¦
মুক্তিযুদ্ধে আমাদের নারীরা

| প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০১৫

নির্যাতিত মেয়েদের উদ্ধার করি- ড. আনোয়ারা
সাদিকুল নিয়োগী পন্নী
নিজের মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. এসএম আনোয়ারা বেগম। তার সঙ্গী হয়েছিলেন বোন মনোয়ারা বেগম ও ভাই সরদার রশিদও।
ষাটের দশকে শেষভাগে রাজপথে লড়াকু ছাত্রী এসএম আনোয়ারা বেগম (আনু) ছাত্রলীগের পটুয়াখালী জেলার কর্মী, সংগঠক ও নেত্রী ছিলেন। বড় ভাই সরদার আবদুর রশীদ তখন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। বড় ভাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন দুই বোন। ১৯৬৮-৬৯ সালের গণ-অভুত্থানে আনোয়ারাসহ তার পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। মিছিলের সারিতে থাকতেন তারা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আটক হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর পরিবারের জন্য এলাকায় মানুষের কাছে গিয়ে সাহায্য চান এবং সাধ্য অনুযায়ী বড় ভাইয়ের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতাও পাঠান। ১৯৭১ সালে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ছাত্রী আনোয়ারা এবং মনোয়ারা। ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এলাকার তরুণদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। এলাকায় বেশ কিছু বাংকার তৈরি করেন। তিন ভাইবোন পটুয়াখালী জুবিলী কলেজের মাঠে অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ২৬ মার্চ থেকে প্রায় এক মাস অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন। এ খবর পাকিস্তানি হানাদার ও শান্তিবাহিনীর লোকদের কাছে পৌঁছায়। তারা তাদের ধরার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। পাকবাহিনী পটুয়াখালীতে ১১ এপ্রিল নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। এর মূল হোতা ছিল পাকবাহিনীর মেজর নাদের পারভেজ। এর মধ্যে মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি, ঘরবাড়ি জ্বালাও-পোড়াও বাদ পড়েনি।
এ প্রসঙ্গে ড. এসএম আনোয়ারা বলেন, পাকসেনারা পটুয়াখালীতে প্রবেশ করে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, হত্যার সংবাদ পাওয়া মাত্রই মাকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ি। গ্রামের কাঁচা রাস্তা, খাল, বিল, নদী, সাঁকো পার হয়ে চার-পাঁচ দিন পর এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিই। মাকে ওই বাড়িতে রেখে রাতেই আমি ভাইবোনদের নিয়ে অন্যত্র চলে যাই। ওই রাতেই হানাদারবাহিনী আমার মাকে ধরে নিয়ে প্রথমে গলাচিপা থানা এবং পরে পটুয়াখালী সদর থানায় চালান করে। এলাকায় আমার ও আমার বোনের নামে ঘোষণা করা হয়, অনু ও মনুকে জীবিত অথবা মৃত ধরে দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণ পুরস্কার দেয়া হবে। এরপর আমাদের আশ্রয় দিতে অনেকেই আপত্তি জানান। তবে নিশানবাড়িয়ার সফিউদ্দিন বিশ্বাস নামের একজন পীর তার মুরিদদের বলেন, তাদের আশ্রয় দিতে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে পীরের মুরিদরা আমাদের তিন ভাইবোনকে আগুনমুখা নদীর ধারে একটি গভীর জঙ্গলে রেখে আসেন। সেখানে আমরা তিন দিন না খেয়ে অবস্থান করি। ওই জঙ্গলেও হানাদারবাহিনী ও রাজাকাররা হাজির হয়। একদিন প্রায় ধরা পড়েই গিয়েছিলাম। পীরের মুরিদ হেলাল নামে এক যুবক জানত আমাদের অবস্থানের কথা। তাকে ধরে নিয়ে পাকসেনারা জঙ্গলের মধ্যে যায়। আমাদের খুব কাছাকাছি চলে আসে। হেলাল পাকসেনাদের বলেছিলেন, স্যার, ওইখানে যাবেন না। ওখানে বিষধর সাপ আছে। ওখানে কোনো মানুষ যায় না। হেলালের কথা ওরা বিশ্বাস করে। হেলালের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিতে আমরা সেদিন প্রাণে বেঁচে যাই। ইতিমধ্যে ৯ নম্বর সেক্টরের অধীন সাব-সেক্টর প্রধান মেজর জিয়াউদ্দিনের কাছে আমাদের খবর পৌঁছায়। পরে রাত ২টার দিকে একদল সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা তিনটি বোটে করে আমাদের জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে। কিন্তু আমাদের দুই বোনের বয়স কম থাকায় যুদ্ধে না যাওয়ার পরামর্শ দেন মেজর জিয়াউদ্দিন। কিন্তু আমাদের দেশপ্রেম ও দৃঢ় মনোবলের কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন।
৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন তারা দু’বোন। প্রথমে সৈনিক ইসমাইল মিয়া ও পরে মেজর জিয়া উদ্দিনের কাছে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন। অস্ত্র প্রশিক্ষণের মধ্যে ছিল গ্রেনেড নিক্ষেপ, স্টেনগান, স্টেন মেশিনগান, কারবেইন, এসএলআর, থ্রি নট থ্রি রাইফেল, এলএমজি ইত্যাদি চালানো। তার বড় ভাই প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে যান। তারা দুই বোন সুন্দরবনে সেন্ট্রি, অপারেশনের রেকির দায়িত্ব পালন করেন। সুন্দরবন, শরণখোলা, রায়েন্দ, নামাজপুর, তুশখালী, কাকছিঁড়া, ডোবাতলা, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জায়গায় মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
যুদ্ধের সময়ের একদিনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ড. এসএম আনোয়ারা বলেন, দীর্ঘ সাত মাস সুন্দরবন এলাকায় আমরা অবস্থান করি। সেখানে প্রায় ১ হাজার ১০০ মুক্তিযোদ্ধা ছিল। রোজার মাসে, ঈদের দিন আমাদের কাছে খাবার ছিল না। ফলে ঈদের দিনও অভুক্ত থেকেছি। ঈদের পরদিন তুশখালীতে অভিযান চালিয়ে সেখানকার গুদাম থেকে মুক্তিযোদ্ধারা চাল নিয়ে আসেন। সেই চালে ভাত রান্না করে খাই। এদিকে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার পর আমরা জানতে পারলাম, ফাতরার চরে পাকসেনাদের দ্বারা নারীরা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এটা মেনে নিতে পারলাম না। সেখান থেকে আমরা পাকসেনাদের ওপর আক্রমণ চালাই। এ যুদ্ধে ৩৫ জন পাকসেনা আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এ সময় রাজাকারদের তিনটি ক্যাম্প দখল করে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নির্যাতিত মেয়েদের উদ্ধার করি।
সৈনিকের ছদ্মবেশ : অনেকেই জেনে গিয়েছিলেন- খুরশীদ জাহান বেগম
দিল মনোয়ারা মনু
একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এক অদম্য সাহসী যোদ্ধার কথা এখানে বলছি। একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে তার বীরত্বের কথা আমি জানার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম। সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশীদ জাহান বেগম মাত্র কয়েকমাস বয়সের শিশুসন্তান তাজকে কোলে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। সুন্দরবন সাব-সেক্টরে নয় নম্বর সেক্টরের অধীনে তিনি যুদ্ধ করেছেন। ১৯৭১-এর সেই সময়ে তিনি আইএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তখন থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে তার অংশগ্রহণ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের মতো এই মহান মানবিক কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ। একজন ইয়ং অফিসার হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি দীর্ঘ সাত মাস বীরত্বের সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করে ঘরে ফেরেন।
মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের নেপথ্যে সাহস ও প্রেরণা কে যুগিয়েছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি সচেতন এবং গণআন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার প্রবল তাগিদ দেখে তার স্বামী শামসুল আলম তালুকদার যুদ্ধে যাওয়ার ব্যাপারে আন্তরিকভাবে তাকে সহযোগিতা করেন। সুন্দরবন সাব-সেক্টর গঠিত হলে শামসুল আলম তালুকদার সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব পান। এই দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি খুরশীদ জাহানকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেন।
খুরশীদ জাহান মনে করেন, সেই সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপট এমন ছিল, যখন কোনো সাধারণ বাঙালি নারীর পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা প্রায় অসম্ভবও ছিল। অনেকে পরিস্থিতির শিকার হয়ে আত্মরক্ষার তাগিদে যুদ্ধে গেলেও রাজনৈতিক সচেতনতার কারণেও গিয়েছিলেন বহুজন। তবে যে কারণেই যান না কেন সবার মনে একটিই স্বপ্ন, একটি প্রত্যাশাই ছিল তা হল দেশকে হানাদারের হাত থেকে মুক্ত করা।
