হামিদ-উজ-জামান    |    
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০৫:১৫:০৪ প্রিন্ট
কাটছাঁট হচ্ছে বিদ্যুতের ১৫ প্রকল্পের বরাদ্দ

চলতি অর্থবছরের শেষ মুহূর্তে কাটছাঁট হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-ভুক্ত বিদ্যুতের ১৫টি প্রকল্পের বরাদ্দ। এর মধ্যে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্টও রয়েছে।

এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে এডিপি সংশোধন করা হলেও অর্থবছর শেষ হওয়ার দু’মাস আগে বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাবে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্নের। তবে কৌশলে বাস্তবায়নের অগ্রগতি বেশি দেখানোর লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

তবে সূত্রের দাবি, বরাদ্দ কমিয়ে কাজের অগ্রগতি বেশি দেখানোর যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তাতে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রকল্প। কারণ নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে এর মেয়াদ অবশ্যই বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেড়ে যাবে প্রকল্প ব্যয়ও।

জানা গেছে, ওই ১৫ প্রকল্পের অনুকূলে সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। সেখান থেকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে প্রায় ৭৪০ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘যারা অর্থ বরাদ্দ নেয়, তারা খুবই জোরপূর্বক নেয়। বলা চলে চাপ সৃষ্টি করে টাকা নেয়। কিন্তু শেষ সময়ে এসে ব্যয় করতে পারে না। এটা পরিকল্পনা শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজ। এ ছাড়া এরকম ঘটনা প্রকল্প দীর্ঘায়িত হওয়ারও কারণ হতে পারে।

আর সময় বাড়লে তো ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। বিষয়গুলো আমাদের সবার খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, অনেক প্রকল্পের কাজ শুরু করতে দেরি হয়ে যায়। তাছাড়া কাজের দরপত্র হয়নি এরকম নানা কারণে বরাদ্দ ব্যয় করতে পারে না। এ জন্য এক প্রকল্পের টাকা কেটে বেশি বাস্তবায়ন করা প্রকল্পে দেয়া হয়েছে। সার্বিক বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্যই এটা করা হয়েছে।

এতে মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ তো কমছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাকা খরচ করতে না পারার কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রতি মাসেই রিভিউ মিটিং করছি। মাতারবাড়ী প্রকল্পের বিষয়ে বলেন, গুলশানে জঙ্গি হামলার কারণে বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যেসব প্রকল্পের বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কনস্ট্রাকশন অব শাহজীবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৩ সালে শুরু হয়ে আগামী জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। চলতি অর্থবছরের আরএডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৮২৩ কোটি ৮ লাখ টাকা।

এখন ২০০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কমিয়ে নতুন করে বরাদ্দ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ছাড়া মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্টটি ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৫২৫ কোটি টাকা। কিন্তু সেখান থেকে ৫৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা কমিয়ে নতুন করে ৪৬৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ল্যান্ড রিকুইজিশন অ্যান্ড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফর ইমপ্লিমেনটেশন অব গজারিয়া ৩৫০ মেগাওয়াট কোল ফায়ার্ড থারমাল পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্পটি গত বছরের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। কিন্তু অর্থবছরের শেষ দিকে এসে ১৭০ কোটি ৪৯ লাখ টাকার প্রায় পুরোটাই অর্থাৎ ১৭০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ছেঁটে ফেলার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল কাশেম যুগান্তরকে জানান, গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার পর প্রকল্পটির কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। এ কারণে টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, গত বছরের ২৪ জুলাই এ প্রকল্পের দরপত্র জমা দেয়ার সময় ছিল।

কিন্তু জঙ্গি হামলার পর সেটি বাড়িয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। এখানে প্রায় ৬ মাস কাজ হয়নি। তবে আশা করছি, আগামী জুলাই মাসে হয়তো ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করা সম্ভব হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আর একটি হলি আর্টিজান না হলে প্রকল্পের অগ্রগতি নতুন করে বাধাগ্রস্ত নাও হতে পারে। তবে সঠিক সময়েই যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এ গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না।

এ ছাড়া কনস্ট্রাকশন অব শাহজীবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ আবদুল হাকিম বলেন, সংশোধিত এডিপিতে টাকা বেশি ধরা হয়েছিল। পরে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করে দেখা যায়, বাড়তি টাকা প্রয়োজন হবে না। তাই ফেরত দেয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রকল্পটি ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন প্রায় শেষ হয়েছে। তাই এ টাকা ফেরত দেয়া হলেও প্রকল্পের কোনো ক্ষতি হবে না।
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by