jugantor
ইলিয়াস কাঞ্চনের একাল সেকাল

  তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক অনবদ্য নায়কের নাম ইলিয়াস কাঞ্চন। কিশোরগঞ্জের এই নায়ক কোনোদিনই ভাবেননি যে তিনি চলচ্চিত্রে কাজ করবেন। কারণ তার বাবা ছিলেন ভীষণ ধার্মিক। কিন্তু তারপরও ভাগ্যের লিখন না যায় খণ্ডন বলে যে কথা প্রচলিত আছে যেন তাই হয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চনের জীবনে। পরিবারের সব বাধা উপেক্ষা করে তাকে নায়কই হতে হল। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিষেক ঘটে ১৯৭৭ সালের ২৬ মার্চ সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বসুন্ধরা’ ছবিতে ববিতার বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর একই পরিচালকের ‘ডুমুরের ফুল’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। শাবানার বিপরীতে একটি ছবিতেই তিনি অভিনয় করেছেন। আজিজুর রহমান বুলি পরিচালিত সে ছবির নাম ‘শেষ উত্তর’। তবে ইলিয়াস কাঞ্চন জুটি হয়ে সবচেয়ে বেশি অভিনয় করেছেন চম্পা, দিতি ও অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে। বিশেষত অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে তোজাম্মেল হক বকুলের ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ তো দেশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী চলচ্চিত্র। দিতির সঙ্গে জুটি বেঁধে ইলিয়াস কাঞ্চন প্রথম অভিনয় করেন প্রয়াত পরিচালক মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘স্বর্গ নরক’ ছবিতে। চম্পার সঙ্গে প্রথম অভিনয় করেন শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘তিন কন্যা’ চলচ্চিত্রে। এ পর্যন্ত ৩৩০টিরও অধিক চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। আলমগীর কবির পরিচালিত ‘পরিণীতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৯৮৬ সালে পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘শাস্তি’ চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাকে একই পুরস্কার দিলেও তিনি তা প্রত্যাখান করেন। ইলিয়াস কাঞ্চন যৌথভাবে প্রথম প্রযোজনা করেন ‘সর্পরানী’ চলচ্চিত্রটি। তবে তার প্রথম একক প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘বাদশা ভাই’। তিনি দুটি ছবি নির্দেশনা দিয়েছেন। ছবি দুটি হচ্ছে ‘বাবা আমার বাবা’ (মুক্তি ২০০৮ সাল) ও ‘মায়ের স্বপ্ন’ (মুক্তি ২০১০ সাল)। নতুন আরেকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন তিনি। তবে এখনও নাম ঠিক হয়নি চলচ্চিত্রটির। এটি প্রযোজনা করতে যাচ্ছে ‘ওশান গ্র“প’। নতুন বছরের জানুয়ারিতেই এর শুটিং শুরু হবে। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে তিনি নিজেই অভিনয় করবেন। এদিকে সড়কপথে সাধারণ মানুষের নিশ্চিত জীবনের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন করে যাচ্ছেন দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শক সমাদৃত এ নায়ক। নিসচা (নিরাপদ সড়ক চাই) এর চেয়ারম্যান তিনি। দীর্ঘ ২২ বছরে ইলিয়াস কাঞ্চনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তার এই ব্যক্তিগত আন্দোলন এখন সামাজিক এক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আগের চেয়ে পথচারী এবং গাড়ির চালকরা এখন অনেক বেশি সাবধান। কিন্তু তারপরও ইলিয়াস কাঞ্চন আশাবাদী যে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি মানুষই তার নিজ নিজ ক্ষেত্রে সড়কপথে চলার ব্যাপারে আরও অধিক সচেতন হবেন। বিশেষ করে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশের যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা যখন শিক্ষা দান করেন তখন আনুষাঙ্গিক শিক্ষার পাশাপাশি সড়কপথে চলাচলের ব্যাপারে সপ্তাহে একদিনও যদি কিছুটা সময়ের জন্য সচেতনতামূলক শিক্ষা দেয়া হয় তাহলে সড়কপথে চলাচলের ব্যাপারে তারা সচেতন হবেন। শুধু তাই নয় শিক্ষকদের কাছ থেকে সচেতনতামূলক শিক্ষা পেয়ে চালকদেরও সচেতন করতে পারবে সেসব শিক্ষার্থীরা। তাই দেশের শিক্ষক সমাজের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনারা আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে একদিন না হোক অন্তত মাসে একদিন সড়কপথে সঠিকভাবে চলাচলের দিকনির্দেশনা দেবেন। তাতে অনেক দুর্ঘটনা থেকে আমরা রক্ষা পাব। ফিরে পাব জীবনের নিশ্চয়তা।’


 

