¦
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ

মুকিত মজুমদার বাবু | প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৫

বাংলা আমার অহংকার। বাংলা আমার গর্বের সাত রাজার ধন। বাংলার অপরূপ রূপে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাকে আখ্যায়িত করেছেন ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে। জীবনানন্দ দাসের চোখে বাংলা ধরা দিয়েছে ‘রূপসী বাংলা’ হয়ে। বাংলা শিল্প-সাহিত্যে এমন কোনো কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা বাংলার রূপ দেখে মুগ্ধ হননি, গুণকীর্তন করেননি। তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলেননি প্রকৃতির অসীমতা। তাই যুগ যুগ ধরে এ দেশে আসা ভিনদেশী, ক্ষমতা বিস্তারকারী কিংবা পর্যটকদের কাছে বাংলা এক সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। লোলুপ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বারবার বর্গীরা এ দেশ আক্রমণ করেছে। দেশের স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। লুটপাট করেছে দেশের অমূল্য সম্পদ। বিপর্যয়ের কালো আঁধারে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে দেশের প্রকৃতির সন্তানেরা। আবার প্রকৃতিই তাদের শিখিয়েছে উঠে দাঁড়াতে, লড়াই করতে, বেঁচে থাকতে। প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য গড়েই এ দেশের মানুষের মধ্যে জন্ম নিয়েছে আতিথেয়তা। আবার ন্যায়পরায়ণতাকে প্রতিষ্ঠিত করতেই বেঙ্গল টাইগারের মতো সাহসী পদক্ষেপ এসেছে এই প্রকৃতি থেকে। প্রকৃতির সন্তানরা প্রকৃতি মায়ের কাছ থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করবে এটাই তো স্বাভাবিক।
দিনের যেমন আলো আছে, তেমনি আছে রাতের অন্ধকার। দিনের যেমন সৌন্দর্য আছে, তেমনি রাতেরও আছে ভুবন ভোলানো রূপ। এ দেশের মানুষ দিনের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি রাতের সুন্দরকে গ্রহণ করে নিয়েছে মনে-প্রাণে। তাইতো শরতের জ্যোৎস্না স্নান আজও মানুষের দেহ-মন ভেজায়। কবিকণ্ঠে সুর ঝরে পড়ে-
‘আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে...’
রুপালি জ্যোৎস্নার ভুবন ভোলানো রূপ কিংবা চাঁদহীন আকাশে তারা আর পলক ফেলা নক্ষত্ররাজী, ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ, শেয়ালের হুক্কা হুয়া, কুকুরের থেমে থেমে ডেকে ওঠা, জোনাকির মিটমিট আলো, হুতোম পেঁচার হুম্হুম্ ডাক... সব মিলিয়ে বাংলার রাত এক অনন্য মোহনীয় রূপ ধারণ করে।
আবার দিনের আলোর সঙ্গে হেসে ওঠে পৃথিবীর দীর্ঘতম বেলাভূমি কক্সবাজার, প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন, সাগরকন্যা কুয়াকাটা, জলের বন রাতারগুল, নিস্তব্ধতায় ঢাকা নিঝুম দ্বীপ, প্রকৃতিকন্যা জাফলং, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, নীল জলের উত্তাল বঙ্গোপসাগর, অপরূপ সাজের সাজেক ভ্যালি, সবুজে মোড়ানো পাহাড়, টইটম্বুর পুকুর-ডোবা-নালা, সৌন্দর্যের আধার উত্তাল পদ্মা, মেঘনা, যমুনা। এরই সঙ্গে যোগ হয় হাওর-বাঁওড়, বিল-ঝিল। এ ছাড়া বাংলার এক একটি গ্রামও যেন প্রকৃতির সীমাহীন বিস্ময়ের আধার। সহজ-সরল জীবনযাপন, মাটির ঘর, মাটির থালা-বাসন, উঠানে উঠানে টগর, বেলি, জুঁই, গন্ধরাজ, জবা, ছাতিয়ান, কামিনী, হাসনাহেনার মন উতলা করা সুবাস, গরুর ঘাড়ে লাঙল-জোঁয়াল দিয়ে জমি চাষ করা, ক্লান্ত রাখালের সুমিষ্ট বাঁশির সুর, নদীতে রঙ-বেরঙের পাল তোলা নৌকা, মাঝির কণ্ঠের ভাটিয়ালি গান, গাঁয়ের বধূদের কলসি কাঁখে দলবেঁধে বাড়ি ফেরা, ঝিলের জলে শাপলা-শালুক-পদ্মের মনোহরা রূপ, কৃষকের সারিবেঁধে ধানের চারা রোপণ করা, পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে আম, জাম, আতা, কাঁঠাল, বরই, নারকেলসহ নানা প্রজাতির গাছ। বাঁশ বাগানে বসে দুধসাদা বকেদের মেলা। বটের ছায়ায় বাউলের একতারা হাতে বিচ্ছেদের গান... সব মিলিয়ে এমন বৈচিত্র্যময় অনন্য সুন্দরের সাজ- আমাদের বাংলার। জীবনানন্দ দাস তাই অবলীলায় স্বীকার করেছেন-
‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর...’
