jugantor
জলবায়ু পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর রত্নভাণ্ডার
ভেনিসকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অবাস্তব শহর। গত চার বছরে শহরটি আরও ১০ সেন্টিমিটার পানির নিচে ডুবে গেছে। এখনই পদক্ষেপ নেয়া না হলে ২১০০ সালের মধ্যে আরও ৫৪ সেন্টিমিটার পানির নিচে চলে যাবে

  যুগান্তর ডেস্ক  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর রত্নভাণ্ডার। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ থেকে ফুজি পর্বতের মূল্যবান মণিমুক্তা কিংবা প্রণালি বেষ্টিত ভেনিস নগরীর রত্নসামগ্রী বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বহু মূল্যবান হীরা-জহরত, করাল পাথর ও স্বর্ণসভ্যতার প্রকৃতি ক্ষয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী বাসের অযোগ্য হয়ে মানুষের জীবনহানির পাশাপাশি মৃত্যু ঘটছে সৌন্দর্যের। বৈশ্বিক তাপমাত্রা রোধে বিশ্বশক্তির প্রচেষ্টায় প্যারিস সম্মেলনে মানবজাতি যখন একটি চুক্তির অপেক্ষায়, এমন মুহূর্তে বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে পৃথিবীর রত্নভাণ্ডার হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করল। এএফপির ওই প্রতিবেদনে পাঁচটি স্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

হাজার হাজার প্রজাতির মাছ, কোটি কোটি জীবন্ত খুদে কোরাল বা প্রবাল নিয়ে গঠিত অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। কুইন্সল্যান্ড উপকূলের কাছে সমুদ্রে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ পৃথিবীর অন্যতম সপ্তাশ্চর্য। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবালপ্রাচীর। সেখানে দুই হাজার ৯০০টি আলাদা আলাদা প্রবালপ্রাচীর প্রায় ১৪০০ মাইল ধরে ছড়িয়ে আছে।

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৯০০টি দ্বীপে ১ লাখ ৩৩ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত সাগরের নিচে থাকা এই সুবৃহৎ প্রাচীরকে কিন্তু জলের ওপর থেকেই দেখা যায়। প্রাচীরটি উত্তর থেকে দক্ষিণে এত বিশাল জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে আছে যে এর দু’পাশে দু’রকমের জলবায়ু দেখা যায়।

ফলে উত্তরের দ্বীপগুলোয় আছে বাদল বন আর পাহাড়ের প্রাধান্য, দক্ষিণের দ্বীপগুলো শুধুই প্রবাল দিয়ে গঠিত। ১৯৮১ সাল থেকে একে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একে ‘স্বচ্ছ ও উদার সামুদ্রিক অতিবিরল রাজ্য’ গণ্য করা হয়।

কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক ঝড় ও নানা দুর্যোগে সেখানে বিপর্যয় নেমে আসছে।

ভেনিস

পৃথিবীর অতিশয় আকর্ষণীয় ও সৌন্দর্যমণ্ডিত শহর হচ্ছে ইতালির ভেনিস। প্রতি বছর হাজার লোক সারা বিশ্ব থেকে এখানে আসে শুধু এর সৌন্দর্য দেখতে। ভেনিসের আয়তন মোট ৪১৪.৫৭ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে স্থলভাগ ১৫৬.৮৪ বর্গকিলোমিটার ও পানিতে ২৫৭.৭৩ বর্গকিলোমিটার। ভেনিস উত্তর-পূর্ব ইতালির ভেনেতো অঞ্চলের একটি প্রধান শহর।

পোপ ও পিয়েভ নদীর মুখে ছোট-বড় প্রায় ১২০টি দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে এই শহরটি। ভেনিসকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অবাস্তব শহর, সে সঙ্গে সবচেয়ে রোমান্টিকও! এই শহরে একবার প্রবেশ করলেই একে মনে হয় সীমাহীন, চারদিকে কেবল জলেরই রাজত্ব। ইউনেস্কোর তথ্যানুযায়ী, গত চারবছরে এই শহর আরও ১০ সেন্টিমিটার পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এখনই পদক্ষেপ নেয়া না হলে ২১০০ সালের মধ্যে আরও ৫৪ সেন্টিমিটার পানির নিচে চলে যাবে।

কিলিমাঞ্জারো পর্বত

আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত তাঞ্জানিয়ার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৮৯৫ মিটার উচ্চতা নিয়ে ১০ হাজার বছর ধরে এটি দাঁড়িয়ে আছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট নানা দূষণে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এই পর্বতপৃষ্ঠের ৮০ শতাংশই হারিয়ে গেছে।

প্রতিবছর ৫০ সেন্টিমিটার গভীরতায় গলে যাচ্ছে এই পর্বত। ইউনেস্কোর সতর্কতা অনুযায়ী আগামী ১৫ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতে পারে কিলিমাঞ্জারো।

মাচু পিচ্চু

পেরুর মাচু পিচ্চু সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে গলে যাচ্ছে এই আশ্চর্য সৌন্দর্য। এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের প্রাণী ও জীবসভ্যতা।

মাউন্ট ফুজি

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৭৭৬ মিটার উচ্চতায় দাঁড়িয়ে থাকা মাউন্ট ফুজি জাপানের একটি আইকনিক সৌন্দর্য। বিজ্ঞানীদের আশংকা এই পর্বতের উচ্চতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। একটি গবেষণা অনুযায়ী এখন এর উচ্চতা কমে ৩২০০ মিটারে নেমেছে।


 

