সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ২০:১৬:২৫ প্রিন্ট
ছেলে হোটেল মালিক, শতবর্ষী বাবার আশ্রয় রাস্তায়

শতবর্ষী এক বৃদ্ধের চার ছেলে ও তিন মেয়ে। সবাই প্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে একটি হোটেলের মালিক। তারপরও শতবর্ষী ওই বৃদ্ধর আশ্রয় এখন রাস্তায়।

‘মানুষের বৃদ্ধ হওয়াটাই যেন সবচেয়ে বড় অপরাধ? আমার ঘর-সংসার, ছেলেমেয়ে সব থাকার পরও আজ আমি রাস্তায় পড়ে রয়েছি। সারাদিন জোটেনি কোনো খাবার। নেই কোনো আশ্রয়। জীবনের এই শেষ সময়ে স্ত্রী, ছেলেমেয়েরা কেউ তো ঘরে রাখতে চায় না।’

মঙ্গলবার কাতর কণ্ঠে যুগান্তরের এই প্রতিবেদককে এসব কথাগুলো বলছিলেন নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের রাস্তায় পড়ে থাকা শতবর্ষী মনতাজ আলী।

জানা গেছে, তার এ বৃদ্ধ বয়সের অচলাবস্থা দেখে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা কেউ যেন তার আর দায়িত্ব নিতে চায় না। তাই তারা রাস্তায় ফেলে চলে গেছে। অথচ ওই বৃদ্ধের বড় ছেলে আবদুল আজিজ মরুর নিংগইন পেট্রল পাম্পের পার্শ্বে সকাল-সন্ধ্যা চলনবিল হোটেলে খাবারের অভাব নেই।

প্রতিবেশী ছবেজান বেওয়া ও হাসিনা বেগম জানান, সোমবার বিকালে পৌর শহরের চাঁদপুর বাংলালিংক টাওয়ারের পাশে শতবর্ষী ওই বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখে তারা মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলে ভ্যানযোগে বড় ছেলে আবদুল আজিজ মরুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কেউই তাকে আশ্রয় দিতে চায় না। মরুর ছেলে শুভ হোসেন তাদেরকে মারধর করে বের করে দিয়েছে।

পরে মেয়ে মোমেনা বেগম ও মেজ ছেলে মস্তাকের বাড়িতে নিয়ে গেলেও তারা কেউ ঘর থেকে বের হয়নি। পরে রাত ৮টায় ওই বৃদ্ধকে সিংড়া থানার গেটে ফেলে রেখে চম্পট দেয় ভাড়া করা ভ্যানচালক।

এদিকে খবর পেয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নাটোর জেলা শাখার নির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম ও সিংড়া থানার এসআই শাহেদ আলী অসুস্থ শতবর্ষী মনতাজ আলীকে উদ্ধার করে সিংড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।

থানা থেকে রাতেই ওই বৃদ্ধের ছেলেদেরকে খবর দেয়া হলেও মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিংড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো ছেলের দেখা পাওয়া যায়নি।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডের ভর্তিকৃত কমেদ আলীসহ অন্য রোগীরা জানান, সকাল থেকেই দেখছি ওই অসুস্থ বৃদ্ধের কেউ আসেনি।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টার্ফ নার্স মনোয়ারা বেগম জানান,  বৃদ্ধের আত্মীয়স্বজনের এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ নেই। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সকালে হাসপাতাল থেকে একটি রুটি, কলা ও ডিম দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বৃদ্ধের বড় ছেলে আবদুল আজিজ মরু বলেন,  তার বাবা সৎমা আলুফা বেগম ও ভাই আরিফুল ইসলামের কাছে থাকেন। তিনি এসবের দায়িত্ব নিতে পারবেন না। ছেলে তো আরও রয়েছে, সবাইকেই ডাকেন।

সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, একজন শতবর্ষী বৃদ্ধকে রাতে রাস্তায় ফেলে চলে যাওয়া অমানবিক বিষয়। ওই বৃদ্ধের চার ছেলেকে থানায় দেখা করার জন্য খবর পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত