¦
জ্বালাও আলো মনের অন্ধকারে

মুশফিকুল হক মুকিত আলোকচিত্রী শরীফ মাহমুদ | প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৫

সেরা কাজ করাই আমার লক্ষ্য
মুন রহমান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অংকন ও চিত্রায়ন বিভাগে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মুন রহমান। প্রথম বর্ষ থেকেই চারুকলার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিপর্বে কাজ করছেন। বর্ষবরণে অংশগ্রহণের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে মুন জানান, প্রথম প্রথম কিছুই জানতাম না। বড় ভাইয়া-আপুদের কাছে একটু একটু করে শিখেছি। প্রতি বছরই মনে হচ্ছে, নতুন কিছু শিখছি। এখানে একসঙ্গে ছোট-বড় সবাই কাজ করে। কাজ ভাগাভাগি করে নেয়া। ছোট ছোট দায়িত্ব পালন করা। এসবের মধ্যে আলাদা একটা আনন্দ রয়েছে। বর্ষবরণের এ কাজ আমাদের নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়।
তিনি আরও বলেন, যদিও চারুকলার সব বিভাগের শিক্ষকরাই সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দিয়ে থাকেন। সেই তত্ত্বাবধান অনুযায়ী কাজ হয়। সার্বিক কার্যক্রম সফল করার জন্য চারুকলার সিনিয়র ব্যাচের ভাইয়া-আপুরা দায়িত্বে থাকেন। চারুকলার সবার সম্মিলিত প্রয়াসই এই বর্ষবরণ উৎসব।
ছবি আঁকা আমার ধ্যান জ্ঞান
উপমা দাশ তৃণা
লক্ষ্মীপেচা তৈরি করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অংকন ও চিত্রায়ন বিভাগে মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী উপমা দাশ তৃণা।
বর্ষবরণের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে উপমা দাশ তৃণা বলেন, বর্ষবরণের স্মৃতি আমার কাছে একেক সময়ে একেক রকম। ছেলেবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে নতুন জামা পরে মঙ্গল শোভাযাত্রা দেখতে আসতাম চারুকলায়। সেই আসা আর চারুকলায় পরতে এসে বর্ষবরণের কাজে অংশ নেয়া সম্পূর্ণ যেন এক ভিন্ন আঙ্গিক। সে সময় রাজা, রানী, পাখি, কবুতর, হাতির ইত্যাদির বড় বড় মোটিফ দেখে বিস্মিত হয়ে উঠত মন! এখন রঙ-তুলির আঁচড়ে সে সব মোটিফকে জীবন্ত করে তুলি। বড় স্ট্রাকচারে রঙিন মুখোশে রঙ করি। সরাতে ছবি আঁকি মনের মাধুরী মিশিয়ে।
অন্যবারের মতো এবারেও বর্ষবরণের আয়োজনে থাকছে ১১টি বড় বড় স্ট্রাকচার। ডিজাইন মূলত লোকজ মোটিফ থেকে নেয়া হয়েছে। এসব মোটিফের মধ্যে রয়েছে- হাঁস, হরিণ শাবক, মাছের দল, বাঘ, বিড়াল, পেচা ইত্যাদি। এ ছাড়া র‌্যালির জন্য আরও তৈরি করা হয়েছে পেপার ম্যাশে রাজা রানীর প্রায় এক হাজার মুখোশ। কাগজের তৈরি মুখোশগুলো ঘরে বানানো সম্ভব। যদিও বর্ষবরণের মুখোশগুলো আমাদের নিজেদের তেরি। দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা বিবেচনা করে ঠিক করা হয়েছে এবারের বর্ষবরণের প্রতিপাদ্য।
বর্ষবরণের অর্থ যোগান প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিবছরই আগের বছরের তৈরিকৃত মুখোশ, সরা ইত্যাদি বিক্রির টাকা রেখে দেয়া হয়। সেটা দিয়েই প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। তারপর চারুকলা অনুষদ থেকেও কিছু অর্থ বরাদ্দ করে। বাকিটা সাবেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা দেন। এরপর নিজেদের তৈরি করা শিল্পকর্মের বিক্রয়মূল্য থেকে বাকি অর্থসংস্থান হয়।
