¦
নববর্ষ উদযাপন ও বর্তমান বাংলাদেশ

ড. একে এম শাহনাওয়াজ | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

ঋতুর বিচিত্র খেয়ালে প্রকৃতি নববর্ষের দিনে এবার রুদ্ররূপে সাজেনি। তবুও বৈশাখ আবহমান বাঙালি সত্তার কথাই মনে করিয়ে দেয়। বৈশাখে আকাশ যেমনই থাক, তবু কল্পনায় কালো করে আসা মেঘ, বজ্রের ডমরু, উন্মাতাল ঝড় প্রতিবাদী বাঙালির প্রতীক হয়েই আছে। এবার চৈত্রের শেষেই কয়েকটি বজ্র-বর্ষণ হয়ে গেছে। গ্রীষ্মের খরতাপে বিপর্যস্ত জীবনে বারিধারার অমিয় বর্ষণে নরম হয়ে যাওয়া বিগলিত মাটি বাঙালির কোমল হৃদয়কেই যেন মেলে ধরে। বাঙালি জীবনের এ বিচিত্র রূপের মোহনীয় আবেশে নতুন বছরের যাত্রা শুরু হয়েছে দু’দিন আগে। নানা রঙে রাঙিয়ে সব আয়োজনের ডালি সাজিয়ে বাঙালি নববর্ষ বরণ করেছে। রংবেরঙের পোশাকে ঢাকঢোল আর নানা বাদ্যে মাতোয়ারা সব কণ্ঠে সুধা ঢেলে সুর লহরি ছড়িয়ে দিয়েছে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। কবিগুরুর মতো আমাদের প্রত্যাশা, যা কিছু গ্লানি যা কিছু জরা- সব ধুয়ে মুছে যাক। বৃষ্টি ধোয়া আকাশ আর প্রকৃতি যেমন নিষ্পাপ-নির্দোষ, তেমনি আবেশ মেখেই যেন নতুন বছরের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। ঢাকের শব্দে মাতোয়ারা হয়েছে চারপাশ। চঞ্চল হয়ে উঠেছে ঢুলির হাতের কাঠি। নাচ-গানে ছন্দময় হয়েছে চারপাশ। পিঠাপুলি আর পায়েসের মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে দিয়েছে দখিনা বাতাস।
বৈশাখ এভাবে বারবার আসে নিজের চিরপরিচিত সাজে। সমাজ ও রাজনীতির অসুস্থ অবয়ব প্রতিবার শুদ্ধ করতে যেন অপেক্ষা করতে হয় বৈশাখের। ক্ষমতার রাজনীতির প্রচণ্ড স্বার্থপরতা ও অমানবিক আচরণ বিপর্যস্ত করে তুলেছে সংগ্রামী বাঙালির জীবন। সম্প্রতি রাজনীতির নামে অতিষ্ঠ করে তুলেছে জনজীবন এ দেশেরই রাজনীতি অঙ্গনের মানুষ। এজন্য সংশ্লিষ্ট রাজনীতিকদের কোনো পরোয়া যেন নেই। কোনো ক্ষমা ভিক্ষা নয়, নয় দুঃখ প্রকাশ বা সমবেদনা জানানো। আবহমান বাঙালির জীবনবোধের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
তবে মানতে হবে, সব অনাচার থেকে বাঙালিকে মুক্ত করতে বৈশাখ বরাবরই প্রাসঙ্গিক। সময়ের প্রয়োজনে বারবারই নিজের রূপে পরিবর্তন এনেছে সে। আজ যেভাবে নানা রঙে-বর্ণে বৈশাখের আয়োজন, আদিতে এমনভাবে নববর্ষের আয়োজন হয়নি। বাঙালির পঞ্জিকা বৈদিক যুগের সৌর পঞ্জিকার ধারাতেই তৈরি হয়েছিল। উৎসটি অভিন্ন থাকায় মিথিলা, আসাম, কেরালা, তামিলনাড়–, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, শ্রীলংকা ইত্যাদি জায়গার মতো মধ্য এপ্রিলে বাংলায় নববর্ষ পালিত হতো।
