¦
নারীর ক্ষমতায়ন মানবতার উন্নয়ন

রীতা ভৌমিক | প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৫

সমান দক্ষতার সঙ্গে চললেই নারীর ক্ষমতায়ন হবে
নূরজাহান বেগম
সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’ সব সময় নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামের পিছিয়ে পড়া নারীদের যত দ্রুত এগিয়ে আনা সম্ভব ততই দেশের উন্নয়ন হবে। গ্রামীণ নারীকে এগিয়ে আনার ক্ষেত্রে তার প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চাকরি করার স্বাধীনতাও থাকতে হবে। সেসঙ্গে দেশের পিছিয়ে পড়া মেয়েদেরও এগিয়ে নিতে হবে। একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে নারী-পুরুষের চলার গতি সহজতর হওয়ার ওপর। সমান দক্ষতার সঙ্গে চললেই নারীর ক্ষমতায়ন হবে।
নারীই পারে প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনায় এগিয়ে দিতে
সেলিনা হোসেন
ক্ষমতায়ন কোনো মানবিক দর্শন নয়। ক্ষমতায়নকে মানবিক অভিধায় ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, শিক্ষা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সততা, শুভবোধ ইত্যাদি চেতনার কালগত গভীর আলো। এই সত্য নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্যই জরুরি। যদি কেউ মনে করেন, আমি অমুক জায়গায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে যা খুশি তা করার অধিকার পেয়েছি, তাহলে সেটি ভুল চিন্তা হবে। কারণ ক্ষমতার জায়গায় ব্যক্তির অধিষ্ঠান কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়। সেটা সামগ্রিক কল্যাণের স্বার্থে ব্যবহৃত হবে। ব্যক্তির চিন্তা ক্ষমতার জায়গাটিকে নির্ধারিত করবে মানবিক চেতনার বোধ থেকে। তিনি যে জায়গায় আছেন সেই জায়গাটিকে সততা, নৈতিকতা এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কর্মযজ্ঞ দিয়ে পরিচালিত করবেন। ক্ষমতার পরিধিকে আলোকিত করা ব্যক্তির দায়িত্ব। নইলে ক্ষমতায়ন নানা ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ইতিহাসে এমন বিপর্যয়ের অনেক দৃষ্টান্ত আছে।
এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘নারীর ক্ষমতায়ন, মানবতার উন্নয়ন’। স্লোগান হিসেবে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এর একটি কার্যকর দিক আছে। স্লোগান সামনে রেখে নারী তার কার্যক্ষেত্রকে মানবিকতার উন্নয়নে সচেষ্ট হবেন। নিজের চারপাশের সবাইকে অনুপ্রাণিত করবেন। এর বিপরীতে নারী তার অবস্থানকে অবমূল্যায়ন করতে পারবেন না কিংবা স্লোগানের অপব্যবহারের দিকটি সম্পর্কে উদাসীন থাকবেন তাও কাম্য নয়।
২০১৫ সালের বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নের জায়গা সুশৃংখল রাখতে পারেনি। সেটা রাজনৈতিক বা সামাজিক যেভাবেই হোক না কেন। অগ্নিদগ্ধ মানুষের হাহাকার, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ, হতদরিদ্র মানুষের জীবিকা নির্বাহের জায়গা নষ্ট ইত্যাদি আরও নানা বিপর্যয় এ সত্যকে চিত্রিত করে। রাজনীতির আন্দোলনের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই নারীর অবস্থানকে সমুন্নত করে না। সেদিকে তাকিয়েই বলা যায়, আজকের স্লোগানটি নারীকে সুস্থির করবে এমন প্রত্যাশা থাকতেই পারে সবার।
ক্ষমতায়ন নারীর জন্য নানা পরিসর বৃদ্ধির সহায়ক। নারী পারে মমতায়, ভালোবাসায় সাধারণ মানুষের কল্যাণের অনুভবকে বড় করে তুলতে। ক্ষমতার যে জায়গাতেই তিনি থাকুন না কেন সেখানে সঠিক সিদ্ধান্তটি সঠিক সময়ে গ্রহণ করলে উপকারভোগীর জরাজীর্ণ অবস্থার পরিবর্তন হয়। মাতৃত্বের বোধ নারীর নিজস্ব শক্তি। পরিবর্তনের জন্য মাতৃত্বের এ শক্তি নারীকে এগিয়ে দেয়। নারীই পারে প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনায় এগিয়ে দিতে। প্রজন্মের সামগ্রিক সত্তাটি মায়ের আদরের উষ্ণ স্নিগ্ধতায় পূর্ণ করার দায়িত্ব নারীর। এ বছরের ‘নারীর ক্ষমতায়ন মানবতার উন্নয়ন’ স্লোগানটি এই সত্যে নারীকে উদ্ভাসিত করবে মানবতার উন্নয়নে সবটুকু নির্যাসে। জয় হোক নারীর ক্ষমতায়নের কল্যাণমুখী ধারণার।
