jugantor
চিত্রলেখা গুহ একাল সেকাল

  শাহনাজ হেনা  

১৯ নভেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

চট্টগ্রামের রাউজানের মেয়ে চিত্রলেখা গুহ। ছোটবেলায় গানের প্রতি ছিল তার অন্যরকম ভালোবাসা। বড় হয়ে যুক্ত হন অভিনয়ের সঙ্গে। ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি চট্টগ্রামের ‘অঙ্গন থিয়েটার ইউনিটের হয়ে মঞ্চে অভিনয় করেন। তার অভিনীত প্রথম মঞ্চ নাটক ছিল মিলন চৌধুরীর রচনা ও পরিচালনায় ‘আভ্যন্তরীণ’। এরপর একই দলের হয়ে ‘বাজলো রাজার বারোটা’ নাটকে তিনি অভিনয় করেন। তারপর চলে এলেন রাজধানীতে। সেখানে এসে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ‘থিয়েটার আরামবাগ’র হয়ে মঞ্চে অভিনয় করেন। ’৯৭-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি ‘নাট্যজন’র হয়ে মঞ্চে অভিনয় করছেন। টিভি নাটকে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে ‘কুঞ্জ নিকুঞ্জ’ সাপ্তাহিক নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি জিয়া আনসারীর প্রযোজনায় ধারাবাহিক নাটক ‘তথাপি’ নাটকে অভিনয় করেন। তবে সেই সময়ে যে নাটকে অভিনয় করে তিনি দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন সেটি হচ্ছে ইমদাদুল হক মিলনের রচনায় ও আলাউদ্দিন আহমেদের প্রযোজনায় ধারাবাহিক নাটক ‘সারাবেলা’। এতে তিনি মমতা চরিত্রে অভিনয় করে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। সে সময় পথে-ঘাটে বের হলেই দর্শক তাকে ‘মমতা’ বলে ডাকতেন। মনে মনে বেশ পুলকিত হতেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন চিত্রনায়ক বুলবুল আহমেদ। প্যাকেজের প্রথম নাটক আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত ‘প্রাচীর পেরিয়ে’তেও তিনি অভিনয় করেন। ১৯৮৬ সালের ২৮ এপ্রিল শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহের সঙ্গে চিত্রলেখার বিয়ে হয়। উত্তম গুহের রচনা ও পরিচালনায় চিত্রলেখা প্রথম কোনো স্যাটেলাইট চ্যানেলের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। নাম ‘দীপান্বিতা’। প্রায় কাছাকাছি সময়ে তিনি আফসানা মিমির নির্দেশনায় ‘বন্ধন’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেও বেশ প্রশংসিত হন। চিত্রলেখা গুহ এখন পর্যন্ত বহু একক নাটক ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন। ১৭ নভেম্বর জন্ম নেয়া এ অভিনেত্রী শুধু অভিনয়েই নয়, পোশাক পরিকল্পনাকারী হিসেবেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। বাঙালি নারীর তিনশ’ বছরের বিবর্তন নিয়ে প্রয়াত শেখ নিয়ামত আলী নির্মাণ করেছিলেন ‘আমি নারী’ চলচ্চিত্রটি। এর পোশাক পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এরপর তিনি ‘চিত্রা নদীর পাড়ে’, ‘লালন’, ‘রাবেয়া’ ‘জীবনঢুলী’ চলচ্চিত্রের পোশাক পরিকল্পনা করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও চিত্রলেখা দর্শকের কাছে হয়েছেন নন্দিত। বরেণ্য এই অভিনেত্রী প্রথম ১৯৯২ সালের মাসুদ বিবাগীর নির্দেশনায় স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পথ’-এ অভিনয় করেন। ১৯৯৪ সালের তিনি শেখ নিয়ামত আলীর ‘অন্যজীবন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এরপর তিনি শাহ আলম কিরনের ‘মনের মিলন’, নাসির খানের ‘স্বপ্নের নায়ক’, তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালন’, ‘লাল সালু’, ‘রাবেয়া’, ‘জীবনঢুলী’, শাহ আলম কিরনের ‘৭১-র মা জননী’, তন্ময় তানসেনের ‘পদ্ম পাতার জল’ ও রিকিয়া মাসুদের ‘দ্য স্টোরি অব সামারা’য় অভিনয় করেন। নিজের অভিনয় জীবন ও ব্যক্তি জীবন নিয়ে চিত্রলেখা গুহ বলেন, ‘আমি আমার ব্যক্তি জীবন, সংসার জীবন এবং অভিনয় জীবন নিয়ে দারুণভাবে তৃপ্ত। আমি খুব সুখী একজন মানুষ। ছোট্ট এই জীবনে মানুষের এত ভালোবাসা পাব আমি, ভাবিনি কখনও।’


 

