jugantor
বলিউডে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ

  তারা ঝিলমিল ডেস্ক  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

মুক্তবাজার অর্থনীতির এই যুগে মুক্ত আকাশ সংস্কৃতি আর বাজার দখলের লড়াইতে ভারতীয় পণ্য ও সংস্কৃতির আগ্রাসনের শিকার এ বদ্বীপ ভূমির সৃষ্টির লগ্নটা অনেকাংশেই ভারতের প্রতি ধন্যবাদে অবনত। বিশেষ করে যুদ্ধের শেষ লগ্নে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ অনেকটাই সহজতর করে দেয় বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের বিষয়টিকে। আর এত বড় ঐতিহাসিক একটি বিষয় চলচ্চিত্রের বিষয় হয়ে উঠবে না সেটা ভাবাটাও অনুচিত। ঠিক বাংলাদেশের যুদ্ধ বিবেচনায় না হলেও ষাটের দশক থেকে একাত্তর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমিক যে কয়েকটি যুদ্ধ হয় পাক-ভারত সীমান্তে তাদের অনেকই বিষয় করে বেশ কয়েকটা ছবি হয়েছে বলিউডি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে। আর সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধও স্থান পেয়েছে বেশ কয়েকটি ছবির মূল বিষয়বস্তু হিসেবে। চলুন তাহলে দেখে নিই বলিউডি সিনেমায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উঠে আসা নানা গল্প।

ঠিক বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ না হলেও তৎকালীন ইন্দো-পাক ভারত যুদ্ধনির্ভর প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু ব্লকবাস্টার ছবির সন্ধান মেলে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে। জেপি দত্তের বর্ডারের মতো বিশাল বাজেটের ছবি যেখানে মূল ঘটনাই ছিল যুদ্ধক্ষেত্র আর সেখানে পরিবার-পরিজন ফেলে ছুটে যাওয়া ভারতীয় জওয়ানদের জীবন বিসর্জন করার গল্প। অন্যদিকে যশরাজের ভীর-যারা’র মতো ছবিগুলোতে উঠে এসেছে যুদ্ধের নেপথ্যে ক্রমপরিণতির দিকে ধাবিত হওয়া একটি প্রেমের গল্প।

১৯৭১ শিরোনামের ছবিটির গল্প স্থাপনের শুরুই হয়েছে বাংলাদেশের যুদ্ধের কিছু দুর্লভ ফুটেজ আর বঙ্গবন্ধুর চিত্রায়নের মাধ্যমে। সেখানে পরবর্তীতে গল্পটা পাক-ভারত সীমান্ত আর ভারতে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের নানা ফন্দি-ফিকিরের দিকে ঝুঁকে গেলেও প্রাথমিকভাবে সেটার শুরুটা হয় ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটেই।

তবে এ বিষয়নির্ভর মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত পরিচালিত চিলড্রেন অব ওয়্যার ছবিটিকেই সবচেয়ে বেশি মুক্তিযুদ্ধঘেঁষা বলা চলে। প্রথমদিকে ‘দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড’ নামে পরিচয় হলেও শেষতক বিতর্কের রেশ টানতে নামই পরিবর্তন করতে হয় পরিচালককে। ১৯৭১-এর যুদ্ধে পাকিস্তানিদের ধর্ষকাম নীতি আর এর নেপথ্যের কুচক্রী ভাবনাকে অসাধারণ নৈপুণ্যের সঙ্গে উঠিয়ে এনেছেন পরিচালক। যার সঙ্গে যুক্ত করেছেন সাম্প্রতিক সময়ের শাহবাগ আন্দোলনের যোগসূত্রতাও। ছবিটি ট্রেলারের মাধ্যমে আলোচনা তৈরি করলেও শেষ অব্দি ঠিক একটা বাণিজ্যিক রূপায়ণে খুব একটা বর্তে উঠতে পারেনি।