এ দেশের দিনের শুরু থেকে রাতের শেষ পর্যন্ত ক্ষণে ক্ষণে চলে প্রকৃতির রূপ বদলের পালা। দিনের আলোর ফুল ফোটার আগেই কাক আর মোরগ গৃহস্তদের ডেকে ডেকে বলে দেয় ভোর হওয়ার কথা। তারপর শুরু হয় নানা প্রজাতির পাখির কলতান। এর পরই আকাশকে লাল রঙে রঙিন করে প্রত্যন্ত গ্রামের তালগাছ কিংবা বুড়ো বটের গাছ ডিঙিয়ে চারদিকে আলোকিত করে উঁকি দেয় দিনের প্রথম সূর্য, সুরেলা পাখির মিষ্টি-মধুর গান আর দিনের প্রথম আলোর ঝলকানি জানালা দিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে ঘরে। বিছানা ছেড়ে উঠেই মানুষের শুরু হয়ে যায় কর্মব্যস্ত একটি দিন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপে তেঁতে ওঠে ধরিত্রী। ক্লান্ত-তৃষ্ণার্থ হয়ে ওঠে প্রাণিজগৎ। কৃষক মাঠে গরু ছেড়ে দেয়। পথিক আশ্রয় নেয় কোনো গাছের ছায়ায়। এভাবেই প্রকৃতি ও জীবনকে ক্লান্ত করে নেমে আসে দুপুর। সূর্য হেলতে থাকে পশ্চিমাকাশে। বিকালের হেলেপরা লম্বা রোদে ঘরে ফিরতে শুরু করে মানুষ। ঝাঁক বেঁধে পাখিরা ফেরে আপন কুলায়। জল থেকে উঠে আসে রঙ-বেরঙের হাঁস। গোয়ালঘরে ঢোকে গরু-ছাগল-ভেড়া। বিকাল গড়িয়ে আবার আবীর রঙে সেজে ওঠে পশ্চিমাকাশ। এক সময় গাছ-গাছালির আড়ালে হারিয়ে যায় দিনের সূর্য। ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে আঁধার দূর করা পিদিম। রাত বাড়ে। ক্লান্তি নেমে আসে দেহ-মনে। কিন্তু রাত-চাঁদ কিংবা তারা-নক্ষত্রেরা ঠিকই জেগে থাকে। আরও গভীর হয় রাত। নেমে আসে নির্জনতা। এক সময় ঘুমের অতলে হারিয়ে যায় প্রাণিজগৎ। রাতের শেষে নতুন করে আবার শুরু হয় আরেকটি প্রকৃতির রঙিন দিন। প্রত্যেকটি দিন ঋতুর ওপর নির্ভরশীল বলে প্রকৃতি তার মনের মতো করে নিজেকে সাজিয়ে নেয়।
ষড়ঋতুর এ দেশে প্রতিটি ঋতুই আসে আপন বৈশিষ্ট্য নিয়ে, নিজস্বতা নিয়ে। ঋতু পরিক্রমায় প্রকৃতির সাজ দেখে যেকেউ বলে দিতে পারে ঋতুর পালাবদলের কথা।
খাঁ খাঁ রোদ্দুরে পোড়া মাঠ-ঘাট, গরমে হাঁসফাঁস জীবন, তলা শুকনো জলাশয়, তৃষ্ণার্থ চাতকের বৃষ্টির জন্য করুণ আকুতি, আকাশের ঈশাণ কোণে গাঢ় কালো মেঘ জমে শুরু হয় বৈশাখের প্রলয় নৃত্য, গাছের ডাল-পালা ভেঙে-উপড়ে প্রকৃতি ও জীবনের বিপর্যয় নিয়ে দুয়ারে হাজির হয় বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ অর্থাৎ বাংলার ষড়ঋতুর প্রথম ঋতু- গ্রীষ্ম।
গরমে পরম তৃপ্তি আর তৃষ্ণার্থ প্রকৃতিকে অমৃতসুধা দিতে প্রকৃতির নিয়মেই হাজির হয় আষাঢ়-শ্রাবণ, বাংলার দ্বিতীয় ঋতু বর্ষা। হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে প্রাণবিনাশী বজ পাত, অবিরল কলকল ছলছল বৃষ্টিধারা, উপচেপড়া ডোবা-নালা-পুকুর-বিল-ঝিল-হাওর, থিকথিকে কাদা, ব্যাঙের উল্লাস, নির্জীব হয়ে কাদার ভেতর পড়ে থাকা জলজপ্রাণী প্রাণ ফিরে পায় বর্ষার জলে। বর্ষা মানেই জলনূপুরের গান, বর্ষা মানেই জলে ভেজা অন্য এক পৃথিবী, অন্য এক বাংলার রূপ।
গরমে পুড়ে, বৃষ্টিতে স্নান করে আসে ভাদ্র-আশ্বিন অর্থাৎ শরৎকাল। পবিত্রতা, নির্মলতা আর স্বচ্ছতা নিয়ে এ ঋতু প্রকৃতি ও জীবনকে করে তোলে সুন্দরের সারথী। খণ্ড খণ্ড মেঘ লুটোপুটি খায় গাঢ় নীল আকাশের এ কোণ থেকে ও কোণে। রাতে মায়াবী-মাধবী জ্যোৎস্নার প্লাবনে ভেসে যায় চরাচর। শুভ্র কাশফুল নদীর কূলকূল ছন্দের সঙ্গে মাথা দোলানো গান যোগ করে এ ঋতুতে নতুন মাত্রা। শরৎ তাই হয়ে ওঠে আপন মহিমায় উজ্জ্বল, জ্যোতির্ময়।
প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় রূপের প্রকাশ ঘটাতে আগমন ঘটে কার্তিক-অগ্রায়ণের অর্থাৎ হেমন্তকালের। গর্ভবতী ফসলের মাঠ দেখে আনন্দে নেচে ওঠে কৃষকের প্রাণ ও মন। মাঠে মাঠে সোনালি ধানের দোল খাওয়া বাংলার প্রকৃৃতির এক অনিন্দ্য সুন্দর ছবি। প্রাণের বন্ধনকে আরও নিবিড় করতে পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে মানুষ মেতে ওঠে নবান্ন উৎসবে। উৎসবের সে রেশ ছড়িয়ে পড়ে বাংলার এক ঘর থেকে আরেক ঘরে। প্রাণ থেকে প্রাণ ছুঁয়ে যায় আনন্দের জোয়ার। সে জোয়ারে অবগাহন করে অতৃপ্ত মন তৃপ্তি খুঁজে পায় হেমন্তের পবিত্র সৌন্দর্যে।
নদ-নদী, বিল-ঝিল, হাওর-বাঁওড় কিংবা জলাশয়ে পরিযায়ী পাখির মেলা- এ যেন সুন্দরের প্রতিযোগিতা। দুর্বা ঘাসের ডগায় মুক্তার মতো ঝলমল করা শিশির বিন্দু, দিগন্ত বিস্তৃত হলুদ শস্যক্ষেত, মাঠের পরে মাঠ হরেক রকম সবজির সমারোহ, কুয়াশার ধোঁয়াশায় জড়াজড়ি করা স্বল্পায়ুর দিনের সূর্যসহ এমন অনেক মনোলোভা ছবি পৌষ-মাঘের, অর্থাৎ শীতকালের। খেজুরের রস আর পিঠা-পায়েসের আয়োজনে এ ঋতু হেমন্তের চেয়ে কোনো অংশে কম যায় না। রসনা তৃপ্তির সঙ্গে সঙ্গে হেমন্ত মনের ক্ষুধারও তৃপ্তি দেয়।
জরা-জীর্ণতা ঝেড়ে-মুছে আসে ফাল্গুন-চৈত্র; ঋতুরাজ বসন্ত। ষোড়শী যুবতীর যৌবনের ঢেউ লাগে প্রাণ থেকে প্রাণে, মন থেকে মনে, প্রকৃতি থেকে প্রকৃতিতে। প্রাণের ছন্দে সুর তোলে প্রকৃতি। পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে প্রকৃতির অঙ্গে অঙ্গে। সুরভিত রঙিন কুসুমের মুগ্ধতা ছড়িয়ে যায় নিশ্বাসে-প্রশ্বাসে, আকাশে-বাতাসে। প্রকৃতি আর প্রাণের মেলবন্ধনে বসন্ত হয়ে ওঠে ঋতুর রাজা। এ রাজ্যে কোনো প্রজা নেই। এ রাজ্যে সবাই রাজা। “আমরা সবাই রাজা আমাদেরই রাজার রাজত্বে...”
