¦

এইমাত্র পাওয়া

  • বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পার্শ্বে কোনাবাড়ি এলাকায় বাসে পেট্রোল বোমা হামলা: ৬ যাত্রী দগ্ধ ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক
বলিউডের সেরা ১০ ধনকুবের

| প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

আশির দশক কিংবা নব্বইয়ের দশকের বলিউডের সঙ্গে আজকের বলিউডের তুলনা করাটা যেন কোনোমতে ৯০ তলা একটি বাড়ির সঙ্গে আকাশচুম্বী বুর্জ আল খালিফের তুলনা। দিন দিন পশ্চিমা বাণিজ্যের প্রসার আর কারিগরি ও শৈল্পিক দিক থেকে বেড়ে ওঠা বলিউডি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি পরিণত হয়েছে ভারতের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আদায়ের খাতে। সারা বছরে শতাধিক সিনেমা আর এ সিনেমাগুলোকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ধারা দিন দিন পাল্টে দিচ্ছে বলিউডি অংকের ধারাপাত। শুধু প্রেক্ষাপটই বদলাচ্ছে না, বদলে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট নায়কদের চেহারাও। অর্থনীতির ছক কাগজে ধাই ধাই করে মিলিয়ন-বিলিয়নের সীমা ছাড়িয়ে কেউ কেউ বলতে গেলে ধনকুবের। চলুন, ঘুরে দেখি সেই দশ সেরা নায়ককে, যাদের অর্থবিত্তের হালের অংকটা হিসাব করতে ঘাম ঝরবে যে কারও।
শাহরুখ খান
এই নামটা ছাড়া বোধহয় এমন একটা তালিকা অসম্পূর্ণই থেকে যেত। শুধু এ তালিকার শীর্ষে তার নাম তুলেই ক্ষান্ত নন শাহরুখ। বরং সময়ের ঘেরাটোপে ‘দিওয়ানা’ ছবির সেই নবাগত এখন বলিউড কিং খান। আর বাণিজ্যিক বিচারে বলিউডের সবচেয়ে ধনী অভিনেতাও বটে। শুধু ভারতের হিসেবে নয় বরং বিশ্বব্যাপী ধনী অভিনেতার তালিকাতেও সম্প্রতি এসেছে শাহরুখের নাম। তার ফ্যান ফলোয়ার ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী বহু দেশে। প্রতি ছবিতে হাঁকের পরিমাণে অন্য অনেককেই ছাপানোর ইচ্ছেটা বোধহয় তার নেই। আর সেজন্যই কোটি বিশেকের মধ্যেই আটকে রেখেছেন নিজেকে। আর বিজ্ঞাপনে কোটি তিনেক। গেল বছরের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী শাহরুখের সব বিষয়-আসয় ও বাণিজ্য বিচারে তার বর্তমান সম্পদের মূল্যমান ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বিশাল টাকার পাহাড়ের জোরে ধনী তারকার শিরোপাটা শাহরুখের ভাগ্যেই যায়।
আমির খান
আশির দশকের একেবারে শেষভাগ থেকে বলিউডে ভাগ বসানোর শুরু করা আমিরের বর্তমান পরিচয় পার্ফেকশন মাস্টার হিসেবে। গাদা গাদা ছবি করে সারা বছর আলোচনায় থাকার পরিকল্পনা নয়, বরং দরকার হলে দু’বছরে একটা ছবি করে পুরোটা সময় আলোচনায় থাকার বিষয়ে বড্ড নাকউঁচু আমির খান তার যোগ্য পুরস্কার পেয়েছেন গেল বছরের শেষ মুহূর্তের ছবি পিকে কিংবা তার আগের বছরের ধুম থ্রি দিয়ে। অভিনয়ে পার্ফেকশনের পাশাপাশি নিজের ছবি প্রযোজনা তো আছেই। ছবি প্রতি কমসে কম ৩০ কোটি আর বিজ্ঞাপন বাবদ ৪ কোটির হাঁক আমিরের।
সালমান খান
যতই দিন যাচ্ছে ততই একজন সর্ববিদ্যায় পারঙ্গম তারকা হিসেবে নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন সেরা দিনের অন্যতম খান সালমান। অ্যাকশন, রোমান্স কিংবা কমেডি সব ঘরানায় অসামান্য সফল এ তারকার হিটের সংখ্যা গুণে কূল পাওয়া বেশ দুষ্করই বলা চলে। শুধু অভিনয় নয় সঙ্গে শরীরী বিদ্যার জারিজুরিও সালমানকে স্থান দিয়েছে ভক্তদের মনের মণিকোঠায়। তার সঙ্গে চ্যারিটি সংগঠন ‘বিইং হিউম্যান’ তো আছেই। সবমিলিয়ে সালমানের ছবি প্রতি অংকটাও পাহাড় চুড়োতেই। ৫০ থেকে ১০০ কোটি পর্যন্তও পারিশ্রমিক বাগিয়ে নিতে পারেন সালমান, এমনটাই শোনা যায়।
অক্ষয় কুমার
টাফগাই হিরো থেকে কমেডির সঙ্গে সখ্য যখন থেকে শুরু তখন থেকেই অক্ষয়ের মূল সাফল্যের সে াতের শুরু। মারকুটে অভিনয়ই হোক আর পেটে খিল ধরা হাসির খোরাক হোক, সবদিকেই পারদর্শী অক্ষয়ের প্রতি ছবিতে হাঁকের অবশ্য রকমফের থাকে। তবে সেটি ১৮ থেকে ৩০ কোটির একটা স্কেলেই ধার্য হয়। আর বিজ্ঞাপন প্রতি আয় প্রায় ২ কোটি।
