jugantor
অনবদ্য আলমগীর
আটবারেরও অধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন চিত্রনায়ক আলমগীর। ইদানীং তাকে অভিনয়ে কম দেখা যায়। কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, মনের মতো গল্প এবং চরিত্র পান না তিনি। কিংবদন্তি এ চিত্রনায়কের একাল সেকাল নিয়ে লিখেছেন-

  অভি মঈনুদ্দীন  

০৬ আগস্ট ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

আলমগীর যে সময় চলচ্চিত্রে এসেছেন সে সময়ে তিনি খান আতাউর রহমান কিংবা তার মতো আরও অনেক গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাননি। এরপরও তার সঙ্গে লাভ ইন সিমলা, গুণ্ডা, মমতাসহ যে কটি ছবিতে অভিনয় করেছি তা বেশ দর্শকনন্দিত হয়েছে। খুব কম ছবিতে অভিনয় করলেও তার সঙ্গে পরবর্তীতে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। পারিবারিকভাবে আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে বেশ ভালো একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। আলমগীর এমন একজন মানুষ যার সঙ্গে যে কোনো বিষয় নিয়ে অন্তরঙ্গভাবেই আলোচনা করা যায়। একজন মানুষকে ভালো মানুষ বলা সত্যিই অনেক কঠিন, কিন্তু আলমগীর একজন মানুষ হিসেবে যেমন অসাধারণ ঠিক তেমনি আমার খুব ভালো একজন বন্ধুও বটে। আলমগীরের মাঝে সব সময় নায়কচিত বিষয় কাজ করে যেমন- তার বাচনভঙ্গি, পোশাক-আশাক এবং সর্বোপরি তার উচ্চতা যা সত্যিই আমাকে খুব আকৃষ্ট করে এবং আমি মনে করি এই প্রজন্মের নতুন নায়কদের তাকে অনুসরণ করা উচিত।’ চিত্রনায়ক আলমগীরকে নিয়ে এমনই বলেছেন কবরী। দেশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রহমান-শবনম, রাজ্জাক-কবরী, আলমগীর-ববিতা, জাফর ইকবাল-ববিতা, সালমান-শাবনূর জুটির কথা এই দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শক যুগ যুগ মনে রাখবে। তবে একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে, দেশীয় চলচ্চিত্রের জুটি প্রথার ইতিহাসে ‘আলমগীর-শাবানা’ জুটি হয়ে সর্বাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। এই জুটির ছবির সংখ্যা ১২৬টি। প্রায় সব ছবিই হিট-সুপারহিট ব্যবসা করেছে। যা অন্যান্য জুটির ক্ষেত্রে ঘটেনি। এখনও টেলিভিশন পর্দায় দর্শক যখন আলমগীর-শাবানা জুটির ছবি দেখেন তখন সাধারণত দর্শক অন্য কোনো চ্যানেলের মুখাপেক্ষী এ প্রসঙ্গে আলমগীর বলেন, ‘আসলে টিভি দর্শকের রেসপন্সটাতো সত্যিকার অর্থে খুব কম পাই। তবে আমাদের জুটির ছবি যখন হলে মুক্তি পেত তখন যে পজিটিভ রেসপন্স আসত, তা সত্যিই খুব ভালো লাগত।’ একেবারেই স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলিতার কারণেই আলমগীর চলচ্চিত্রে একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করতে পেরেছিলেন। যা আজও অটুট রয়েছে। গুণী এই চলচ্চিত্রাভিনেতা আগের মতো চলচ্চিত্রে নিয়মিত না হলেও গল্প এবং চরিত্র পছন্দ হলে তিনি অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে আলমগীর বলেন, ‘স্ক্রিপ্টবিহীন কোনো ছবিতে আমি কাজ করি না। আমার কাছে বাঁধাই করা স্ক্রিপ্ট নিয়ে এলে তা পড়ে যদি আমার ভালোলাগে তবেই সেই ছবির আমার জন্য নির্ধারিত চরিত্রটিতে আমি অভিনয় করি।’ কিংবদন্তি নায়ক আলমগীরের জন্ম ১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার পিতা আলহাজ কলিম উদ্দিন আহমেদ (দুদু মিয়া) ছিলেন ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবির অন্যতম একজন প্রযোজক। আলমগীর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আমার জন্মভূমি’। দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ছিল দস্যুরানী। দুটো ছবিই ছিল সুপারহিট। এরপর তিনি অনেক ছবিতে কাজ করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চাষীর মেয়ে, জয় পরাজয়, লাভ ইন সিমলা, হাসি কান্না, লাভ ইন সিমলা, জাল থেকে জ্বালা, জয় পরাজয়, শাপমুক্তি, গুণ্ডা, মাটির মায়া, মনিহার, লুকোচুরি, হীরা, মমতা, মনের মানুষ, রাতের কলি, মধুমিতা, হারানো মানিক, মেহেরবানু, কন্যাবদল, কাপুরুষ, শ্রীমতি ৪২০, জিঞ্জির, বদলা, সাম্পানওয়ালা, কসাই, প্রতিজ্ঞা, লুটেরা, চম্পাচামেলী, গাঁয়ের ছেলে, ওস্তাদ সাগরেদ, দেনা পাওনা, মধুমালতী, আশার আলো, বড় বাড়ীর মেয়ে, আল হেলাল, সবুজ সাথী, রজনীগন্ধ্যা, ভালবাসা, লাইলী মজনু, বাসরঘর, মান সম্মান, ধনদৌলত, নতুন পৃথিবী, হাসান তারেক, সালতানাৎ, দ্বীপকন্যা, সকাল সন্ধ্যা, মহল, অগ্নিপরীক্ষা, সখিনার যুদ্ধ, ভাত দে, হিসাব নিকাশ, দুই নয়ন, অন্যায়, গীত ঘরের লক্ষ্মী’ ইত্যাদি। ১৯৮৫ সালে তিনি ‘মা ও ছেলে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯৮৭, ১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯১, ১৯৯২ এবং সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে একই সম্মানে ভূষিত হন। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রথম ‘নিষ্পাপ’ ছবি নির্মাণের মধ্য দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার নির্দেশনায় নির্মিত সর্বশেষ ছবি হচ্ছে ‘নির্মম’। তার দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেও তিনি চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। আগুনের আলো ছবিতে তিনি প্রথম প্লেব্যাক করেন। এরপর তিনি কার পাপে, ঝুমকা ও নির্দোষ ছবিতেও প্লেব্যাক করেন।


