•       রোহিঙ্গা শরণার্থী সব ক্যাম্পে টেলিটকের বুথ থাকবে, সেখান থেকে নাম মাত্র মূল্যে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন: টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম
কুড়িগ্রাম ও রৌমারী প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:২৬:৪৫ প্রিন্ট
পুলিশের ধাওয়ায় ১ জনের মৃত্যু, ধামাচাপা দিতে ৫ জুয়াড়িকে মুক্তি!

ধাওয়া খেয়ে আবদুর সবুর (৪৪) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে আটককৃত পাঁচ জুয়াড়িকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রৌমারী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় কর্ত্তিমারী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের লাশ দাফন করা হয়।

যাদুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাখওয়াত হোসেন সবুজ ও রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আবদুর সবুরের ভাই নুর হোসেন জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি নামক এলাকার মাহবুবুর রহমান রিপনের বাড়িতে ১০/১২ জনের একটি দল জুয়া খেলছিল।

গোপন সংবাদে এ তথ্য পেয়ে রৌমারী থানার ওসি জাহাঙ্গির আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই বাড়িতে অভিযান চালায়।

এ সময় পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- গোলাবাড়ি গ্রামের মৃত আইজুদ্দনের ছেলে মুঞ্জিল হোসেন (৪৮), ধনারচর আকন্দপাড়া গ্রামের মৃত কসব উদ্দিনের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (৩৫), কাশিয়াবাড়ি গ্রামের আজিজল হক মণ্ডলের ছেলে মোবারক হোসেন (৪৮), কোমরভাঙ্গি নয়াপাড়া গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন (৩৩) ও কর্ত্তিমারী বাজারের প্যারিস টেইলার্সের মালিক গোলাপ হোসেন (৪৫)।

এদের ধাওয়া করলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় পালাতে গিয়ে আবদুর সবুর বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পানি পানি বলে চিৎকার করে আকস্মিকভাবে মৃত্যু হয় তার।

সবুর গোলাবাড়ি গ্রামের ভেলু শেখের ছেলে। তার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জুয়াড়িদের ধাওয়া করে ৫ জুয়াড়িকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ। এর কিছু সময় পর খবর আসে আবদুর সবুর নামের এক জুয়াড়ি বাড়িতে গিয়ে মারা গেছেন।

এর পর পরই স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। এতে নড়েচড়ে বসে পুলিশ।

দায় এড়াতে ও ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে ভোর ৫টার দিকে ওই পাঁচ জুয়াড়িকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

থানা থেকে ছাড়া পাওয়া আমজাদ নামের এক জুয়াড়ি জানান, একজন নেতার মধ্যস্থতায় ছাড়া পেয়েছি।

আর ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আমজাদ বলেন, আবদুর সবুর ও তার ছোট ভাই নুর হোসেনসহ ১২ জন মিলে ওই বাড়িতে তাস খেলছিলাম। প্রতি রাতে ওই বাড়িতে খেলা হলেও ওই দিন হঠাৎ বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ ৫ জনকে আটক করে। আবদুর সবুরসহ অন্যরা পালিয়ে যান। পরে ভোরে থানা থেকে ছাড়া পাই।
 
ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গজ দূরেই রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের বাড়ি। তিনি বলেন, পুলিশি অভিযানের পর সবুরের মৃত্যু হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অবশ্য পুলিশ পরে আটককৃত ৫ জুয়াড়িকে ছেড়ে দেয়।

রৌমারী থানার ওসি জাহাঙ্গির আলম বলেন, আমাদের অভিযান চালানোর আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়া কোনো জুয়াড়িকে পুলিশ আটক করেনি। বরং পৃথক কয়েকটি অভিযান চালিয়ে রৌমারী থানা পুলিশ ৮০ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ১১টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ৪ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।

এছাড়া একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনার বাইরে যা শুনছেন তা গুজব। আর মৃত্যুর ঘটনায় একটি ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, পুলিশের অভিযানে মৃত্যু ও ৫ জুয়াড়িকে আটকের ঘটনা জানার পর সংশ্লিষ্ট সবাইকে ফোন করেছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by