¦
মানবতা মুক্তির আহ্বানে নাট্যোৎসব

ফারুক হোসেন শিহাব | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় অজ্ঞাত ভীতির ভেতর সময় অতিক্রম করছে রাজধানীবাসী। অপরদিকে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে চৈতালী বসন্ত হাওয়ায় নগরীজুড়ে ব্যস্তময় প্রস্তুতি। এমনি পরিক্রমায় নাটকপাড়ায় ৬ষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠিত হল ‘সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মারক সম্মাননা’। দেশের প্রথম সারির নাটকের দল পদাতিক নাট্য সংসদ জাতীয় নাট্যশালার মূল হল ও পরীক্ষণ হলে ৭-১১ এপ্রিল একযোগে আয়োজন করে ৫ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এ নাট্যাসর। মহান মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য চেতনায় দেশজ সংস্কৃতি বিকাশের প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা প্রতিশ্র“তিশীল এ নাট্যদলটি সক্রিয় নাটবুননের পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো এবারও নাট্যাঙ্গনকে উজ্জীবীত করেছে অনবদ্য এ প্রয়াসে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট এবং পদাতিকের আজীবন সভাপতি প্রয়াত নাট্যজন সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইনের ৯২তম জন্মদিন উপলক্ষে এ আয়োজনকে ঘিরে শিল্পকলা একাডেমির নাটকপাড়াজুড়ে দেখা দেয় রকমারী সাজ-বাহার। উৎসব সংশ্লিষ্ট নানারকম পোস্টার, ফেস্টুন, মুখোশ এবং আসরে স্থান পাওয়া নাটকের মনগ্রাহী স্থিরচিত্রে যেন নবরূপের রশ্মি ছড়ায় নাটকপাড়া। বাহারি আলোর ঝলকে বর্ণিল সাজ-শোভায় সবই যেন একাকার। সিঁড়ি বেয়ে মূল হলের বহিরাংশের লবিজুড়েও যেই রেশ ছুঁয়েছে শিল্পের আপন আলোয়ে। যেখানে সর্বজন শ্রদ্ধেয় নাট্যজন সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইনের প্রতিকৃতিকে ঘিরে সাজানো হয় ফুলেলকুঞ্জ। আয়োজনকে ঘিরে এক অবারিত নবআনন্দ-জোয়ার ঢেউ খেলেছে পুরো নাট্যাঙ্গনে। তবুও কোথায় যেন খটকা লাগে। স্বাগতিক দলের পক্ষে আয়োজনের কোনো কমতি না থাকলেও অনাকাক্সিক্ষত প্রতিকূল পরিবেশে কিছুটা নিরশতায় কেটেছে তাৎপর্যবহ এই নাট্যোৎসব। ৭ এপ্রিল বিকাল ৫টায় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্ব¡লনের মধ্য দিয়ে দেশবরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্বরা আসরের শুভ উদ্বোধন করলেও পরবর্তী সময়টা পড়ে আকস্মিক জল-ঝড়ের কবলে। যার ফলে উদ্বোধনী আসরেই আশানরূপ দর্শক থেকে বঞ্চিত হয় থিয়েটারের আলোচিত প্রযোজনা ‘কুহকজাল’ এবং স্বাগতিক দলের নন্দিত নাটক ‘জনমাংক’। পরদিন অনাকাক্সিক্ষত আরেক তুফান এসে আতংকের ঘণ্টা বাজায় দর্শক মনে। এদিন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা কামারুজ্জামানের রায় ও ফাঁসি কার্যকরের বিষয় নিয়ে ঢাকাজুড়ে জনমনে আতংক-উৎকণ্ঠার রোষে পড়ে দর্শক উপস্থিতি। বাকি ৩ দিন ভেস্তে যায় শিল্পকলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এমআইবি’র গানমেলার আয়োজনের তোপে। কেননা, এমনিতেই সম্প্রতি মঞ্চের দর্শক সংখ্যা নিুগামী। তার ওপর সন্নিকটে বিনা পয়সায় সেলিব্রেটি শিল্পীদের ধুম-ধারাক্কা গান হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো দর্শকদের টেনে নেয়াই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন নাটক সংশ্লিষ্টরা। এমনটি অবশ্য সম্প্রতি শিল্পকলায় হরহামেশায়ই হয়ে থাকে। একদিকে কোনো একটি দলের নাটক চলছে, অন্যদিকে বিনামূল্যে অন্য কারও নাটক বা অনুষ্ঠান হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী অনেক নাট্যদলের অভিযোগও রয়েছে। ‘মুক্ত করো মানবতা’ স্লোগানে আয়োজনের সূচনা হলেও অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির মারপ্যাঁচে আদতে ভালো একটা অর্থনৈতিক দণ্ডি গুনতে হবে আয়োজকদের। উৎসবে দেশ ও দেশের বাইরের ৭টি নাটকের দল মঞ্চস্থ করে ১০টি নাটক। বাংলাদেশ থেকে পদাতিক নাট্য সংসদ, থিয়েটার বেইলী রোড, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, আরণ্যক নাট্যদল ও বটতলা এবং ভারত থেকে অংশ নেয় নাট্যদল অনীক ও রঙ্গকর্মী।
প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জাতীয় নাট্যশালার মূল হলের সম্মুখে ছিল সাংস্কৃৃতিক অনুষ্ঠান। উন্মুক্ত এ আনুষ্ঠানিকতায় দর্শক সমাগম ছিল বেশ। এবার নাট্যাঙ্গনে বিশেষভাবে অবদান রাখার জন্য ১১ এপ্রিল জমকালো আনুষ্ঠানিকতায় নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন আহমদ ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে প্রদান করা হয় ‘সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মারক সম্মাননা’। অনুষ্ঠান শেষে মূল হলে প্রদর্শিত হয় নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় প্রযোজিত ‘নামগোত্রহীন’ এবং পরীক্ষণ হলে ছিল বটতলার ‘দ্য ট্রায়াল অব মাল্লাম ইলিয়া’। অন্যদিনের তুলনায় শেষদিন দর্শকও ছিল তুলনামূলক ভালো। সেই ভালোটা ধারণ করেই হয়তো সংস্কৃতির মসৃণতায় চলবে পদাতিক। সমাপনী দিন সবশেষে ব্যাপক ও ব্যতিক্রমতায় বাজি ফুটানো, উড়িয়ে দেয়া ফানুসের দোল-খাওয়া আর দলীয় নাট্যকর্মীদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে পদাতিক নাট্যোৎসবের সমাপ্তি ঘটে। প
 

তারাঝিলমিল পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close