বঞ্চনার এ গ্লানি থেকে মুক্তির জন্য নারীর ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই
ফারাহ কবির
সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও, ধনী-গরিব নির্বিশেষে যুগ যুগ ধরে নারীরা তাদের অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়ে এসেছেন। বঞ্চনার এ গ্লানি থেকে মুক্তির জন্য নারীর ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই, যা হতে হবে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক- সবগুলো ক্ষেত্রে এবং ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে।
বিশ্বব্যাপী আজ নারীরা সবক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার মাধ্যমে চিন্তা-চেতনায়, কর্মদক্ষতায় পরিবার থেকে শুরু করে আন্তর্জািতক পর্যায় পর্যন্ত অবদান রেখে চলেছেন। তারপরও নারীর প্রতি সামাজিক ও কাঠামোগত বৈষম্য, বৈরিতার অবসান হচ্ছে না। নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেই চলেছে। তাছাড়া নারী কৃষক ও নারীর সেবামূলক কাজের (unpaid care work)মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। আমি বিশ্বাস করি, নারীর কাজের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের মাধ্যমে, নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সার্বিকভাবে যা বৃহত্তর মানব সমাজের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নারীকে যুক্ত হতে হবে
ফরিদা আখতার
নারী অধিকারের ক্ষেত্রে আমরা শুধু খণ্ডিত অধিকার পেয়েছি। সামগ্রিক অধিকারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মৌলিক অধিকার- মতপ্রকাশের অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার থাকতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশ যত অগণতান্ত্রিক হবে নারীর অধিকার তত খর্ব হবে। মানবতা লংঘিত হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নারীকে যুক্ত হতে হবে। তা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন বলতে আমাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেখানে নারীর অধিকার লংঘিত না হয়। একজন নারী যে কোনো রাজনীতি মতাদর্শের হতে পারেন। নারী সব পর্যায়ে রয়েছেন এরকম আমরা কিছু ভ্রান্ত ধারণা লালন করি। ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে, এমনকি আদিবাসী নারীরও অধিকার নিশ্চিন্ত হলে মানবতার উন্নয়ন সম্ভব। মতাদর্শের দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠের দিক বিবেচনা করলে আমাদের নারীর বৈচিত্র্যময় অবস্থানে থেকে সমান এবং মর্যাদাপূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ প্রতিষ্ঠা আদায়ের জন্য আমাদের লড়াই করতে হবে। নারী আন্দোলনে একটা গুণগত পরিবর্তন দরকার। নারীকে একজন গণতান্ত্রিক মানুষ হিসেবে সক্রিয় হতে হবে। নারী নিজেই গণতান্ত্রিক পরিবেশে যুক্ত হবে।
সমঅধিকার কায়েম করতে হলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রয়োজন
রোকেয়া কবীর
প্রত্যেক বছর আমরা ৮ মার্চ পালন করি সারা পৃথিবীর নারীর সমঅধিকার আদায়ের লক্ষ্যে। সম অধিকারের বিষয়টি পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যায় পর্যন্ত। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সর্বক্ষেত্রে এ সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় পৃথিবীব্যাপী নারী আন্দোলনসহ অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো কাজ করছে। এর উদ্দেশ্য একটাই নারীর সমঅধিকার কায়েম করতে হলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা হলেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে এবং মানবাধিকারের অগ্রযাত্রা হবে। এখন বাংলাদেশে উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমান অধিকারসহ অর্থনীতি, রাজনীতিতে সমান অধিকারের জন্য কাজ করছে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন নারীর সমঅধিকার বিরুদ্ধ শক্তিকে পরাস্ত করলেই আমাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তাহলেই নারীর ক্ষমতায়ন হবে। মানবতার উন্নয়ন হবে।