তবে এদিক থেকে হতাশা নিমজ্জিত ছবি বলা চলে ‘গুণ্ডে’কে। বাঙালির কাছে মাফ পর্যন্ত চাইতে হয়েছে খোদ আদিত্য চোপড়া আর তার ফিল্ম নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে। ১৯৭১-এর যুদ্ধে শরণার্থী শিবির থেকে পরিবারহারা দুই শিশুর পালিয়ে কলকাতায় গিয়ে আসর জমানোর জমজমাট গল্প নিয়ে ছবিটির উপজীব্য বিষয় নেহাৎ মন্দ ছিল না। কিন্তু ছবির শুরুর প্রেক্ষাপট নির্মাণকারী নেপথ্য ভাষ্যের ছোট্ট দুটি কথাই পাল্টে দেয় প্রেক্ষাপট। সেখানে বলা হয়, ‘১৯৭১-এর পাক-ভারত ৯ মাসের ভয়ংকর যুদ্ধ। যার পরিণতিতে জন্ম নেয় ছোট্ট এক রাষ্ট্র বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসে ভারত সরকার ও সেনাবাহিনীর অবদান ধন্যবাদের যোগ্য বটে। কিন্তু তাই বলে খোদ বাংলাদেশকে পাক-ভারত যুদ্ধের ফসল হিসেবে মাথা পেতে নেয়াটা সহজভাবে নিতে পারেনি বাংলাদেশের তরুণ সমাজ। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ইন্টারন্যাশনাল মুভি ডেটাবেজের ওয়েবসাইটে ওঠে নিন্দার ঝড়। আলোড়ন তুলতে সক্ষম একটি ছবি রাতারাতি পরিণত হয় বিতর্ক আর তিরস্কারের লক্ষ্যবস্তুতে। শেষ অব্দি মান বাঁচাতে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় ছবির নির্মাতা। এমনকি মূল ছবিটি তাৎক্ষণিকভাবে বাজার থেকে তুলে নিয়ে সেই নেপথ্য ভাষ্যে পরিবর্তনও আনা হয়। এ ভুলটুকু না করলে হয়তো পুরো উপমহাদেশে অসাধারণ ব্যবসা করে নিতে পারত ছবিটি।

১৯৭১-এর বিশালতায় একে নিয়ে আরও ছবি বাঁধতে পারে বলিউড। এমনও শোনা যায় খোদ মুজিবকে নিয়েই নাকি ছবি বানাতে আগ্রহী বলিউডের অনেক নির্মাতা। তবে সেসব তথ্যের অগ্রগতি খুব একটা বাস্তবতার সাড়া পাচ্ছে না আজও। দেখা যাক ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এ সোনালি ইতিহাস, বলিউডি রুপালি পর্দায় আরও কত সাফল্যের স্মৃতি আঁকে।


 

সাবমিট

বলিউডে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ

 তারা ঝিলমিল ডেস্ক 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

মুক্তবাজার অর্থনীতির এই যুগে মুক্ত আকাশ সংস্কৃতি আর বাজার দখলের লড়াইতে ভারতীয় পণ্য ও সংস্কৃতির আগ্রাসনের শিকার এ বদ্বীপ ভূমির সৃষ্টির লগ্নটা অনেকাংশেই ভারতের প্রতি ধন্যবাদে অবনত। বিশেষ করে যুদ্ধের শেষ লগ্নে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ অনেকটাই সহজতর করে দেয় বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের বিষয়টিকে। আর এত বড় ঐতিহাসিক একটি বিষয় চলচ্চিত্রের বিষয় হয়ে উঠবে না সেটা ভাবাটাও অনুচিত। ঠিক বাংলাদেশের যুদ্ধ বিবেচনায় না হলেও ষাটের দশক থেকে একাত্তর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমিক যে কয়েকটি যুদ্ধ হয় পাক-ভারত সীমান্তে তাদের অনেকই বিষয় করে বেশ কয়েকটা ছবি হয়েছে বলিউডি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে। আর সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধও স্থান পেয়েছে বেশ কয়েকটি ছবির মূল বিষয়বস্তু হিসেবে। চলুন তাহলে দেখে নিই বলিউডি সিনেমায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উঠে আসা নানা গল্প।

ঠিক বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ না হলেও তৎকালীন ইন্দো-পাক ভারত যুদ্ধনির্ভর প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু ব্লকবাস্টার ছবির সন্ধান মেলে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে। জেপি দত্তের বর্ডারের মতো বিশাল বাজেটের ছবি যেখানে মূল ঘটনাই ছিল যুদ্ধক্ষেত্র আর সেখানে পরিবার-পরিজন ফেলে ছুটে যাওয়া ভারতীয় জওয়ানদের জীবন বিসর্জন করার গল্প। অন্যদিকে যশরাজের ভীর-যারা’র মতো ছবিগুলোতে উঠে এসেছে যুদ্ধের নেপথ্যে ক্রমপরিণতির দিকে ধাবিত হওয়া একটি প্রেমের গল্প।