সাবমিট

জলবায়ু পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর রত্নভাণ্ডার

ভেনিসকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অবাস্তব শহর। গত চার বছরে শহরটি আরও ১০ সেন্টিমিটার পানির নিচে ডুবে গেছে। এখনই পদক্ষেপ নেয়া না হলে ২১০০ সালের মধ্যে আরও ৫৪ সেন্টিমিটার পানির নিচে চলে যাবে
 যুগান্তর ডেস্ক 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর রত্নভাণ্ডার। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ থেকে ফুজি পর্বতের মূল্যবান মণিমুক্তা কিংবা প্রণালি বেষ্টিত ভেনিস নগরীর রত্নসামগ্রী বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বহু মূল্যবান হীরা-জহরত, করাল পাথর ও স্বর্ণসভ্যতার প্রকৃতি ক্ষয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী বাসের অযোগ্য হয়ে মানুষের জীবনহানির পাশাপাশি মৃত্যু ঘটছে সৌন্দর্যের। বৈশ্বিক তাপমাত্রা রোধে বিশ্বশক্তির প্রচেষ্টায় প্যারিস সম্মেলনে মানবজাতি যখন একটি চুক্তির অপেক্ষায়, এমন মুহূর্তে বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে পৃথিবীর রত্নভাণ্ডার হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করল। এএফপির ওই প্রতিবেদনে পাঁচটি স্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

হাজার হাজার প্রজাতির মাছ, কোটি কোটি জীবন্ত খুদে কোরাল বা প্রবাল নিয়ে গঠিত অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। কুইন্সল্যান্ড উপকূলের কাছে সমুদ্রে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ পৃথিবীর অন্যতম সপ্তাশ্চর্য। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবালপ্রাচীর। সেখানে দুই হাজার ৯০০টি আলাদা আলাদা প্রবালপ্রাচীর প্রায় ১৪০০ মাইল ধরে ছড়িয়ে আছে।

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৯০০টি দ্বীপে ১ লাখ ৩৩ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত সাগরের নিচে থাকা এই সুবৃহৎ প্রাচীরকে কিন্তু জলের ওপর থেকেই দেখা যায়। প্রাচীরটি উত্তর থেকে দক্ষিণে এত বিশাল জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে আছে যে এর দু’পাশে দু’রকমের জলবায়ু দেখা যায়।

ফলে উত্তরের দ্বীপগুলোয় আছে বাদল বন আর পাহাড়ের প্রাধান্য, দক্ষিণের দ্বীপগুলো শুধুই প্রবাল দিয়ে গঠিত। ১৯৮১ সাল থেকে একে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একে ‘স্বচ্ছ ও উদার সামুদ্রিক অতিবিরল রাজ্য’ গণ্য করা হয়।

কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক ঝড় ও নানা দুর্যোগে সেখানে বিপর্যয় নেমে আসছে।

ভেনিস

পৃথিবীর অতিশয় আকর্ষণীয় ও সৌন্দর্যমণ্ডিত শহর হচ্ছে ইতালির ভেনিস। প্রতি বছর হাজার লোক সারা বিশ্ব থেকে এখানে আসে শুধু এর সৌন্দর্য দেখতে। ভেনিসের আয়তন মোট ৪১৪.৫৭ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে স্থলভাগ ১৫৬.৮৪ বর্গকিলোমিটার ও পানিতে ২৫৭.৭৩ বর্গকিলোমিটার। ভেনিস উত্তর-পূর্ব ইতালির ভেনেতো অঞ্চলের একটি প্রধান শহর।

পোপ ও পিয়েভ নদীর মুখে ছোট-বড় প্রায় ১২০টি দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে এই শহরটি। ভেনিসকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অবাস্তব শহর, সে সঙ্গে সবচেয়ে রোমান্টিকও! এই শহরে একবার প্রবেশ করলেই একে মনে হয় সীমাহীন, চারদিকে কেবল জলেরই রাজত্ব। ইউনেস্কোর তথ্যানুযায়ী, গত চারবছরে এই শহর আরও ১০ সেন্টিমিটার পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এখনই পদক্ষেপ নেয়া না হলে ২১০০ সালের মধ্যে আরও ৫৪ সেন্টিমিটার পানির নিচে চলে যাবে।

কিলিমাঞ্জারো পর্বত

আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত তাঞ্জানিয়ার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৮৯৫ মিটার উচ্চতা নিয়ে ১০ হাজার বছর ধরে এটি দাঁড়িয়ে আছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট নানা দূষণে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এই পর্বতপৃষ্ঠের ৮০ শতাংশই হারিয়ে গেছে।

প্রতিবছর ৫০ সেন্টিমিটার গভীরতায় গলে যাচ্ছে এই পর্বত। ইউনেস্কোর সতর্কতা অনুযায়ী আগামী ১৫ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতে পারে কিলিমাঞ্জারো।

মাচু পিচ্চু

পেরুর মাচু পিচ্চু সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে গলে যাচ্ছে এই আশ্চর্য সৌন্দর্য। এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের প্রাণী ও জীবসভ্যতা।

মাউন্ট ফুজি

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৭৭৬ মিটার উচ্চতায় দাঁড়িয়ে থাকা মাউন্ট ফুজি জাপানের একটি আইকনিক সৌন্দর্য। বিজ্ঞানীদের আশংকা এই পর্বতের উচ্চতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। একটি গবেষণা অনুযায়ী এখন এর উচ্চতা কমে ৩২০০ মিটারে নেমেছে।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র