নারীকে স্বশিক্ষিত মানুষ হতে হবে
অ্যাডভোকেট এলিনা খান
নারীর ক্ষমতায়ন বলতে নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলেই তার ক্ষমতায়ন হবে তা নয়। সেই সঙ্গে তার অর্থ পরিচালনার ক্ষমতা, স্বাধীনতা থাকতে হবে। চাকরিজীবী নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজে মতামত নিশ্চিত হবে তখনি একজন নারীর ক্ষমতায়ন হবে। অন্যদিকে নারীর নিজের অর্থ না থাকলেও পরিবারে তার মতামতের স্বাধীনতা ও পারিবারিক সিদ্ধান্তে তার মতামত গ্রহণ করা হলেই নারীর ক্ষমতায়ন হবে। বাবা ও শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নের মূল বাধা। মা-ভাইয়েরা মেয়ে-বোনকে সম্পত্তি দিতে চায় না। এ ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সচেতনতা আনতে হবে। লেখাপড়া শিখলেই নারী মুক্তি হয় না। নারীকে স্বশিক্ষিত মানুষ হতে হবে। নারী যদি উচ্চমানের ধারণা পোষণ করতে না পারেন তাহলে শিক্ষিত হলেও তার ক্ষমতায়ন হবে না। অনেকে মনে করেন, নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মীয় ব্যক্তিরা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তা সবসময় ঠিক নয়। পরিবার, সমাজই নারীর ক্ষমতায়নের মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নারী পরিবার, শিক্ষা, সম্পত্তি, সমাজ থেকে বের হয়ে কর্মক্ষেত্রে এসে যৌন হয়রানির শিকার হয়। এ প্রতিবন্ধকতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে।
নারীর ক্ষমতায়নের কারণে নারীর উন্নয়ন হয়েছে, হয়েছে মানবিক উন্নয়ন
অ্যারোমা দত্ত
নারীর উন্নয়ন অপরিহার্য। মানবিক উন্নয়নের মানদণ্ডে আনতে হলে নারীর ক্ষমতায়ন না হলে নারীর উন্নয়ন হবে না। নারীর উন্নয়ন না হলে মানবিক উন্নয়ন হয় না। যে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন নেই, সে দেশে নারী মানবতা খুবই নিু পর্যায়ে রয়েছেন। আমাদের দেশে নারীর উন্নয়ন বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অনেক এগিয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক অমর্ত্য সেন তার গবেষণায় তুলে ধরেছেন, অন্য দেশের নারীর তুলনায় বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের নারীরা অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। জাতীয় সংসদে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীরা সরাসরি অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সংসদ সদস্য হয়েছেন। স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণে তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের উন্নয়ন হচ্ছে। শিক্ষা, সরকার, জুডিশিয়াল, সোশ্যাল সিকিউরিটি, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, ব্যাংক, প্রকৌশল, চিকিৎসা ক্ষেত্রে আমাদের নারীর অংশগ্রহণ রয়েছে। নারী সর্বক্ষেত্রে যোগ্যতা অর্জন করেছে। নারীর ক্ষমতায়নের কারণে নারীর উন্নয়ন হয়েছে, হয়েছে মানবিক উন্নয়ন ।
যারা নীতিনির্ধারণী পদে রয়েছেন তারা নিজ যোগ্যতায় জায়গা করে নিয়েছেন
গুলসান নাসরীন চৌধুরী
এবারের স্লোগান ‘নারীর ক্ষমতায়ন মানবতার উন্নয়ন’। বর্তমান সমাজে আমরা যে অরাজকতা দেখছি, তা মানবতার অবমূল্যায়ন। এজন্য কি আমরা আমাদের পুরুষশাসিত সমাজকে দায়ী করতে পারি না? নিশ্চয়ই পারি, কারণ আমাদের নারীর অধিকার রক্ষায় সুপ্রিমকোর্ট অনেক রায় দিয়েছেন। যার বাস্তবায়ন এবং সুফল এখনও নারীরা সঠিকভাবে পাচ্ছেন না। নারী যদি আইন প্রয়োগের ক্ষমতা লাভ করতেন তাহলে আজকের নারীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে যে অধিকার অবমাননার শিকার হন এবং বাল্যবিয়ে ইত্যাদি যেসব সংকট আছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। মানবতার উন্নয়ন তখনি হতো। একজন নারী, একজন মা, আর একজন মা’ই পারে তার সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। আর একজন আদর্শ মানুষই পারে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে। একজন মাকে অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষমতাবান হতে হবে। কারণ নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে একজন মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান হতে হয়। নারী ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, রাজনীতি সবক্ষেত্রেই পারদর্শিতা দেখাতে পারেন। যারা নীতিনির্ধারণী পদে রয়েছেন তারা নিজ যোগ্যতায় জায়গা করে নিয়েছেন।
