jugantor
সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার অবসান হওয়া উচিত

  মোবাশ্বের হোসেন  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

মঙ্গলবার রাজধানীর কদমতলীর শ্যামপুর এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় অসতর্কতাবশত স্যুয়ারেজের খোলা ম্যানহোলে পড়ে করুণ মৃত্যু হয়েছে শিশু নীরবের। ইসমাইল হোসেন নীরবের বয়স মাত্র সাড়ে ৫ বছর। তার মৃত্যুতে সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছে। গতকাল এবং আজ মিডিয়ার অন্যতম আলোচ্য বিষয় নীরবের করুণ মৃত্যু। নীরবের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুরে ওয়াসার পরিত্যক্ত পাইপে পড়ে জিহাদ নামের যে শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল, সে প্রসঙ্গটিও আলোচনায় আসবে। একটি করে দুর্ঘটনায় হতাহতের পর আমরা মিডিয়ায় এ নিয়ে আলোচনা কবর; এরপর বিষয়টি স্তিমিত হয়ে যাবে; এভাবে কতদিন চলবে? বিপুলসংখ্যক জনগণের বসবাস এ রাজধানী শহর যেভাবে চলার কথা সেভাবে চলছে না। এখানে সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতায় নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা বহুবার বলেছি, আমাদের এ রাজধানীর মতো মেগাসিটিতে সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার অবসানে এখানে নগর সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা মহানগরীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাজ করে ৫৪টি সংস্থা। এ ৫৪টি সংস্থা সাতটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উল্লিখিত সংস্থাগুলোর মধ্যে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। সেসব জটিলতার অবসান না হলে যে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক। ব্যাপক সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নেও দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। প্রতিটি সংস্থার বিধিবিধানে উল্লেখ রয়েছে, অন্য সংস্থার বিধিবিধানে যা-ই উল্লেখ থাকুক, যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আপনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। প্রতিটি সংস্থার বিধিবিধানেই এ কথা উল্লেখ আছে। তাই নিজ নিজ সংস্থার বিধিবিধান অনুসারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে।

উদাহরণ হিসেবে স্যুয়ারেজ লাইন ও ম্যানহোলের বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। ম্যানহোল প্রয়োজনে যে কোনো প্রতিষ্ঠানই তৈরি করতে পারে। যে প্রতিষ্ঠানই ম্যানহোল তৈরি করুক না কেন, এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের ওপরেই বর্তায়। এ বিষয়ক বিভিন্ন কাজে সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় জরুরি।

সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসার ম্যানহোল ছাড়াও রাজধানীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ম্যানহোল রয়েছে। রাজধানীতে চলার পথে প্রায়ই ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল চোখে পড়ে। সেসব ম্যানহোলে বাঁশের খুটির মাধ্যমে সতকবার্তা দেয়া হয়। এলাকার কেউ বাঁশের খুটিতে লাল কাপড় বেঁধে পথচারীদের সুবিধার্থে এ কাজটি করে থাকেন। সব সময় ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল এলাকাবাসীর চোখে পড়ে না। সেজন্য সেসব ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে গাড়ির চাকা আটকে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে সয়লাব হওয়া এখন একটা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পানিতে সয়লাব হওয়া সড়কে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে মানুষের দুর্ভোগ কী ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। রাজধানীর কোনো সড়কেই যাতে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল না থাকে তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ কথা আমরা এর আগে বহুবার বলেছি। ওয়াসা এবং সিটি কর্পোরেশনের কাজে সমন্বয় না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।

আমরা লক্ষ করেছি, বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের রাস্তা খোঁড়াখুড়িঁর কারণে জনগণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। একবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির ভোগান্তি শুরু হলে তা যেন সহসা শেষ হতেই চায় না। লক্ষ করা যায়, কোনো একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষে রাস্তা মেরামতের মাত্র কিছুদিন পর অন্য এক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষে রাস্তা মেরামতের মাত্র কিছুদিন পরই অন্য আরেকটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। এভাবে কোনো কোনো রাস্তায় বছরের বেশিরভাগ সময় জনদুর্ভোগ লেগেই থাকে। অথচ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সমন্বয় থাকলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করত না। উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকলে অর্থের সাশ্রয় হতো। নিয়ম না মেনে যেসব প্রতিষ্ঠান রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, জনগণ এটাই দেখতে চায়।

রাজধানীতে চলার পথে নগরবাসী প্রতিদিন যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন তার অন্যতম যানজট। এ সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যা থেকে নগরবাসীর পরিত্রাণের বিষয়টি নির্ভর করছে নগর সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর। নগর সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে নগরবাসীর বহুমুখী ভোগান্তির অবসান হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। অনেক দেশেই মেয়রের নেতৃত্বে নগর সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেসব উদাহরণ সামনে রেখে বাংলাদেশে নগর সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে নগরবাসীর বহুমুখী ভোগান্তির অবসান হবে এমনটা আশা করা যায়।

মোবাশ্বের হোসেন : সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউিট




 