সাবমিট

ইলিয়াস কাঞ্চনের একাল সেকাল

 তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক অনবদ্য নায়কের নাম ইলিয়াস কাঞ্চন। কিশোরগঞ্জের এই নায়ক কোনোদিনই ভাবেননি যে তিনি চলচ্চিত্রে কাজ করবেন। কারণ তার বাবা ছিলেন ভীষণ ধার্মিক। কিন্তু তারপরও ভাগ্যের লিখন না যায় খণ্ডন বলে যে কথা প্রচলিত আছে যেন তাই হয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চনের জীবনে। পরিবারের সব বাধা উপেক্ষা করে তাকে নায়কই হতে হল। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিষেক ঘটে ১৯৭৭ সালের ২৬ মার্চ সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বসুন্ধরা’ ছবিতে ববিতার বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর একই পরিচালকের ‘ডুমুরের ফুল’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। শাবানার বিপরীতে একটি ছবিতেই তিনি অভিনয় করেছেন। আজিজুর রহমান বুলি পরিচালিত সে ছবির নাম ‘শেষ উত্তর’। তবে ইলিয়াস কাঞ্চন জুটি হয়ে সবচেয়ে বেশি অভিনয় করেছেন চম্পা, দিতি ও অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে। বিশেষত অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে তোজাম্মেল হক বকুলের ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ তো দেশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী চলচ্চিত্র। দিতির সঙ্গে জুটি বেঁধে ইলিয়াস কাঞ্চন প্রথম অভিনয় করেন প্রয়াত পরিচালক মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘স্বর্গ নরক’ ছবিতে। চম্পার সঙ্গে প্রথম অভিনয় করেন শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘তিন কন্যা’ চলচ্চিত্রে। এ পর্যন্ত ৩৩০টিরও অধিক চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। আলমগীর কবির পরিচালিত ‘পরিণীতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৯৮৬ সালে পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘শাস্তি’ চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাকে একই পুরস্কার দিলেও তিনি তা প্রত্যাখান করেন। ইলিয়াস কাঞ্চন যৌথভাবে প্রথম প্রযোজনা করেন ‘সর্পরানী’ চলচ্চিত্রটি। তবে তার প্রথম একক প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘বাদশা ভাই’। তিনি দুটি ছবি নির্দেশনা দিয়েছেন। ছবি দুটি হচ্ছে ‘বাবা আমার বাবা’ (মুক্তি ২০০৮ সাল) ও ‘মায়ের স্বপ্ন’ (মুক্তি ২০১০ সাল)। নতুন আরেকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন তিনি। তবে এখনও নাম ঠিক হয়নি চলচ্চিত্রটির। এটি প্রযোজনা করতে যাচ্ছে ‘ওশান গ্র“প’। নতুন বছরের জানুয়ারিতেই এর শুটিং শুরু হবে। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে তিনি নিজেই অভিনয় করবেন। এদিকে সড়কপথে সাধারণ মানুষের নিশ্চিত জীবনের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন করে যাচ্ছেন দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শক সমাদৃত এ নায়ক। নিসচা (নিরাপদ সড়ক চাই) এর চেয়ারম্যান তিনি। দীর্ঘ ২২ বছরে ইলিয়াস কাঞ্চনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তার এই ব্যক্তিগত আন্দোলন এখন সামাজিক এক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আগের চেয়ে পথচারী এবং গাড়ির চালকরা এখন অনেক বেশি সাবধান। কিন্তু তারপরও ইলিয়াস কাঞ্চন আশাবাদী যে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি মানুষই তার নিজ নিজ ক্ষেত্রে সড়কপথে চলার ব্যাপারে আরও অধিক সচেতন হবেন। বিশেষ করে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশের যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা যখন শিক্ষা দান করেন তখন আনুষাঙ্গিক শিক্ষার পাশাপাশি সড়কপথে চলাচলের ব্যাপারে সপ্তাহে একদিনও যদি কিছুটা সময়ের জন্য সচেতনতামূলক শিক্ষা দেয়া হয় তাহলে সড়কপথে চলাচলের ব্যাপারে তারা সচেতন হবেন। শুধু তাই নয় শিক্ষকদের কাছ থেকে সচেতনতামূলক শিক্ষা পেয়ে চালকদেরও সচেতন করতে পারবে সেসব শিক্ষার্থীরা। তাই দেশের শিক্ষক সমাজের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনারা আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে একদিন না হোক অন্তত মাসে একদিন সড়কপথে সঠিকভাবে চলাচলের দিকনির্দেশনা দেবেন। তাতে অনেক দুর্ঘটনা থেকে আমরা রক্ষা পাব। ফিরে পাব জীবনের নিশ্চয়তা।’


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র