গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:৪৯:৫৩ প্রিন্ট
নিয়োগ প্রার্থীদের আবেদন মহাসড়কে!
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
‘গৌরীপুরে চাকরিপ্রার্থীর আবেদন কুড়িয়ে পাওয়া গেল মহাসড়কে!’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মর্জিনা আক্তার।
 
বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সংবাদ প্রকাশের পর সকালে ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
 
ময়মনসিংহ জেলায় প্রাক-প্রাথমিকে ৩০ জন ও সহজ কোরআন শিক্ষায় ২২০ শিক্ষক পদে নিযোগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে গৌরীপুর উপজেলা থেকে যারা আবেদন করেছিলেন তাদের মৌখিক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে এ উপজেলা থেকে কতগুলো আবেদন জমা পড়েছিল তা জানা যায়নি।
 
ইউএনও মর্জিনা আক্তার জানান, আবেদন রাস্তায় পড়ে থাকায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও আপত্তি রয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
 
ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়কের তারাকান্দা উপজেলার চরফরিদপুর এলাকায় গৌরীপুর উপজেলার ১৯টি ও ময়মনসিংহের একটি আবেদন পড়ে থাকতে দেখেন মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে মো. বাচ্চু মিয়া। তিনি কুড়িয়ে পাওয়া এসব আবেদন গৌরীপুর চুড়ালী জজবাড়ি জামে মসজিদের চাকরিপ্রার্থী মৃত আমজাদ আলীর ছেলে মো. আবদুল হালিমের কাছে জমা দেন।
 
হালিম জানান, বুধবার সকালে কুড়িয়ে পাওয়া আবেদন বিভাগীয় কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।
 
তবে কতজন আবেদন করেছিল, রাস্তায় কতজনের আবেদন পড়েছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি গৌরীপুরের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. হাবিবুর রহমান। যেসব আবেদন কুড়িয়ে পাওয়া গেছে, সে বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেননি।
 
তবে মহাসড়কে পড়ে থাকা আবেদনপত্রগুলো বুধবার ১১টার দিকে আবদুল হালিম নামে একজন বিভাগীয় কার্যালয়ে জমা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী।
 
তিনি জানান, গৌরীপুরের সুপারভাইজার মো. হাবিবুর রহমান আবেদনপত্রগুলো আনা-নেয়ার পথে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল। শুকরিয়া, সেগুলো পাওয়া গেছে।
 
যাছাই-বাচাই কমিটির আরেক সদস্য ময়মনসিংহের ফিল্ড অফিসার কাজী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, চাকরিপ্রার্থীদের সংখ্যা ১৭০ ছাড়িয়ে যাবে। নির্ধারিত সংখ্যা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
 
অভিযোগ উঠেছে, নিজস্ব লোকজনকে নিয়োগ দেয়ার জন্য শুরুতেই মানা হয়নি চাকরির নিয়োগবিধি। বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনের জন্য কমপক্ষে ১৫ দিনের ডিউরেশন ও দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্থানীয় একটি জাতীয় পত্রিকায় সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ২৪ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
 
এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, যেহেতু ব্যাংক ড্রাফট, পেঅর্ডার দিতে হয় না। তাই একটি পত্রিকায় প্রকাশের পর সব উপজেলায় প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। জেলায় প্রাক-প্রাথমিকে ৩০ জন ও সহজ কোরআন শিক্ষায় ২২০ শিক্ষক পদে আবেদন পড়েছে ২ হাজারের ওপরে। এতে প্রমাণ হয়, ব্যাপক প্রচার হয়েছে।
 
অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীরা জানান, নির্ধারিত বক্সে জমা দেয়া আবেদন কীভাবে রাস্তায় পাওয়া গেল তা তদন্ত করতে হবে।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত