¦
সীমান্ত চুক্তি ও ছিটমহলের স্বাধীনতা

আকমল হোসেন | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভেতর অস্বস্তির একটি কাঁটা উৎপাটিত হল ১৯৭৪ সালে সম্পাদিত সীমান্ত চুক্তিটি ভারতীয় আইনসভার দুই কক্ষ- রাজ্যসভা ও লোকসভায় পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে। এ চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভারতীয় সংবিধানের ১১৯ নম্বর সংশোধনীটি গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ একই লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালেই সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনী এনে চুক্তিটি আইনসভায় পাস করিয়ে নিয়েছিল। সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশকে নিজ নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূমি অপরকে হস্তান্তর করার বিধান থাকায় যার যার সংবিধান সংশোধন করে তা করতে হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে উন্নত করার ক্ষেত্রে সীমান্ত চুক্তিটি গৃহীত হওয়া নিঃসন্দেহে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ যা দেরিতে হলেও হয়েছে। অন্যদিকে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্তির সময় অভিন্ন সীমান্ত নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল এবং ৬৮ বছর ধরে যার সমাধান হয়নি, এখন তা সমাধানের ভিত্তিও তৈরি হল।
সিসিল র‌্যাডক্লিফ যখন দ্রুততার সঙ্গে মানচিত্রের ওপর ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রেখা টেনে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র দুটির জন্ম দিয়েছিলেন, তিনি বুঝতে পারেননি ভবিষ্যতের গর্ভে কী কী সমস্যার বীজ রোপণ করে গেলেন। সে বীজ থেকে সমস্যার চারা জন্ম নিয়ে ধীরে ধীরে তার ডালপালা ছড়িয়ে বড় হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দুদেশ সমস্যাটি সমাধানের গুরুত্ব বুঝতে পারার কারণে ১৯৭৪ সালে Indo-Bangladesh Agreement concerning the Demarcation of Land Boundary (যা সাধারণভাবে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নামে পরিচিত) নামে যে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়, তা ১৯৪৭ সালের অমীমাংসিত সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতাকে সার্বিকভাবে সমাধানের একটি কাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ শুরুতেই চুক্তিটি গ্রহণ করে আইনগত পদক্ষেপ নিলেও ভারতের দিক থেকে একে একে সমস্যা তৈরি হতে থাকে। প্রথমেই এ চুক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় এক নাগরিকের মামলার ফলে চুক্তি বাস্তবায়ন কাজ মুখথুবড়ে পড়ে। দ্রুততার সঙ্গে মামলা মোকাবেলা করা হলে হয়তো বাস্তবায়নে গতি সঞ্চারিত হতো, কিন্তু তা করা হয়নি। একপর্যায়ে ভারত রাষ্ট্রের পক্ষে মামলার সফল নিষ্পত্তি হলেও বিষয়টি ভারতের কেন্দ্র-রাজ্য রাজনীতির জটিলতার মধ্যে পড়ে যায়। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও চুক্তি বাস্তবায়নের ভিত্তি রচনা সম্ভব হয়নি, শেষ মুহূর্তে মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে অনিচ্ছা প্রকাশের কারণে। যদিও তিস্তা চুক্তির বিষয়টি নিয়ে মমতার আপত্তি ছিল; কিন্তু তিনি না আসায় সীমান্ত চুক্তি নিয়ে যে প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছিল তাতে ভূমি বিনিময়ের সুনির্দিষ্ট সময় ২০১২ সালের ৩১ মার্চ স্থির করেও পরে হাতে লিখে তা সংশোধন করা হয়। এক্ষেত্রে অপদখলীয় জমি জরিপ করে তৈরি করা মানচিত্র মুদ্রণ ও বিনিময়কে ছিটমহল বিনিময়ের সঙ্গে একত্রে করা হবে এ কথাটি হাতে লিখে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন সব রাজ্যের অংশগ্রহণে একটি চুক্তির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হল না।
