¦
সাহিত্যে দল ও রাজনীতি

ফজলুল হক সৈকত | প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৫

লেখকদের নিজস্ব মতবাদ কিংবা মতভেদ থাকতেই পারে। চিন্তার বিভিন্নতা এবং প্রকাশশৈলীর ভেতর দিয়ে তৈরি হয় কবি-সাহিত্যিকের স্বাতন্ত্র্য। সাহিত্যের সঙ্গে দর্শনের যোগাযোগও স্থাপিত হয়েছে ওই মতবাদের হাত ধরেই। গোষ্ঠীগত চিন্তা কিংবা দলগত ভাবধারাও সাহিত্যের বিকাশে অথবা প্রকাশে নানাভাবে সহযোগিতা করেছে। রাজনীতিও সাহিত্যের বিষয় হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। পরিবর্তন-ভাবনা, তারুণ্যের প্রকাশ, সমাজ-বিবর্তনকে রূপ দেয়া, কাঠামো বিষয়ে বিভিন্ন ধারণার আবির্ভাব, নতুনত্ব- সব মিলিয়ে সাহিত্যের কারবারে সবসময়ই সাহিত্য-আন্দোলন, গোষ্ঠীতন্ত্র কিংবা রাজনীতি কাজ করেছে ইতিবাচক ভূমিকায়।
আধুনিক বিশ্ব-সাহিত্যে আমরা বিভিন্ন গোষ্ঠীতন্ত্র কিংবা ধারণাবাদের সঙ্গে পরিচিত হই। রেনেসাঁ পরবর্তীকালে লেখকদের গ্রুপবদ্ধ কার্যক্রম আমাদের নজরে আসে। কখনও কখনও কোনো কোনো ধারণার সঙ্গে ব্যক্তি-লেখকের নাম জড়িয়ে পড়ে। আবার কখনোবা দশক বা শতাব্দী পেরোনোর পর জানা যায়, ওই সময়ে কবি-সাহিত্যিকরা দলগতভাবে একটি ধারণা কিংবা আদর্শ নিয়ে কাজ করেছেন। ১৭ ও ১৮ শতকে রোমান্টিক রাইটারদের ‘অ্যামাটরি ফিকশন’ সম্ভবত প্রথম গোষ্ঠীগত সাহিত্যের ধারণার জন্ম দেয়। এরপর আবির্ভূত হয়েছে মেটাফিজিক্যাল পোয়েটস, দ্য অগাস্টানস্। ১৯ শতকের রোমান্টিসিজম, গোথিক নভেল, লেক পোয়েটস, ডার্ক রোমান্টিসিজম, রিয়েলিজম, ন্যাচারালিজম, সিম্বলিজম পৃথিবীময় খ্যাতি নিয়ে আজও বহাল রয়েছে। ২০ শতকে আসে অস্তিত্ববাদ, মডার্নিজম, দ্য লস্ট জেনারেশন, ডাডাবাদ বা এন্টি-আর্ট, সুররিয়ালিজম, সাউদার্ন অ্যাগ্রেরিয়ানস, ওলিপো, পোস্ট-মডার্নিজম, ব্ল্যাক মাউন্টেইন পোয়েটস, বীট পোয়েটস, হাঙরিয়ালিস্ট পোয়েটস, কনফ্যাশনাল পোয়েট্রি, নিউ ইয়র্ক স্কুল, ম্যাজিকেল রিয়ালিজম, পোস্ট-কলোনিয়ালিজম, প্রোকল্পনা মুভমেন্ট, স্পোকেন ওয়ার্ল্ড। ২০ শতকের শেষে এবং একুশ শতকের প্রথমপাদে নিউ ফরমালিজম এবং পারফরমেন্স পোয়েট্রি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। সাহিত্য-আন্দোলন কিংবা গোষ্ঠীতন্ত্র কোনো কোনো চিন্তা বা ভাবধারা প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করলেও অন্তরালে কিন্তু ব্যক্তির চিন্তার বিকাশই সবসময় প্রাধান্য পেয়েছে। গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠার চেয়ে ব্যক্তিই সাহিত্যে প্রভাব ও পরিচিতি নিয়ে হাজির থেকেছেন সর্বকালে। এখনও পর্যন্ত ব্যক্তিরই জয়-জয়কার। নোবেলপ্রাইজসহ পৃথিবীর নামিদামি সব পুরস্কার ও স্বীকৃতি লাভ করছেন ব্যক্তি- তার নিজস্বতা, নতুনত্ব ও ভিন্নতার জন্য। আর গোষ্ঠীতন্ত্র কিংবা দল সাহিত্যে তার রাজনৈতিক দর্শন ও অভিলক্ষ্য প্রয়োগের দিকে নজর প্রসারিত রেখেছে। সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন তত্ত্বও সাহিত্যে প্রবেশ করেছে দল ও ব্যক্তির অভিব্যক্তির ভেতর দিয়ে।
বাংলা সাহিত্যে গত শতাব্দীর প্রথমার্থে গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সাহিত্যচিন্তা ও মতবাদের ধারা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রমথ চৌধুরীর ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪)কে ঘিরে এক প্রকারের সাহিত্য-আন্দোলন আরম্ভ হয় বটে। কিন্তু গোষ্ঠীতন্ত্রের প্রকৃত সাহিত্যধারা প্রবর্তিত হতে আমাদেরকে ‘কল্লোল’, ‘কালি-কলম’, ‘উত্তরা’, ‘প্রগতি’ প্রভৃতি পত্রিকার প্রকাশ (১৯২৩-১৯২৫) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। বিশ শতকের তৃতীয় দশকে কলকাতাকেন্দ্রিক ‘কল্লোলগোষ্ঠী’র সঙ্গে একরকম পাল্লা দিয়ে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র ‘শিখা’ ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। পরে কলকাতা ও ঢাকাভিত্তিক সাহিত্যধারা এবং বিশেষত দশক-ওয়ারি, মফস্বল ও রাজধানীকেন্দ্রিক, দর্শন ও চিন্তাধারা নির্ভর প্রভৃতি মোড়কের আড়ালে ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করতে থাকে বাংলা সাহিত্যের গোষ্ঠীতান্ত্রিক বিচরণ, প্রকাশ ও বিকাশ। চল্লিশের দশকে সাহিত্যে ব্যাপকভাবে দেশভাগ ও পরাধীনতামুক্তির প্রবলতা ঢুকে পড়ে। দেখা দেয় স্বাধীনতার আনন্দ ও আশাবাদ। কিছুকালের মধ্যে- বেশ দ্রুতগতিতেই, কলকাতা ও ঢাকার সাহিত্যধারা স্পষ্টত আলাদা হয়ে পড়ে। এর পেছনে সরাসরি কাজ করেছে রাজনীতি। ভূখণ্ডগত বিভাজনরেখা বাংলা সাহিত্যকে দু-প্রান্তে সরিয়েঢ দিল। পঞ্চাশের দশকে একুশের চেতনা- বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবি ও অর্জনের আনন্দ একাকার হয়েছে। তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে, ষাটের দশকে ‘লিটলম্যাগ আন্দোলন’ও কিছুটা পরিচিতি পেয়েছিল বোধকরি। ‘প্রগতিশীলতা’, ‘আদর্শ’- এসব স্লোগান কিংবা ভাবধারা লালনের কথাও প্রচার করে থাকে গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সাহিত্য-আন্দোলন। ধীরে ধীরে এতে যুক্ত হয়েছে রাজনীতি, সমাজ-রূপান্তরের মত-পথ ও পাথেয়। এসেছে সাম্প্রদায়িকতা। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের পর, রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের ফলে সাহিত্যের আড্ডায় ও আলোচনায় স্থান পেয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষের দল’ বলার প্রবণতা ও অভ্যাস। এতকাল পরে, এখন বোধহয় ভাববার সময় হয়েছে- সম্প্রদায়কেন্দ্রিক বা গোষ্ঠীভিত্তিক এই সাহিত্যধারা আমাদের কি দিচ্ছে? সর্বনাশ ডেকে আনছে নাতো আমাদের সূচি ও রুচিতে? কী জানি- হয়তো সারাপৃথিবীর সাহিত্য-আন্দোলনের আলো ও বাতাসের আড়ালে বাংলা সাহিত্যে দলবাজি ও রাজনীতি ক্রমাগত খারাপের দিকেই ধাবিত হচ্ছে কি-না!