ঋত্বিক রোশন
শুধু রোশন খানদানের পরিচয় বহন করেই না, ঋত্বিকের ক্যারিশমাটিক জাদু তার অভিনয়, নাচ আর পেশিবহুল উপস্থিতি ঘিরেও। আর তাই প্রথম ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ থেকে শুরু করে আলাদা একটা পরিচয় তৈরি করে নিতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি তার। তবে সেটা মাত্রা ছাপিয়ে সেরার তালিকায় স্থান পাওয়ার মতো অকাট্য কিছু হয়ে যায়নি বহুদিনেও। কিন্তু ২০১২’র হিটমেকার ‘অগ্নিপথ’ এরপর ঋত্বিক একলাফে চড়ে বসেন ২৫ কোটির সিংহাসনে। আর বিজ্ঞাপনের জন্য কোটি দেড়েকের চাহিদার কথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
শহীদ কাপুর
সেই কিশোর বয়স থেকে শহীদ কাপুর পরিচিত ভারতীয় টিভি দর্শকদের কাছে পেপসি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। কিশোর বয়সে নাচতে জানা শহীদ খুব সহজেই বলিউডি সমীকরণে সাফল্য জুটিয়ে নেন ভক্তদের কাতারে সিনেমার পর্দায় এসে। সাম্প্রতিক সময়ের ‘মৌসুম’ ছাড়া তেমন ভরাডুবি শহীদের ছবিতে খুব একটা দেখা যায় না। আর তার বরাতে শহীদের প্রতি ছবির হাঁক ক্ষেত্র বিশেষে ৭ থেকে ১২ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। আর পণ্যপ্রতি বিজ্ঞাপনে কোটি খানেকের আয় তো আছেই।
রণবীর কাপুর
বিশাল কাপুর পরিবারের ব্যানার নামের পেছনে থাকা সত্ত্বেও রণবীর কাপুরের প্রথম ছবির পারিশ্রমিকের অংকের কথা শুনে চমকান অনেকেই। সঞ্জয় লীলা বানশালীর ‘সাওয়ারিয়া’ ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন রণবীর মাত্র ৫০ লাখ রুপির বিনিময়ে। প্রথমদিকে ক্যারিয়ারে তেমন একটা চড়াই না থাকলেও ২০১২তে এসে ‘বারফী’র দুর্দান্ত সাফল্যের পর থেকে রণবীরের প্রতি ছবি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয় ৮ থেকে ১০ কোটি রুপি। তবে গেল একটা লম্বা সময় ধরে হিটের খরায় ভোগা রণবীর খুব মন্দ একটা সময় কাটালেও চলতি বছর তার মুক্তিপ্রতীক্ষিত কয়েকটি ছবির বরাতে সেই লক্ষ্যমাত্রা সংখ্যায় এবং কলেবরে বেড়ে তার কপাল খুলবে বলে আশা ভক্তদের।
জন আব্রাহাম
জন আব্রাহামের সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও আজও অভিনয়টা ফিটফাট হল না। তাই এ তালিকায় অনেকেই জনের নাম দেখে চমকে উঠলেও সবচেয়ে দামি তারকার আসনটা পাকাপোক্ত তার ম্যানলি লুকের বরাতেই। পেশিবহুল জন আব্রাহাম নারী দর্শকদের সহজেই ঘায়েল করতে পারেন বলে প্রতি ছবিতে তার পারিশ্রমিক ৭ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। আর যে কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপনচিত্রে অর্ধকোটি কামিয়ে নেন জন মুহূর্তের ইশারাতেই।
সঞ্জয় দত্ত
যদি কেউ ভেবে থাকেন কারাবাসে খুব অর্থনৈতিক নাজেহাল অবস্থায় পড়েছেন সঞ্জয় দত্তের স্ত্রী-সন্তান তবে ভুল করবেন। হ্যাঁ, ঘরের অভিভাবকের অনুপস্থিতি একটি বিষয় হলেও টাকা-পয়সার দিকে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। সবচেয়ে দামি নায়কের কাতারে নয়-এর ঘরে জমিয়ে বসা সঞ্জয় প্রতি ছবিতে সম্মানী ৫ থেকে ৭ কোটি রুপি। নায়িকার আঁচল ধরা রোমান্টিক থেকে শুরু করে নায়কের গুষ্টির পিন্ডি চটকানো ভিলেন যে কোনো রোলেই মানিয়ে যাওয়া সঞ্জয়ের এ বিশাল হাঁকের পেছনে তার অভিনয় গুণও এ সার্বজনীনতাকেই সাবাসী দেন ভক্তরা।
অমিতাভ বচ্চন
টপটেন আকারে উল্টো সেরার এ তালিকায় দশের ঘরে অবস্থান বলিউডের জীবন্ত কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনের। চল্লিশ বছরের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের এতটা সময় পাড়ি দিয়েও জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি তার। বরং বুড়ো বয়সেও যে কোনো জোয়ানকে ইর্ষে জাগানো বচ্চনের নাম এখনও বিগ-বি। বছরে বেশক’টা ছবি থাকেই ঝুলিতে। আর প্রতিটা ছবির জন্যও হাঁকাতে সমর্থ ৪ থেকে ৫ কোটি রুপি। তারা ঝিলমিল ডেস্ক
 

তারাঝিলমিল পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close