সাবমিট

চিত্রলেখা গুহ একাল সেকাল

 শাহনাজ হেনা 
১৯ নভেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

চট্টগ্রামের রাউজানের মেয়ে চিত্রলেখা গুহ। ছোটবেলায় গানের প্রতি ছিল তার অন্যরকম ভালোবাসা। বড় হয়ে যুক্ত হন অভিনয়ের সঙ্গে। ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি চট্টগ্রামের ‘অঙ্গন থিয়েটার ইউনিটের হয়ে মঞ্চে অভিনয় করেন। তার অভিনীত প্রথম মঞ্চ নাটক ছিল মিলন চৌধুরীর রচনা ও পরিচালনায় ‘আভ্যন্তরীণ’। এরপর একই দলের হয়ে ‘বাজলো রাজার বারোটা’ নাটকে তিনি অভিনয় করেন। তারপর চলে এলেন রাজধানীতে। সেখানে এসে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ‘থিয়েটার আরামবাগ’র হয়ে মঞ্চে অভিনয় করেন। ’৯৭-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি ‘নাট্যজন’র হয়ে মঞ্চে অভিনয় করছেন। টিভি নাটকে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে ‘কুঞ্জ নিকুঞ্জ’ সাপ্তাহিক নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি জিয়া আনসারীর প্রযোজনায় ধারাবাহিক নাটক ‘তথাপি’ নাটকে অভিনয় করেন। তবে সেই সময়ে যে নাটকে অভিনয় করে তিনি দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন সেটি হচ্ছে ইমদাদুল হক মিলনের রচনায় ও আলাউদ্দিন আহমেদের প্রযোজনায় ধারাবাহিক নাটক ‘সারাবেলা’। এতে তিনি মমতা চরিত্রে অভিনয় করে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। সে সময় পথে-ঘাটে বের হলেই দর্শক তাকে ‘মমতা’ বলে ডাকতেন। মনে মনে বেশ পুলকিত হতেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন চিত্রনায়ক বুলবুল আহমেদ। প্যাকেজের প্রথম নাটক আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত ‘প্রাচীর পেরিয়ে’তেও তিনি অভিনয় করেন। ১৯৮৬ সালের ২৮ এপ্রিল শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহের সঙ্গে চিত্রলেখার বিয়ে হয়। উত্তম গুহের রচনা ও পরিচালনায় চিত্রলেখা প্রথম কোনো স্যাটেলাইট চ্যানেলের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। নাম ‘দীপান্বিতা’। প্রায় কাছাকাছি সময়ে তিনি আফসানা মিমির নির্দেশনায় ‘বন্ধন’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেও বেশ প্রশংসিত হন। চিত্রলেখা গুহ এখন পর্যন্ত বহু একক নাটক ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন। ১৭ নভেম্বর জন্ম নেয়া এ অভিনেত্রী শুধু অভিনয়েই নয়, পোশাক পরিকল্পনাকারী হিসেবেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। বাঙালি নারীর তিনশ’ বছরের বিবর্তন নিয়ে প্রয়াত শেখ নিয়ামত আলী নির্মাণ করেছিলেন ‘আমি নারী’ চলচ্চিত্রটি। এর পোশাক পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এরপর তিনি ‘চিত্রা নদীর পাড়ে’, ‘লালন’, ‘রাবেয়া’ ‘জীবনঢুলী’ চলচ্চিত্রের পোশাক পরিকল্পনা করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও চিত্রলেখা দর্শকের কাছে হয়েছেন নন্দিত। বরেণ্য এই অভিনেত্রী প্রথম ১৯৯২ সালের মাসুদ বিবাগীর নির্দেশনায় স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পথ’-এ অভিনয় করেন। ১৯৯৪ সালের তিনি শেখ নিয়ামত আলীর ‘অন্যজীবন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এরপর তিনি শাহ আলম কিরনের ‘মনের মিলন’, নাসির খানের ‘স্বপ্নের নায়ক’, তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালন’, ‘লাল সালু’, ‘রাবেয়া’, ‘জীবনঢুলী’, শাহ আলম কিরনের ‘৭১-র মা জননী’, তন্ময় তানসেনের ‘পদ্ম পাতার জল’ ও রিকিয়া মাসুদের ‘দ্য স্টোরি অব সামারা’য় অভিনয় করেন। নিজের অভিনয় জীবন ও ব্যক্তি জীবন নিয়ে চিত্রলেখা গুহ বলেন, ‘আমি আমার ব্যক্তি জীবন, সংসার জীবন এবং অভিনয় জীবন নিয়ে দারুণভাবে তৃপ্ত। আমি খুব সুখী একজন মানুষ। ছোট্ট এই জীবনে মানুষের এত ভালোবাসা পাব আমি, ভাবিনি কখনও।’


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র