¦
প্রিয়দর্শিনী একজনই

অনুরূপ আইচ ও অভি মঈনুদ্দীন | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

১৯৯৩ সালের ঘটনা। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিটি সে বছর মুক্তি পায়। মুক্তির পর ছবিটি দেখার জন্য বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েন। অন্যদিকে মৌসুমী অভিনীত বিজ্ঞাপন ‘সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ির’ ‘প্রিয় প্রিয় প্রিয়’ জিঙ্গেলটি কানে আসা মাত্রই দর্শক থমকে গিয়ে অপরূপা মৌসুমীকে দেখতেই যেন ব্যস্ত। সেই যে দর্শকের মাঝে মৌসুমীকে দেখার আগ্রহ শুরু হল, সেই আগ্রহ আজও কমেনি। বরং ১৯৯৩ থেকে আজ অবধি মৌসুমী যেন নবীন-প্রবীণ সবার প্রিয় নায়িকা। মিষ্টি হাসি আর অনবদ্য অভিনয় দিয়েই দর্শকের এ ভালোবাসা জয় করেছেন মৌসুমী।
তার সঙ্গে খুব কাছাকাছি সময়কালে যারা চলচ্চিত্রে নায়িকা হয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তাদের কেউই আজ তার সমকক্ষ নন। মৌসুমী বিয়ে করেছেন, সংসার করছেন, সন্তানের মা’ও হয়েছেন। সামাজিকতার সব নিয়ম মেনে চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন নিয়মিত। দর্শকের ভালোবাসা আর নিজের আগ্রহ তাকে টেনে নিয়ে গেছে অনেক ওপরে। যে মানুষটি সব সময়ই তাকে পাশে থেকে আগলে রেখেছেন তিনি ওমর সানী। একজন নারীর জীবনে স্বামীর ভূমিকা সর্বোচ্চ কতটুকু হতে পারে ওমরসানীই যেন তার জ্বলন্ত উদাহরণ। সুখে-দুঃখে সংসার জীবনের উনিশটি বছর পার করেছেন তারা দু’জন। ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট ওমরসানী-মৌসুমী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সুখে-শান্তিতে সংসারধর্ম পালন করার পাশাপাশি দু’জনই চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। তাদের ঘর আলোকিত করেছে দুই সন্তান ফারদিন ও ফাইজা।
মৌসুমীর সঙ্গে ওমরসানীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ‘দোলা’ ছবিতে অভিনয়ের সময়। এরপর ‘আত্ম অহংকার’ ছবিতে অভিনয়ের সময় সেই সে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। আবেগি ভালোবাসা থেকে পরিণয়। দেখতে দেখতে কেটে গেল ঊনিশটি বছর। শিল্পী দম্পতি হিসেবে এটা সত্যিই এক বিশাল অর্জনও বলা চলে। কীভাবে সম্ভব হয়েছে? দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে মৌসুমী বলেন, ‘আমাদের ওপর আল্লাহর বিশেষ রহমত আছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমরা দু’জন দু’জনকে বুঝি। নিজেদের মধ্যে সবকিছু আলোচনা করে নিই। ফলে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হয়নি আমাদের মাঝে। সবার দোয়ায় আমরা ভালো আছি। সবার কাছে দোয়া চাই যেন সব সময় ভালো থাকি।’
মৌসুমী জুটিবদ্ধ হয়ে সবচেয়ে বেশি অভিনয় করেছেন প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার সঙ্গে। এরপর তিনি ওমরসানী এবং ফেরদৌসের সঙ্গেও জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ ছবিই ছিল ব্যবসাসফল। অন্যদের সঙ্গে মৌসুমীর বোঝাপড়া ছিল চমৎকার। ফলে কাজ করতে গিয়ে কখনোই তাকে বিতর্ক কিংবা সমস্যায় পড়তে হয়নি।
অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও জড়ি এ প্রিয়দর্শিনী নায়িকা। জাতিসংঘের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউএনএফপিএ। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী তারকাদের নিয়ে সমাজের মানুষের কল্যাণের জন্য নানা ধরনের সচেতনতামূলক কাজ করে থাকে। ঠিক তেমনি কর্মজীবী মা’সহ সব মায়েদের শিশুকে বুকের দুধ (শাল দুধ) খাওয়ানোর ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তুলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। মায়েদের সচেতনতা গড়ে তুলতে শিশুকে মায়ের শাল দুধ খাওয়ানোর পক্ষে এখন পর্যন্ত পিএসএম (পাবলিক সার্ভিস ম্যাসেজ)-এ কথা বলেছেন হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, মুম্বাইয়ের কাজল ও টুইংকেল খান্না। বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ সম্প্রতি এক জরিপে তারকাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং সুখী তারকা হিসেবে মৌসুমীর জনপ্রিয়তাকে শীর্ষ স্থানে দেখতে পান। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে প্রিয়দর্শিনী তারকা মৌসুমীকেই এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করেছেন সংস্থাটি। এমন একটি কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পেরে মৌসুমী বলেন, ‘এর আগেও আমি সমাজের কল্যাণ ও সচেতনতামূলক কাজে আমি অংশগ্রহণ করেছি। এ ধরনের কাজ করতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শুধু শিল্পী হিসেবেই নয়, একজন সচেতন মানুষ হিসেবে সমাজের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ভালোবাসা থেকে আমি এসব কাজে অনেক আগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, এ কাজগুলোই মানুষের মাঝে থেকে যাবে।’ নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘মৌসুমী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’, ‘ইউনিসেফ’সহ আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমাজ সচেতনতামূলক কাজে শিল্পী জীবনের শুরু থেকেই অংশগ্রহণ করে আসছেন মৌসুমী। এসিড দগ্ধ, অবাঞ্ছিত শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু, অবহেলিত মায়েদের জন্য নানা ধরনের কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।
এদিকে মৌসুমী তার পরিচালিত ‘শূন্য হৃদয়’ ছবির কাজ শেষ করেছেন সম্প্রতি। শিগগিরই ছবিটির ডাবিং করবেন তিনি। পাশাপাশি শেষ করেছেন মুশফিুকর রহমান গুলজারের ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ ও বেলাল আহমেদের ‘ভালোবাসবোই তো’ ছবির কাজ। এ ছাড়া শুটিং চলছে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ‘রাত্রির যাত্রী’। নার্গিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘলা আকাশ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২০০২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিুিন চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দেবদাস’ ছবিতে চন্দ্রমুখী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আবারো একই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনটি শাখায় পুরস্কার পেয়েছিল। প্রথম পরিচালিত ছবিতেই মৌসুমী এমনভাবে সাফল্য পাবেন, ভাবেননি কখনও। অবশ্য এ জন্য তিনি ছবিটির প্রযোজনা সংস্থা ‘ইমপ্রেস টেলিফিল্ম’-এর প্রতি সব সময়ই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৃশ্চিক রাশির জাতিকা মৌসুমীর এখনও কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা সহকর্মী কিংবা ইউনিটকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করে। জীবনের শুরু থেকেই এমন কিছু মানুষের সাহচার্য পেয়ে এসেছেন তারাই যেন তাকে আগামী দিনে চলার পথ দেখিয়ে দিয়েছিলেন। আর সেই পথ ধরেই মৌসুমী হেঁটে চলেছেন এখনও। বড় কিংবা ছোট পর্দা যাই হোক না কেন, মৌসুমীর উপস্থিতি যেন সব দর্শককেই ভীষণভাবে মুগ্ধ করে। ভুবন ভোলানো হাসিই যেন সেই মুগ্ধতার কারণ।
মৌসুমী মৌসুমীই। তার সঙ্গে অন্য কারোরই তুলনা চলে না। একজন মানুষ প্রবল আত্মপ্রত্যয়ী, অধ্যবসায়ী, পরিশ্রমী এবং মেধাবী হলেই তিনি মৌসুমী হতে পারবেন। মৌসুমী অসম্ভব গুণী এবং ট্যালেন্টেড একজন নায়িকা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্রাঙ্গনে এত সুন্দর মুখ আগামীতে আসবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
চিত্রনায়ক ফেরদৌস
মৌসুমীর তুলনা সীমাহীন। তার মতো নায়িকা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে সত্যিই বিরল। অভিনয়, মেধা ও শ্রম দিয়ে সে যেন এ দেশের একজন কিংবদন্তি নারীতে পরিণত হতে পারেন আমার এই দোয়া থাকবে আজীবন। আল্লাহ যেন তাকে একজন সমালোচনাহীন মানুষে পরিণত করেন এ কামনাই করি
চিত্রনায়ক ওমার সানী
একনজরে মৌসুমী
পুরো নাম :
আরিফা পারভীন জামান মৌসুমী
পিতা :
মরহুম নাজমুজ্জামান মনি
মাতা :
শামীম আক্তার জাহান
জন্ম :
৩ নভেম্বর
বিয়ে :
২ আগস্ট, ১৯৯৬
স্বামী :
চিত্রনায়ক ওমরসানী
সন্তান :
ছেলে ফারদিন ও মেয়ে ফাইজা
প্রথম চলচ্চিত্র :
কেয়ামত থেকে কেয়ামত
প্রথম পরিচালক :
সোহানুর রহমান সোহান
প্রথম নায়ক :
প্রয়াত সালমান শাহ
প্রথম পরিচালনা :
কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি (চলচ্চিত্র)
প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার :
মেঘলা আকাশ (২০০২)
(পরিচালক নার্গিস আক্তার)
সর্বাধিক জুটি যার সঙ্গে :
প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্না
নিজের কণ্ঠে গান গাওয়া:
ভালোবাসা বলে নেই তো কিছু
সর্বশেষ পরিচালিত চলচ্চিত্র :
শূন্য হৃদয়
সর্বশেষ চলচ্চিত্র পুরস্কার :
চাষী নজরুল ইসলামের ‘দেবদাস’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য (২০১৩)
প্রিয় গানের একটি:
সময় হয়েছে ফিরে যাবার
মন কেন যেতে চায় না, বলো না (চলচ্চিত্র আদরের সন্তান, পরিচালক আমজাদ হোসেন)
 

তারাঝিলমিল পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close