সাবমিট

সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার অবসান হওয়া উচিত

 মোবাশ্বের হোসেন 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

মঙ্গলবার রাজধানীর কদমতলীর শ্যামপুর এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় অসতর্কতাবশত স্যুয়ারেজের খোলা ম্যানহোলে পড়ে করুণ মৃত্যু হয়েছে শিশু নীরবের। ইসমাইল হোসেন নীরবের বয়স মাত্র সাড়ে ৫ বছর। তার মৃত্যুতে সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছে। গতকাল এবং আজ মিডিয়ার অন্যতম আলোচ্য বিষয় নীরবের করুণ মৃত্যু। নীরবের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুরে ওয়াসার পরিত্যক্ত পাইপে পড়ে জিহাদ নামের যে শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল, সে প্রসঙ্গটিও আলোচনায় আসবে। একটি করে দুর্ঘটনায় হতাহতের পর আমরা মিডিয়ায় এ নিয়ে আলোচনা কবর; এরপর বিষয়টি স্তিমিত হয়ে যাবে; এভাবে কতদিন চলবে? বিপুলসংখ্যক জনগণের বসবাস এ রাজধানী শহর যেভাবে চলার কথা সেভাবে চলছে না। এখানে সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতায় নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা বহুবার বলেছি, আমাদের এ রাজধানীর মতো মেগাসিটিতে সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার অবসানে এখানে নগর সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা মহানগরীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাজ করে ৫৪টি সংস্থা। এ ৫৪টি সংস্থা সাতটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উল্লিখিত সংস্থাগুলোর মধ্যে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। সেসব জটিলতার অবসান না হলে যে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক। ব্যাপক সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নেও দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। প্রতিটি সংস্থার বিধিবিধানে উল্লেখ রয়েছে, অন্য সংস্থার বিধিবিধানে যা-ই উল্লেখ থাকুক, যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আপনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। প্রতিটি সংস্থার বিধিবিধানেই এ কথা উল্লেখ আছে। তাই নিজ নিজ সংস্থার বিধিবিধান অনুসারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে।

উদাহরণ হিসেবে স্যুয়ারেজ লাইন ও ম্যানহোলের বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। ম্যানহোল প্রয়োজনে যে কোনো প্রতিষ্ঠানই তৈরি করতে পারে। যে প্রতিষ্ঠানই ম্যানহোল তৈরি করুক না কেন, এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের ওপরেই বর্তায়। এ বিষয়ক বিভিন্ন কাজে সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় জরুরি।

সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসার ম্যানহোল ছাড়াও রাজধানীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ম্যানহোল রয়েছে। রাজধানীতে চলার পথে প্রায়ই ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল চোখে পড়ে। সেসব ম্যানহোলে বাঁশের খুটির মাধ্যমে সতকবার্তা দেয়া হয়। এলাকার কেউ বাঁশের খুটিতে লাল কাপড় বেঁধে পথচারীদের সুবিধার্থে এ কাজটি করে থাকেন। সব সময় ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল এলাকাবাসীর চোখে পড়ে না। সেজন্য সেসব ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে গাড়ির চাকা আটকে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে সয়লাব হওয়া এখন একটা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পানিতে সয়লাব হওয়া সড়কে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে মানুষের দুর্ভোগ কী ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। রাজধানীর কোনো সড়কেই যাতে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল না থাকে তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ কথা আমরা এর আগে বহুবার বলেছি। ওয়াসা এবং সিটি কর্পোরেশনের কাজে সমন্বয় না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।

আমরা লক্ষ করেছি, বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের রাস্তা খোঁড়াখুড়িঁর কারণে জনগণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। একবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির ভোগান্তি শুরু হলে তা যেন সহসা শেষ হতেই চায় না। লক্ষ করা যায়, কোনো একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষে রাস্তা মেরামতের মাত্র কিছুদিন পর অন্য এক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষে রাস্তা মেরামতের মাত্র কিছুদিন পরই অন্য আরেকটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। এভাবে কোনো কোনো রাস্তায় বছরের বেশিরভাগ সময় জনদুর্ভোগ লেগেই থাকে। অথচ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সমন্বয় থাকলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করত না। উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকলে অর্থের সাশ্রয় হতো। নিয়ম না মেনে যেসব প্রতিষ্ঠান রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, জনগণ এটাই দেখতে চায়।

রাজধানীতে চলার পথে নগরবাসী প্রতিদিন যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন তার অন্যতম যানজট। এ সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যা থেকে নগরবাসীর পরিত্রাণের বিষয়টি নির্ভর করছে নগর সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর। নগর সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে নগরবাসীর বহুমুখী ভোগান্তির অবসান হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। অনেক দেশেই মেয়রের নেতৃত্বে নগর সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেসব উদাহরণ সামনে রেখে বাংলাদেশে নগর সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে নগরবাসীর বহুমুখী ভোগান্তির অবসান হবে এমনটা আশা করা যায়।

মোবাশ্বের হোসেন : সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউিট




 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র