jugantor
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের মঞ্চনাটক

  ফারুক হোসেন শিহাব  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

মহান মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য চেতনা এ দেশের নাট্যাঙ্গনকে উজ্জীবিত করেছিল নতুন মূল্যবোধে। সেই ধারা প্রবাহিত হয়েছে পাণ্ডুলিপি কিংবা উপস্থাপনেও। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের যে শাখাটি সবচেয়ে বেশি বিকশিত ও সমৃদ্ধ হয়েছে তা হচ্ছে নাটক। বিশেষ করে আমাদের মঞ্চ বা থিয়েটারের পরিচ্ছন্ন নাট্যচর্চা দেশের সংস্কৃতিকে দিয়েছে বিশেষ অলঙ্করণ। ১৯৭১ সালের আগে রচিত আমাদের নাটক ছিল পূর্ব-বাংলাকেন্দ্রিক। সেই ঐতিহ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে রচিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ও পরবর্তী নাট্যচর্চার রূপরেখা। একাত্তর-পরবর্তী অর্ধদশকে মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে মঞ্চাঙ্গনে রচিত হয়েছে পঞ্চাশেরও অধিক নাটক। এসব নাটকে স্থান পেয়েছে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ, পাকদের হাতে নারী ধর্ষণ, ধর্ষিতা ও নির্যাতিতদের আর্তনাদ, বাঙালির অকুতোভয় অবিরাম পথচলা আর বীরত্ব গাথা বিজয় এমনকি রাজাকার, আলবদর, আল-শামস তথা পাক নরপশুদের অমানবিক নিষ্ঠুরতার লোমহর্ষক চিত্র। এ ধরনের কাহিনীনির্ভর ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের নাটক নবগতির একটা পথ খুঁজে পায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মমতাজ উদ্দীন আহমেদ রচনা করেন ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘এবারের সংগ্রাম’ এবং ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এবং পরে বর্ণচোর, বিবাহ ও কি চায় শঙ্খচিল, সজলের মা, এই সেই কণ্ঠস্বরের মতো অসাধারণ নাটক লিখে জাতিকে উজ্জীবিত করেন।

মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ লিখেছেন নিঃশব্দ যাত্রা, নরকে লাল গোলাপ। জিয়া হায়দারের সাদা গোলাপে আগুন ও পঙ্কজ বিভাস, এহসানুল্লাহর কিংশুক যে মরুতে, নীলিমা ইব্রাহীমের ‘যে অরণ্যে আলো নেই’, এসএম সোলাইমানের ইঙ্গিত, এই দেশে এই বেশে, আমেনা সুন্দরী, কোর্ট মার্শল, কবীর আনোয়ারের পোস্টার, হাবিবুল হাসানের সম্রাট, আনিস চৌধুরীর যেখানে সূর্য, হাবীব হাসান কহিনূরের বহমান ক্ষত ও তরুণ, কাজী জাকির হোসেনের ‘শান বাঁধানো ঘাট’, কল্যাণ মিত্রের ‘জল্লাদের দরবার’, ‘নূরুল আম্বিয়ার কুমারখালীর চর’, শেখ আকরাম আলীর ‘লাশ-৭৪’, আবদুল্লাহ হেল মাহমুদের ‘প্রকৃতজন কথা ও নানকার পালা’, সাঈদ আহমেদের ‘প্রতিদিন একদিন’, আল মনসুরের ‘হে জনতা আরেকবার’, ‘শেকল বাঁধা নাও’, ‘মরণ সম্মুখে তুমি নেই’, ‘রোলার’, ‘নিহত এলএমজি’, রশেন দাশগুপ্তের ‘ফেরি আসছে’, জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ থেকে শ্র“তিনাটক ‘স্মৃতিসত্ত্বা ভবিষ্যত’, হুমায়ূন আহমেদের ‘১৯৭১’, শান্তনু বিশ্বাসের ‘ইনফরমার’, উল্লেখযোগ্য। এসব নাটকে মুক্তিযুদ্ধের নানাবিধ অনুষঙ্গ, খণ্ডচিত্র শিল্পের রসে অংকন করেছেন কালের সাক্ষী এসব নাট্যকাররা।