কারুশিল্পকে বিশ্বে তুলে ধরতে চাই
নওশীন নাহিদ
লাল রঙের ওপর সবুজ, আকাশি রঙের মিশ্রণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ক্র্যাফট ডিপার্টমেন্টে (কারুশিল্প বিভাগে) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নওশীন নাহিদ তৈরি করছিলেন লক্ষ্মীপেচা। গত বছর প্রথমবারের মতো বর্ষবরণ প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি।
নওশীন নাহিদ বলেন, গুণী শিল্পী আর সিনিয়রদের সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি। কাজের ফাঁকে গান, গল্প, আড্ডাও চলে। আমরা দু’ভাবে মুখোশ তৈরি করছি। প্রথমটা কাগজ কেটে বিভিন্ন মোটিফ তৈরি করে আঠা দিয়ে জোড়া দিই। এরপর তুলি আঁচড়ে রঙ লাগিয়ে বাহারি রকমের নকশা তৈরি করি। এভাবে তৈরি হয় ছোট ছোট মুখোশ। দ্বিতীয়টি মাটি দিয়ে বড় মুখোশের জন্য মোটিফ তৈরি করা হয়। মাটি শুকানোর পর আঠা দিয়ে কয়েক স্তর মোটা কাগজ জুড়ে দেয়া মুখোশ শক্ত করার জন্য। কাগজ শুকালে মাটি থেকে কাগজ খুলে নিই। রঙ দিয়ে নকশা করি। অনেক কাগজ ভিজিয়ে মণ্ড তৈরি করি। মণ্ড দিয়েও বিভিন্ন আকৃতির টেকসই মুখোশ তৈরি করি।
বড় চিত্রশিল্পী হতে চাই
তানজীমা তাবাচ্ছুম এশা
সিংহের মুখোশে তুলির আঁচড়ে লাল, কালো, সাদা, হলুদ রঙ লাগাচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলার এমএফএ শেষ পর্বের শিক্ষার্থী তানজীমা তাবাচ্ছুম এশা। তানজীমা তাবাচ্ছুম এশার মতে, চারুকলায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর বর্ষবরণের আয়োজনে অংশ নিই। প্রথম প্রথম সিনিয়র ভাইয়া-আপুদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এবার আমাদের ইয়ারের শিক্ষার্থীদের ওপর বৈশাখের পুরো দায়িত্ব। এত বড় দায়িত্ব পেয়ে আমরা এতটুকু ঘাবরিয়ে যাইনি। পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছি। আর সিনিয়র ভাইয়া-আপুদের খুব মিস করছি। তাদের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি আজও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। বর্ষবরণ ধর্ম, বর্ণ, গোত্র তথা সব মানুষের সঙ্গে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। এই মেলবন্ধনকে যুক্ত করেই আমরা তৈরি করছি সরা, দুই রকমের মুখোশ, তুহিন পাখি, পুতুল, অবকাঠামো। ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর বর্ষবরণের আয়োজনে অংশ নিচ্ছি। তাই সাবেক ও বর্তমান সব ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে কাজের সূত্র ধরেই আমাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে স্নেহ-শ্রদ্ধা-ভালোবাসার বন্ধন।
তানজীমা তাবাচ্ছুম এশা বলেন, বর্ষবরণ উৎসবে ব্যবহৃত মুখোশ, মোটিফের ধারণা নেয়া হয়েছে লোক-ঐতিহ্য থেকে। প্রতিবার প্রতিপাদ্যের সঙ্গে মেলে এমন মোটিফ শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন
করা হয়ে থাকে। মোটিফ তৈরিতে প্রাথমিকভাবে কাঠ বা বাঁশ দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজ, দড়ি, রঙ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। শিক্ষক, সহপাঠী, পরিবার থেকে খুব সহযোগিতা পাই। ভবিষ্যতে একজন উচ্চমানের চিত্রশিল্পী হিসেবে নিজেকে গড়ে
তুলতে চাই।
 

সুরঞ্জনা পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close