¦
যশোরের নারী কৃষকের গল্প

ইন্দ্রজিৎ রায় | প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৫

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষি কাজেই
ব্যস্ত থাকি : মর্জিনা খাতুন
মর্জিনা খাতুনের কৃষক হয়ে ওঠার গল্পটা একটু অন্যরকম। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় অভিমান করে চলে আসেন বাবার বাড়ি। দুই ছেলেকে নিয়ে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে ভাইয়ের সংসারে তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে অনেক। একটি কাঁথা সেলাই করে উপার্জিত ১৫৩ টাকা আর ভাইয়ের কাছ থেকে নেয়া ৪টাকা সব মিলে ১৫৭ টাকা দিয়ে তিনি একটি মুরগি কিনেন। এরপর মুরগির ডিম ও বাচ্চা বিক্রির টাকা জমিয়ে পরে ছাগল কিনেন। এসব বিক্রির টাকা দিয়েই কৃষিকাজ শুরু করেন। মর্জিনা খাতুন জানান, বসতবাড়ির আড়াই শতক জমিতে লাউ, শিম, বরবটিসহ নানা প্রকার সবজির আবাদ করছেন। একই সঙ্গে ১৫ কাঠা বর্গা জমিতে সবজি জাতীয় ফসলের চাষাবাদ করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষি কাজেই ব্যস্ত থাকেন তিনি। চাষাবাদ করে বছরে ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় হয়। কৃষির আয় থেকেই বড় ছেলেকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছেন। তার সংসারে এখন আর অভাব অনটন নেই।
নিজের জমিসহ বর্গা নিয়েও চাষাবাদ করি : শাকিলা খাতুন
শাকিলা খাতুনের বাড়ির আঙিনায় লকলক করছে পুঁইশাক, শিম, বরবটি, লাউগাছ। ৮ শতক বসতভিটা ও আড়াই বিঘা কৃষি জমির মালিক তার স্বামী। দু’জনে নিজের জমিসহ বর্গা নিয়েও চাষাবাদ করেন। ধান, পাট, করলা, ফুলকপি, পটোল, মশুরি, সরিষা ইত্যাদি ফসলের আবাদ করেন। যশোর সদরের লেবুতলা গ্রামের শাকিলা খাতুন নিজেকে কৃষক হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একই সঙ্গে হাঁস, মুরগি, গরু পালন করে ডিম, দুধ বিক্রি করেও আয় করেন। বাড়ির পাশের পুকুরে মাছ চাষ করেন। শাকিলার মতে, দুই মেয়ে নিয়ে আমাদের চারজনের সংসার। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক, ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও উলাসী সৃজনী সংঘ থেকে ঋণ নিয়ে কৃষি কাজ, মাছ চাষ করি। কৃষি থেকে বছরে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা উপার্জন হয়।
পরিবারের তরকারির চাহিদা মিটিয়েও
বাজারে বিক্রি করি : নাছিমা বেগম
স্বামীর সঙ্গে বর্গা জমিতে চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন যশোর সদর উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের নাছিমা বেগম। ১৩ বছর বসতবাড়ি ছাড়া চাষাবাদের কোনো জমি ছিল না। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে চার বিঘা জমি বর্গা নেন। এরপর কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, পটোল, বেগুন, ধান চাষ করেন। একই সঙ্গে বাড়ির আঙিনায় শিম, বরবটি, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবজি লাগান। এতে পরিবারের তরকারির চাহিদা মিটিয়েও তিনি বাজারে বিক্রি করেন। এখন আর অভাব নেই সংসারে।
বর্গা জমি চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা
এসেছে : আসমা খাতুন
ছেলেবেলায় আসমা বাবার সঙ্গে মাঠে গিয়ে জমি নিড়ানো, বাঁশই দেয়া, পানসি দেয়া, বীজ বপন, সার, পানি, কীটনাশক প্রদান, বেড বানানো, ফসল কাটা, বাড়িতে এনে ঝাড়া বাছা ও ঘরে সংরক্ষণসহ বীজ সংরক্ষণ ইত্যাদি কাজ করতেন। কিন্তু অভাবের কারণে বাবা কৃষি জমি বিক্রি করে দেন। এর পরও আসমা থেমে থাকেননি। আসমা খাতুন বলেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে এক বিঘা জমি বর্গা নিই। চাষাবাদ করি। চাষাবাদের আয় থেকে ৭টি গরু, ৬টি ছাগল কিনেছি। সব মিলিয়ে সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। ভাই-বোনরা লেখাপড়া করছে।
 

সুরঞ্জনা পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close