¦

এইমাত্র পাওয়া

  • রাজধানী থেকে কোকেনসহ আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্য আটক
বাড়তি বিজ্ঞাপনে বাড়তি আনন্দ ছিল বছরজুড়ে

অনুরূপ আইচ | প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫

বছর শেষে টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান নিয়ে লিখতে গেলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। কারণ, বছরজুরে মানসম্মত অনুষ্ঠান, নাটক, টক-শো, টেলিফিল্ম কিংবা ভিন্নধর্মী আয়োজন চোখে পড়ে কিঞ্চিৎ। আবার সঠিক তথ্য তুলে ধরলেও অনেকের গায়ে জ্বালা ধরে। তাতে কিছুই যায় আসে না- দৈনিক যুগান্তর সত্যের সন্ধানে নির্ভীক। কারও কাছে অপ্রিয় লাগলেও সত্য হল, বিগত বছরগুলোর মতো ২০১৫ সালেও দর্শকের মনোরঞ্জনে শ্রেষ্ঠ ছিলেন নন্দিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত। তার বিখ্যাত অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-এর ধারেকাছেও দর্শকনন্দিত ছিল না চ্যানেলগুলোর আর কোনও কিছু। এছাড়া বিশেষ দিবসে নির্মিত হানিফ সংকেতের নাটকগুলোও দর্শক জরিপে সেরা স্থান অর্জন করেছে বলে জানা যায় সংশ্লিষ্ট চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে। শুধু তাই নয়, হানিফ সংকেতের নন্দিত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘ফাগুন অডিও ভিশন’-এর নির্মিত বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘পাঁচ ফোড়ন’ ছিল বছরজুড়ে জনপ্রিয় পাওয়া অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
২০১৫ সালে চ্যানেল আইয়ে যে কয়টি নাটক বা টেলিফিল্ম প্রচার হয়েছে তার মধ্যে বিভিন্ন কারণে সেরা ছিল ইউসুফ চৌধুরী পরিচালিত টেলিফিল্ম ‘ভালোবাসার বিশ বছর’। এর মাধ্যমে চিত্রনায়ক ওমর সানি ও চিত্রাভিনেত্রী মৌসুমী জীবনের প্রথমবারের মতো একসঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়েছিলেন ছোটপর্দায়। বেশ প্রশংসিত ছিল এটি। নন্দিত কৃষি গবেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বিনোদনধর্মী অনুষ্ঠান নিয়ে বছরজুরে মেতে থাকেন না। তবুও তিনি ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান দিয়ে দর্শকের হৃদয় জুড়িয়ে দেন। শুধু কি তাই! তিনি আবার বিশেষ দিবসে ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ কিংবা ‘কৃষকের বৈশাখী আনন্দ’ অনুষ্ঠান করে মাতিয়ে দেন বিনদনপ্রিয় দর্শকদের। এ বছরটিতেও ব্যতিক্রম ছিল না । তিনি আবার ২০১৫ সালে ‘উত্তম গান’ শিরোনামে একটি ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান করে তাক লাগিয়ে দেন। ফরিদুর রেজা সাগরের পরিকল্পনায় এ অনুষ্ঠানটি ছিল মহানায়ক উত্তম কুমারের অভিনীত সিনেমার গানগুলোর নন্দিত উপস্থাপনার মাধ্যমে। তাতে উপস্থিত ছিলেন উত্তম কুমারের স্ত্রী। সঞ্চালনা করেছিলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। গান গেয়েছিলেন দেশ বরেণ্য শিল্পীরা। শামীম শাহেদের উপস্থাপনায় দর্শকপ্রিয় ‘অ এর গল্প’ শেষ হয় এ বছর। তিনিও বিশেষ দিবসের নাটক ও টেলিফিল্ম বানিয়ে মনোযোগ কেড়েছেন দর্শকের। তবে বছরজুড়ে নাট্য পরিচালক হিসেবে বেশি সফল ছিলেন মাসুদ সেজান। তিনি একক নাটক, বিশেষ দিবসের নাটক, টেলিফিল্মের পাশাপাশি ‘চলিতেছে সার্কাস’-এর মতো ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করে দর্শকের পছন্দে বৈচিত্র্য এনে দিয়েছেন। যদিওবা তাকে নিয়ে মিডিয়া জুড়ে প্রচারের কার্পণ্য চোখে পড়েছে। বিভিন্ন কারণে বছরজুড়ে আলোচিত ছিলেন নিভৃতচারী গায়ক চন্দন সিনহা। বিটিভিতে আনন্দমেলায় তার গাওয়া গান ‘আমারও পরাণে যাহা চায়’ বেশ আলোড়ন তোলে। যে কারণে সুনাম অক্ষত রয়েছে আঞ্জাম মাসুদের। তা ছাড়া বিজ্ঞাপন বানিয়ে তিনি আলোচিত ছিলেন বছরজুড়ে। বছরের শেষভাগে মাছরাঙা টিভিতে প্রচারিত ‘প্রেম নয় ভালোবাসা’ শিরোনামের একটি টেলিফিল্ম বানিয়ে বেশ সাড়া ফেলেন পরিচালক শাহজাদা মামুন। আরও মনোযোগ কেড়েছেন উদীয়মান গায়ক খন্দকার বাপ্পি। বছরজুড়ে দেশের প্রায় সব চ্যানেল জুড়েই ছিল তার গান। তার কণ্ঠে ঈদ নিয়ে বিশেষ গান ‘ঈদ এসেছে’ বেশ প্রশংসা কুড়ায়। এছাড়াও তার কণ্ঠে ‘শোন মানুষ’ কিংবা ‘মার খেয়েছি রির্টানস’ গান দুটি বছরজুড়ে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হওয়ায় বেশ নন্দিত হয়। