¦
মূকাভিনয় নিয়ে একাই লড়ছেন নিথর মাহবুব

মিলান আফ্রিদী | প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০১৫

এই সময়ে মূকাভিনয় শিল্পকে যিনি অন্যরকম এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি মূকাভিনেতা নিথর মাহবুব। যেখানে পাঁচ/সাত বছর আগেও মূকাভিনয় শিল্পী মুখ থুবড়ে পড়েছিল, সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খোঁজার চেষ্টা করে আবারো মূকাভিনয় শিল্পকে আলোচনায় নিয়ে এসেছেন। শুধু আলোচনাতেই নয় অনেকের মাঝে এখন মূকাভিনয় নিয়ে বেশ আগ্রহেরও জন্ম হয়েছে। অনেকেই মূকাভিনয় শিখতে চান। যোগাযোগ করছেন প্রতিনিয়ত নিথর মাহবুবের সঙ্গে। নিথরও তাদের বেশ আগ্রহ নিয়ে শেখাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। শুধু এই শিল্পের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং অনেক আগ্রহ থাকায় কোনোরকম আর্থিক লাভ ছাড়াই নিথর মাহবুব মূকাভিনয়ে নিজেকে নিয়ে এসেছেন এতদূর। আজ অনেকের কাছেই নিথর মাহবুব পথ প্রদর্শক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন। নিথর মাহবুব বলেন, ‘মূকাভিনয় বা মাইম শেখার তেমন কোনো সুযাগ আগে ছিল না। অনেকটা নিজের চেষ্টা এবং চর্চায় আমি এতদূর আসতে পেরেছি। তার পরও অনেকের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা পেয়েছি। প্রথমেই বলতে হয় জাহিদ রিপন ভাইয়ের কথা। তার কাছেই প্রথম মাইমের ধারণা পাই। অনুপ্রেরণা পেয়েছি মাইমশিল্পী শিল্পী জিল্লুর রহমান জনের কাছে। দেশের আরেক মাইম শিল্পী মশহুরুল হুদার সান্নিধ্য পেয়েছি। বিশ্বখ্যাত মাইম শিল্পী পার্থ প্রতিম মজুমদারের অনেক স্নেহ করেন। তিনি আমার গুরু। এভাবেই সবার কাছে থেকে মাইমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছি।’ নিথর মাহবুবকে শিল্প-সংস্কৃতি ছোটকাল থেকেই আকৃষ্ট করত। ছোটবেলায় বড়রা অনুরোধ করলে নেচে নেচে ছড়া বলতেন- ‘ছোট্ট কোলা ব্যাঙ, নাচে ঘ্যাং ঘ্যাং, তার নাকি বিয়ে, টুপি মাথায় দিয়ে’। ছবি আঁকার প্রতিও ছিল তার প্রবল ঝোঁক। কলেজ জীবনে এসে ছবি আঁকা বাদ দিয়ে ঝুঁকি সঙ্গীত চর্চায়। নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চার বছর রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখেন। পাশাপাশি ওস্তাদ প্রমোদ বাবুর কাছেও সঙ্গীতে তালিম নেন। নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সঙ্গীত শিখতে গিয়ে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় একাডেমির নাটক বিভাগের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে। স্কুলজীবনে নিজের জেলা নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার থানার কলাগাছিয়া গ্রামে অন্বেষা সাংস্কৃতি সংগঠনের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও সাংগঠনিকভাবে নাট্যচর্চার শুরু এই সংগঠনের মাধ্যমে। মাইমের সঙ্গে পথ চলাও শুরু হয় নাট্যশীলন থেকে। তখন নানীর বাড়িতে থেকে নরসিংদী সরকারি কলেজে পড়তেন তিনি। নরসিংদী কলেজ থেকে বিএসসি (পাস) সম্পন্ন করে ২০০০ সালে ফিরে আসেন নিজের গ্রামে। এই সময় ঢাকায় আবৃত্তি সংগঠনে স্বরশীলনের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। গ্রামের বাড়িতে আসা-যাওয়া করেই স্বরশীলনের সঙ্গে কাজ করতেন। ২০০২ সালে স্থায়ীভাবে ঢাকায় চলে আসেন। শুরু হল জীবনযুদ্ধ। ২০০৩ সালে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গেই যুক্ত হন ‘স্বপ্নদল’-এ। চলতে থাকল একসঙ্গে মূকাভিনয় আর নাট্যচর্চা। নাটুকে থিয়েটারের প্রধান আল নোমানের মাধ্যমেই ২০০৮ সালে পরিচয় ঘটে বাংলাদেশের কিংবদন্তি মূকাভিনয় শিল্পী পার্থ প্রতিম মজুমদারের সঙ্গে। লায়ন্স ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠানে মাইম পরিবেশন করতে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি সে অনুষ্ঠানে পার্থর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিলেন। এই কাজের সুবাদে পার্থ প্রতিম মজুমদারের সঙ্গে একটা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০১০ ও ২০১১ সালে কাজী মশহুরুল হুদাকে সঙ্গে নিয়েও ঢাকা ও ঢাকার বাইরের নাটকের দলগুলোর সহায়তায় কয়েকটি মূকাভিনয় কর্মশালার আয়োজন করেন নিথর। অন্যদিকে মূকাভিনয়ের এই জাগরণকে ধরে রাখতে ২০০৮ সালে ঢাকায় গড়ে তুলেন মাইম আর্ট নামে একটি মূকাভিনয়ের দল। শুরু থেকে মাইম আর্টের ব্যানারে মূকাভিনয়ের প্রচার-প্রসারে নানা ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মাইম আর্টের প্রযোজনায় নিদের্শনা দেই জীবনমুখী পূর্ণাঙ্গ একক মূকাভিনয় ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’। রচনার পাশাপাশি এটিতে একক অভিনয়ও করেন নিয়মিত নিথর।। এই প্রযোজনা মঞ্চে আসার পর ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে মাইম আর্ট মঞ্চে আনে জনপ্রিয় কমেডি মূকাভিনয় ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’। এটি রচনা করে নির্দেশনা দিয়েও ব্যাপক সাড়া পান নিথর। সম্প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে মাইম আর্টের প্রযোজনা ‘ইউ-টার্র্ন’ রচনা করে নির্দেশনা দেন নিথর মাহবুব। এই প্রযোজনাগুলোর মাধ্যমে নাট্যকার ও নির্দেশক হিসেবেও একটা পরিচিতি গড়ে উঠছে।
 

তারাঝিলমিল পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close