খুরশীদ জাহান ছোটবেলায় মায়ের মুখ থেকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কথা, ভাষা আন্দোলনের কথা শুনেছেন। সেই থেকে তার মনে এদের বিরুদ্ধে একটি ঘৃণাবোধের জন্ম হয়েছিল। নানা বিষয়ের বইপত্র পড়ার মধ্য দিয়ে তার ভেতরে দেশের তৎকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বৈষম্যের চিত্র পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে নিজের মধ্যে নড়ে ওঠা প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক চিন্তা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা স্বপ্ন ও প্রত্যাশার জন্ম দেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, সেই সময়ে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন চিন্তা-চেতনায় ও প্রত্যাশায় তারা তার মতোই ছিল। শিশুসন্তান থাকায় প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ না থাকলে খুরশীদ জাহান বেগম মুক্তিযোদ্ধা নারী ক্যাম্পের অধিনায়কের দায়িত্ব যেমন দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন তেমনি সম্মুখযুদ্ধ, গেরিলা প্রশিক্ষণ এবং নতুন যোগ দেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধবিদ্যা ও অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। শুধু যুদ্ধবিদ্যা প্রশিক্ষণ দেয়া নয়, অসুস্থ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং সেবা দিয়েছেন তিনি পরম ভালোবাসা ও আন্তরিকতায়। এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে যুদ্ধ সহায়ক নানা কাজে নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যাপৃত রেখে এক মানবিক মর্যাদায় নিজেকে অধিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন।
যুদ্ধকালীন ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে একটি ঘটনার প্রসঙ্গ আনেন যা তাকে আজও আন্দোলিত করে। যদিও সে ঘটনা ঘটানোর ক্ষেত্রে তার অনভিজ্ঞতা এবং অপরিপক্বতার কথা চিন্তা করে তিনি আজও বিব্রত বোধ করেন। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কোলে শিশুসন্তান থাকায় সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার অনুমতি ছিল না আমার, কিন্তু প্রবল আকাক্সক্ষা ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার। সেই তাগিদ থেকেই প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে ছোট একটি ডিঙ্গি নৌকা একা বেয়ে চলে যাই আমার কমান্ডিং অফিসার স্বামীর নিজস্ব বোটে। সেখানে পৌঁছে আমি কর্তব্যরত সৈনিকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হ্যাঙ্গারে ঝুলানো এক কমান্ডিং অফিসারের যুদ্ধ জ্যাকেট নিয়ে নিজের ক্যাম্পে ফিরে আসি। পরদিন একজন নারী যোদ্ধার কাছে আমি ছেলেকে রেখে সংগৃহীত সেই যুদ্ধ পোশাক পরে, মাথায় গামছা বেঁধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে চলে যাই। প্রায় পঞ্চাশ জনের লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় প্রত্যেকের হাত-পা-বুক-পিঠের পরীক্ষার মাধ্যমে ফিটনেস যাচাই করার কাজ শুরু হলে ভয়ে-আতংকে আমি বিবর্ণ হয়ে যাই। ঠিক সেই সময় একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার আমার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলেন, ‘নিজের ক্যাম্পে চলে যাও।’ আমার এই সৈনিকের ছদ্মবেশে আসাটা তখন অনেকেই জেনে গিয়েছিলেন।
এই অপরাধের জন্য তাকে শাস্তি পেতে হয়েছিল। বিশাল দৈর্ঘ্যরে দশটি মশারি তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে তৈরি করতে হয়েছিল। সুই-সুতা দিয়ে এই মশারি দ্রুত সেলাইর কারণে তার দু’হাতের আঙ্গুল ক্ষত-বিক্ষত হওয়ায় প্রচণ্ড ব্যথা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক সময় তা জটিল আকার ধারণ করেছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সেরে ওঠেন।