ইতিবাচক মানসিকতা প্রতিষ্ঠিত হলেই মানবিকবোধ ও মানবতার উন্নয়ন ঘটবে
শাহিদা খাতুন
যেখানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী; সেখানে দেশ, সমাজ, তথা রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন বহুসংখ্যক নারীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়া পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না। বাস্তবতা হল- যদিও বাংলাদেশের নারীরা নীতিনির্ধারণের উচ্চপর্যায়ে, সরকারি-বেসরকারি নানা সেক্টরে, শিক্ষা-চিকিৎসা, ব্যাংক-বীমাসহ বহুক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে; তথাপি এখনও নারীর প্রতি বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। কখনও কখনও একতরফা বিবাহ-বিচ্ছেদ, অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে, একাধিক বিয়ে, যৌতুকের শিকার, সম্পত্তির উত্তরাধিকার ও পুরুষের সমান মজুরি থেকে বঞ্চিত হওয়া ইত্যাদি নানাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পুরুষতান্ত্রিক গতানুগতিক মানসিকতার পরিসমাপ্তি ঘটেনি। এখনও ধর্মের দোহাই দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি নারী সমাজকে নানাভাবে অবরুদ্ধ রাখতে চায়। যদিও বাংলাদেশের নারীরা এসব প্রতিহত করে জীবনের বহুমাত্রিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব ধরনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য সোচ্চার রয়েছে এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভূমিকাও রাখছে। পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে নারীর অবদান মূল্যায়ন হতে হবে। এ মূল্যায়নের ফলে নারীর পরিচয় নতুন আলোয় ভাস্বর হবে।
ধর্মীয় কুসংস্কারকে দূরে রেখে আলোর পথে এগুতে হবে
সাদেকা হাসান সেঁজুতি
বাংলাদেশের অর্ধেক নারী- এ পরিপ্রেক্ষিতে নারীর উন্নয়ন তখনি হবে যখন কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ থাকবে। সেটা ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ পর্যায় পর্যন্তও হতে পারে। একজন কর্মক্ষম নারী তার শ্রমের বিনিময়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হলে পরিবার, সমাজ তার মতামতের গুরুত্ব দেবে। এর ফলে তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। তৃণমূল পর্যায়ের নারীরা মৌলবাদীতে বিশ্বাসী হয়ে উঠছেন। এতে তার অগ্রযাত্রা যেমন ব্যাহত হবে, মানবিক উন্নয়নের দ্বারও রুদ্ধ হবে। যে যার মতো নিজ ধর্মে বিশ্বাসী হবেন, পালন করবেন, এটি সত্যি! তাই বলে ধর্মীয় কুসংস্কারে বিশ্বাসী হয়ে মানবতার উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কোনো নারীর জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না। এ কুসংস্কার থেকে তাদের বের হয়ে আসতে হবে। ধর্মীয় কুসংস্কারকে দূরে রেখে আলোর পথে এগোতে হবে। আলোর পথে এগোতে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে সংস্কৃতমনা নারী-পুরুষ উভয়কেই। তাহলেই প্রকৃত অর্থে নারীর ক্ষমতায়ন হবে, হবে মানবতার উন্নয়ন।
 

নারী দিবস পাতার আরো খবর
    ৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

    ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

    প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

    পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

    Developed by
    close
    close