আবু তালেব, হাটহাজারী থেকে    |    
প্রকাশ : ১৭ জুলাই, ২০১৭ ২২:৫০:৪৪ প্রিন্ট
প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয় ইরফান

সাভারের আশুলিয়ার নয়ারহাট থেকে আটককৃত জঙ্গিদের মধ্যে ইরফানুল ইসলাম ওরফে সুফিয়ান খানের (২০) গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়।

সে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের মধ্যম কদলপুর কুয়াইশ মীর বাড়ির সৌদি আরব প্রবাসী রফিকুল ইসলামের মেজ ছেলে।

গ্রামের বাড়ি কদলপুরে হলেও সে দীর্ঘ ১০-১২ বছর হাটহাজারী পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া করে বসবাস করে আসছিল।

সর্বশেষ পরিবারের সঙ্গে হাটহাজারী পৌরসভার শায়েস্তা খাঁ পাড়াস্থ জাহানারা ম্যানশনের তৃতীয় তলায় ভাড়া বাসায় থাকাত।

চলতি বছরের ২ মে দুই হাজার টাকা নিয়ে চট্টগ্রামের চকবাজারে প্রাইভেট পড়তে যায়। এরপর আর ফিরে আসেনি। ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তার কোনো খোঁজও পাওয়া যায়নি।

তাকে খুঁজে না পেয়ে পর দিন হাটহাজারী মডেল থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইরফানের জন্ম ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুরে।

তার বাবা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী হওয়ায় বাল্যকাল কেটেছে হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন ভাড়া বাসায়।

সেই সুবাধে ইরফান পৌরসভার নলেজ স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি ও ২০১৬ সালে চট্টগ্রামের চকবাজারের চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে।

এরপর থেকে সে উচ্চ শিক্ষার জন্য চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারে প্রাইভেট পড়া শুরু করে।

সোমবার সন্ধ্যায় হাটহাজারীর ভাড়া বাসায় গেলে কথা হয় তার ছোট ভাই এহসানুল ইসলাম এর সঙ্গে।

সে জানায়, আমার মেজ ভাই জঙ্গি! এটা আমি কখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। যে বন্ধুর মত সবসময় আমার পাশে থাকত, খেলাধুলা ও পড়াশুনা করত। সে জঙ্গি তা শুনে আমি সত্যিই হতভম্ব। সে কখনও জঙ্গি হতে পারে না। সে হয়তো কোন চক্রের ফাঁদে পা দিয়েছে, নয়তো তাকে কেউ বা কোন গোষ্ঠী জঙ্গি বলে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

এদিকে তার ভাড়া বাসার পাহারাদার নুরুল আলম এ প্রতিবেদককে জানান, ইরফান পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। যেদিন সকালে আমি ঘুম থেকে উঠতে পারতাম না সে সেদিন আমাকে ডেকে দিত। সাদাসিদে এ ছেলে জঙ্গি তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, শনিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের চাকলগ্রামের (চৌরাবাড়ি) এলাকার ইব্রাহিমের বাড়িকে ঘিরে অভিযান চালায় র‌্যাব।

রোববার দুপুর নাগাদ চার জঙ্গি একে একে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

সোমবার দুপুরে আশুলিয়া থানায় র‌্যাব-৪ এর ডিএডি শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by