jugantor
মতিন রহমান
একাল সেকাল

  এফ আই দীপু  

১৫ অক্টোবর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

দেশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মতিন রহমান এক জীবন্ত কিংবদন্তির নাম। পরিচালকদের মধ্যে সবচেয়ে শান্ত এবং চুপচাপ স্বভাবের তিনি। তবে তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো দর্শকের মাঝে সব সময়ই হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে। ব্যক্তি জীবনে প্রচার বিমুখ এই নির্মাতা এখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। লিখেছেন- এফ আই দীপু

আলমগীর কবিরের ‘ঢাকা ফিল্ম ইন্সটিটিউট’ থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা (প্রথম ১২ জন ছাত্রের একজন) এবং মাঠপর্যায়ে আজিজুর রহমানের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন মতিন রহমান। প্রথম পূর্ণাঙ্গ পরিচালক হিসেবে তিনি নির্মাণ করেন শাবানাকে নিয়ে ‘লাল কাজল’। এটি ১৯৮২ সালে মুক্তি পায়। প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়েই মতিন রহমান চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিজের মেধার পরিচয় দিয়ে আলোচনায় চলে আসেন। এরপর যা কিছু করেছেন সবই যেন ইতিহাস। একে একে নির্মাণ করেছেন ‘চিৎকার’, ‘রাধা কৃষ্ণ’, ‘স্বর্গ নরক’, ‘জীবন ধারা’, ‘রাঙ্গা ভাবী’, ‘বীরাঙ্গনা সখিনা’, ‘অন্ধ বিশ্বাস’, ‘তোমাকে চাই’, ‘এ মন চায় যে’, ‘মন মানে না’, ‘বিয়ের ফুল’, ‘মাটির ফুল’, ‘নারীর মন’, ‘মহব্বত জিন্দাবাদ, ‘রাক্ষুসী’, ‘রং নাম্বার’ ‘তোমাকেই খুঁজছে’। ১৯৯২ সালে ‘অন্ধ বিশ্বাস’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কারসহ আরও ছয়টি শাখায় জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। বরেণ্য এই ব্যক্তিত্বের কাছে জানতে চাওয়া হয়, চলচ্চিত্রের সোনালী দিনগুলো কী আদৌ ফিরিয়ে আনা সম্ভব? মতিন রহমান বলেন, ‘সত্যি বলতে কী গৌরব এমনই একটি বিষয় যা যুগে যুগে পরিবর্তিত হয় নানা ধারায়। বিজ্ঞানের বিরাট বিপ্লবের কারণে এখন আমাদের সেই আশা করাটা ভুল হবে কিংবা বোকামি হবে যে, আগের মতো দর্শক দল বেঁধে সিনেমা হলে যাবে। কারণ এখন বিনোদনের নানা মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে। আমার সন্তান এখন ল্যাপটপের মাঝে বিনোদন খোঁজার চেষ্টা করেন, আমার স্ত্রী এখন টিভিতেই তার ভালোলাগা খুঁজে পায়। তাছাড়া নাগরিক জীবনে আমরা এখন এতটাই ব্যস্ত যে, সেখান থেকে খণ্ড সময় বের করে প্রস্তুতি নিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়াটা কঠিন বিষয়। আগে যুবক-যুবতীরা হলে যেতেন ফ্যাশন বা স্টাইল শেখার জন্য, কিংবা আচার-আচরণ শেখার জন্য। আমাদের দেশে সিনেমা সংস্কৃতিটা কখনওই গড়ে উঠেনি। এর অন্যতম কারণ হল আমাদের ধর্মের বাধা রয়েছে। অথচ পাশের দেশ ভারতে সিনেমা এমন এক সংস্কৃতিতে পৌঁছেছে যেখানে চলচ্চিত্রের তারকাকে মানবরূপী দেবতা হিসেবে গণ্য করেন সেখানকার দর্শকরা। তারকাদের সর্বোচ্চ সম্মানও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমার দেশের তারকাদের আমরা যথাযথভাবে সম্মান দিতে পারি না।’ ১৯৫২ সালের ১৮ মার্চ মতিন রহমানের জন্ম। সাত ভাই ও দুই বোনের মাঝে তিনিই ছিলেন সবার বড়। স্কুলে যাওয়া-আসা হতো নওগাঁর ‘তাজ’ সিনেমা হলের সামনে দিয়ে। এ কারণে তার মনে সিনেমার নেশা ঢুকে যাওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। মামার বাড়িতে বেড়াতে গেলে মামার সঙ্গে সিনেমা দেখতে যেতেন তিনি। এভাবেই ছোটবেলা থেকে সিনেমার পৃথিবীর সঙ্গে মতির রহমানের প্রেমে পড়া। চলচ্চিত্রে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিলেন প্রয়াত চাষী নজররুল ইসলাম ও প্রয়াত মহম্মদ হান্নান। এখন বয়সে ছোট শহীদুল ইসলাম খোকনই তার কাছের বন্ধু। চুপচাপ, শান্ত স্বভাবের মতিন রহমান জীবনে কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলেননি কখনও। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছোট্ট এই জীবন আমাদের, কার সঙ্গে রাগ করব? কী ইবা লাভ তাতে? নিজেকে সংযত করে চলাটাই সবার উচিত। কারণ কে কখন ওপারের ডাকে চলে যান তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ দীর্ঘ ১১ বছর যাবৎ মতিন রহমান ‘স্টাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’-এ ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের ‘কো-অর্ডিনেটর’ হিসেবে চাকরিরত। স্ত্রী নাসিম খানম, দুই মেয়ে নওশীন-নওরীন ও একমাত্র ছেলে মৃত্তিক রহমান নিয়েই এখন তার পৃথিবী।






 