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ফরিদুর রেজা সাগরের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘অমি ও আইস্ক্রিমওয়ালা’ এর সূচনা সঙ্গীত গেয়েছিলেন তিনি। তার সহ শিল্পী ছিলেন ইশরাক হোসেন। ওই ছবিতে বাপ্পি অভিনয়ও করেছেন অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্রে। যমুনা টিভির জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর্শকের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্য ছিল ‘ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রী’। মিজান মালিকের গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় এ অনুষ্ঠানটি বেশ সফল ছিল বছর জুড়ে। তবে এ বছর টিভি চ্যানেলের পর্দায় দখল ছিল বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের। মানে, বিজ্ঞাপনের আধিক্য ছিল বছরজুড়ে। তবুও এই আধিক্য কমাতে বেশ সচেষ্ট ছিল কিছু টিভি চ্যানেল। কিন্তু লাভ হল না তাতে। অর্থপিপাসু চ্যানেলগুলো ঠিকই অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। দর্শকদের তারা নির্যাতিত করেছে বিজ্ঞাপনের বিড়ম্বনায়। এতে যেসব দর্শক বিজ্ঞাপন দেখতে পছন্দ করেন তারা হয়তো চ্যানেল পরিবর্তন করেননি। বাকিরা চলে গেছেন বিদেশী টিভি চ্যানেলে। এবার আপনারাই ভাবুন পাঠক, দেশীয় টিভি চ্যানেল দর্শক বিমুখতার জন্য দায়ী কে বা কারা! তবুও বিজ্ঞাপনের এই বাড়তি চাপ সইয়েও অনেক দর্শক দেখেছেন দেশীয় অনেক টিভি চ্যানেলের বেশ কিছু অনুষ্ঠান। ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশে টেলিভিশন চ্যানেল ছিল ২৬টি। এগুলো হল, বাংলাদেশ টেলিভিশন, এটিএন বাংলা, চ্যানেল আই, একুশে টেলিভিশন, এনটিভি, বাংলাভিশন, আরটিভি, বৈশাখী টেলিভিশন, দেশটিভি, মাই টিভি, মোহনা টেলিভিশন, মাছরাঙা, বিটিভি ওয়ার্ল্ড, সংসদ টেলিভিশন, এটিএন নিউজ, ইনডিপেনডেন্ট, সময়, চ্যানেল নাইন, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর, জিটিভি, একাত্তর টিভি, বিজয় টিভি, এশিয়ান টেলিভিশন, এসএ টিভি, গান বাংলা ও যমুনা টিভি। গত বছরের মতো এবারও চ্যানেল যোগ হয়েছে মাত্র একটি। এর নাম দীপ্ত টিভি। ‘আলোয় ভুবন ভরা’ এ স্লোগান নিয়ে চ্যানেলটি নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করে। বছর শেষে চ্যানেল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭টিতে। এই তো গেল চ্যানেলের হিসাব। সার্বিকভাবে বিশেষ দিবস ছাড়া বিটিভির অনুষ্ঠানমালায় তেমন কোনো বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়নি। সরকারি দলের প্রভাবসম্পন্ন অনুষ্ঠান, সংবাদ এবং অন্যান্য প্রচার নিয়ে ব্যস্ত ছিল রাষ্ট্রীয় এ চ্যানেলটি। সংবাদে নতুনত্ব আনা হলেও তেমন পরিবর্তন চোখে পড়েনি। সরকারি খবর প্রচার-প্রচারণা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে চ্যানেলটিতে। এদিকে বেসরকারি চ্যানেলগুলোর মধ্যে এটিএন বাংলা বরাবরের মতো অনুষ্ঠানের মান বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিল। প্রচার চলতি ধারাবাহিক ‘প্রজ্ঞাপারমিতা’, ‘সাতটি তারার তিমির’, ‘দাগ’, ‘উজান গাঙের নাইয়া’ নাটকগুলো বেশ আলোচনায় ছিল। এছাড়াও স্মাইল শো, কমেডি আওয়ার অনুষ্ঠানগুলো দর্শক নজর কাড়ে। অন্যদিকে