 

সাবমিট

অনবদ্য আলমগীর

আটবারেরও অধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন চিত্রনায়ক আলমগীর। ইদানীং তাকে অভিনয়ে কম দেখা যায়। কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, মনের মতো গল্প এবং চরিত্র পান না তিনি। কিংবদন্তি এ চিত্রনায়কের একাল সেকাল নিয়ে লিখেছেন-
 অভি মঈনুদ্দীন 
০৬ আগস্ট ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

আলমগীর যে সময় চলচ্চিত্রে এসেছেন সে সময়ে তিনি খান আতাউর রহমান কিংবা তার মতো আরও অনেক গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাননি। এরপরও তার সঙ্গে লাভ ইন সিমলা, গুণ্ডা, মমতাসহ যে কটি ছবিতে অভিনয় করেছি তা বেশ দর্শকনন্দিত হয়েছে। খুব কম ছবিতে অভিনয় করলেও তার সঙ্গে পরবর্তীতে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। পারিবারিকভাবে আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে বেশ ভালো একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। আলমগীর এমন একজন মানুষ যার সঙ্গে যে কোনো বিষয় নিয়ে অন্তরঙ্গভাবেই আলোচনা করা যায়। একজন মানুষকে ভালো মানুষ বলা সত্যিই অনেক কঠিন, কিন্তু আলমগীর একজন মানুষ হিসেবে যেমন অসাধারণ ঠিক তেমনি আমার খুব ভালো একজন বন্ধুও বটে। আলমগীরের মাঝে সব সময় নায়কচিত বিষয় কাজ করে যেমন- তার বাচনভঙ্গি, পোশাক-আশাক এবং সর্বোপরি তার উচ্চতা যা সত্যিই আমাকে খুব আকৃষ্ট করে এবং আমি মনে করি এই প্রজন্মের নতুন নায়কদের তাকে অনুসরণ করা উচিত।’ চিত্রনায়ক আলমগীরকে নিয়ে এমনই বলেছেন কবরী। দেশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রহমান-শবনম, রাজ্জাক-কবরী, আলমগীর-ববিতা, জাফর ইকবাল-ববিতা, সালমান-শাবনূর জুটির কথা এই দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শক যুগ যুগ মনে রাখবে। তবে একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে, দেশীয় চলচ্চিত্রের জুটি প্রথার ইতিহাসে ‘আলমগীর-শাবানা’ জুটি হয়ে সর্বাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। এই জুটির ছবির সংখ্যা ১২৬টি। প্রায় সব ছবিই হিট-সুপারহিট ব্যবসা করেছে। যা অন্যান্য জুটির ক্ষেত্রে ঘটেনি। এখনও টেলিভিশন পর্দায় দর্শক যখন আলমগীর-শাবানা জুটির ছবি দেখেন তখন সাধারণত দর্শক অন্য কোনো চ্যানেলের মুখাপেক্ষী এ প্রসঙ্গে আলমগীর বলেন, ‘আসলে টিভি দর্শকের রেসপন্সটাতো সত্যিকার অর্থে খুব কম পাই। তবে আমাদের জুটির ছবি যখন হলে মুক্তি পেত তখন যে পজিটিভ রেসপন্স আসত, তা সত্যিই খুব ভালো লাগত।’ একেবারেই স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলিতার কারণেই আলমগীর চলচ্চিত্রে একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করতে পেরেছিলেন। যা আজও অটুট রয়েছে। গুণী এই চলচ্চিত্রাভিনেতা আগের মতো চলচ্চিত্রে নিয়মিত না হলেও গল্প এবং চরিত্র পছন্দ হলে তিনি অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে আলমগীর বলেন, ‘স্ক্রিপ্টবিহীন কোনো ছবিতে আমি কাজ করি না। আমার কাছে বাঁধাই করা স্ক্রিপ্ট নিয়ে এলে তা পড়ে যদি আমার ভালোলাগে তবেই সেই ছবির আমার জন্য নির্ধারিত চরিত্রটিতে আমি অভিনয় করি।’ কিংবদন্তি নায়ক আলমগীরের জন্ম ১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার পিতা আলহাজ কলিম উদ্দিন আহমেদ (দুদু মিয়া) ছিলেন ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবির অন্যতম একজন প্রযোজক। আলমগীর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আমার জন্মভূমি’। দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ছিল দস্যুরানী। দুটো ছবিই ছিল সুপারহিট। এরপর তিনি অনেক ছবিতে কাজ করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চাষীর মেয়ে, জয় পরাজয়, লাভ ইন সিমলা, হাসি কান্না, লাভ ইন সিমলা, জাল থেকে জ্বালা, জয় পরাজয়, শাপমুক্তি, গুণ্ডা, মাটির মায়া, মনিহার, লুকোচুরি, হীরা, মমতা, মনের মানুষ, রাতের কলি, মধুমিতা, হারানো মানিক, মেহেরবানু, কন্যাবদল, কাপুরুষ, শ্রীমতি ৪২০, জিঞ্জির, বদলা, সাম্পানওয়ালা, কসাই, প্রতিজ্ঞা, লুটেরা, চম্পাচামেলী, গাঁয়ের ছেলে, ওস্তাদ সাগরেদ, দেনা পাওনা, মধুমালতী, আশার আলো, বড় বাড়ীর মেয়ে, আল হেলাল, সবুজ সাথী, রজনীগন্ধ্যা, ভালবাসা, লাইলী মজনু, বাসরঘর, মান সম্মান, ধনদৌলত, নতুন পৃথিবী, হাসান তারেক, সালতানাৎ, দ্বীপকন্যা, সকাল সন্ধ্যা, মহল, অগ্নিপরীক্ষা, সখিনার যুদ্ধ, ভাত দে, হিসাব নিকাশ, দুই নয়ন, অন্যায়, গীত ঘরের লক্ষ্মী’ ইত্যাদি। ১৯৮৫ সালে তিনি ‘মা ও ছেলে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯৮৭, ১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯১, ১৯৯২ এবং সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে একই সম্মানে ভূষিত হন। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রথম ‘নিষ্পাপ’ ছবি নির্মাণের মধ্য দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার নির্দেশনায় নির্মিত সর্বশেষ ছবি হচ্ছে ‘নির্মম’। তার দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেও তিনি চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। আগুনের আলো ছবিতে তিনি প্রথম প্লেব্যাক করেন। এরপর তিনি কার পাপে, ঝুমকা ও নির্দোষ ছবিতেও প্লেব্যাক করেন।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র