বর্তমানে ঢাকায় প্রেস ক্লাবে, শিল্প-সাহিত্যের মঞ্চে ও অন্যান্য কিছু স্থানে এবং দেশের নানা প্রান্তে মতাদর্শ অনুযায়ী আয়োজিত হচ্ছে আড্ডা ও সমাবেশ। অন্য মতের কাউকে নিমন্ত্রণ পর্যন্ত করা হয় না। কোনো কোনো সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী পক্ষও গ্রহণ করে ওইসব সাহিত্যসভা। দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যপাতা, লিটলম্যাগ, শিল্প-সাহিত্যের পত্রিকা, বিশেষ সংখ্যা, ঈদসংখ্যা- এসবে, অনেকক্ষেত্রে, শুরু হয়েছে স্পষ্টত গোষ্ঠীবাদ বা সম্প্রদায়ভিত্তিক সাহিত্যসেবা! তৈরি হয়েছে ছোট ছোট সাহিত্য-সম্প্রদায়। প্রতিটি সাহিত্যপাতা কিংবা সাহিত্য-পত্রিকার জন্য যেন কয়েকজন লেখক নির্ধারিত হয়ে গেছেন। বছর জুড়ে ঘুরে-ফিরে তারাই লিখছেন। পত্রিকার নাম শুনলেই ধরে নেয়া যায় কারা কারা ওখানে লেখেন বা কোন কোন লেখকের লেখা ছাপা হয় ওই পত্রিকায়। কিছু সাহিত্য-পত্রিকায় কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন দিতে পারে অথবা পত্রিকায় কী কী বিজ্ঞাপন ছাপা হল, তা দেখেও অনেকে অনুমান করে নিতে পারেন- পত্রিকাটি কোন ঘরানার। দু-একটি ব্যতিক্রম যে চোখে পড়ে না, তা কিন্তু নয়। তবে তা হাতেগোনা। এমনকি বাঙালির মননের প্রতীক বলে স্লোগান প্রচারকারী এবং অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি ফেব্রুয়ারি জুড়ে যে সাহিত্যসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, সেখানেও ঢুকে পড়েছে রাজনীতি ও গোষ্ঠীচিন্তা। সরকার দলীয় কিংবা সমর্থনপুষ্ট লোকেরাই সাধারণত ওখানে প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনার জন্য বিবেচিত হয়ে থাকেন। মেলার স্টল বরাদ্দের পেছনেও গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে কাজ করে রাজনীতি ও দলতন্ত্র।
প্রকাশনা কিংবা কর্পোরেট হাউসও এই গোষ্ঠীতন্ত্রের লালন করছে নির্বিচারে। কে কাকে কেন কী পরিস্থিতিতে পুরস্কার প্রদান করছে, তা বুদ্ধিমান ও সতর্ক লোকেদের বুঝে নিতে কষ্ঠ হয় না। সরকারি অনুদানপুষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারের অধিদফতর বা মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠানগুলোও ওই গোষ্ঠীতন্ত্রের বা দলবাজির পুজো করতে পুরোদস্তুর অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো মিডিয়ার মাধ্যমে সমাজের প্রভাবশালী কোনো মহল কালো টাকা সাদা করার জন্য আয়োজন করছেন সাহিত্য বা সংস্কৃতির সভা-সমাবেশ। কারও কারও নাম ব্যবহার করা হচ্ছে উপদেষ্টা প্রভৃতি পদবিতে। বিশেষ বিশেষ সাহিত্য পুরস্কারও তারা প্রদান করছেন ‘নিজস্ব ঘরানার বা গোষ্ঠীর বা সম্প্রদায়ের’ বাছাই করা লেখকদের। যেন আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে এই ‘পক্ষপাতিত্বের’ প্রথা।
হয়তো ভবিষ্যতে এই কালচারই আমাদের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়াবে। মনে প্রশ্ন জাগে- এই গোষ্ঠীবাদের তাবেদারি করে কিংবা লবিং-গ্রুপিং করে পুরস্কার-সম্মাননা গ্রহণ করে কি আমাদের সম্মান বাড়ছে? বর্তমান প্রজন্ম কিংবা ভবিষ্যতের নাগরিকদের কাছে কি মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য শক্তি-সামর্থ্য-সাহস অর্জন করছি আমরা?