দিন-রাত আর ষড়ঋতুর কাব্য শেষ হলেও শেষ হয় না বাংলার অপার সৌন্দর্যের মহাকাব্য। শত-সহস বছর ধরে চলে আসছে এ মহাকাব্যের কলেবর বর্ধনের কাজ। এক হাতের লেখনী শেষ হলে কলম তুলে নেয় পরবর্তী প্রজন্মের হাত। এক ছবি আঁকা শেষ হলে শুরু হয় অন্য ছবি আঁকা। এভাবেই বাংলার সুন্দরের ছবি আর গুণকীর্তন চলে আসছিল সেই অনাদিকাল থেকে।
সময়ের পরিক্রমায় আমাদের চোখ ধাঁধাঁনো সুন্দরগুলো অসুন্দর হয়ে উঠছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্য দিয়ে আদিকাল থেকে যে সুন্দরের ছবি আঁকা শুরু হয়েছিল আজ সেই সুন্দরকে গ্রাস করছে লোভ-লালসার ঈন্দ্রজাল। সুন্দরের পূজা আজ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। কেননা, নদীতে নেই আগের মতো সেই কলতান। যে কলতান শুনে কবি লিখবেন তার অমর কবিতা। এখন বাউলের হাতের একতারায় আগের সেই বিচ্ছেদের গান নেই, কেননা গাঁয়ের সেই প্রাচীন গাছগুলো উজাড় হয়ে যাচ্ছে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে। বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির ঝাড়ুদার শকুন, ঈগলসহ সেই সব পাখি যারা উঁচু গাছের ডালে বসবাস করত।
এখন পাখির সেই গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রচিত হয় না কোনো অমরত্বের গান, কেননা পরিবেশ দূষণ, শিকারীর লোলুপ দৃষ্টি, খাদ্য আর বাসস্থানের অভাব, নির্বিচারে ঝোপ-জঙ্গল কেটে ফেলায় আজ তারা অস্তিত্ব সংকটে। এখন আগের মতো বিল-ঝিল, নদ-নদী, হাওর-বাঁওড় নেই যেখানে জলজপ্রাণী, শাপলা-শালুক-পদ্ম ফুটে সৌন্দর্য বিলাবে। আজ গাছের পাতায় সেই মর্মর ধ্বনি নেই, যা থেকে সৃষ্টি হবে কবিতার ছন্দ। এখনও বাতাস বয়, তবে সে বাতাসে দেহ-মন ছুঁয়ে যায় না, পুড়ে অঙ্গার হয় শরীর। কখনও প্রলয়ঙ্করি রূপ নিয়ে তছনছ করে দেয় প্রকৃতি ও জীবনকে। এখনও বৃষ্টি নামে, তবে অতিবৃষ্টি প্রকৃতির কল্যাণ নয়, অকল্যাণ বয়ে আনে। অসময়ের বৃষ্টিতে ভেসে যায় মানুষের স্বপ্ন-সাধ।
যত্রতত্র তরতরিয়ে গজিয়ে ওঠা শিল্প-কলকারখানাতে বাতাস দূষিত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে গেছে। নদ-নদী ভরাট হওয়ায় বন্যা বাড়ছে। ঘটছে ফসলহানির সঙ্গে প্রাণহানি। সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে দ্বীপ। লোনা জল ধ্বংস ডেকে আনছে মিষ্টি জলের আধারগুলোকে দখল করে। ভূগর্ভস্থ জল দিন দিন তলানীতে ঠেকছে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটি হয়ে যাচ্ছে বন্ধ্যা। সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয়ে উঠছে মাটি দিনের পর দিন। আমাদের লোভ-লালসায় বনভূমি ক্রমান্বয়ে রূপান্তরিত হচ্ছে মরুভূমিতে। ইটভাটার মরণ ধোঁয়ায় সংকুচিত করে ফেলছে প্রকৃতি ও জীবনের আয়ুষ্কাল। অপরিকল্পিত শহরায়ন ও শিল্পায়ন প্রাণিজগতের অস্তিত্ব বিলীন করছে। অবর্ণনীয় সৌন্দর্যের আধারগুলো অসচেতনতা আর অবহেলার কারণে আজ বর্জ্যরে ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। সৌন্দর্য উপভোগের স্থানগুলো হয়ে উঠছে অসুন্দর। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আসলে আমরা যে ডালে বসে আছি নির্বুদ্ধিতার কারণে সেই ডালটাকেই কেটে বাদ দিতে চাইছি। কিছুতেই আমাদের বোধোদয় হচ্ছে না যে, ডাল উঁচু থেকে মাটিতে পড়ে গেলে আমাদের অবস্থা কী হবে!
আমাদের এখনও ফুল আছে, পাখি আছে, বন আছে, নদী আছে। আছে সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, রাতারগুল, নিঝুম দ্বীপ, জাফলং, সুন্দরবন, বঙ্গোপসাগর, সাজেক ভ্যালি, পাহাড়, নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়, বিল-ঝিল। প্রকৃতির ধ্বংসযজ্ঞ আজ যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে তা আর নয়। ধ্বংসের মাতাল করাত চালনো আজ এ মুহূর্ত থেকে বন্ধ করতে হবে, বন্ধ করতে হবে পাগল ঘোড়ার এই দৌড়। আমাদের বিশ্বাস, আমরা পারব। আমাদের পারতেই হবে।
 

বর্ষপূর্তি সংখ্যা পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close