১৯৭১ শিরোনামের ছবিটির গল্প স্থাপনের শুরুই হয়েছে বাংলাদেশের যুদ্ধের কিছু দুর্লভ ফুটেজ আর বঙ্গবন্ধুর চিত্রায়নের মাধ্যমে। সেখানে পরবর্তীতে গল্পটা পাক-ভারত সীমান্ত আর ভারতে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের নানা ফন্দি-ফিকিরের দিকে ঝুঁকে গেলেও প্রাথমিকভাবে সেটার শুরুটা হয় ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটেই।

তবে এ বিষয়নির্ভর মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত পরিচালিত চিলড্রেন অব ওয়্যার ছবিটিকেই সবচেয়ে বেশি মুক্তিযুদ্ধঘেঁষা বলা চলে। প্রথমদিকে ‘দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড’ নামে পরিচয় হলেও শেষতক বিতর্কের রেশ টানতে নামই পরিবর্তন করতে হয় পরিচালককে। ১৯৭১-এর যুদ্ধে পাকিস্তানিদের ধর্ষকাম নীতি আর এর নেপথ্যের কুচক্রী ভাবনাকে অসাধারণ নৈপুণ্যের সঙ্গে উঠিয়ে এনেছেন পরিচালক। যার সঙ্গে যুক্ত করেছেন সাম্প্রতিক সময়ের শাহবাগ আন্দোলনের যোগসূত্রতাও। ছবিটি ট্রেলারের মাধ্যমে আলোচনা তৈরি করলেও শেষ অব্দি ঠিক একটা বাণিজ্যিক রূপায়ণে খুব একটা বর্তে উঠতে পারেনি।

তবে এদিক থেকে হতাশা নিমজ্জিত ছবি বলা চলে ‘গুণ্ডে’কে। বাঙালির কাছে মাফ পর্যন্ত চাইতে হয়েছে খোদ আদিত্য চোপড়া আর তার ফিল্ম নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে। ১৯৭১-এর যুদ্ধে শরণার্থী শিবির থেকে পরিবারহারা দুই শিশুর পালিয়ে কলকাতায় গিয়ে আসর জমানোর জমজমাট গল্প নিয়ে ছবিটির উপজীব্য বিষয় নেহাৎ মন্দ ছিল না। কিন্তু ছবির শুরুর প্রেক্ষাপট নির্মাণকারী নেপথ্য ভাষ্যের ছোট্ট দুটি কথাই পাল্টে দেয় প্রেক্ষাপট। সেখানে বলা হয়, ‘১৯৭১-এর পাক-ভারত ৯ মাসের ভয়ংকর যুদ্ধ। যার পরিণতিতে জন্ম নেয় ছোট্ট এক রাষ্ট্র বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসে ভারত সরকার ও সেনাবাহিনীর অবদান ধন্যবাদের যোগ্য বটে। কিন্তু তাই বলে খোদ বাংলাদেশকে পাক-ভারত যুদ্ধের ফসল হিসেবে মাথা পেতে নেয়াটা সহজভাবে নিতে পারেনি বাংলাদেশের তরুণ সমাজ। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ইন্টারন্যাশনাল মুভি ডেটাবেজের ওয়েবসাইটে ওঠে নিন্দার ঝড়। আলোড়ন তুলতে সক্ষম একটি ছবি রাতারাতি পরিণত হয় বিতর্ক আর তিরস্কারের লক্ষ্যবস্তুতে। শেষ অব্দি মান বাঁচাতে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় ছবির নির্মাতা। এমনকি মূল ছবিটি তাৎক্ষণিকভাবে বাজার থেকে তুলে নিয়ে সেই নেপথ্য ভাষ্যে পরিবর্তনও আনা হয়। এ ভুলটুকু না করলে হয়তো পুরো উপমহাদেশে অসাধারণ ব্যবসা করে নিতে পারত ছবিটি।

১৯৭১-এর বিশালতায় একে নিয়ে আরও ছবি বাঁধতে পারে বলিউড। এমনও শোনা যায় খোদ মুজিবকে নিয়েই নাকি ছবি বানাতে আগ্রহী বলিউডের অনেক নির্মাতা। তবে সেসব তথ্যের অগ্রগতি খুব একটা বাস্তবতার সাড়া পাচ্ছে না আজও। দেখা যাক ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এ সোনালি ইতিহাস, বলিউডি রুপালি পর্দায় আরও কত সাফল্যের স্মৃতি আঁকে।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র