চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৫০:৪৩ প্রিন্ট
জটিল রোগে আক্রান্ত তাহাবিকে সুস্থ করতে মায়ের আকুতি

পুরো শরীরে দগ দগে ঘা। প্রতিবেশীরা নাম দিয়েছে ‘পচা’। ঘায়ের যন্ত্রণায় বাকশক্তিহীন শিশুটির মুখে হাসি নেই। এক ধরনের বিষণ্নতা তার চোখে-মুখে।

দিনমজুর বাবা হোসেন আলী ছেলেকে সুস্থ করতে ডাক্তার, কবিরাজ কোনো কিছুই বাদ দেননি। চিকিৎসা করাতে গিয়ে এনজিও থেকে ঋণ তুলে ও বাড়িতে পোষা গরু-ছাগল বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

সেই ঋণের টাকা এখন পর্যন্ত শোধ হয়নি। সুস্থ না হওয়ায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন দিনমজুর বাবা। একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন মা গৃহিনী মৌসুমী খাতুন।

পাবনার চাটমোহরের মথুরাপুর ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের দিনমজুর হোসেন আলী ও গৃহিণী মৌসুমী খাতুন দম্পতির ছেলে তাহাবি জন্মের পর থেকেই মারাত্মক অপুষ্টি ও জটিল চর্ম রোগে ভুগছে। তবে মা মৌসুমী খাতুন ছেলেকে সুস্থ করতে দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন।

মৌসুমী খাতুন জানান, জন্মের পর তাহাবির হাঁটুতে লাল রক্তের জমাট বাঁধে। পরে সেটি ফেটে গিয়ে ঘা হয়। এরপর পুরো শরীরে ঘা ছড়িয়ে পড়ে। ঘা শুকিয়ে চটা পড়ে। কয়েকদিন পর আবারও সেখানে ঘা হয়। দেখে মনে হবে আগুনে পোড়া কোনো এক শিশু। ঘা-এর যন্ত্রণায় কাতর শিশুটি সারারাত ঘুমাতে পারে না।

টানা তিন বছর চিকিৎসা করানোর পর কোনো উন্নতি না হওয়ায় এবং অর্থের অভাবে বর্তমানে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে তার। মনের দুঃখে চিকিৎসকের লিখে দেয়া ব্যবস্থাপত্র পানিতে ফেলে দিয়েছেন বাবা হোসেন আলী।

মুখে বুকের দুধ খেতে পারে না বলে এক সময় কৌটার দুধ খাওয়ানো হতো তাকে। কিন্তু এখন টাকা নেই; তাই দুধ খাওয়া বন্ধ!

মৌসুমী খাতুন যুগান্তরকে বলেন, বাবা হাল ছেড়ে দিলে কী হবে? আমি তো মা। ছেলের কষ্ট সহ্য হয় না।  ডাক্তার বলেছে ভালো কোনো জায়গায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে। আমরা গরিব মানুষ, টাকা পাব কোথায়?  ছেলেকে বাঁচাতে তিনি সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।

রোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. স ম বায়েজিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অপুষ্টি থেকে সাধারণত এমন রোগ হয়ে থাকে। সচারচর যা এখন আর দেখা যায় না। শিশুটিকে সুস্থ করতে বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত