jugantor
ডলি জহুর একাল আর সেকাল
তিনি ডলি জহুর। মমতাময়ী মা হিসেবেই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। একজন আদর্শবান মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে করতে তিনি যেন হয়ে উঠেছেন লাখো বাঙালি সন্তানের প্রিয় মা। লিখেছেন-

  মৌসুমী মিলি  

০২ এপ্রিল ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

বাংলা নাটকের কিংবা সিনেমার এক অনবদ্য অভিনেত্রীর নাম ডলি জহুর। অভিনয়কে যারা পেশায় পরিণত করে কাজ করেন ক্যামেরার সামনে তারা সবসময়ই প্রাণবন্ত থাকেন। তিনি যতই ক্লান্ত থাকুন না কেন। ডলি জহুর ঠিক তেমনই একজন অভিনেত্রী। আদ্যোপান্ত যিনি একজন শিল্পী। মনেপ্রাণে যার অভিনয়ের আনাগোনা। তার অভিনীত এ সময়ের আলোচিত দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক হচ্ছে মীর সাব্বির পরিচালিত ‘নোয়াশাল’ যা বর্তমানে আরটিভিতে প্রচার হচ্ছে। এ নাটকে তিনি বরিশালের ভাষায় অভিনয় করছেন। এটিএন বাংলায় প্রচার হচ্ছে মাহফুজ আহমেদের পরিচালনায় ‘মাগো তোমার জন্যে’ ধারাবাহিক নাটকটি। এখানে নোয়াখালীর ভাষায় অভিনয় করছেন তিনি। কুষ্টিয়ার ভাষায় প্রচার হচ্ছে ‘মামলাবাজ’। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষার ওপর দক্ষতা আছে এই অভিনেত্রীর। নিজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা। তবে নানা ভাষায় অভিনয় করার কারণে নিজের কথায় আঞ্চলিকতা নেই বললেই চলে। নিজের অভিনয় জগতে আসার কথা জানাতে গিয়ে বললেন, “১৯৭৪-৭৫ সালে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন নাট্যচক্রে যুক্ত হই। ওখান থেকেই নিয়মিত অভিনয়ের শুরু। ঠিক কীভাবে নাট্যচক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম মনে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে সিদ্ধান্ত হল আমাদের সমাজ-বিজ্ঞান বিভাগ থেকে নাটক করা হবে। আমি যেহেতু এলাকায় নাটক করতাম ভাবছিলাম নাটকে নাম লিখাব; তার আগেই শেখ কামাল (বঙ্গবন্ধুপুত্র) বলল, ‘তুই না নাটক করিস, এখানে নাম লিখ’। বিভাগের এই নাটকে অভিনয় করতে দেখেই হয়তো হামিদ ভাই বা নাট্যচক্রের কেউ আমাকে নাট্যচক্রে নিয়ে আসেন। নাট্যচক্রে প্রথম ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নাটকে অভিনয় করি। ওখান থেকে পরে আমার এক বন্ধুর (পরে আমার স্বামী) সঙ্গে গেলাম কথক নাট্যগোষ্ঠীতে। ওখানে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাগৈতিহাসিক করলাম। এই নাটকে বেশকিছু প্রদর্শনী করার পর বন্ধ হয়ে যায়। এ সময়ে মামুন ভাই (মামুনুর রশীদ) আমাকে তার বাংলা থিয়েটারে ‘মানুষ’ নাটকে কাজ করার কথা বলেন। মামুন ভাই বললেন, আমাকে মাথায় রেখে স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছেন। আমি ‘মানুষ’ নাটকে কাজ শুরু করলাম। নাট্যচক্রের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ম. হামিদ ভাই আর ভাবী আমাকে ‘অনুস্বারের পালা নাটকে’ অভিনয় করতে বললেন। নাটকে কাজ করলাম। তবে মানুষ নাটকে নিয়মিত শো করছিলাম। মানুষ নাটকের শো করতে একবার যাই দেশের বাইরে। ওখানে আরণ্যকের ‘ইবলিশ’ নাটকেরও শো হয়। নাজমা ভাবীর অবর্তমানে ইবলিশ নাটকেও অভিনয় করলাম। পরে দেশে এসে আরণ্যকের ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে প্রিন্সেস বলাকার চরিত্রে অভিনয় করলাম। এভাবেই আরণ্যকের কর্মী হয়ে গেলাম। তারপর টিভি নাটকে কাজ শুরু করলাম। মাঝখানে চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় টিভি নাটক থেকে বিরত থাকি। আবার যখন মনে হল ফিল্মে কাজ করব না, তখন প্যাকেজ নাটকে কাজ শুরু করলাম।” মঞ্চের চরিত্র প্রসঙ্গে ডলি জহুর বলেন, “মঞ্চের প্রতিটি চরিত্রই আমার কাছে বেশ ভালো লাগার ছিল। মঞ্চে কাজ করার মতো রোমাঞ্চকর আর কিছু হয় না। ‘মানুষ’ নাটকের চরিত্রটির বেশি শো করা হয়েছে তাই এই চরিত্রটির প্রতি এক ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল। মঞ্চে যখন কাজ করতাম তখন খুব সিরিয়াসলি করতাম। আমার কারণে কখনও নাটকের শো বন্ধ হয়নি। স্টেজ নাটকের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আলাদা। মনে হতো এটা আমার এবাদত, উপাসনা। দুর্ভাগ্য এখন মঞ্চ নাটকে কাজ করতে পারছি না। তবে এখনও মন থেকে সরেনি। মঞ্চে আরও কাজ করার ইচ্ছা আছে, জানি না ভবিষ্যতে করতে পারব কিনা। আমি এ পর্যন্ত প্রায় ১৬০টি ছবিতে অভিনয় করেছি। ছবিতে অভিনয় করে এলে তেমন তৃপ্তি পাই না। ছবিতে চরিত্রগুলোতে কোনো ভেরিয়েশন থাকে না। সেই একই রকম শুধু মা আর খালাদের চরিত্র করা। তবে ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শঙ্খনীলকারাগার’ ছবি দুটির চরিত্রে একটু বিশেষত্ব ছিল। কাজ করতে ভালো লেগেছে। রাজ্জাক ভাইয়ের ‘বাবা কেন চাকর’ ছবিতে কাজ করেও ভালো লেগেছে। রাজ্জাক ভাইয়ের ছবিতে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। তিনি অতি অভিনয় পছন্দ করেন না। আমার মনে হয় একজন শিল্পী যখন দীর্ঘদিন কাজ করার পর পরিচালনায় যান; তখন তিনি খুঁটিনাটি সব ব্যাপারগুলো ভালো বোঝেন।” একাল সেকালের অভিনয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ডলি জহুর বলেন, ‘আমরা যখন কাজ শুরু করি একটি মাত্র চ্যানেল বিটিভি ছিল। বেশ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ হতো। শিল্পী কলাকুশলী সবাই কাজের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস ছিল। সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করতাম কাজ ভালো করার জন্য। প্রতিটি নাটকের শুটিং করার আগে মহড়া হতো। আর এখন প্যাকেজ নাটক ডাল-ভাতের মতো মনে হয়। অনেক নাটকের স্ক্রিপ্ট সেটে গিয়ে পাই। তবে আমি অনেক বুঝেশুনে কাজ করি। সবার কাজ করি না। এখনও অনেক ভালো ভালো স্ক্রিপ্ট পাই। এগুলো যতœ নিয়ে করলে ভালো কাজ হতে পারে।