মুক্তিযুদ্ধ অবলম্বনে নন্দিত নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ লিখেছেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। এছাড়াও তার ‘যুদ্ধ এবং যুদ্ধ’ ও ‘এখানে এখন’ সর্বমহলে সমাদৃত। নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন লিখেছিলেন ‘কেরামত মঙ্গল’, ‘নিমজ্জন’, ‘রক্তের আঙ্গুল লতা’, ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’। পরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নাট্যভাণ্ডারকে হৃদ্ধ করেছেন প্রয়াত নাট্যজন আবদুল্লাহ আল মামুন, মান্নান হীরা এবং মামুনুর রশীদ। মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে আবদুল্লাহ আল মামুন লিখেছেন তোমরাই, আয়নায় বন্ধুর মুখ, সুবচন নির্বাসনে, এখনও দুঃসময়, একটি যুদ্ধ অন্যটি মেয়ে, এবার ধরা দাও, দ্যাশের মানুষ, বিবিবাস, মেহেরজান আরেকবার, আমার সন্তান আমার আঁচল, এখনও কৃতদাসের মতো বহু নাট্যাখ্যান। এসব নাটক শুধু জনপ্রিয়তাই পায়নি বরং স্থায়ীভাবে আঁকড়ে ধরেছে বাঙালি সত্তাকে। আমাদের নাট্যাঙ্গনের আরেক নক্ষত্র নাট্যকার মান্নান হীরা লিখেছেন- ফেরারি নিশান, খেঁকশিয়াল, খেলা, মৃঘনাভী, ঘুমের মানুষ, আগুনমুখা, রাজারবাগ-৭১, ক্ষুদিরামের দেশের মতো অনন্য সৃষ্টি। মুক্তিযুদ্ধ অবলম্বনে নাট্যজন মামুনুর রশীদ লিখেছেন পশ্চিমের সিঁড়ি, জয়জয়ন্তী, খোলা দুয়ার, ওরা কদম আলী। এছাড়া ড. ইনামুল হক রচিত নাটকগুলোও দর্শকমহলে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার লেখা প্রতিধ্বনি প্রতিদিন, সেসব দিনগুলো, সন্ধিক্ষণে, আমরা, প্রতীক্ষার প্রহর, মেঘ ভাঙা রোধ, অপর একদিন নাট্যাঙ্গনকে দারুণভাবে আলোড়িত করে। এছাড়াও বিভিন্ন নাট্যজনের উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে ‘হায়না’, ‘একাত্তরের পালা’, ‘ঘুম নেই’, ‘সময়ের প্রয়োজনে’, ‘ক্ষেতমজুর খইমুদ্দিন’, ‘অমাবশ্যার কারা’, কথা-৭১, ‘বলদ’, ‘ঘরামি’, ‘হানাদার’ মহান মুক্তিযুদ্ধের অনন্য দলিল। সম্প্রতি সময়ে ‘ভাগের মানুষ’, ‘লালজমিন’, ‘টার্গেট প্লাটুন’, ‘পোড়ামাটি’, হনন, তমসা, ‘সংক্রান্তি’ এবং ‘যমুনা’ নাট্যপ্রেমীদের প্রাণিত করেছে। স্বাধীনতার গৌরব গাথা চার দশককে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয় শতাধিক নাটক। এছাড়াও সারা দেশে রচিত হয়েছে স্বদেশপ্রেমের আরও অনেক মঞ্চ ও পথনাটক। কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে তা অপ্রতুল। সংখ্যায় প্রত্যাশার তুলনায় না হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের নাটকে বেশ জোরালোভাবেই প্রবাহিত হয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধই ছিল নাট্যচর্চার মূল প্রাণশক্তি। আজ আমরা আমাদের নাটককে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে পারছি। সরাসরি মুক্তিযুদ্ধনির্ভর নাটক ছাড়াও আমাদের অধিকাংশ নাটকেই স্বল্প-পরিসরে হলেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশাত্মবোধ তথা মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ স্থান পাচ্ছে। সব মাধ্যমের মতো আমাদের নাটকেও পড়েছে বিশ্বায়নের প্রভাব। এতে করে সাম্প্রতিক সময়ে নাটক কিছুটা সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। শত সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়েই আমাদের নাটক এগিয়ে চলছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনে, এটিও-বা কম কিসে।


 