মোগলযুগের প্রথম দিকে হিজরি সন অনুযায়ী খাজনা আদায় করা হতো। তবে এতে সমস্যা ছিল। হিজরি সন তৈরি হয়েছে চান্দ্র পঞ্জিকা অনুসরণ করে। কৃষকের ফসল তোলার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। তাই বিরুদ্ধ ঋতুতে খাজনা পরিশোধ করা কৃষকের জন্য কষ্টসাধ্য ছিল। এ বাস্তব সংকটটি সম্রাট আকবরের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি এর সমাধান খোঁজার দায়িত্ব দেন সে সময়ের প্রখ্যাত পণ্ডিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহউল্লাহ সিরাজীকে। সিরাজী বৈদিক সৌর পঞ্জিকা ও হিজরি চান্দ্র পঞ্জিকার সমন্বয়ে বাংলা সন হিসাবের জন্য একটি পঞ্জিকা তৈরি করলেন। একে সম্পর্কিত করা হল কৃষকের ফসল কাটার সময়ের সঙ্গে। সাধারণের মুখে মুখে সনটির নাম হয়ে গেল ফসলি সন। অর্থাৎ কৃষিবর্ষ। পরে এ সনের নাম হয় বঙ্গাব্দ। সম্রাটের উদ্দেশ্য পরিষ্কার ছিল। কৃষকের গোলায় ফসল উঠবে। খাজনা পরিশোধে তাকে কোনো চাপে পড়তে হবে না। নতুন বাংলা সনের প্রবর্তন হয় বৈশাখ মাসের প্রথম দিন। তখন ইংরেজি ক্যালেন্ডারে তারিখ ছিল ১৫৮৪ সালের ১০ অথবা ১১ মার্চ। তবে এই সন গণনা কার্যকর হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসনে বসার দিন থেকে। অর্থাৎ ১৪ ফেব্র“য়ারি (মতান্তরে ৫ নভেম্বর) ১৫৫৬ সালে।
এসব ইতিহাসের সন-তারিখ বাদ দিলেও বলা যায়, নববর্ষ আদিকাল থেকে বাঙালি ঋতুভিত্তিক উৎসব হিসেবে পালন করত। কৃষির সঙ্গে ছিল এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ইরানি ভাবধারার প্রভাবে মোগলরা জমকালোভাবে নববর্ষ বা নওরোজ উৎসব পালন করত। বাংলা নববর্ষ প্রবর্তিত হওয়ার পর থেকে দিনটি সাড়ম্বরে উদযাপিত হতে থাকে। সম্রাট আকবরের সময় থেকে (১৫৫৬-১৬০৫) বিশ শতকে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলার গ্রাম-গঞ্জে আনন্দ-উদ্দীপনায় নববর্ষ পালিত হতো। বুঝতে হবে আজকের কলুষিত রাজনীতি এবং সামাজিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতিকবলিত জীবনবোধের সঙ্গে আবহমান বাঙালির ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার কোনো সম্পর্ক নেই।
জমিদারি যুগে নববর্ষ পালনে বিশেষ রেওয়াজ ছিল। জমিদার ও ছোট-বড় ভূস্বামীদের কৃষক চৈত্রের শেষ দিন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করত। নববর্ষের দিন প্রসন্ন চিত্তে জমিদাররা প্রজাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এ উপলক্ষে মেলাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। জমিদারদের মাধ্যমে এমনি করে আনুষ্ঠানিকভাবে নববর্ষ পালনের যাত্রা শুরু হয়। পরে বাঙালির জীবনে পহেলা বৈশাখ একটি বড় উৎসবে পরিণত হয়। জমিদারদের এ ধরনের অনুষ্ঠানের একটি বৃহত্তর রূপ ছিল পুণ্যাহ অনুষ্ঠান। প্রথমদিকে পুণ্যাহের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের সরাসরি সম্পর্ক ছিল না। পরে উনিশ শতকের মাঝামাঝি পুণ্যাহ অনুষ্ঠান নববর্ষের একটি অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। ব্রিটিশ-পূর্ব যুগে বিশেষ করে নবাবি আমলে পুণ্যাহ অনুষ্ঠানের প্রচলন ছিল বলে জানা যায়। এটি ছিল নবাব বা নবাবের দিউয়ানের কাছে জমিদার