¦

এইমাত্র পাওয়া

  • বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পার্শ্বে কোনাবাড়ি এলাকায় বাসে পেট্রোল বোমা হামলা: ৬ যাত্রী দগ্ধ ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অর্থনীতি ২য় পত্র

শাহজাহান সীমান্ত | প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

সহকারী অধ্যাপক, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ, দিনাজপুর
সপ্তম অধ্যায় : অর্থ
প্রশ্ন : অর্থের মূল্য পরিবর্তনের ফলাফল বর্ণনা কর।
উত্তর : সাধারণভাবে অর্থের মূল্য বলতে অর্থের ক্রয়ক্ষমতাকে বুঝায়। তাহলে অর্থের মূল্যের পরিবর্তনকে অর্থের ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তন বলা যায়। আবার অর্থের ক্রয়ক্ষমতা দাম স্তরের ওপর নির্ভর করে। দাম স্তরের পরিবর্তন ঘটলে অর্থের মূল্যের পরিবর্তন ঘটবে। দাম স্তরের ঊর্ধ্বমুখী পরিবর্তনকে বলা হয় মুদ্রাস্ফীতি এবং দাম স্তরের নিুমুখী পরিবর্তনকে বলা হয় মুদ্রা সংকোচন। মুদ্রাস্ফীতিতে অর্থের মূল্য কমবে এবং মুদ্রা সংকোচনে অর্থের মূল্য বাড়বে।
অর্থের মূল্য পরিবর্তন : অর্থের মূল্য পরিবর্তন বলতে অর্থের ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তনকে বোঝানো হয়। অর্থের ক্রয়ক্ষমতা দ্রব্যমূল্যের ওপর নির্ভর করে। দ্রব্যমূল্যের পরিবর্তন হলে অর্থের মূল্যের পরিবর্তন হয়। যখন একক অর্থ দ্বারা পূর্বের চেয়ে বেশি পরিমাণ দ্রব্য ক্রয় করা যায় তখন অর্থের মূল্য বাড়ে। আবার যখন এক একক অর্থ দ্বারা পূর্বের চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব্য ক্রয় করা যায় তখন অর্থের মূল্য কমে। অর্থাৎ সময়ের ব্যবধানে দাম স্তর বাড়লে অর্থের মূল্য কমে এবং দাম স্তর কমলে অর্থের মূল্য বাড়ে।
অর্থের মূল্য পরিবর্তনের ফলাফল : আমরা জানি দাম স্তরের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে অর্থের মূল্যের পরিবর্তন। দাম স্তরের ঊর্ধ্বমুখী পরিবর্তনে মুদ্রাস্ফীতি এবং নিম্নমুখী পরিবর্তনে মুদ্রা সংকোচন দেখা দেয়। মুদ্রাস্ফীতিতে অর্থের মূল্য কমে এবং মুদ্রা সংকোচনে অর্থের মূল্য বাড়ে। অর্থের মূল্য তথা দাম স্তরের পরিবর্তনের ফলাফল নিম্নে আলোচনা করা হল-
১. উৎপাদনকারীদের ওপর প্রভাব : দাম স্তর বাড়ার মাধ্যমে অর্থের মূল্য হ্রাস পেলে উৎপাদনকারীরা লাভবান হয়। কারণ উৎপাদিত দ্রব্য অধিক দামে বিক্রি করে উদ্যোক্তারা আয়, মুনাফা, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও মূলধন গঠনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে। অতি মুনাফার আশায় উৎপাদনকারী নিয়োগ বাড়ায় নতুন কলকারখানা স্থাপন করে।
পক্ষান্তরে, দাম স্তর হ্রাস তথা অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পেলে উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উৎপাদন এবং নিয়োগ কমে যায়।
২. ভোগকারীদের ওপর প্রভাব : অর্থের মূল্য কমে গেলে ভোগকারীরা একই পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে কম পরিমাণ ভোগ করতে বাধ্য হয়। অর্থাৎ ভোগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পক্ষান্তরে অর্থের মূল্যবৃদ্ধি পেলে ভোগকারীরা পূর্বের চেয়ে বেশি ভোগ করতে পারে। অর্থাৎ ভোগকারীরা লাভবান হয়।
৩. ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার ওপর প্রভাব : অর্থের মূল্য কমলে ঋণদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঋণগ্রহীতারা লাভবান হয়। কারণ ঋণ পরিশোধের সময় একই পরিমাণ টাকা পরিশোধ করা হলেও সে টাকায় অর্থের মাধ্যমে কম দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করা যায়।
অন্যদিকে অর্থের মূল্য বাড়লে ঋণদাতারা লাভবান হয় এবং ঋণগ্রহীতারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪. নির্দিষ্ট আয়ের লোক : অর্থের মূল্য কমলে নির্দিষ্ট আয়ের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন নির্দিষ্ট বেতনের কর্মচারী, শ্রমজীবীরা পূর্বের চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব্য সামগ্রী ভোগ করতে পারবে। অর্থাৎ তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে অর্থের মূল্য বাড়লে নির্দিষ্ট আয়ের লোকেরা লাভবান হয়।