আবার ছিটমহল বিনিময় হলে বাংলাদেশ বেশি জমি পারে বলে মমতা আপত্তি তুলেছিলেন। তার এ ধরনের আপত্তির কোনো ভিত্তি ছিল বলা যাবে না। কারণ দুদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিটমহলগুলো বিনিময় হলে সংখ্যা ও জমির পরিমাণ বেশি বলেই বাংলাদেশের ভাগে জমি বেশি আসবে এটা স্বাভাবিক। এবারও শেষ মুহূর্তে আসাম বিজেপির কারণে আসামকে বাদ দিয়ে চুক্তি গ্রহণের যে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছিল, তাতে ৭৪-এর চুক্তিটিকে খণ্ডিতভাবে গ্রহণের আশংকা তৈরি হয়েছিল। আসামে বিজেপি, অগপের মতো দলগুলো বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কথিত অবৈধ অভিবাসী ইস্যুকে চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে বাধা দিয়ে এসেছে। মোদি সরকারও আসাম বিধানসভা নির্বাচনের আগে চুক্তি বাস্তবায়ন করে ভোটের ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক থাকায় আন্তর্জাতিক চুক্তিকে খণ্ডিতভাবে দেখার এক অনাকাক্সিক্ষত উদাহরণ রাখতে যাচ্ছিল। আসাম কংগ্রেসের চাপে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।
এখানে উল্লেখ করা দরকার, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। বরং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কথায় আশংকা তৈরি হয় যখন তিনি বলেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের কারণে এতে আংশিক কোনো পরিবর্তন এলে সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা এলে আমরা তা ভেবে দেখব (প্রথম আলো, ৫ মে ২০১৫)। আসামকে বাদ দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়ন করতে সম্মত হলে বাংলাদেশ কি ভূখণ্ড বিনিময়ে আসামের ক্ষতি ও অবৈধ অভিবাসী ইস্যু নিয়ে বিজেপির বক্তব্যকে গ্রহণ করত না?
১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ভূখণ্ডগত তিনটি দিক আছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বেলায় সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এ চুক্তির ৫টি ধারায় দুদেশের সীমান্ত কোথায় কীভাবে চিহ্নিত করা হবে তা বর্ণনা করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, উভয় দেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিটমহলগুলো দ্রুততার সঙ্গে বিনিময়ের বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যে অতিরিক্ত ভূখণ্ড পাবে তার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না। তৃতীয়ত, অপদখলীয় জমি বিনিময় করা হবে। চুক্তির তৃতীয় ধারা অনুযায়ী ভূমি বিনিময়ের ফলে যে ভূখণ্ডটি যে রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হবে সে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সেই ভূখণ্ডের অধিবাসীরা বসবাসের অধিকারী হবেন। ছিটমহলের বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে এ ধারাটি সংযোজন করা হয়েছিল বোঝা যায়। চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল- ভারতের অভ্যন্তরে দহগ্রাম-অঙ্গরপোতা ছিটমহল বাংলাদেশের মালিকানায় থাকবে এবং তার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগের জন্য তিন বিঘার সংলগ্ন ১৭৮ী৮৫ মিটার আয়তনের এক করিডোর চিরস্থায়ীভাবে লিজ দেয়া হবে। এর পরিবর্তে ১২ নং দক্ষিণ বেরুবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণাংশ ও সংলগ্ন ছিটমহলের (প্রায় ২ দশমিক ৬৪ বর্গমাইল) ওপর ভারতের মালিকানা অব্যাহত থাকবে।
১৯৭৪-এর চুক্তি বাস্তবায়নের বেলায় বাধাগুলো ভারতের দিক থেকে এসেছে, যা আগেই বলা হয়েছে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বাধা থাকলেও তিন বিঘা করিডোর নিয়ে দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা চলেছে। ১৯৮২ সালে তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দিল্লি সফরের সময় এ করিডোর নিয়ে কিছু সমঝোতা হয়। যাতে চিরস্থায়ী লিজের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। কিন্তু করিডোরটি বাংলাদেশকে হস্তান্তরে ১৯৯২ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার দিল্লি সফরের সময় চূড়ান্তভাবে করিডোরটি বাংলাদেশকে ব্যবহার করতে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অন্যদিকে অভিন্ন সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট স্থানগুলো চিহ্নিত করে লাইন টানা হয়েছিল। শুধু ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার সীমান্ত (পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে অবস্থিত) এখন চিহ্নিত হলেও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে।