প্রতিষ্ঠিত লেখকদের নিয়মিতভাবে জায়গা দিতে গিয়ে কিংবা নির্ধারিত লেখকদের লেখা নিয়মিতভাবে ছাপতে গিয়ে সাহিত্যপাতা বা সাহিত্যের কাগজগুলো এখন আর নতুন লেখক তৈরি করার দিকে তেমন একটা মনোযোগ দিতে পারছে না। অথচ নতুন লেখক তৈরির কোনো বিকল্প নেই। কিছু নামিদামি লেখক ছাড়া অপেক্ষাকৃত নবীনরা লেখক-সম্মানীও ঠিকমতো পান না। কাজেই, পাঠকরা পাচ্ছেন না নতুন লেখার স্বাদ। সাহিত্যের বাজারে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ মন্দা। বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক মন্দার সঙ্গে আমাদের পরিচয় থাকলেও সাহিত্যের মন্দার সঙ্গে বোধকরি খুব বেশি সম্পৃক্ত হয়ে উঠতে পারিনি এখনও। প্রবীণ লেখকরা পারি জমাচ্ছেন না ফেরার দেশে- কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আমরা কি প্রতিশ্রুতিশীল-সম্ভাবনাময় সাহিত্য-সাধকের সন্ধান বের করতে পারছি? বোধহয় না। মরে যাচ্ছে আমাদের সাহিত্যের কদর। বিশ্ব-সাহিত্য যেভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে আমরা তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছি কই! কোনো কোনো প্রতিষ্ঠিত কিংবা প্রতিশ্র“তিশীল লেখক প্রবাসে পাড়ি জমিয়ে অবশ্য সাহিত্যের ‘নিরন্তর সেবায়’ নিয়োজিত আছেন। দেশকে পিছনে ফেলে তারা গ্লোবাল সিটিজেনের কনসেপ্টকে ব্যানারে টাঙিয়ে বাংলা সাহিত্যের ‘প্রসারে’ কাজ করছেন। সেখানেও হচ্ছে সভা-সমিতি। কিন্তু তাতেও লেগেছে গোষ্ঠীতন্ত্রের প্রবল বাতাস। দলবাজি তাদেরকেও ছাড়েনি। দেশ থেকে ওইসব আড্ডায়-সভাস্থলে মাঝে-মধ্যে যোগ দিচ্ছেন দেশীয় ‘নিজস্ব সম্প্রদায়ের’ কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক-শিক্ষক-সাংবাদিক-লেখক। আর সবচেয়ে বড় কথা হল তারা তো প্রকৃত অর্থে ‘নিরাপদ’ ও ‘সুখী’ জীবন-যাপনের জন্যই সমুদ্র পার হয়ে বাসা বেঁধেছেন। সেখান থেকে আমরা আর সাহিত্যের সমাচার কতটাই বা আশা করতে পারি!