 

সাবমিট

ডলি জহুর একাল আর সেকাল

তিনি ডলি জহুর। মমতাময়ী মা হিসেবেই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। একজন আদর্শবান মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে করতে তিনি যেন হয়ে উঠেছেন লাখো বাঙালি সন্তানের প্রিয় মা। লিখেছেন-
 মৌসুমী মিলি 
০২ এপ্রিল ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

বাংলা নাটকের কিংবা সিনেমার এক অনবদ্য অভিনেত্রীর নাম ডলি জহুর। অভিনয়কে যারা পেশায় পরিণত করে কাজ করেন ক্যামেরার সামনে তারা সবসময়ই প্রাণবন্ত থাকেন। তিনি যতই ক্লান্ত থাকুন না কেন। ডলি জহুর ঠিক তেমনই একজন অভিনেত্রী। আদ্যোপান্ত যিনি একজন শিল্পী। মনেপ্রাণে যার অভিনয়ের আনাগোনা। তার অভিনীত এ সময়ের আলোচিত দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক হচ্ছে মীর সাব্বির পরিচালিত ‘নোয়াশাল’ যা বর্তমানে আরটিভিতে প্রচার হচ্ছে। এ নাটকে তিনি বরিশালের ভাষায় অভিনয় করছেন। এটিএন বাংলায় প্রচার হচ্ছে মাহফুজ আহমেদের পরিচালনায় ‘মাগো তোমার জন্যে’ ধারাবাহিক নাটকটি। এখানে নোয়াখালীর ভাষায় অভিনয় করছেন তিনি। কুষ্টিয়ার ভাষায় প্রচার হচ্ছে ‘মামলাবাজ’। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষার ওপর দক্ষতা আছে এই অভিনেত্রীর। নিজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা। তবে নানা ভাষায় অভিনয় করার কারণে নিজের কথায় আঞ্চলিকতা নেই বললেই চলে। নিজের অভিনয় জগতে আসার কথা জানাতে গিয়ে বললেন, “১৯৭৪-৭৫ সালে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন নাট্যচক্রে যুক্ত হই। ওখান থেকেই নিয়মিত অভিনয়ের শুরু। ঠিক কীভাবে নাট্যচক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম মনে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে সিদ্ধান্ত হল আমাদের সমাজ-বিজ্ঞান বিভাগ থেকে নাটক করা হবে। আমি যেহেতু এলাকায় নাটক করতাম ভাবছিলাম নাটকে নাম লিখাব; তার আগেই শেখ কামাল (বঙ্গবন্ধুপুত্র) বলল, ‘তুই না নাটক করিস, এখানে নাম লিখ’। বিভাগের এই নাটকে অভিনয় করতে দেখেই হয়তো হামিদ ভাই বা নাট্যচক্রের কেউ আমাকে নাট্যচক্রে নিয়ে আসেন। নাট্যচক্রে প্রথম ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নাটকে অভিনয় করি। ওখান থেকে পরে আমার এক বন্ধুর (পরে আমার স্বামী) সঙ্গে গেলাম কথক নাট্যগোষ্ঠীতে। ওখানে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাগৈতিহাসিক করলাম। এই নাটকে বেশকিছু প্রদর্শনী করার পর বন্ধ হয়ে যায়। এ সময়ে মামুন ভাই (মামুনুর রশীদ) আমাকে তার বাংলা থিয়েটারে ‘মানুষ’ নাটকে কাজ করার কথা বলেন। মামুন ভাই বললেন, আমাকে মাথায় রেখে স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছেন। আমি ‘মানুষ’ নাটকে কাজ শুরু করলাম। নাট্যচক্রের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ম. হামিদ ভাই আর ভাবী আমাকে ‘অনুস্বারের পালা নাটকে’ অভিনয় করতে বললেন। নাটকে কাজ করলাম। তবে মানুষ নাটকে নিয়মিত শো করছিলাম। মানুষ নাটকের শো করতে একবার যাই দেশের বাইরে। ওখানে আরণ্যকের ‘ইবলিশ’ নাটকেরও শো হয়। নাজমা ভাবীর অবর্তমানে ইবলিশ নাটকেও অভিনয় করলাম। পরে দেশে এসে আরণ্যকের ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে প্রিন্সেস বলাকার চরিত্রে অভিনয় করলাম। এভাবেই আরণ্যকের কর্মী হয়ে গেলাম। তারপর টিভি নাটকে কাজ শুরু করলাম। মাঝখানে চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় টিভি নাটক থেকে বিরত থাকি। আবার যখন মনে হল ফিল্মে কাজ করব না, তখন প্যাকেজ নাটকে কাজ শুরু করলাম।” মঞ্চের চরিত্র প্রসঙ্গে ডলি জহুর বলেন, “মঞ্চের প্রতিটি চরিত্রই আমার কাছে বেশ ভালো লাগার ছিল। মঞ্চে কাজ করার মতো রোমাঞ্চকর আর কিছু হয় না। ‘মানুষ’ নাটকের চরিত্রটির বেশি শো করা হয়েছে তাই এই চরিত্রটির প্রতি এক ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল। মঞ্চে যখন কাজ করতাম তখন খুব সিরিয়াসলি করতাম। আমার কারণে কখনও নাটকের শো বন্ধ হয়নি। স্টেজ নাটকের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আলাদা। মনে হতো এটা আমার এবাদত, উপাসনা। দুর্ভাগ্য এখন মঞ্চ নাটকে কাজ করতে পারছি না। তবে এখনও মন থেকে সরেনি। মঞ্চে আরও কাজ করার ইচ্ছা আছে, জানি না ভবিষ্যতে করতে পারব কিনা। আমি এ পর্যন্ত প্রায় ১৬০টি ছবিতে অভিনয় করেছি। ছবিতে অভিনয় করে এলে তেমন তৃপ্তি পাই না। ছবিতে চরিত্রগুলোতে কোনো ভেরিয়েশন থাকে না। সেই একই রকম শুধু মা আর খালাদের চরিত্র করা। তবে ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শঙ্খনীলকারাগার’ ছবি দুটির চরিত্রে একটু বিশেষত্ব ছিল। কাজ করতে ভালো লেগেছে। রাজ্জাক ভাইয়ের ‘বাবা কেন চাকর’ ছবিতে কাজ করেও ভালো লেগেছে। রাজ্জাক ভাইয়ের ছবিতে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। তিনি অতি অভিনয় পছন্দ করেন না। আমার মনে হয় একজন শিল্পী যখন দীর্ঘদিন কাজ করার পর পরিচালনায় যান; তখন তিনি খুঁটিনাটি সব ব্যাপারগুলো ভালো বোঝেন।” একাল সেকালের অভিনয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ডলি জহুর বলেন, ‘আমরা যখন কাজ শুরু করি একটি মাত্র চ্যানেল বিটিভি ছিল। বেশ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ হতো। শিল্পী কলাকুশলী সবাই কাজের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস ছিল। সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করতাম কাজ ভালো করার জন্য। প্রতিটি নাটকের শুটিং করার আগে মহড়া হতো। আর এখন প্যাকেজ নাটক ডাল-ভাতের মতো মনে হয়। অনেক নাটকের স্ক্রিপ্ট সেটে গিয়ে পাই। তবে আমি অনেক বুঝেশুনে কাজ করি। সবার কাজ করি না। এখনও অনেক ভালো ভালো স্ক্রিপ্ট পাই। এগুলো যতœ নিয়ে করলে ভালো কাজ হতে পারে।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র