৫. কৃষকের ওপর প্রভাব : যেসব কৃষকের নিজস্ব ক্ষেত-খামার আছে, অর্থের মূল্য কমলে তারা লাভবান হয়। কারণ তারা তাদের উৎপাদিত ফসল বেশি দামে বিক্রি করতে পারে। অন্যদিকে অর্থের মূল্য বাড়লে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৬. শ্রমিক শ্রেণীর ওপর প্রভাব : অর্থের মূল্য কমলে শ্রমিক শ্রেণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যারা দৈনিক মজুরিতে কাজ করে তারা প্রাপ্ত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কম পরিমাণ দ্রব্য সামগ্রী ভোগ করে থাকে।
অন্যদিকে অর্থের মূল্য বাড়লে শ্রমিক শ্রেণী পূর্বের চেয়ে বেশি ভোগ করতে পারে অর্থাৎ তারা লাভবান হয়।
৭. করদাতা ও করগ্রহীতার ওপর প্রভাব : অর্থের মূল্য কমলে করদাতা লাভবান হয় এবং কর গ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে অর্থের মূল্য বাড়লে করদাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং করগ্রহীতা লাভবান হয়।
৮. বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব : অর্থের মূল্য কমলে রফতানিজাত পণ্যের দাম বাড়ে। বিদেশী বাজারের তুলনায় দেশী বাজারে দাম স্তর বেশি বলে রফতানির পরিমাণ কমবে এবং আমদানির পরিমাণ বাড়বে। ফলে বাণিজ্য ভারসাম্যে প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি হবে।
অন্যদিকে অর্থের মূল্য বাড়লে বৈদেশিক বাণিজ্য ভারসাম্যে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি হবে।
৯. আয় বণ্টনের ওপর প্রভাব : অর্থের মূল্য কমে গেলে সমাজে আয় বৈষম্য অবস্থার সৃষ্টি হয়। দাম স্তর বৃদ্ধির দরুন ভোগকারীদের কাছ থেকে অর্থ মুনাফা, সুদ ও খাজনা রূপে উৎপাদনকারী, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের কাছে পুঞ্জীভূত হয়। ফলে সমাজে ধনী-গরিব, শাসক-শোষক শ্রেণীর উদ্ভব হয়।
অন্যদিকে অর্থের মূল্য বাড়লে মুনাফা, সুদ ও খাজনার পরিমাণ কমে যাবে এবং ভোগকারীদের অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে আয়ের সুষম বণ্টন হবে এবং ধনী-দরিদ্রের আয় বৈষম্য হ্রাস পাবে।
১০. বিনিয়োগকারীদের ওপর প্রভাব : মূল্যস্ফীতিতে অর্থের মূল্য হ্রাস পায় বলে ঋণপত্র বা বন্ড ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হয়। কারণ শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি পায়।
অন্যদিকে মুদ্রা সংকোচনে অর্থের মূল্য বাড়ে বলে সরকারি ঋণপত্রে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হয়। কিন্তু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১১. কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব : দ্রব্যের দাম বাড়লে অর্থাৎ অর্থের মূল্য কমলে উৎপাদনকারীরা অধিক লাভের আশায় অধিক উৎপাদনে উৎসাহিত হয়। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অধিক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে অর্থের মূল্য বেড়ে গেলে দ্রব্য সামগ্রীর দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদনকারীরা উৎপাদন কমিয়ে দেয়, এতে কর্মসংস্থানের পরিমাণ কমে যায়।
১২. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব : অর্থের মূল্য হ্রাস পেলে সাধারণভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ে। কেননা এতে সমাজের উৎপাদন, আয়, নিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সহায়ক।
অন্যদিকে অর্থের মূল্যবৃদ্ধি পেলে সমাজের আয়, নিয়োগ ও কর্মসংস্থান হ্রাস পায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কমে যায়।
উপর্যুক্ত আলোচনা হতে বলা যায়, মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রা সংকোচন অথবা অর্থের মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি উভয়ই সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর। তবে এ দুয়ের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি কম ক্ষতিকর। এজন্য লর্ড কর্নিস বলেছেন, 'Inflation is unjust and deflation is inexpedient.' অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে মুদ্রা সংকোচনের চেয়ে মৃদু মুদ্রাস্ফীতি গ্রহণযোগ্য। তবে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য স্থিতিশীল দাম স্তর কাম্য। শেষ কথায় অর্থনীতিবিদ কুরিহারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলা যায়, মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা সংকোচনের মধ্যে শ্রেণীভেদ করা ভুল, কারণ উভয়ই সামাজিক দিক হতে অবাঞ্ছনীয় এবং অর্থনৈতিক দিক হতে অসঙ্গত। উন্মুক্ত অর্থনীতিকে যদি সঠিকভাবে কাজ করতে হয়, তবে দাম স্তরের স্থিতিশীলতা অবশ্যই থাকতে হবে।
টিউটোরিয়াল পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close