¦

এইমাত্র পাওয়া

  • সংসদে পৌরসভা (সংশোধন)বিল-২০১৫ পাস
আশা জাগানিয়া লোকসঙ্গীত উৎসব

হক ফারুক আহমেদ | প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৫

লোকসঙ্গীত যে কোনো দেশের সংস্কৃতির অন্যতম স্তম্ভ। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের দেশকে জানা যায়, চেনা যায় তার লোকসঙ্গীত দিয়ে। বিশ্বের সব দেশেরই রয়েছে লোকসঙ্গীত। শেকড়ের এই সঙ্গীত ধারার মাধ্যমে সে দেশের মানুষের জীবনধারা, আচার, ইতিহাস, চেতনা সবকিছুর পরিচয় পাওয়া যায়। খুঁজে পাওয়া যায় আধ্যাত্ববাদ, সুফিবাদ, মানবতাবাদের মতো পরম বিষয়গুলোও। প্রাণের স্পন্দন সেই লোকসঙ্গীত নিয়ে প্রথমবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হল আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবের আসর। মেরিল নিবেদিত এবং মাছারাঙা টিলিভিশন ও সান ইভেন্টসের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্ট ২০১৫’ নতুন আশার সঞ্চার করেছে আমাদের লোকসঙ্গীত অঙ্গনে। ১২, ১৩ ও ১৪ নভেম্বর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ উৎসবে বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, চীন ও আয়ারল্যান্ডের খ্যাতিমান সব লোকসঙ্গীত শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তিনদিনে সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু করে মধ্যরাত অবধি লক্ষাধিক মানুষ ভেসেছে লোকসঙ্গীতের সুরে। ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, জারি, সারি, বাউল গান, লালন সাঁই, হাছন রাজা, আব্বাস উদ্দিন, আবদুল আলিম, শাহ আবদুল করিমের গানসহ দর্শকরা শোনার সুযোগ পেয়েছেন আরও ৪টি দেশের লোকসঙ্গীত। এই উৎসবের মধ্য দিয়েই আমাদের লোকসঙ্গীতের অবারিত রত্নভাণ্ডার সম্পর্কে বিশদভাবে জেনেছে সারা বিশ্ব।
প্রথম দিন উৎসবের শুরুটা হয়েছে মিনু হক ও পল্লবী ড্যান্স গ্রুপের অসাধারণ নৃত্য পরিবেশনা দিয়ে। ‘নাও ছাড়িয়া দে পাল উড়াইয়া দে’, ‘ঢেউ খেলানি দিয়া নাচে গোলাপি’, ‘তোর মাদলেরই তালে আমার মন ঝুমুর নাচে উঠল মেতে’- এমনি সব নাচের সঙ্গে নেচে-গেয়ে মাতিয়ে তোলেন পুরো উৎসবস্থল। নাচের শেষে গান পরিবেশন করতে আসেন লালন সম্রাজ্ঞীখ্যাত শিল্পী ফরিদা পারভীন। পরিবেশনার শুরুতেই তিনি ‘পাড়ে লয়ে যাও আমায়’ গানটি গেয়ে শোনান। গান শেষে চারদিকে শুধুই করতালির আওয়াজ। এরপর তিনি একে একে পরিবেশন করেন ‘মিলন হবে কত দিনে’ ও ‘সময় গেলে সাধন হবে না’। সুরের কাছে সমর্পিত গানপ্রেমীদের আগমনে উৎসব প্রাঙ্গণটি এক সময় যেন হয়ে ওঠে মহাসঙ্গীতযজ্ঞ। আর এই সুরের সাগরে উপস্থিত হয়েছিলেন একেবারে তরুণ থেকে মধ্যবয়সী পেরিয়ে বয়স্ক সঙ্গীতানুরাগীও। লালনের ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ গানটি গেয়ে পরিবেশনা শুরু করেন চন্দনা। এরপর পরিবেশন করেন বাউলসাধক শাহ আবদুল করিমের গান ‘সোনা বন্ধুরে ভুইল না আমারে’ ও রাধারমনের ‘জলে যাইও নাগো রাই’। কিরণ চন্দ্রে রায়ের পরিবেশনা শুরু হয় ‘আয় দেখে যা জগৎবাসী বাংলাদেশ ঘুরে’স গানটি দিয়ে। তিনিও শ্রোতাদের মাতিয়ে একে একে গেয়ে পরিবেশন করেন ‘আমার মন তো বসে না গৃহকাজে/অন্তরে বৈরাগীর লাউয়া বাজে’ ও ‘আমার ভিতরে-বাহিরে অন্তরে অন্তরে আছ তুমি হৃদয়জুড়ে’। তাদের মাটির গানে যেন ফিরে আসে নবপ্রাণের জোয়ার। এরপর মঞ্চে আসেন ভারতের লোকগানের দল অর্ক মুখার্জী কালেক্টিভ। ফিউশন আঙ্গিকে লোকসঙ্গীত পরিবেশন করে দলটি। এরপর লাবিক কামালের সঙ্গে মঞ্চে আসেন রব ফকি ও শফি মণ্ডল। তিন শিল্পীর পরিবেশনাটিও ছিল দারুণ উপভোগ্য। প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন পাকিস্তানের শিল্পী সাঁই জহুর। তার অসাধারণ পরিবেশনা শেষে মধ্যরাতে শ্রোতাদের মন ভরিয়ে দেন ভারতের পাপন ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যান্ড দলটি।
দ্বিতীয় দিনের অন্যতম পরিবেশনা ছিল ভারতের শিল্পী পবন দাস বাউলের। তিনি ‘চঞ্চল মন আমার শোনে না কথা’, ‘বসুন্ধরার বুকে’, ‘তোমার দিল কি দয়া হয় না’ গানগুলো পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাড়া ফেলেন। সেদিন মঞ্চে গান পরিবেশন করেন ফোকসম্রাজ্ঞী খ্যাত শিল্পী মমতাজ। অর্ণবকে সঙ্গে নিয়ে মমতাজ কোনো স্টেজে প্রথমবারের মতো গেয়ে শোনান রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘ভেঙ্গে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে’। দ্বিতীয় দিনের সর্বশেষ পরিবেশনা ছিল চীনের ইউনান আর্ট ট্রুপের। সেদিন সন্ধ্যা থেকে মঞ্চে গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন বাউল ভজন ক্ষ্যাপা, স্বপ্নীল সজীব, রুবা, নাশিদ কামাল, আজগর আলীম, জহির আলীম, নূরজাহান আলীম, বারী সিদ্দিকী ও অর্ণব অ্যান্ড ফ্রেন্ডস।
তৃতীয় দিন এবং এই পুরো আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন পাকিস্তানের খ্যাতিমান শিল্পী আবিদা পারভীন।
সিন্ধি প্রদেশের খ্যাতিমান এই শিল্পী ‘আলী মওলা মওলা’, ‘ইয়ার তো হামনে যাব যা দেখা’, ‘তেরে ইশক নাচায়া’, ‘আলী আলী দম আলী আলী’ ও পাঞ্জাবি লোকগান ‘দমাদম মাস্তকালান্দার’ পরিবেশন করেন।
সমাপনী দিনের মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করেন আয়ারল্যান্ডের নিয়াভ নি কারা, ভারতের পার্বতী বাউল, ইন্ডিয়ান ওশেন ও ভারতের হামিরা থেকে মাঙ্গানিয়ারস।
 

তারাঝিলমিল পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close