সাবমিট

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের মঞ্চনাটক

 ফারুক হোসেন শিহাব 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

মহান মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য চেতনা এ দেশের নাট্যাঙ্গনকে উজ্জীবিত করেছিল নতুন মূল্যবোধে। সেই ধারা প্রবাহিত হয়েছে পাণ্ডুলিপি কিংবা উপস্থাপনেও। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের যে শাখাটি সবচেয়ে বেশি বিকশিত ও সমৃদ্ধ হয়েছে তা হচ্ছে নাটক। বিশেষ করে আমাদের মঞ্চ বা থিয়েটারের পরিচ্ছন্ন নাট্যচর্চা দেশের সংস্কৃতিকে দিয়েছে বিশেষ অলঙ্করণ। ১৯৭১ সালের আগে রচিত আমাদের নাটক ছিল পূর্ব-বাংলাকেন্দ্রিক। সেই ঐতিহ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে রচিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ও পরবর্তী নাট্যচর্চার রূপরেখা। একাত্তর-পরবর্তী অর্ধদশকে মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে মঞ্চাঙ্গনে রচিত হয়েছে পঞ্চাশেরও অধিক নাটক। এসব নাটকে স্থান পেয়েছে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ, পাকদের হাতে নারী ধর্ষণ, ধর্ষিতা ও নির্যাতিতদের আর্তনাদ, বাঙালির অকুতোভয় অবিরাম পথচলা আর বীরত্ব গাথা বিজয় এমনকি রাজাকার, আলবদর, আল-শামস তথা পাক নরপশুদের অমানবিক নিষ্ঠুরতার লোমহর্ষক চিত্র। এ ধরনের কাহিনীনির্ভর ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের নাটক নবগতির একটা পথ খুঁজে পায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মমতাজ উদ্দীন আহমেদ রচনা করেন ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘এবারের সংগ্রাম’ এবং ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এবং পরে বর্ণচোর, বিবাহ ও কি চায় শঙ্খচিল, সজলের মা, এই সেই কণ্ঠস্বরের মতো অসাধারণ নাটক লিখে জাতিকে উজ্জীবিত করেন।

মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ লিখেছেন নিঃশব্দ যাত্রা, নরকে লাল গোলাপ। জিয়া হায়দারের সাদা গোলাপে আগুন ও পঙ্কজ বিভাস, এহসানুল্লাহর কিংশুক যে মরুতে, নীলিমা ইব্রাহীমের ‘যে অরণ্যে আলো নেই’, এসএম সোলাইমানের ইঙ্গিত, এই দেশে এই বেশে, আমেনা সুন্দরী, কোর্ট মার্শল, কবীর আনোয়ারের পোস্টার, হাবিবুল হাসানের সম্রাট, আনিস চৌধুরীর যেখানে সূর্য, হাবীব হাসান কহিনূরের বহমান ক্ষত ও তরুণ, কাজী জাকির হোসেনের ‘শান বাঁধানো ঘাট’, কল্যাণ মিত্রের ‘জল্লাদের দরবার’, ‘নূরুল আম্বিয়ার কুমারখালীর চর’, শেখ আকরাম আলীর ‘লাশ-৭৪’, আবদুল্লাহ হেল মাহমুদের ‘প্রকৃতজন কথা ও নানকার পালা’, সাঈদ আহমেদের ‘প্রতিদিন একদিন’, আল মনসুরের ‘হে জনতা আরেকবার’, ‘শেকল বাঁধা নাও’, ‘মরণ সম্মুখে তুমি নেই’, ‘রোলার’, ‘নিহত এলএমজি’, রশেন দাশগুপ্তের ‘ফেরি আসছে’, জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ থেকে শ্র“তিনাটক ‘স্মৃতিসত্ত্বা ভবিষ্যত’, হুমায়ূন আহমেদের ‘১৯৭১’, শান্তনু বিশ্বাসের ‘ইনফরমার’, উল্লেখযোগ্য। এসব নাটকে মুক্তিযুদ্ধের নানাবিধ অনুষঙ্গ, খণ্ডচিত্র শিল্পের রসে অংকন করেছেন কালের সাক্ষী এসব নাট্যকাররা।

