¦
প্রবীর মিত্রের একাল আর সেকাল

শাহনাজ হেনা | প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৫

শুধু সিনেমাপ্রেমী দর্শকের কাছেই নয় সহকর্মীদের কাছেও প্রবীর মিত্র ভীষণ প্রিয়। সবসময়ই সাদাসিধে জীবন পছন্দ তার। যে কারণে উচ্চাভিলাষ তাকে কখনোই ছুঁতে পারেনি। জীবনের মতো করেই জীবন বয়ে যাচ্ছে। বয়স বেড়েছে, তা মেনেও নিয়েছেন। সব মেনে নিয়েই চলচ্চিত্র থেকে অনেকটা দূরেই আছেন তিনি। পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন আজ তার পরিপূর্ণন আনন্দময়। কিন্তু এত আনন্দের মধ্যেও কিছুদিন আগে হঠাৎ পরিচালক বেলাল আহমেদের চলে যাওয়াটা তাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। বেলাল আহমেদ পরিচালিত ‘নয়নের আলো’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তার ভাষায়, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ‘রিমার্কেবল’ ছবি ‘নয়নের আলো’। সুমিতা দেবী এ ছবিতে প্রবীর মিত্রের অভিনয় দেখে বলেছিলেন, ‘তুমি যদি এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না পাও তাহলে অভিনয় ছেড়ে, এই দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেও’। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না মিললেও প্রবীর মিত্র তার দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে, ভালোবাসার জায়গা থেকে অভিনয়ই করে গেছেন আজীবন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সে ছবিতে না পেলেও পরে তিনি মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য পেয়েছিলেন।
একবার রাজেশ খান্না ও শাবানাকে নিয়ে প্রমোদ চক্রবর্তী ‘বিরোধ’ ছবিটি নির্মাণের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকায় এসে তিনি প্রযোজক হাবিবুর রহমানের কাছে ঢাকার কয়েকটি ছবি দেখতে চাইলেন। তখন তাকে ‘নয়নের আলো’ এবং ‘ছুটির ঘণ্টা’ এ ছবি দুটি দেয়া হয়। দুটি ছবিই প্রমোদ চক্রবর্তী মনোযোগ দিয়ে দেখেন। ফেরার সময় বিমানবন্দরে হাবিবুর রহমানকে বলেছিলেন, ‘নয়নের আলো ছবির সেকেন্ড হাফ আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। প্রবীর মিত্রকে আমাকে দিয়ে দেন।’ জবাবে তখন হাবিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘সে তো অনেক ব্যস্ত। যেতে পারবে না’। পরবর্তীতে প্রমোদ চক্রবর্তীর সঙ্গে বোম্বেতে শুটিং করতে শাবানাও যান। তার কাছেও প্রমোদ চক্রবর্তী প্রবীর মিত্রের না যাওয়া নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। একদিন এমএ সামাদ পরিচালিত ‘শিরি-ফরহাদ’ ছবির শুটিংয়ের সময় এফডিসিতে মেকাপ নিচ্ছিলেন প্রবীর মিত্র। তাকে দেখে শাবানা বললেন, ‘প্রমোদ চক্রবর্তী আপনাকে ডাকলেন, আর আপনি গেলেন না! এটা কী করে মেনে নেই’!
এসবই ছিল তার স্মৃতিময় অভিনয় জীবনের গল্প। স্মৃতির ডানা থেকে ফিরে বলেন, “এতসব ঘটনা কিন্তু বেলাল আহমেদের ‘নয়নের আলো’ ছবির জন্যই। কারণ প্রমোদ চক্রবর্তী কিন্তু আমাকে সরাসরি দেখেননি, তার সঙ্গে কথাও হয়নি আমার। তিনি অভিনয় দেখেই আমাকে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন। সবই আসলে বেলাল আহমেদের ছবির জন্যই। তিনি সত্যিই একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন।”
চলচ্চিত্রে প্রবীর মিত্রের অভিষেক ঘটে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। মূলত ছবিতে কাজের ব্যাপারে তার বন্ধু এটিএম শামসুজ্জামানই তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। ‘জলছবি’র পর নায়ক হিসেবে প্রবীর মিত্র ‘চাবুক’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, জালিয়াত’, ‘তীর ভাঙ্গা ঢেউ’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ‘রামের সুমতি’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’সহ আরও বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জীবন তৃষ্ণা’ ছবিতে শিল্পী আবদুল জব্বারের গাওয়া ‘এ আঁধার কখনো যাবে না মুছে আমার পৃথিবী থেকে’ গানটি তাকে ব্যাপকভাবে পরিচিতি এনে দেয়। এ বয়সে এসে প্রবীর মিত্র খুব বেশি ছবিতে কাজ না করলেও প্রচণ্ড ইচ্ছা করে চলচ্চিত্রের সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে পুরনো দিনের গল্প নিয়ে আড্ডা দিতে। ইচ্ছা করে গল্পে গল্পেই সময় কাটাতে। প্রবীর মিত্রের এ আশা হয়তো খুব বড় কিছু না আবার ছোটও নয়। হয়তো খুব শিগগিরই তিনি আবারও পুরনো দিনের মতোই মেতে উঠবেন তার প্রিয় সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডায়।
 

তারাঝিলমিল পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close