ইজারাদারদের বার্ষিক খাজনা পরিশোধের অনুষ্ঠান। খাজনা পরিশোধের ওপর ভিত্তি করে এদিন নতুন করে ভূমি বন্দোবস্ত দেয়া হতো। আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে নবাব ভূমি বন্দোবস্ত পাওয়ার যোগ্য জমিদার ইজারাদারদের সম্মানসূচক পোশাক পরিয়ে দিতেন। একইভাবে জমিদার তার প্রজাদের জন্য পুণ্যাহ পালনের অনুষ্ঠান করতেন। পুণ্যাহ উপলক্ষে নাচ-গান, যাত্রা-পালা, নৌকাবাইচ ইত্যাদি বিনোদনের আয়োজন করা হতো। সে যুগে নববর্ষ ঘিরে নয়, ফসল কাটাকে কেন্দ্র করেই পুণ্যাহের উৎসব হতো। উনিশ শতকের মাঝপর্বে এসে পুণ্যাহ অনুষ্ঠান নববর্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে নিয়মিতভাবে পুণ্যাহ উদযাপন হতে থাকে। ১৯৫০ সালে জমিদারি ব্যবস্থার বিলোপ ঘটার পর থেকে পুণ্যাহ উৎসবেরও অবসান ঘটে। এই যে পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের মধ্য দিয়ে জীবনযাত্রার ভারসাম্য, তা কি আমরা রক্ষা করতে পেরেছি বর্তমানের কঠিন বাস্তবতায়। রাজনীতির কুশলী শব্দে সাধারণ নাগরিককে রাষ্ট্রের মালিক বলছি আর প্রতিদিন তাদের জীবনকে করে তুলছি বিষময়।
যুগ যুগ ধরে ব্যবসায়ী, কৃষক ও নাগরিক সমাজের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্ব ও বৈচিত্র্য নিয়ে নববর্ষ পালন করত। এখনও বনেদি ব্যবসায়ীর কাছে নববর্ষ একটি পবিত্র দিন। এ ধারার ব্যবসায়ীরা বাংলা সনের হিসাবেই সাধারণত ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। তাই ব্যবসাকে ঘিরে হালখাতা ও খেরোখাতা দুটি শব্দের বাস্তবতা অনেক বেশি প্রত্যক্ষ। হালখাতা উৎসব উপলক্ষে নববর্ষের আগেই যথাসম্ভব বাকি আদায় করা হয়। হালখাতা অর্থাৎ নববর্ষের দিন হিন্দু ব্যবসায়ী নিয়মমতো পূজা-অর্চনা করে সবার মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন। মুসলমান ব্যবসায়ী মিলাদ পড়ে মিষ্টি বিতরণ করেন। এভাবে একটি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র নিয়ে যুগে যুগে নববর্ষ আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছে।
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার কৃষকের কাছে নববর্ষ একটি পবিত্র দিন। তাদের বিশ্বাস, নববর্ষের দিন ভালো কাটলে এর প্রভাব সারা বছর প্রতিফলিত হবে। নববর্ষকে কৃষিজীবী মানুষ কৃষির সাফল্যের প্রত্যাশায় বিশেষভাবে বরণ করত। এদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হতো। চেষ্টা করা হতো ভালো খাবার পরিবেশন করতে। নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য না থাকলে মানুষ ধোয়া কাপড় পরত। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব পরস্পরের খোঁজখবর নিত। শুভেচ্ছা বিনিময় করত। গ্রামে গ্রামে গেরস্থের বাড়িতে হরেক পিঠাপুলিসহ নানা লোকজ খাবারের আয়োজন করা হতো। গ্রামেগঞ্জে বৈশাখী মেলার আয়োজন ছিল নববর্ষের বিশেষ আকর্ষণ। এ সময় কৃষকের গোলায় থাকত ধান, ট্যাকে থাকত টাকা। ফলে নববর্ষের অনুষ্ঠান হতো আনন্দঘন।
নগরকেন্দ্রিক বৈশাখী উৎসবে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হয় ১৯৬৫ সালে। পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানতে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিল। একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের আমলে রবীন্দ্র চর্চার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাঁয়তারা চলতে থাকে। এই অশুভ উদ্দেশ্যকে মোকাবেলা করার জন্য ঢাকার সাংস্কৃতিক কর্মীরা ছায়ানট নামে সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলে। বাঙালি সংস্কৃতি লালন করার জন্য ছায়ানট পথে নেমে আসে। নববর্ষের প্রত্যুষে ঢাকায় রমনার বটমূলে সঙ্গীত মূর্ছনার মধ্য দিয়ে শুরু করে নববর্ষের আনন্দ আয়োজনের। এই আনন্দ পল্লবিত হয় নগরীর নানা অলিগলিতে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হচ্ছে বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যিক শক্তি। অভিন্ন ছাতার নিচে বাঙালি জাতিকে এমনভাবে একত্রিত করার আর কোনো দিবস আমাদের নেই। একটি জাতির পরিপূর্ণ বিকাশে সাংস্কৃতিক শক্তির ভূমিকা সবচেয়ে প্রবল। এই সাংস্কৃতিক শক্তি সঞ্জীবিত করার জন্য এমন প্রণোদনা প্রদায়ী আর কোনো দিবস বাংলা নববর্ষের বিকল্প হতে পারে না। প্রমাণ তো আমরা বারবার পেয়েছি। শোষক আর নিপীড়ক শক্তি যুগে যুগে ভয় পেয়েছে বাঙালি শক্তির আবাহনকে। তাই এককালে সেন রাজারা বাঙালির সংস্কৃতি চর্চাকে উপড়ে ফেলতে চেয়েছিল। ব্রাহ্মণ সেন রাজারা শূদ্র অভিধায় কোণঠাসা করে রাখা বাঙালির শিক্ষা চর্চাকে নিষিদ্ধ করেছিল। একইভাবে সংস্কৃতিশূন্য করে দেয়ার জন্য বাংলা ভাষাকে গ্রাস করতে চেয়েছিল পাকিস্তানি শাসকচক্র। কিন্তু বাঙালির দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগে তা সম্ভব হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশেও কি এই ষড়যন্ত্র থেমে ছিল? একই মানসিকতার শক্তি রমনার বটমূলে বোমা হামলায় মর্মান্তিকভাবে মানুষ হত্যা করে বাঙালির সংস্কৃতি চর্চাকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি। যুগ যুগ ধরে নববর্ষে সংস্কৃতি চর্চার যে নবায়ন, তা বাঙালির আত্মপ্রত্যয়কে বেগবান করেছে। ফলে বোমা হামলার পরের বছর থেকে নববর্ষে বাঙালি মুখরিত হয়েছে আরও অনেক শক্তি নিয়ে। রাজধানীকেন্দ্রিকতা ছাড়িয়ে সমগ্র দেশে নববর্ষের আনন্দ মিছিল পল্লবিত হয়েছে।
এই বাস্তবতা বলে দেয়, নববর্ষ উদযাপন শ্রেণী-ধর্ম নির্বিশেষে বাঙালির যে মিলনমেলা- এর প্রচণ্ডতা সব পংকিলতা ও অন্যায় থেকে বাঙালিকে রক্ষা করবে। এ সত্য সুবিধাবাদী ও লোভীগোষ্ঠী যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবে, ততই সবার মঙ্গল।
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]
 

বাতায়ন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close