দক্ষ অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার বের করে আনার লক্ষ্যে প্রতিযোগিতামূলক রিয়েলিটি শো ‘নাট্যযুদ্ধ’ বেশ আলোচিত হয়। অনুষ্ঠান নির্মাণে বরাবরই ভিন্নতা রেখেছে চ্যানেল আই। সে ধারাবাহিকতায় এবছরও তাদের অনুষ্ঠান ও নাটকগুলো ছিল দর্শকের আলোচনার শীর্ষে। নাটকের মধ্যে ‘প্রাণ কোকিলা’ ‘ভৈরব’, ‘মোহর আলী’ ধারাবাহিকগুলো ছিল দর্শক জনপ্রিয়। এছাড়াও ‘আজকের সংবাদপত্র’ তৃতীয়মাত্রা টকশো দুটি বরাবরের মতোই দর্শক ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি বছরজুড়ে প্রচারিত ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’, ‘সিটিসেল তারকাকথন’ অনুষ্ঠানগুলো ছিল আলোচিত। এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে ফরিদুর রেজা সাগরের উপন্যাস অবলম্বনের ‘ছোটকাকু’ সিরিজের নাটকগুলো দর্শক গ্রহণ করেছেন। একখণ্ড ও ধারাবাহিক দুই ধরনের নাটক প্রচারের জন্য এনটিভি বরাবরই এগিয়ে ছিল। এবছরও তার ব্যতিক্রমটি ঘটেনি। এ বছর প্রচার হওয়া ‘দলছুট প্রজাপতি’, ফ্যামিলি প্যাক’, ‘একদিন ছুটি হবে’, ‘হাউস ৪৪’, ‘সম্রাট’ নাটকগুলো ছিল দর্শকের আগ্রহের জায়গায়। বিভিন্ন উপলক্ষ ছাড়াও বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রতিবছরই দর্শক প্রশংসা কুড়ায়। এবারও চ্যানেলটি নিজের অবস্থান সুদৃঢ় রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত ‘আমার আমি’ অনুষ্ঠানটি এবারও জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল। পাশাপাশি ‘অ-এর গল্প’, ‘সহযাত্রী’, ‘লড়াই’, ‘জীবন থেকে নেয়া এ শহরের গল্প’, ‘ননস্টপ’, ‘চলিতেছে সার্কাস’সহ বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটক প্রশংসা পেয়েছে চ্যানেলটির। এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে প্রচারিত ‘সিকান্দার বক্স-সিক্যুয়ালের নাটকগুলো দর্শক জনপ্রিয় হয়েছে। যদিও তুমুল আলোচিত এ নাটকটি আগামীতে আর কোনো ঈদে দেখা যাবে না। ২০১৫ সালে আরটিভি বেশকিছু ধারাবাহিক নাটকের জন্য দর্শক ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। গত দুবছর ধরে চলে আসা ধারাবাহিক ‘অলসপুর’ এখনও সবার মুখে মুখে। পাশাপাশি ‘মায়ার খেলা’, রিলেশনস’ নাটকগুলো দর্শক গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও বিশেষ দিন উপলক্ষে চ্যানেলটির ভিন্ন আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো। একুশে টেলিভিশন বরাবরই টকশো প্রচারের জন্য বেশ সমাদৃত। তবে চ্যানেলটিতে প্রচার হওয়া ‘মামার হাতের মোয়া’, ‘অহংকার’ ‘ঘাসফুল’ ধারাবাহিকগুলো বেশ প্রশংসা পায়। দেশটিভির অনুষ্ঠানমালা বরাবরই দর্শকের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। এবারও তাদের আয়োজন ছিল ভিন্ন রকম। দর্শক চাহিদার কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু ধারাবাহিক ও একখণ্ডের নাটক প্রচার করেছে বছরজুড়ে। এর মধ্যে ‘কলিং বেল’, নাইন অ্যান্ড অ্যা হাফ’ ধারাবাহিকগুলো বেশ আলোচনায় আসে। মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘সুপারস্টার’, ‘হাউস ওয়াইভস’, ‘তিন গোয়েন্দা’, ‘ক্ষণিকালয়’ ধারাবাহিক নাটকগুলো বেশ প্রশংসা পেয়েছে এবছর। এছাড়াও এবারের ঈদে প্রচার হওয়া ‘কেমিস্ট্রি’ বিশেষ ‘রাঙা সকাল’সহ অনুষ্ঠানগুলো দর্শক গ্রহণ করেছেন। চ্যানেল নাইনে ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান প্রচারে অনেকটা জোর চেষ্টা চালিয়েছে। বছরের শেষ দিকে দেশীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর ‘বিপিএল’ সরাসরি প্রচারের জন্য বেশ আলোচনায় থাকে চ্যানেলটি। নাটক, গানের অনুষ্ঠানসহ সবকিছুতেই নতুনত্বের ছোঁয়া ছিল। ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘রাব্বু ভাইয়ের বউ’, ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’, ‘লাভগুরুডটকম’ ধারাবাহিক নাটকগুলো এ বছরের উল্লেখযোগ্য নাটক। এছাড়াও ‘ফিল্ম টকিজ’, ‘ভিন্ন স্বাদের সন্ধান’ অনুষ্ঠানগুলো চ্যানেলটির বিশেষ উপহার ছিল। ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান প্রচারের চেষ্টায় ছিল গাজী টেলিভিশনও। চ্যানেলটির ‘ক্রাইম ফাইল’ ‘আজকের অনন্যা’, ‘ওয়ার্ল্ড অব গ্ল্যামার’ ছিল উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান। এছাড়া চলতি বছরে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনের সবকটি ম্যাচ ও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেট দলের বিভিন্ন খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করে টিআরপিতে এগিয়ে ছিল গাজীটিভি। যমুনা টিভি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বেশ সচেতন ছিল। সংবাদভিত্তিক চ্যানেল হিসেবে তাদের অবস্থান ধরে রাখায় সচেষ্ট ছিল। বৈশাখী টেলিভিশনে পুরো বছর ভালো অনুষ্ঠান প্রচারের পাশাপাশি উৎসব-পার্বণে দেখা গেছে ভিন্ন ধারার আয়োজন। এ চ্যানেলের ‘শুধুই আড্ডা’, ‘বিজনেস টক’, ‘জিরো আওয়ার’, ‘সময় কাটুক গানে গানে’ অনুষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ‘গন্তব্য নিরুদ্দেশ’, ‘জয়িতা’, নন্দিনী, অলৌকিক ধারাবাহিকগুলো দর্শক গ্রহণ করেছেন। এসএ টিভি কিছু নতুন ধারার অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করে ইতিমধ্যেই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে নাটক ‘আনন্দগ্রাম’, ‘পরম্পরা’ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও সংবাদভিত্তিক চ্যানেলগুলো যেমন : এটিএন নিউজ, সময়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, একাত্তর। এদিকে বছরের শেষ দিকে দীপ্ত টিভি ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান প্রচারের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করলেও এখনও তেমন সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়নি। বর্তমানে তিনটি নতুন ধারাবাহিক প্রচার চলছে চ্যানেলটিতে। দর্শক মহলের কেউ কেউ বলেছেন চ্যানেলটি ভারতীয় চ্যানেলকে হুবহু নকল করার চেষ্টা করেছে। এছাড়া সারা বছর ভালো কিছু অনুষ্ঠনের ভিড়ে মানহীন নাটক ও অনুষ্ঠানও প্রচার হয়েছে প্রতিটি চ্যানেলে। ভারতীয় সিরিয়ালের অনুকরণে বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটক এখনও প্রচার হচ্ছে। যেগুলো দর্শক দেখেই বুঝতে পারছেন এটা স্টার জলসা কিংবা প্লাসে একবার দেখেছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা রকম অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি কাউকেই। বরং, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার লক্ষ্যে নানারকম যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। এছাড়াও নাটকের একঘেঁয়ে ও বৈচিত্র্যহীন লোকেশন নিয়েও অভিযোগ ওঠে নানা মহলে। তবে সেটা স্বল্প বাজেটকে দায়ী করে এড়িয়ে চলেছেন সবাই। কলকাতার অনুষ্ঠান ‘মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার’, ‘সারেগামাপা’, ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’সহ অনেক অনুষ্ঠানের হুবহু নকল অনুষ্ঠান প্রচার করেছে কয়েকটি চ্যানেল। বছরে মাঝে-মধ্যেই টিভি চ্যানেলগুলোর পর্দায় যেন অস্থিরতার কমতি ছিল না। চ্যানেলগুলোর বিভিন্ন সময়ের সংবাদে একই খবর পুনরাবৃত্তি দর্শকদের মধ্যে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অতিমাত্রায় বিজ্ঞাপন প্রচারও অতিষ্ঠ অনেক দর্শক। এ চিত্র সারা বছর যেমন ছিল এখনও তাই। এ নিয়ে বারবার চ্যানেলগুলোর সঙ্গে কথা হলেও তেমন কোনো ফলাফল মেলেনি।
 

তারাঝিলমিল পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close