্য করা হয়েছে, তার সমান। এভাবে অর্থ পাচার না হলে উল্লেখিত খাতগুলোতে দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ সংস্থান করা সম্ভব হতো। আমরা সব ক্ষমতাসীনদের কাছেই উন্নয়নের জোয়ারের কথা শুনে থাকি। কিন্তু সেই জোয়ারের গভীরে যে প্রবল একটি ভাটার টান রয়েছে সেই সম্পর্কে কিছুই শুনি না। সরকার যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতি অবলম্বন করে অর্থনীতির এই নেতিবাচক অবস্থাটি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করত, তাহলে দেশপ্রেমিক জনগণই অর্থ পাচার সম্পর্কে নানারকম তথ্য সঠিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিতে পারত। এছাড়া সরকারের আরেকটি দায়িত্ব হল অর্থ পাচার রোধকল্পে গৃহীত পদক্ষেপগুলোও জনগণকে জানানো। জিএফআইয়ের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মূলত আমদানি-রফতানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার করা হয়েছে। বিশ্বায়ন এবং মুক্তবাণিজ্যের এই পৃথিবীতে আমদানি ও রফতানি পণ্যের প্রকৃত মূল্য জানা কি খুবই কঠিন? বিশ্ববাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সংস্থা তথ্য প্রকাশ করে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আমদানি-রফতানি পণ্যের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে নজরদারি বহাল রাখা খুব কঠিন কিছু নয়। প্রয়োজন দেশপ্রেম ও সততা। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে অর্থ পাচার অনেকাংশেই সাফল্যের সঙ্গে রোধ করা সম্ভব হবে। সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলেও অর্থ পাচার হ্রাস করা সম্ভব। বাংলাদেশে ব্যবসার খরচ খুবই বেশি। ব্যবসার জন্য নিবন্ধন এবং নানা দফতর থেকে ছাড়পত্র নিতে হলে অনেক সময় ব্যয় করতে হয় এবং কর্মকর্তাদের খুশি করার জন্য স্পিডমানিও ব্যয় করতে হয়। এর ফলে ব্যবসা-উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন। পুঁজির ধর্ম হল, সর্বাধিক মুনাফার ক্ষেত্রে ধাবিত হওয়া। ব্যবসায় অনাকাক্সিক্ষত ব্যয় মুনাফা হ্রাস করে এবং বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। বিদেশে অর্থ পাচারের মূলে এটি একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। সুতরাং নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব হল ব্যবসার খরচ যথাসম্ভব কমিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। গত ক’বছর ধরেই লক্ষ করা গেছে, বাংলাদেশে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ মন্দা চলছে। বিনিয়োগের ঘাটতি পূরণ করার জন্য সরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হয়েছে। কিন্তু সরকারি খাতের বিনিয়োগ সাময়িকভাবে স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তদুপরি গুণগত দিক থেকে সরকারি বিনিয়োগ বেসরকারি বিনিয়োগের বিকল্প হতে পারে না। অর্থনীতি শাস্ত্রের পাঠ থেকে আমরা জানি, কিছু কিছু বিনিয়োগের ক্ষেত্র একান্তভাবেই সরকারের নিজস্ব তালুক। এর বাইরে অন্য ক্ষেত্রগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সুদের হার কমিয়ে, ব্যবসার খরচ কমিয়ে, দুর্নীতি রোধ করে, সুশাসন নিশ্চিত করে এবং সর্বোপরি সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করে বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারে। আধুনিক অর্থনীতি শাস্ত্রে বিনিয়োগের একটি প্রধান চালিকাশক্তি হল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা। বিনিয়োগ থেকে সুফল পাওয়া যাবে এমন প্রত্যাশা সৃষ্টি করার জন্য প্রয়োজন সহায়ক রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বাধিক অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে ২০১৩ সালে। এই বছরটি রাজনৈতিকভাবে খুবই অস্থিতিশীল ছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার আগে থেকেই রাজনৈতিক সংঘাত-সংঘর্ষ চলতে থাকে। এই সংঘাতময় পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভালো কোনো প্রত্যাশা নিজেদের মনের কোণে স্থান দিতে পারেনি। নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত-সংঘর্ষের মূলে ছিল সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রদ করা। এটি না করা হলে পরিস্থিতি এত খারাপ হতো না। স্বাভাবিকভাবেই পুঁজির মালিকরা তাদের পুঁজি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিদেশের মাটিকে বেছে নিয়েছে। বস্তুত রাজনৈতিক বিরোধগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানে ব্যর্থতাই লাগাতার পুঁজি পাচারের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বললে অত্যুক্তি হবে না। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে যেসব আর্থিক কেলেংকারির ঘটনা ঘটেছে সেই অর্থও যে পাচারকৃত অর্থের সঙ্গে যোগ হয়নি, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে ২টি প্রধান দলের মধ্যে তীব্র বৈরী সম্পর্কের ফলে একটি দলের প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যবসায়ীরা অন্য দলটি ক্ষমতায় গেলে প্রমাদ গোনে। বাংলাদেশে বিজয়ীরা সব পাবে, পরাজিতরা কিছুই পাবে না এমন একটি ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের প্রায় অর্ধাংশই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এ কারণে তাদের কাছে ‘কানাডার বেগমপাড়া’ এবং মালয়েশিয়ার ‘সেকেন্ড হোম’ নিরাপদ আশ্রয়ের স্থলে পরিণত হয়েছে। এটি দেশের জন্য খুবই বিপজ্জনক।
শাস্ত্রীয় অর্থনীতিতে পুঁজি পাচার বলতে বোঝায়, হঠাৎ করে এবং ব্যাপকভাবে একটি দেশের অধিবাসী অথবা বিদেশীদের দ্বারা সেই দেশের পুঁজি অন্য দেশে সরে যাওয়া। পুঁজি পাচারের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক গোলযোগ, নির্যাতনজনিত কারণে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া, রাষ্ট্রকর্তৃক সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণের ভীতি অথবা কর হারে মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি, দ্রুত মূল্যস্ফীতির ফলে দেশীয় মুদ্রার মূল্যমান ভয়াবহভাবে হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি। এ রকম পরিস্থিতিতে পুঁজির মালিকরা ব্যাপক ছুটি নিয়ে এবং মুদ্রা পাচারের ব্যাপক খরচ সত্ত্বেও বিদেশে পুঁজি পাচার করা শ্রেয় মনে করে। এই তালিকা থেকে বুঝতে কষ্ট হবে না যে কী কারণে বাংলাদেশ থেকে এত ব্যাপক পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে জাতীয়করণের ভীতি না থাকলেও নির্বিবাদে বিষয়-সম্পত্তি ভোগ করার ঝুঁকি প্রবলভাবে বিদ্যমান। সরকারকে অবশ্যই পুঁজি পাচার রোধকল্পে বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকাংশেই অধরা থেকে যাবে। একথা তো সত্য যে, দেশ থেকে যে পুঁজি পাচার হয়েছে, তা যদি দেশে থাকত এবং বিনিয়োগ হতো তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংকটি আরও বড় হতে পারত।
ড. মাহবুব উল্লাহ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক
উপসম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close