¦
আমজাদ হোসেন একাল আর সেকাল

মিলান আফ্রিদী | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

আমজাদ হোসেন। নিজেই যিনি একটা ইন্ডাস্ট্রি। চলচ্চিত্রের প্রতিটি শাখায় রয়েছে যার পদচারণা। জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট, জামালপুরে। বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীর কাছে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন তিনি সুনিপূণ কারুকার্যে। শৈশব থেকেই আমজাদ হোসেন ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী। চর্চাও করতেন সে সময়। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন। প্রথমে তিনি অভিনয়েন সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। পাবনার সন্তান মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় সবাইকে মুগ্ধ করে। এর পরপরই তিনি অভিনয় করেন মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে। তবে এর পরের ইতিহাসটা একেবারেই অন্যরকম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান সালাহ উদ্দিন আমজাদ হোসেনের লেখা নাটক ‘ধারাপাত’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এতে আমজাদ হোসেন নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। এরপর আমজাদ হোসেন জহির রায়হানের ইউনিটে কাজ শুরু করেন। এভাবেই দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে ১৯৬৭ সালে তিনি নিজেই প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। নাম ‘জুলেখা’। এরপর নূরুল হক বাচ্চুর সঙ্গে যৌথভাবে ‘দুই ভাই’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। তার পরিচালিত ব্যাপক দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে- ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমণি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’। ১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম মুক্তিযোদ্ধা পরিচালকদের অনুপ্রেরণায় বিএফডিসিতে পরিচালক সমিতি গঠিত হয়। কিন্তু এ সংগঠনটি বেশিদিন স্থায়ি হয়নি। ১৯৮১ সালে সেই সমিতি আবারো যাত্রা শুরু করে। এই পূর্ণযাত্রায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন আমজাদ হোসেন। বর্তমানে তিনি পরিচালক সমিতির আজীবন সদস্য হিসেবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। গুণী এই পরিচালক ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এ প্রসঙ্গে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সবসময় আমি দর্শকের ভালোলাগা, ভালোবাসার জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি। দর্শক আমার চলচ্চিত্র দেখার জন্য হলে গিয়েছেন। তাদের ভালোবাসায় আমি সিক্ত হয়েছি। আজীবন দর্শকের ভালোবাসার মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই।’ আমজাদ হোসেনের বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক ফারুক। আমজাদ হোসেন প্রসঙ্গে ফারুক বলেন, ‘আমজাদ ভাইকে নিয়ে কী বলব! তার একান্ত ব্যক্তিগত কিছু কথা ছাড়া তার সবই তো জানি। আমরা দু’জন এক আত্মা, এক মন, এক প্রাণ। হয়তো তার সঙ্গে আমার অনেক কিছুর অমিল হতেও পারে। কিন্তু মানুষকে শ্রদ্ধা করা, ভালোবাসা, সম্মান প্রদর্শন করা- এই বিষয়গুলোতে আমাদের দু’জনের প্রচণ্ড মিল রয়েছে। আমাদের আরও বহুদূর পথচলার কথা ছিল। কিন্তু সেই পথচলা আমরা নিজেরাই ধ্বংস করে দিয়েছি। আমজাদ ভাই অনেক বড় মনের একজন মানুষ, অনেক বড় মাপের একজন নির্মাতা। অপূর্ব সৃষ্টিশীল একজন মানুষ। আমাদের দেশে তার মতো চলচ্চিত্র পরিচালকের আদৌ জন্ম হবে কিনা সন্দেহ আছে।’ একজন আমজাদ হোসেন আমাদের বাঙালি জাতির অহংকার, আমাদের চলচ্চিত্রের গর্ব, প্রবীণ শিল্পীদের অহংকার। একজন আমজাদ হোসেন নিজেই একটি ইন্ডাস্ট্রি, যাকে নিয়ে নতুন প্রজন্ম গবেষণা করলে হয়তো নিজেদের মেধার বিকাশে তা কাজে লাগাতে সক্ষম হবেন। সৃষ্টিশীল এ মানুষটি চলচ্চিত্রের জন্য কতটা গৌরবের তা সত্যিই কল্পনীয়।
 

তারাঝিলমিল পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close