সুন্দরবন সাব-সেক্টরের কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দীন (অব.) এই বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে বলেছেন- ‘একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা খুরশীদ জাহানকে স্বীকৃতি জানানো কোনো মন্ত্রণালয় বা সরকারের দায় নয়, বরং ওনার কাছে এ দায় জাতির। এই মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে তার বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা থেকে লেখালেখি করে চলেছেন। তার প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন মুক্তিযোদ্ধার কিছু স্মৃতিচারণ ও আত্মোপলব্ধি, বীরাঙ্গনা না মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরের যুদ্ধ শিশু। জনৈক বকু মুন্সীর মুক্তিযুদ্ধ - প্রতিটিই অনবদ্য। শুধু লেখালেখি নয়, তিনি কয়েকটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেও কাজ করছেন। বাংলার বাউল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নামে একটি সংগঠনের সভাপতি তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০০৬-এ অনন্যা শীর্ষদশ, ২০০৮-এ ক্লারা জেটকিন পুরস্কার, আন্তর্জাতিক নারী দিবস শতবর্ষ উপলক্ষে ২০১১ সালে সম্মাননা এবং সনাক খুলনার পক্ষ থেকে ২০১৪ সালে স্বাধীনতা দিবস সম্মাননা পেয়েছেন।
সেন্দিয়ায় গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন নারীরাই বেশি
নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার গণহত্যা, ৪৪ বছর ধরে আড়ালেই রয়েছে। একাত্তরের ১৯ মে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সেন্দিয়া, পলিতা, ছাতিয়ানবাড়ি ও খালিয়া গ্রামের ১২৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকসেনারা। পাকসেনারা মাদারীপুরের কদমবাড়ি ইউনিয়নের মহিষমারীর ভেতর দিয়ে প্রথমে উল্লাবাড়িতে হত্যাকাণ্ড চালায়। উল্লাবাড়ি থেকে সেন্দিয়ার দিকে যাওয়ার পথে অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ও গুলি করে হত্যা করতে করতে সেন্দিয়া গ্রামে ঢোকে। এ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন নারীরাই বেশি। সন্তানকে বুকের দুধ পানরত মাকেও রেহাই দেয়নি পাকসেনারা। গুলি করে হত্যা করেছিল। মৃত মায়ের বুকের দুধ পান করছিল চার মাসের প্রভাস। পরে এ শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নেন গোপালগঞ্জ বানিয়ারচরের মিশনারি ফাদার মারিনো রিগন। সেই শিশু এখন বড় হয়ে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। নাম মোসি বাড়ৈই। তারই সার্বিক প্রচেষ্টায় এবং বানিয়ারচরের মাইকেল বাড়ৈর তত্ত্বাবধানে ২০০৯ সালের ১৪ এপ্রিল (১ বৈশাখ ১৪১৬ ) সেন্দিয়ায় একটি শহীদ স্মৃতি ফলক স্থাপন করা হয়। স্মৃতি ফলকে ১২৬ শহীদের নামের মধ্যে ৭৫ জনই ছিলেন নারী।
পাক হানাদাররা ঘরে আগুন দিয়ে অমূল্য কুণ্ডুর মাকে হত্যা করে। তার নাম না জানার কারণে শহীদ স্মৃতি ম্ভম্ভে তার নাম খোদাই করা সম্ভব হয়নি। আর যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন- সুরধনী শিকারি, মধুমালা শিকারি, বড় বুড়ি শিকারি, বিনোদিনী শিকারি, সুভাসী বেপারি, কুমদী বেপারি, এলোকেশী কুণ্ডু, সুমিত্রা বৈরাগী, শোভা বৈরাগী, মালতী বৈরাগী, তরংগী বৈরাগী, সুলতা বৈরাগী, সৌদামিনী বৈরাগী, মনিমালা বাড়ৈ, দীপালি বাড়ৈ , ঘ্রান্তী রানী মণ্ডল, যশোদা মণ্ডল, জ্ঞানদা মণ্ডল, মনিরানী মণ্ডল , পাষানী বিশ্বাস, করুণা মণ্ডল, গৌরি মণ্ডল, ঘাঘড়ী বাওয়ালি, রাইসোনা মোহন্ত, ঘাঘরী মজুমদার, গৌরি বারিকদার, কুসুম বারিকদার, মধুমালা বারিকদার, আলোমতি বারিকদার, আন্না রানী বারিকদার, আয়না বারিকদার, ময়না বারিকদার, সাধনা বারিকদার, ভগবতী বারিকদার, শ্রীমতি বারিকদার, পূজারানী বারিকদার, পুষ্প রানী বারিকদার, লক্ষ্মী রানী বারিকদার, মালতী বারিকদার, সুশীলা বারিকদার, শান্তি রানী বারিকদার, সুলতা রানী বারিকদার, ঞ্জানদা বারিকদার, লেবু রানী বারিকদার, মরি মণ্ডল, নেমু মল্লিক, মালতী মল্লিক, সুমি মল্লিক, পাচি মল্লিক, কুটি মল্লিক, কুটি মল্লিক, সরস্বতী মল্লিক, মধুমালা মল্লিক, ক্ষ্যান্ত মল্লিক, কুটিবুড়ি মল্লিক, সুধা কীর্তনীয়া, অলন্ত বাড়ৈ, কুটি রানী বাড়ৈ, পাগলী বাড়ৈ, মণিমালা বাড়ৈ, সুমতি বৈদ্য , জৈলাসী, গোলদার, কমলা মল্লল, ওইমুনা বারুরী, যামিনী বারুরী, মইফুল রায়, ফুলমালাবালা ও ঘ্রান্তী বেপারি।
 

সুরঞ্জনা পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close