চুক্তির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়টি ১৯৫৮ সাল থেকে ঝুলে আছে। সে বছর নুন-নেহেরু চুক্তিতে দ্রুততার সঙ্গে বিনিময় সম্পন্ন করার প্রসঙ্গটি ছিল। কিন্তু পাকিস্তান যুগ এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশ যুগেও বিনিময়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। ১৯৭৪-এর চুক্তিতে দ্রুততার বিষয় উল্লেখ থাকলেও চুক্তি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ না নেয়ায় বিনিময়ের প্রশ্ন ওঠেনি। একই সঙ্গে অপদখলীয় জমির বিষয়টি অবহেলিত থেকে গেছে। ভারত বিভক্তির সময় কিছু কিছু ভূমি দুদেশের মধ্যে থেকে গেছে, যার মালিকানার বিষয়টি সঠিকভাবে ফয়সালা করা হয়নি। এ কারণেই এগুলো অপদখলীয় বলে চিহ্নিত করা হয়। তবে ছিটমহলের বাসিন্দারা আইনত অন্যদেশের নাগরিক হলেও কার্যত তা নন। যে দেশের সীমানায় তাদের ভূমি অবস্থিত, তা অতিক্রম করে নিজ দেশে তাদের গমনাগমন সহজ নয় বলেই তাদের পক্ষে নাগরিক হিসেবে অধিকার ও দায়িত্ব পালন সম্ভব হয় না। আইনত তারা যে রাষ্ট্রের নাগরিক ওই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব তাদের ভূখণ্ডের ওপর প্রযোজ্যও হয় না। এসব বিবেচনায় ছিটমহলবাসী রাষ্ট্রবিহীন ভূখণ্ডের বাসিন্দা। তাদের কোনো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় কোনো মর্যাদাও নেই। এতদিন তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সব কর্মকাণ্ড পার্শ্ববর্তী দেশে বেআইনিভাবে করে এসেছেন। ৬৮ বছর ধরে তাদের এ অবস্থা চলছে। আধুনিক যুগে একজন ব্যক্তির পরিচয় তিনি কতদূর একরাষ্ট্রিক পরিচয়ে তার রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও শিক্ষা-সাংস্কৃতিক অধিকার ভোগ করতে পারেন। ছিটমহলবাসীর সে অধিকার না থাকায় তিনি স্বাধীন মানুষ বলে পরিগণিত হতেন না। ভারতের দ্বারা ৭৪-এর চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে তাদের স্বাধীন সত্তা প্রকাশের পথ উন্মোচিত হয়েছে বলা যায়। তবে অপদখলীয় ভূমিতে বসবাসকারীদের সমস্যা ছিটমহলবাসী থেকে ভিন্ন বলে মনে হয়। তাদের নাগরিকত্বের সমস্যা ছিল না, কিন্তু অপদখলীয় ভূমি বিনিময় হলে পরে তাদের নাগরিক পরিচয় বদলে যাওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। এতে অন্যান্য সমস্যার সঙ্গে একটি মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ভারতের ছিটমহলগুলো বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে আরেকটি নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে বলা হচ্ছে। ছিটমহল বিনিময় হলে অনেক মানুষ ভারতে চলে যেতে পারে এবং তাদের পুনর্বাসন করতে হবে বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রের কাছ থেকে বিশেষ অনুদান চেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার তা দিতে তহবিলও বরাদ্দ করেছে বলা হচ্ছে। এসব মানুষ কি ইতিমধ্যে ভারতে যাওয়া ছিটমহলের মানুষ, না নতুন করে যারা যাবেন তারা? কিন্তু ৬৮ বছর ধরে যারা দুঃখ-কষ্টের ভেতর নিজ ভূমিতে বসবাস করছেন, তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়ে কী কারণে স্বদেশ ভূমি ছাড়তে হবে তা আমাদের ভাবা দরকার। সামাজিক সম্পর্কের ভেতর এমন কী পরিবর্তন এসেছে বা আসতে পারে যে তাদের বাস্তুচ্যূত হতে হবে? বাংলাদেশ সরকার, রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতৃত্বকে এ সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে এখন। যার যার করণীয় নির্ধারণে দুদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করবে, এটা সবার প্রত্যাশা। এ ব্যাপারে কোনো দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়। বিশেষ করে ছিটমহলের মানুষ তাদের নাগরিক পরিচয়ে প্রাপ্য অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে আগ্রহী। তবে অপদখলীয় ভূমি বিনিময়ের সঙ্গে এর বাসিন্দারা যে ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে, তা কীভাবে সমাধান করা হবে তাও ভাবতে হবে।
০৮.০৫.২০১৫
ড. আকমল হোসেন : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]
বাতায়ন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close