এভাবে গোষ্ঠীতন্ত্র দিয়ে আর যাই হোক সাহিত্যের সেবা বা সাধনা কোনোটাই চলতে পারে না। আমরা যেন শুরু করেছি সাহিত্যের সর্বনাশা এক কারবার। এই কারবারে বাণিজ্য আছে, বিশেষ রকম প্রচার আছে। কারও কারও বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠালাভের সুবর্ণ সুযোগও আছে। রাজনীতি আছে। বাম ঘরানা আছে, ডান ঘরানা আছে। আদর্শ-আদর্শ বলে প্রচার আছে। ‘প্রগতিশীলতা-প্রতিক্রিয়াশীলতা’ বলে উচ্চকণ্ঠ বক্তৃতার বাহার আছে। কিন্তু সাহিত্যের তাতে কী লাভ? সাহিত্যে কি হচ্ছে? সবকিছুকে আড়াল করে, সাহিত্যের নাম ভাঙিয়ে আমরা বোধহয় রাজনীতি করছি। সাহিত্যের মোড়কে সৃষ্টি করে ফেলেছি কতগুলো রাজনৈতিক দল, জোট বা গোষ্ঠীর ‘অঙ্গ-সংগঠন’ বা সরাসরি কোনো ‘সহযোগী সংগঠন’।
বাংলাদেশের সাহিত্যসভায় গোষ্ঠীতন্ত্র বা গ্রুপিং-লবিং জেঁকে বসে যে প্রকৃতঅর্থে সাহিত্যেরই শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে- এ কথা সম্ভবত সব সচেতন মানুষ মানবেন। কিন্তু কথা হল, এর থেকে পরিত্রাণ কী? সমাধান তো একটা কিছু বের করতে হবে। সাহিত্যের আড্ডা তো আর থেমে থাকবে না। আবার রাজনীতি-সমাজনীতি থেকেও সাহিত্যকে একেবারে আলাদা করা যাবে না। তাহলে উপায়? আমার মনে হয়, গোষ্ঠীতন্ত্র বা মতবাদগত বিভাজন কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানের ভিন্নতাকে সাহিত্যের আড্ডার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে রাখার নীতিগত চেষ্টা শুরু করার সময় হয়েছে। সাহিত্য অবশ্যই রাজনীতির পরিবর্তনে ও পরিশোধনে কাজ করবে। চিন্তা আর আদর্শ প্রচার তো সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কাজও বটে। কিন্তু কাঠামোতে রাজনীতির মোড়ক যেন না থাকে। কিন্তু কথা হল কে শুরু করবে এই ‘নির্দলীয় সাহিত্যসভা’ কিংবা ‘দলনিরপেক্ষ সাহিত্য-আড্ডা’র আয়োজন- যেখানে দল-মত-মতবাদ-সম্প্রদায় প্রভৃতি চিন্তাকে দূরে রেখে সব কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী মিলিত হবেন এক সমাবেশে? একবার তো উদ্যোগ নিয়ে দেখা যেতে পারে। যে কেউ করতে পারেন এই প্রাথমিক কাজটি। বেশি উদ্যোক্তার প্রয়োজন পড়ে না। কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তি সূচনা করতে পারে নবতর ও চিরন্তন ‘সম্প্রদায়মুক্ত’ সাহিত্য-সভার। প্রাচীন সাহিত্য-দর্শনের সঙ্গে আলোচনা-আড্ডার টেবিলে জায়গা করে নিতে পারে সমকালীন সাহিত্য-প্রবণতা। লেখক-সমালোচক-পাঠক-সম্পাদক-বিপণনকর্মী-মিডিয়াকর্মীর সমন্বয়ে চলতে পারে সাহিত্যসভা। আমার ধারণা ধীরে ধীরে এই ধারণা জনপ্রিয়তা লাভ করবে এবং তার কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হবে। তখন সত্যিকারের উপকার হবে সাহিত্যের। মন্দার বাজার অতিক্রম করে হয়তো একদিন সাহিত্য পাবে তার কারবারের সুন্দর-স্বাভাবিক পরিবেশ।
 

বর্ষপূর্তি সংখ্যা পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close