সাবমিট

মতিন রহমান

একাল সেকাল
 এফ আই দীপু 
১৫ অক্টোবর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

দেশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মতিন রহমান এক জীবন্ত কিংবদন্তির নাম। পরিচালকদের মধ্যে সবচেয়ে শান্ত এবং চুপচাপ স্বভাবের তিনি। তবে তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো দর্শকের মাঝে সব সময়ই হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে। ব্যক্তি জীবনে প্রচার বিমুখ এই নির্মাতা এখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। লিখেছেন- এফ আই দীপু

আলমগীর কবিরের ‘ঢাকা ফিল্ম ইন্সটিটিউট’ থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা (প্রথম ১২ জন ছাত্রের একজন) এবং মাঠপর্যায়ে আজিজুর রহমানের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন মতিন রহমান। প্রথম পূর্ণাঙ্গ পরিচালক হিসেবে তিনি নির্মাণ করেন শাবানাকে নিয়ে ‘লাল কাজল’। এটি ১৯৮২ সালে মুক্তি পায়। প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়েই মতিন রহমান চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিজের মেধার পরিচয় দিয়ে আলোচনায় চলে আসেন। এরপর যা কিছু করেছেন সবই যেন ইতিহাস। একে একে নির্মাণ করেছেন ‘চিৎকার’, ‘রাধা কৃষ্ণ’, ‘স্বর্গ নরক’, ‘জীবন ধারা’, ‘রাঙ্গা ভাবী’, ‘বীরাঙ্গনা সখিনা’, ‘অন্ধ বিশ্বাস’, ‘তোমাকে চাই’, ‘এ মন চায় যে’, ‘মন মানে না’, ‘বিয়ের ফুল’, ‘মাটির ফুল’, ‘নারীর মন’, ‘মহব্বত জিন্দাবাদ, ‘রাক্ষুসী’, ‘রং নাম্বার’ ‘তোমাকেই খুঁজছে’। ১৯৯২ সালে ‘অন্ধ বিশ্বাস’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কারসহ আরও ছয়টি শাখায় জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। বরেণ্য এই ব্যক্তিত্বের কাছে জানতে চাওয়া হয়, চলচ্চিত্রের সোনালী দিনগুলো কী আদৌ ফিরিয়ে আনা সম্ভব? মতিন রহমান বলেন, ‘সত্যি বলতে কী গৌরব এমনই একটি বিষয় যা যুগে যুগে পরিবর্তিত হয় নানা ধারায়। বিজ্ঞানের বিরাট বিপ্লবের কারণে এখন আমাদের সেই আশা করাটা ভুল হবে কিংবা বোকামি হবে যে, আগের মতো দর্শক দল বেঁধে সিনেমা হলে যাবে। কারণ এখন বিনোদনের নানা মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে। আমার সন্তান এখন ল্যাপটপের মাঝে বিনোদন খোঁজার চেষ্টা করেন, আমার স্ত্রী এখন টিভিতেই তার ভালোলাগা খুঁজে পায়। তাছাড়া নাগরিক জীবনে আমরা এখন এতটাই ব্যস্ত যে, সেখান থেকে খণ্ড সময় বের করে প্রস্তুতি নিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়াটা কঠিন বিষয়। আগে যুবক-যুবতীরা হলে যেতেন ফ্যাশন বা স্টাইল শেখার জন্য, কিংবা আচার-আচরণ শেখার জন্য। আমাদের দেশে সিনেমা সংস্কৃতিটা কখনওই গড়ে উঠেনি। এর অন্যতম কারণ হল আমাদের ধর্মের বাধা রয়েছে। অথচ পাশের দেশ ভারতে সিনেমা এমন এক সংস্কৃতিতে পৌঁছেছে যেখানে চলচ্চিত্রের তারকাকে মানবরূপী দেবতা হিসেবে গণ্য করেন সেখানকার দর্শকরা। তারকাদের সর্বোচ্চ সম্মানও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমার দেশের তারকাদের আমরা যথাযথভাবে সম্মান দিতে পারি না।’ ১৯৫২ সালের ১৮ মার্চ মতিন রহমানের জন্ম। সাত ভাই ও দুই বোনের মাঝে তিনিই ছিলেন সবার বড়। স্কুলে যাওয়া-আসা হতো নওগাঁর ‘তাজ’ সিনেমা হলের সামনে দিয়ে। এ কারণে তার মনে সিনেমার নেশা ঢুকে যাওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। মামার বাড়িতে বেড়াতে গেলে মামার সঙ্গে সিনেমা দেখতে যেতেন তিনি। এভাবেই ছোটবেলা থেকে সিনেমার পৃথিবীর সঙ্গে মতির রহমানের প্রেমে পড়া। চলচ্চিত্রে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিলেন প্রয়াত চাষী নজররুল ইসলাম ও প্রয়াত মহম্মদ হান্নান। এখন বয়সে ছোট শহীদুল ইসলাম খোকনই তার কাছের বন্ধু। চুপচাপ, শান্ত স্বভাবের মতিন রহমান জীবনে কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলেননি কখনও। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছোট্ট এই জীবন আমাদের, কার সঙ্গে রাগ করব? কী ইবা লাভ তাতে? নিজেকে সংযত করে চলাটাই সবার উচিত। কারণ কে কখন ওপারের ডাকে চলে যান তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ দীর্ঘ ১১ বছর যাবৎ মতিন রহমান ‘স্টাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’-এ ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের ‘কো-অর্ডিনেটর’ হিসেবে চাকরিরত। স্ত্রী নাসিম খানম, দুই মেয়ে নওশীন-নওরীন ও একমাত্র ছেলে মৃত্তিক রহমান নিয়েই এখন তার পৃথিবী।






 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র