মুক্তিযুদ্ধ অবলম্বনে নন্দিত নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ লিখেছেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। এছাড়াও তার ‘যুদ্ধ এবং যুদ্ধ’ ও ‘এখানে এখন’ সর্বমহলে সমাদৃত। নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন লিখেছিলেন ‘কেরামত মঙ্গল’, ‘নিমজ্জন’, ‘রক্তের আঙ্গুল লতা’, ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’। পরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নাট্যভাণ্ডারকে হৃদ্ধ করেছেন প্রয়াত নাট্যজন আবদুল্লাহ আল মামুন, মান্নান হীরা এবং মামুনুর রশীদ। মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে আবদুল্লাহ আল মামুন লিখেছেন তোমরাই, আয়নায় বন্ধুর মুখ, সুবচন নির্বাসনে, এখনও দুঃসময়, একটি যুদ্ধ অন্যটি মেয়ে, এবার ধরা দাও, দ্যাশের মানুষ, বিবিবাস, মেহেরজান আরেকবার, আমার সন্তান আমার আঁচল, এখনও কৃতদাসের মতো বহু নাট্যাখ্যান। এসব নাটক শুধু জনপ্রিয়তাই পায়নি বরং স্থায়ীভাবে আঁকড়ে ধরেছে বাঙালি সত্তাকে। আমাদের নাট্যাঙ্গনের আরেক নক্ষত্র নাট্যকার মান্নান হীরা লিখেছেন- ফেরারি নিশান, খেঁকশিয়াল, খেলা, মৃঘনাভী, ঘুমের মানুষ, আগুনমুখা, রাজারবাগ-৭১, ক্ষুদিরামের দেশের মতো অনন্য সৃষ্টি। মুক্তিযুদ্ধ অবলম্বনে নাট্যজন মামুনুর রশীদ লিখেছেন পশ্চিমের সিঁড়ি, জয়জয়ন্তী, খোলা দুয়ার, ওরা কদম আলী। এছাড়া ড. ইনামুল হক রচিত নাটকগুলোও দর্শকমহলে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার লেখা প্রতিধ্বনি প্রতিদিন, সেসব দিনগুলো, সন্ধিক্ষণে, আমরা, প্রতীক্ষার প্রহর, মেঘ ভাঙা রোধ, অপর একদিন নাট্যাঙ্গনকে দারুণভাবে আলোড়িত করে। এছাড়াও বিভিন্ন নাট্যজনের উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে ‘হায়না’, ‘একাত্তরের পালা’, ‘ঘুম নেই’, ‘সময়ের প্রয়োজনে’, ‘ক্ষেতমজুর খইমুদ্দিন’, ‘অমাবশ্যার কারা’, কথা-৭১, ‘বলদ’, ‘ঘরামি’, ‘হানাদার’ মহান মুক্তিযুদ্ধের অনন্য দলিল। সম্প্রতি সময়ে ‘ভাগের মানুষ’, ‘লালজমিন’, ‘টার্গেট প্লাটুন’, ‘পোড়ামাটি’, হনন, তমসা, ‘সংক্রান্তি’ এবং ‘যমুনা’ নাট্যপ্রেমীদের প্রাণিত করেছে। স্বাধীনতার গৌরব গাথা চার দশককে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয় শতাধিক নাটক। এছাড়াও সারা দেশে রচিত হয়েছে স্বদেশপ্রেমের আরও অনেক মঞ্চ ও পথনাটক। কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে তা অপ্রতুল। সংখ্যায় প্রত্যাশার তুলনায় না হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের নাটকে বেশ জোরালোভাবেই প্রবাহিত হয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধই ছিল নাট্যচর্চার মূল প্রাণশক্তি। আজ আমরা আমাদের নাটককে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে পারছি। সরাসরি মুক্তিযুদ্ধনির্ভর নাটক ছাড়াও আমাদের অধিকাংশ নাটকেই স্বল্প-পরিসরে হলেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশাত্মবোধ তথা মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ স্থান পাচ্ছে। সব মাধ্যমের মতো আমাদের নাটকেও পড়েছে বিশ্বায়নের প্রভাব। এতে করে সাম্প্রতিক সময়ে নাটক কিছুটা সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। শত সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়েই আমাদের নাটক এগিয়ে চলছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনে, এটিও-বা কম কিসে।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র