মিজান চৌধুরী    |    
প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০১৭ ০৪:০৫:৪৯ প্রিন্ট
জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধ
কঠোর নজরদারিতে মোবাইল ব্যাংকিং
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জঙ্গিরা সহজে অর্থ আদান-প্রদান করতে পারছে * বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহজে এর মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছে

জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ সরবরাহ বন্ধে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি আসছে। বিশেষ করে অর্থের অস্বাভাবিক লেনদেনের ওপর নজরদারি করা হবে। পাশাপাশি গ্রাহক ও এজেন্টদের পরিচয় নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জঙ্গিবাদের অর্থের উৎসের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার সংক্রান্ত টাস্কফোর্স সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগসহ দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থা এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, বর্তমানে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ৪৯ লাখ ৫ হাজারটি লেনদেন হচ্ছে। এতে গড়ে দৈনিক লেনদেন হওয়া অর্থের পরিমাণ ৮৪৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আর এমএফএস সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭টি। সারা দেশে ৭ লাখ ৪৬ হাজার এজেন্ট এই ব্যাংকিং কার্যক্রমে জড়িত আছেন। আর ৫ কোটি ২৬ লাখ গ্রাহক এই কার্যক্রমের আওতায় সেবা নিচ্ছেন। বাংলাদেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বৈঠকের কার্যবিবরণীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, অবৈধ ব্যাংকিং লেনদেনের কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট থাকলে তা তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা সংস্থাকে জানাতে হবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা। স্বরাষ্ট্র সচিব ড. কামাল উদ্দিন বলেন, বিকাশ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপর প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় অবৈধ লেনদেন বন্ধ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নেটওয়ার্কের পদ্ধতির ক্ষতির দিকগুলো শনাক্ত করে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

সূত্র মতে, সম্প্রতি জঙ্গিবাদের অর্থের উৎস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার এবং অধিকতর সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের বৈঠকে মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জঙ্গিরা সহজে অর্থ আদান প্রদান করতে পারছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহজে এর মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টদের কার্যক্রম পরিচালনায় সতর্কমূলক কোনো নীতিমালা নেই বলেও সেখানে আলোচনা হয়।

মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়াতে টাস্কফোর্স বৈঠকে নেয়া হয়েছে কয়েকটি সিদ্ধান্ত। এর মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছে কিনা- তা নজরদারি করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেয়া হয় গোয়েন্দা সংস্থা এসবি, সিআইডি, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই, র‌্যাব এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অর্থের অস্বাভাবিক লেনদেন হলে বা অসঙ্গতি দেখা গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তা অবহিত করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ধরনের কোনো হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্টদের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় টাস্কফোর্স বৈঠকে। সেখানে বলা হয়, ব্যাংক হিসাবের ন্যায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিতে হবে। প্রতিটি গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি এজেন্টদের থাকতে হবে নির্ধারিত অফিস। এছাড়া এজেন্টদের আর্থিক লেনেদেনের ক্ষেত্রে পৃথক রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে। জানা গেছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক এখন বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ। ২০১০ সালে দেশে প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং চালু হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২৮টি ব্যাংক অনুমোদন নিয়েছে এই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত নেয়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স নিলেও চালু করে ১৭টি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতবছরের জানুয়ারি মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক ছিল ৩ কোটি ১২ লাখ। আর প্রতিদিন গড়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। মাত্র দেড় বছরে গ্রাহক এবং টাকা লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে।
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by