•       রোহিঙ্গা শরণার্থী সব ক্যাম্পে টেলিটকের বুথ থাকবে, সেখান থেকে নাম মাত্র মূল্যে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন: টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম
যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৪:১৭:৫০ প্রিন্ট
খেলাপি ঠেকাতে কঠোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান গ্রুপকে একচেটিয়া ঋণ নয়

কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে একচেটিয়া ঋণ দিতে নিষেধ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। পাশাপাশি তিনি ভোক্তা ঋণে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শসহ ব্যাংকিং খাতে ঋণ খেলাপি শক্ত হাতে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ব্যাংকার্স সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, এসকে সুর চেৌধুরী, এসএম মনিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহিম, শুভঙ্কর সাহা, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিস-এ-খানসহ প্রায় সব ব্যাংকের এমডিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান আনিস-এ-খান সাংবাদিকদের বলেন, খেলাপি ঋণ শক্ত হাতে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। এছাড়া ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয় ও প্রতিষ্ঠানের নাম উলে্লখ করতে বারণ করা হয়েছে। তাই এখন থেকে যে কোনো বিষয় বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষাথর্ীরা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চেৌধুরী বলেন, ঋণ বিকেন্দ্রীকরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কারণ কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে একচেটিয়া ঋণ দিলে তাতে খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। এছাড়া ভোক্তা ঋণে আরও সাবধানতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।     

বৈঠক সূত্র জানায়, উন্নত প্রযুক্তির এমআইসিআর চেক প্রচলনের পরও ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতি মাসেই ২০ থেকে ২৫টি চেক জালিয়াতির অভিযোগ আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র চেক জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এটি বন্ধে চেক ছাপানোর সময় নির্ধারিত নিরাপত্তা বৈশষ্ট্যিগুলো নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, সামপ্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে চেক জালিয়াতির ঘটনা হঠাত্ বেড়ে গেছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল ২০৯টি। আর এবার প্রতি মাসেই ২০ থেকে ২৫টি চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা পড়েছে।

গ্রাহকের চেকের বইয়ের পাতা হুবহু নকল প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের তদনে্ত চেক জালিয়াতির সঙ্গে চেক প্রস্তুতকারী কিছু কোম্পানির লোকজন জড়িত থাকতে পারে। আর এ কাজে সহযোগিতা করছে ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। বিভিন্ন সময়ে তদনে্ত এর সত্যতাও মিলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সাধারণ চেকের জালিয়াতি ঠেকানো ও লেনদেনে গতি আনতে ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টার রিকগ্নিশন (এমআইসিআর) নামের আধুনিক চেক বাংলাদেশে চালু করা হয় ২০০৯ সালে। তবে ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে তা সব ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। এ চেকের নির্ধারিত কিছু নিরাপত্তা বৈশষ্ট্যি রয়েছে। যেগুলো পরিবর্তন ও নকল করা প্রায় অসম্ভব। চেক ছাপানোর সময় এই নিরাপত্তা বৈশষ্ট্যিগুলো সঠিকভাবে চেকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে কিনা তা সুনিশ্চিত করতে হবে। এটি করা গেলে চেকের মাধ্যমে জালিয়াতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব  হবে।

এছাড়া যারা স্বাক্ষর করতে পারেন না সেই সব নিরক্ষর ব্যক্তি কিভাবে চেকের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারেন সেই বিষয়ে আলোচনা হয় ব্যাংকার্স সভায়।
সভায় ইরানের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর গত বছরের ১৬ জানুয়ারি ইরানের ওপর থেকে নিষেধজ্ঞা তুলে নেয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রাস্টির আওতাধীন বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (ওএফএসি) কর্তৃক ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ইরান সরকার বা ইরানের কোনো ব্যাংককে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুবিধা প্রদান করে এ ধরনের কোনো লেনদেন (ইউএস ডলারে) করা সম্ভব নয়। এজন্য ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য চলমান রয়েছে। নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট না খুলে রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট অ্যাপি্লকেশন (আরএমএ) স্থাপন করে কিভাবে লেনদেন করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পরিস্থিতি, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের পদবি নির্দষ্টিকরণ প্রসঙ্গ নিয়েও আলোচনা হয়।

 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by